আমার উপর এত ক্ষোভ কেনো তোমার? ভালোবাসার না পাওয়া অনেক কষ্ট


image google

‘রাত বারোটায় পাঞ্জাবী পরে রান্নাঘরের জানালার নিচে এসে দাঁড়াবেন। না আসলে আপনার আম্মাকে সব কইয়া দিমু।’ চিঠিটা পড়ে কপালে জমে থাকা বিন্দু বিন্দু ঘাম মুছলাম। কাঁপা কাঁপা হাতে সিগারেট জ্বালালাম। আমি যে একটা বড় রকমের বিপদে পড়েছি সেটা খুব ভালো করেই টের পাচ্ছি। পাশের বাসার দোতলার নতুন ভাড়াটের কাজের মেয়েটা আমার পেছনে লেগেছে। 

দিন কয়েক আগে রাস্তায় লাল গোলাপ হাতে ধরিয়ে দিয়ে পোকা খাওয়া দাঁত বের করে একগাল হেসে বলেছিল ‘আই লাব ইউ’। কথাটা বলেই আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে দৌড় দিল। সম্ভবত লজ্জা পেয়েছিল। দৌড়াতে গিয়ে বেচারির স্যান্ডেলের ফিতা গেল ছিঁড়ে। মেয়েটা পড়তে পড়তে পড়ল না। কোনোমতে নিজেকে সামলে ছেঁড়া স্যান্ডেল হাতে নিয়ে বলল, ‘জাউরার ঘরের জাউরা।’
আমি গোলাপ হাতে দাঁড়িয়ে ভাবতে লাগলাম- যেই মেয়ে হবু প্রেমিকের সামনে স্যান্ডেলকে জাউরার ঘরের জাউরা বলে গালি দিতে পারে, সেই মেয়ের প্রেমের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলে কী করবে? 

ছিঃ ছিঃ আমি নিজেকে কাজের মেয়ের হবু প্রেমিক ভাবছি কেন। হাতের গোলাপটা ছুঁড়ে ফেলব ঠিক সেই মুহূর্তে মুরগি মামুন(প্রতিবেশিদের মুরগি চুরি করে ধরা খাওয়ার পর থেকে তার এই নাম। আগে নাম ছিল মামুন শেখ) এসে আমার হাত চেপে ধরলেন। চোখ সরু করে মুচকি হাসি দিয়ে ডানে বামে মাথা দুলিয়ে বললেন, ‘চোর ধরেছি।’ 

মুরুব্বির স্টাইল দেখে হেসে ফেললাম। বললাম, ‘কাকা কিসের চোর?’
‘এই যে আমার গাছের গোলাপ।’
মুরগি মামুন আধ ঘন্টা আমাকে আটকে রেখে গোলাপ চুরির জন্য গালাগালি করলেন। কপাল ভালো মুরগি মামুন আমার নাম গোলাপ আলিফ রেখে দেয়নি। তিনি গালাগালি করলেন আমি চুপচাপ শুনলাম। আমার বলার কিছুই ছিল না। এই গোলাপ দোতলার কাজের মেয়ে চুরি করে আমাকে প্রেম নিবেদন করেছে সে কথা বললে মান ইজ্জত কিচ্ছু থাকবে না। আগুনের কাছে প্লাস্টিক নিয়ে গেলে প্লাস্টিক যেভাবে গলে যায়, মান ইজ্জত সেভাবে গলে যাবে। পড়ার আন্টিরা কানাকানি করবে আর হাসবে। বলবে কাজের মেয়ের সাথে প্রেম করে, হিহি। 

