নগ্নতা রোধ না করে কখনো ধর্ষণ রোধ করা সম্ভব নয়। সংগৃহীত




প্রতিনিয়ত ঘটছে ধর্ষণের ঘটনা। ধর্ষিত হচ্ছে স্কুল-কলেজের ছাত্রী থেকে শুরু করে মাদ্রাসার ছাত্রী পর্যন্ত, ৪ বছরের ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে ৪০ বছরের মহিলাও, বাদ যাচ্ছেনা কেউই।

বর্তমানে প্রায় মেয়েদের মধ্যে একটা বিষয় লক্ষণীয় সেটা হচ্ছে পোশাকের কথা বললেই তাদের চুলকানি শুরু হয়। পোশাক নিয়ে তাদের এত এলার্জি কেন আমি বুঝিনা। এরা কিছুতেই মানতে রাজী নয় যে যৌন হয়রানির জন্য পোশাক দায়ী।

আমি বলতে চাই ধর্ষণের জন্য পোশাকই দায়ী। মেয়েরা যদি মনে করে নগ্নতা তাদের জন্য ফ্যাশন! তাহলে আমিও মনে করি ধর্ষণ ছেলেদের জন্য শারীরিক ব্যায়াম। নগ্নতা রোধ না করে কখনো ধর্ষণ রোধ করা সম্ভব নয়। এতে যদি আপনারা মনে করেন আমি নিচু মানষিকতার, তাহলে কোনো সমস্যা নেই। আমার কিছু যায় আসেনা।

মেয়েরা উলঙ্গ হয়ে হাটবে আর ছেলেরা কি চোখ বন্ধ করে রাখবে? একটা মেয়ে চোখের সামনে তার body দেখাবে আর আমাকে বলবে তুমি তোমার চোখ বন্ধ করে রাখো সেটা কি করে হয়? আপনারা নারী স্বাধীনতার নামে নগ্নতাকে স্বাধীনতা দিয়ে দেশটাকে আমেরিকা বানাতে চাইছেন কিন্তু দেশে শুধু আমেরিকান স্টাইল চালু করলে তো হবেনা,আমেরিকান সুযোগসুবিধাও চালু করতে হবে। 

সেখানে যেমন ছেলেমেয়েরা যখনতখন যেখানে খুশি সেক্স করে বাংলাদেশেও এরকম সুযোগসুবিধা চালু করুন। ১০০% গ্যারান্টি দিলাম ধর্ষণ হবেনা। আপনারা মেয়েদের বলবেন আমেরিকান স্টাইলে চলার জন্য আর ছেলেদের বলবেন সৌদিআরব স্টাইলে চলার জন্য এটা তো হতে পারেনা।

অনেকে আমাকে পাল্টা প্রশ্ন করতে পারেন, ধর্ষণের জন্য যদি পোশাক দায়ী হয় তাহলে ৫,৭,৯ বছরের ছোটছোট মেয়েরা ধর্ষিত হয় কেন? এক্ষেত্রেও বলব পোশাক দায়ী। না, ছোটছোট মেয়েদের পোশাক নয় বরং যুবতী মেয়েদের পোশাক। ধর্ষনের জন্য অবশ্যই পোশাক দায়ি,আমরা আজ থেকে ২৫/৩০ বছর আগে তো কখনো দেখিনি ৭/৮ বছরের মেয়েরা ধর্ষনের শিকার হয়,এখন কেন হচ্ছে?

কারনটা সিম্পল পশ্চিমা সংস্কৃতি আর পার্শ্ববর্তি দেশের সিনামেটিক পোশাক আমাদের সামাজিক এবং চারিত্রিক মুল্যবোধ কে ধংষ করেছে যার প্রভাবে প্রাপ্ত বয়স্ক নারী থেকে শুরু করে বৃদ্ধা মহিলা এমন কি শিশুরাও এর বলি হচ্ছে,,, সেই কারনেই নষ্ট চরিত্রের মানুষ রুপি পশুগুলা দুধের স্বাধ ঘোলে মিটাতেই শিশুদের ধর্ষন করছে। আশা করি বুঝাতে পেরেছেন।