সেদিনের পর থেকে আমার কপালে দুর্যোগ নেমে এসেছিল। কাজের মেয়েটা আমাকে দেখলেই মুচকি হাসে। রাস্তায় সামনা সামনি দেখা হলেই কাবাডি খেলার বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়ের মতো দু’হাত মেলে পথ আটকে দাঁড়ায়। সরু গলি রাস্তা। দু’হাত মেললে গলি রাস্তার পুরোটাই ব্লক হয়ে যায়। কাবাডি কাবাডি বলে তার পায়ের নিচ দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। কিন্তু চিন্তার ব্যাপার হলো তার পায়ের নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় যদি সে দু’পা দিয়ে কল্লা চেপে ধরে। আমার আর হামাগুড়ি দেয়ার সাহস হয় না। আমি উল্টো দিকে হাঁটা শুরু করি। মেয়েটা আমার পেছনে দৌড়ানোর শব্দ শুনে ‘আল্লাহ্ হেল্প মি’ বলে উড়াধূরা দৌড় দেই। অনেকখানি দৌড়ে আসার পরে যখন মেয়েটার দৌড়ানোর শব্দ শুনতে পাই না। তখন কোমড়ে দু’হাত রেখে থমকে দাঁড়াই। পেছন ফিরে দেখি বেয়াদব মেয়েটা আগের জায়গাতেই দাঁড়িয়ে লাফাচ্ছে আর ধুপ ধুপ শব্দ করছে। আর আমি বোকাচন্দ্র সেই শব্দ শুনে ভেবেছিলাম মেয়েটা বুঝি পেছন পেছন দৌড়াচ্ছে। আমি পাথর খুঁজে ঢিল মেরে চলে আসি। 

যাই হোক এখন চিন্তার বিষয় হলো আমি কি রাতে জানালার নিচে যাব কি-না। কেননা পড়শু রাতেও সেইম চিঠি পেয়ে জানালার নিচে গিয়েছিলাম। সম্ভাব্য প্রেমিকা জানালা দিয়ে মাছে আঁশ আর নাড়ি-ভূড়ি ফেলেছিল। পরে অবশ্য কারণ চিঠিতে লিখে জানিয়েছিল। রাস্তায় ঢিল মারার কারণে নাকি এমনটা করেছে। আর কখনো এমন করবে না বলেছে। 
কিন্তু কথা হলো আমি কেন যাব? না গেলে কী হবে? না গেলে ওই মেয়ে আম্মাকে কী বলবে? আমি তো তার সাথে প্রেম করিনি। যা বলার বলুক আমার কী। 

বুকে সাহস নিয়ে কানে হেডফোন গুঁজে লুডু খেলা শুরু করলাম। আমি আমার স্কুলের দুই বন্ধু নয়ন, পারভেজ আর এক বান্ধবী সোমা। খেলায় আমার মন নেই। আমি চ্যাটিং এ ব্যস্ত। সোমাকে পটানোর চেষ্টা করছি। নিজের গুটি কাটতে দিচ্ছি। কথা বার্তা খুব সুন্দর চলছিল। ঠিক সেসময় নেট কানেকশন লস্ট দেখাতে লাগল। কারেন্ট আছে নেট নাই। বিছানা থেকে লাফিয়ে নামলাম। দরজা খুলে বাইরে বের হলাম। যা ভেবেছিলাম তাই ঘটেছে। সেন্টু ভাই ওয়াইফাই এর বাঁশ ঘুরাচ্ছেন। ওয়াইফাই এর বাঁশ কথাটা বুঝলেন না, তাইতো?
বুঝিয়ে বলছি। এই লকডাউনে সময় কাটানোর জন্য চার পাঁচজন ভাই ব্রাদার মিলে শেয়ারে ওয়াইফাই কানেকশন নিয়েছি। কিন্তু কানেকশন নেয়ার পরে সমস্যা দেখা দিল যে রাউটার কার বাসায় থাকবে। এটা নিয়ে ভোট করলাম। সবাই একটা একটা করে ভোট পেলাম। তাও নিজের ভোট। রাউটার রাখার জন্য কেউ কাউকে ভোট দিতে রাজি না। সবাই নিজেকে ভোট দিয়েছে। 

বাধ্য হয়ে একটা বাঁশ কিনে আনলাম। গজ ফিতা দিয়ে সবার বাসা থেকে মাপ নিয়ে ঠিক মাঝ বরাবর জায়গায় মাটি খুঁড়ে বাঁশ বসালাম। বাঁশের মাথায় রাউটার বাঁধা। 
সমাধানটা যত সহজ মনে হয়েছিল সময়ের সাথে সেটা ততই জটিল রূপ ধারণ করল। কারো নেট না পেলেই সে এসে বাঁশ ধরে নাড়াচাড়া করে। সে নাড়াচাড়া করে বাসায় ঢুকে তো আরেকজন বের হয়ে বাঁশ ধরে নাড়াচাড়া করে। বাঁশ বেচারাও হয়তো ভাবছে কোন পাগলদের পাল্লায় পড়লাম। 

আচ্ছা ওসব কথা থাক। বর্তমানে আসি। বাসা থেকে বের হয়ে যখন দেখলাম সেন্টু ভাই ওয়াইফাই এর বাঁশ ঘুরাচ্ছেন তখন মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। ঢিল মারার জন্য যখন পাথর খুঁজছিলাম ঠিক তখন একটা জিনিস দেখে তব্দা খেয়ে গেলাম। একি দেখছি আমি। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছি না। আমি চোখ কচলে আবার ভালো করে তাকালাম। সেন্টু ভাই রাউটারের বাঁশ বেয়ে ওপরে ওঠার চেষ্টা করছেন। বুঝতে পারছি না মালটা কী করতে চাচ্ছে। মালটা যখন বাঁশের অর্ধেক অবদি উঠেছে ঠিক তখনি মৃদুল বাসা থেকে বের হলো। সেন্টু ভাইকে দেখে বলল, ‘ভাই করছেন কী?’
সেন্টু ভাই হাত পা দিয়ে ভালোভাবে বাঁশটা জড়িয়ে ধরে নিচের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আমার নেট পাচ্ছে না। রাউটারের এন্টেনা ঘুরাব।’

সেন্টু ভাইয়ের কথা শুনে দূর থেকে বললাম, ‘দিনে দশবার বাঁশ ঘুরিয়ে শান্তি পান না ভাই? এখন এই মোটা শরীর নিয়ে বাঁশে উঠছেন।’
সেন্টু ভাই ধমকের স্বরে বললেন, ‘তুই চুপ থাক।’
আমি আর কিছুই বলিনি। বাসায় ঢুকে স্ট্যাম্প নিয়ে বের হয়েছি। বাঁশের নিচে এসে স্ট্যাম্পের ছুঁচালো দিক দিয়ে সেন্টু ভাইকে গুঁতো দিতেই সেন্টু ভাই ‘আল্লাহ্ গো’ বলে চিৎকার দিলেন। নিচের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘ওকি ওকি করছিস টা কী?’
সেন্টু ভাইয়ের কথার জবাব না দিয়ে আমি আরেকটা গুঁতো দিলাম। সেন্টু ভাই হাত পা দিয়ে বাঁশটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ক্যাঁকিয়ে উঠলেন। কাঁদো কাঁদো গলায় বললেন, ‘গুঁতা দিস না ভাই সত্যি লাগছে। আমি নামছি।’
কোনোরকমে হাসি আটকে বললাম, ‘আপনার নামতে হবে না। ওখানেই থাকেন। নামার চেষ্টা করলেই গুঁতো খাবেন।’