একজন পুরুষের নগ্ন যুবতী মেয়েদের দেখে কামনাভাব জেগে উঠল কিন্তু সে যখন ওসব যুবতী মেয়েদের ধারেকাছে ঘেঁষতে পারে তখন সে তার কামনাভাব ৫,৭,৯ বছরের অবুঝ মেয়েদের দিয়েই মিঠাই। বলা যায় এক্ষেত্রে ওসব ছোটছোট মেয়েগুলোকে বলির পাঁটা হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

আপনি একজন নায়িকার ছোট পোশাকে একটা হট আইটেম গান দেখে আপনার যৌনলালসা জেগে উঠল কিন্তু হাতের কাছে ওই নায়িকাকে পাচ্ছেন না, তখন হাতের কাছে যাকে পাচ্ছেন তাকে দিয়েই আপনার যৌনলালসা পূরণ করছেন। সে ছোট হোক, বড় হোক কিংবা বুড়ো হোক। এর জন্য দায়ী বর্তমান প্রচলিত গান বাজনা, সিনামা হল, নায়ক নাইকা, গায়ক গায়িকা।

পোশাক ছাড়াও ধর্ষণের আরো কারণের মধ্যে দুটো কারণ ধরা হয়। যেমন অনেকেই ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে কিংবা প্রতিশোধ নেয়ার উদ্দেশ্যে ধর্ষণ করে থাকে। তবে আমি বলব সেখানেও পোশাক দায়ী।

কিভাবে? প্রতিশোধ তো অনেকভাবে নেয়া যায়, তবে ধর্ষণ করে প্রতিশোধ নিবেন সেই চিন্তাটা আপনার মাথায় আসলো কিভাবে? সাইকোলজির ভাষায় কি বলে? মানুষের চিন্তাভাবনা,বুদ্ধি পরিবেশ থেকেই আসে। অর্থাৎ মানুষের মস্তিষ্ক পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হয়। আর এক্ষেত্র পরিবেশের কথা বলতে গেলেই পোশাকের কথা চলে আসে।

অনেকে আবার এটা বলে যে, পোশাক যতটা দায়ী তার চেয়েও বেশি দায়ী নিচু মানসিকতা। আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, মানসিকতা কখনো এমনি এমনি তৈরি হয়না, মানসিকতা তৈরি হয় পরিবেশ থেকে। কিন্তু বর্তমানে পরিবেশটাই এমন।



ফেইসবুকে ঢুকলে সেখানেও উলঙ্গ মেয়ের ছবি। ইন্টারনেটে ঢুকলে সেখানে উলঙ্গ মেয়ের ছবি, পর্ণ সাইট তো আছেই, রাস্তাঘাটে বের হলে সেখানেও মেয়েদের বডি দেখানো পোশাক। এতকিছুর পরেও মানসিকতা স্বাভাবিক থাকবে কিভাবে? আপনারা মানসিকতার দোষ দেয়ার আগে সুন্দর মানসিকতা তৈরি হওয়ার মত সুন্দর পরিবেশ তৈরি করুন।



হ্যা ধর্ষণ অবশ্যই জঘন্য একটা জিনিস, কিন্তু ধর্ষণের ক্ষুদাটা জন্ম হয় পোশাক থেকেই। পরিশেষে বলতে চাই, পোশাক পরিবর্তন করুন। মানসিকতা পরিবর্তন হয়ে যাবে।

সর্বশেষ আরো একটা কথা যুক্ত করতে চাই, কেউ প্রশ্ন করতে পারেন সাম্প্রতিক মাদ্রাসার যে মেয়েগুলো ধর্ষিত হচ্ছে তাদের কি দোষ? না, তাদের কোনো দোষ নেই। ওই যে পোস্টেই বললাম, আধুনিক ডিজিটাল নামধারী মেয়েদের অশালীনতা, নগ্নতা আর বেহায়াপনার বলির পাঠা হচ্ছে এই মাদ্রাসার মেয়েগুলো।

সর্বমোট, আধুনিক মেয়েদের বেহায়াপনা, নগ্নতা, অশালীন পোশাক, ইন্টারনেট, পর্ণ, এসব কিছুর নেগেটিভ প্রভাবের খারাপ ফলাফলটা গিয়ে পরছে কোনো একক নিরীহ মেয়ের উপর। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। আমি আমার এই পোস্টে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি বুঝানোর জন্য।



সংগৃহীত
obohelajibon/অবহেলা জীবন


Post a Comment

0 Comments