গুঁতোগুঁতি খেলার এক পর্যায়ে ডান পায়ের উরুতে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করলাম। তাকিয়ে দেখলাম দোতলার ভাড়াটের মেয়েটা আমার উরু কামড়ে ধরে আছে। কচ্ছপের কামড় যাকে বলে। আমি স্ট্যাম্প ফেলে দিয়ে অনেক কষ্টে মেয়েটার কামড় থেকে আমার উরু ছাড়ালাম। পায়জামা তুলে দেখি উরুতে কামড়ের দাগ বসে গেছে। মেয়েটা নেই। পালিয়ে গেছে। আমি খোঁড়াতে খোঁড়াতে তাদের বাসায় গিয়ে কলিং বেল চাপতে শুরু করলাম। 
দরজা খুলল কাজের মেয়েটা। একবার ভাবলাম দৌড়ে পালাই। পরক্ষণে ভাবলাম, নাহ্ কামড়ের বিচার না করে যাব না। বিনয়ের সাথে বললাম, ‘আন্টি বাসায় আছেন?’
কাজের মেয়েটার পেছন থেকে আন্টি বললেন, ‘কে আলিফ?’
আন্টির কন্ঠ শুনে মনে সাহস ফিরে পেলাম। বললাম, ‘জ্বি আন্টি।’
‘আসো ভেতরে আসো।’
আমি বাসার ভেতরে ঢুকেই ‘আন্টি আপনার মেয়ে আমাকে কামড় দিয়েছে। এই দেখেন।’ বলেই পায়জামা তুলে দেখালাম। আন্টি হা করে আমার মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললেন, ‘মিম কামড়েছে তোমাকে?’
আন্টির চোখে মুখে বিষ্ময়। তার মেয়ের নাম জানি না তবুও বললাম, ‘জ্বি আন্টি মিম কামড়েছে।’
‘কি যা-তা বলছ। মিম কেন কামড়াতে যাবে তোমাকে?’
‘আমি কী জানি। মিমকেই জিজ্ঞাসা করেন কেন কামড়ালো। আমি তো সেন্টু ভাইকে গুঁতো দেয়ায় ব্যস্ত ছিলাম।’
আন্টি কিছুক্ষণ চুপ থেকে মিমকে ডাকলেন, ‘মিম, এ্যাই মিম। এদিকে আয় তো।’
ভেতরের ঘর থেকে ষোল সতেরো বছরের একটা মেয়ে আসলো। আমি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকলাম। আহা এতো সুন্দরী মেয়ে শেষ কবে দেখেছি মনে করতে পারলাম না। আন্টি তার মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘তুই এই ছেলের উরুতে কামড় দিয়েছিস?’
মিম ভ্রু কুচকে বলল, ‘ছিঃ ছিঃ আমি উনার উরুতে কামড়াতে যাব কেন?’ আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আপনার সমস্যা কী? আপনি আমার পেছনে লেগেছেন কেন? এর আগেও আমার নামে মিথ্যা বলেছেন যে আমি নাকি ছাদে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছিলাম।’

কই না তো। আপনাকে তো আজ প্রথম দেখছি।’
‘তাহলে মিথ্যা বলেছেন কেন?’
‘দেখুন কোথাও হয়তো কোনো ভুল হচ্ছে। আমি আপনার ছোট বোনের কথা বলছি।’
এবার আন্টি কিছুটা অবাক হয়ে বললেন, ‘ছোট মেয়ে মানে? আমার তো একটাই মেয়ে।’
‘না আন্টি সাত/আট বছরের আপনার যেই মেয়েটা আছে তার কথা বলছি।’
‘আমার সাত আট বছরের কোনো মেয়ে নেই। তবে সাত বছরের একটা ছেলে আছে। মুইন… এ্যাই মুইন এদিকে আয় তো।’ 
মুইন ঘরে ঢুকল। মাথায় হিজাব। মুখে মেকআপ। ঠোঁটে টকটকে লাল লিপস্টিক। চোখে কাজল। মুইনকে দেখেই বললাম, ‘এইতো পাজিটা। ওই কামড় দিয়েছে।’
আন্টি মুইনের কান ধরে ঝাড়ুপেটা করলেন। মুইন কাঁদতে কাঁদতে বলল, ‘আপু সাজিয়ে দিয়েছে। আপুই কামড় দিতে বলেছে। আমার কোনো দোষ নাই।’

পরিশেষে যা জানতে পারলাম। মিম তার ছোট ভাইকে মাঝে মাঝেই জোর করে মেয়েদের মতো সাজিয়ে দেয়। আর এমনি একদিন মেয়ে সেজে বাবার পকেট থেকে সিগারেট চুরি করে মুইন ছাদে দাড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছিল। ছোট মানুষ বাবাকে খেতে দেখে শিখেছে। আর সেটা দেখেছি আমি। আমি বলেছি সেন্টু ভাইকে। সেন্টু ভাই পুরো মহল্লাকে। কথাটা ছড়িয়েছে এভাবে যে ‘আলিফ দোতলার ভাড়াটের মেয়েকে দেখেছে সিগারেট খেতে।’ মানে মুইনের দোষ গিয়ে পড়েছে মিমের ঘাড়ে। এই বদনামের প্রতিশোষ নেয়ার জন্য মিম তাদের কাজের মেয়েকে লেলিয়ে দিয়েছে আমার পেছনে। 

হেডফোনের প্যাঁচের মতো সব প্যাঁচ খুলে বাসায় ফিরে যখন গ্রুপ কন্ভার্সেশনে ঢুকলাম তখন দেখি সোমা আর পারভেজ একে অন্যকে তুমি বলে সম্মোধন করছে। বিষয়টা বুঝতে পারলাম পরে। এই যে এক ঘন্টার জন্য আমি অফলাইন গিয়েছিলাম। সেই এক ঘন্টায় পারভেজ সোমাকে পটিয়ে ফেলেছে। মনের দুঃখে ইউটুবে ঢুকলাম স্যাড সং শুনার জন্য। গান প্লে করতেই নেট কানেকশন লস্ট দেখাচ্ছে। তাড়াতাড়ি বাসা থেকে বের হলাম। সেন্টু ভাই রাউটারের বাঁশের অর্ধেক অবদি উঠেছেন। আমি বাসায় ঢুকলাম স্ট্যাম্প নেয়ার জন্য। শালাকে গুঁতিয়ে শেষ করে ফেলব আজ।

লেখক: নুর ইসলাম আলিফ


আরো পড়ুন:

আমার উপর এত ক্ষোভ কেনো তোমার? ভালোবাসার না পাওয়া অনেক কষ্ট


- হ্যালো!

-কেমন আছো?

-কে বলছেন?

-আমি বলছি।

-আমি টা কে?

-আমি, তুমি আমাকে চিনতে পারছোনা?

-নাম না বললে কিভাবে চিনবো?

-তুমি, তুমি আমার কন্ঠটাও ভুলে গেছ? 

এত কথা বলেছি আমরা। আমি বিশ্বাস করিনা

তুমি আমাকে চিনতে পারোনি। আমার উপর ক্ষোভ থেকেই তুমি এমন করেছো। কথা বললেই কি কন্ঠ চেনা যায়? পাশে থাকলেই কি মানুষ চেনা যায়? ভালবাসি বললেই কি ভালবাসা যায়? আর

ক্ষোভ,কিসের ক্ষোভ?

এতদিন পরে কথা হচ্ছে, তুমি আজও এমন

কঠিন করে কথা বলবে? এখনো আমায় ক্ষমা

করতে পারোনি না? সহজ করে কথা বললে কি হবে? আর তুমি তো কোন পাপ করোনি, ক্ষমাটা আসছে কোথা থেকে? পাপ! আমি কত বড় অপরাধ করেছি সে তো আমি জানি । যার জ্বালায় এখন জ্বলে পুড়ে মরছি। 

কেমন আছো অর্ক? যেমন থাকার কথা ছিল। এখনো যে জেগে আছো ! ঘুমাওনি কেন? ঘুম! ঘুম যার কাছ থেকে কিনতাম সে তো মারা গেছে কয়েকমাস হল। তাই আর ঘুমানো হয়না।। হ্যা ঠিকই বলেছো, আমি তো মারাই গেছি। কি করছিলে এত রাতে?

বেলকনিতে বসে সিগারেট খাচ্ছিলাম। তুমি আবার সিগারেট ধরেছো? সিগারেট ছাড়ার জন্য যে আমার হাতে হাত রেখে কথা। দিয়েছিলে সে কথা ভুলে গিয়েছো? সবাই কি সব কথা রেখেছে? কেউ একজন কথা দিয়েছিল সিগারেট ছাড়লে তিনবেলা নিয়ম করে চুমু খাবে। কথারা কথা রাখেনি

তবে আমি কেন কথা রাখবো? আমি কেমন আছি সেটা জিজ্ঞেস করলে না? নিশ্চই ভাল আছো। ভাল থাকার জন্যই তো আমার থেকে দূরে সরে গিয়েছ। হ্যাঁ,ভাল আছি, অনেক বেশিই ভাল আছি আমি এত সুখে আছি যা কল্পনাও করতে পারবেনা তুমি। 

সারা শরীরে আজ ভালবাসার চিহ্ন। ভালবেসে বিয়ে করেছ ভাল থাকাটাই স্বাভাবিক। আমি তো কখনোই ভালবাসতে পারিনি, সুখ দিতে পারিনি। তুমি আমাকে জীবনেও বুঝলেনা। আমি কিসের জন্য তোমার কাছ থেকে দূরে সরে গিয়েছি সে শুধুই আমি জানি। জানি কেন আমায় দূরে ঠেলেছিলে, বুঝি।

অতটুকু বোঝার ক্ষমতা আমার আছে। যাকে পাগলের মত ভালবেসেছি তাকে বুঝবো না। আজ কত তারিখ মনে আছে তোমার? দিন তারিখ মনে রেখে কি হবে। আজ সেই দিন তিন বছর আগের যেই। দিনটাতে তুমি আমাকে ভালবাসি কথাটি বলেছিলে। তুমি সেই দিনটিও ভুলে গেছ?

মানুষই মানুষকে ভুলে যায়, নিজেই নিজেকে ভুলে যাই আবার দিন মনে রাখবো কি করে। তুমি মিথ্যে বলছো, তুমি কিছুই ভুলে যাওনি। আমি তোমাকে চিনি অর্ক অনেক ভালভাবেই চিনি। ভালবেসেছিলাম, এখনো ভালবাসি। শুধু পরিস্থিতি দূরে যেতে বাধ্য করেছে।

তুমি শুধুশুধু আমায় ভুল বুঝেছো । আমি জানি আমি অপরাধ করেছি কিন্তু আমার কিছুই করার ছিলনা। আমার বিয়ে করাটা জরুরি ছিল আর তুমি অই মুহুর্তে আমায় বিয়ে করতে পারতে না। জানি তুমি আমায় ঘৃনা করো। 

কিন্তু মনে রেখ আমি তোমায় আজও ভালবাসি আগের মতই। শুধু মাঝে একটা দেয়াল আছে এই আরকি! -হাহাহাহাহা। ভালবাসা! আমার কারো ভালবাসার দরকার নেই। আমি এখন সিগারেট ছাড়া আর কাউকেই ভালবাসিনা।আমি আর সিগারেট দুজনের সংসার খুব ভালই চলছে। এর মাঝে আপনি আর জ্বালাতন না করলেই খুশি হব অর্না ম্যা'ম!

Tags: ভালোবাসার গল্প, জীবনের গল্প, ভালোবাসার মায়া, ভালোবাসার কষ্ট, ভালোবাসার এতো মায়া, ভালোবাসার অবহেলিত কথা, বাংলা ভালোবাসার গল্পগুজব, ভালোবাসার সংগৃহীত গল্প

Post a Comment

0 Comments