সুন্দরী মেয়ের গালে মশা। জীবন মানে যন্ত্রনা সে যন্ত্রনা ঘরে হোক বাহিরে হোক, যন্ত্রনাই


জীবনের গল্পউপন্যাস, jibonir golpo, সুন্দরী মেয়ের গালে মশা। জীবন মানে যন্ত্রনা সে যন্ত্রনা ঘরে হোক বাহিরে হোক, যন্ত্রনাই, জীবনের গল্প, সূখ. দূঃখ, আর বাস্তবতার কথা।, জীবনের গল্প স্ট্যাটাস, জীবনের গল্পের কথা, জীবনের গল্পের নিয়ে কথা, জীবনের গল্প মেসেজ, জীবনের গল্প বই, জীবনের গল্প ডাউনলোড, বাস্তব জীবনের ছোট গল্প, জীবনের গল্প এফ এম, জীবনের গল্প পিকচার, জীবন নিয়ে লেখা, সুন্দরী মেয়েদের জীবন, সুন্দরী মেয়েদের গল্প, কালো মেয়ের গল্প, সুন্দরী মেয়ে গল্প

আমার পাশে যে সুন্দরী মেয়েটি বসে আছে তার গালে অনেকক্ষণ যাবৎ একটা মশা বসে আছে। ইচ্ছে হচ্ছে মশা টা মেরে দেই। পরে ভাবলাম নাহ, চড় দেওয়ার অপরাধে গণপিটুনি খাইতে পারি। আস্তে করে একবার বললাম কিন্তু কানে তার ইয়ারফোন থাকায় শুনেনি বোধহয়। এদিক দিয়ে আমার হাত ইশফিশ করে যাচ্ছে মশাটা মারতে। যার গালে মশা তার কোন দিশা নাই আর আমি অস্থির হয়ে যাচ্ছি এদিক দিয়ে। ব্যাপারটা অনেকটা 'যার বিয়া তার খবর নাই, পাড়া পরশীর ঘুম নাই' টাইপ। মশার লক্ষণ ভালো ঠেকছেনা। এতক্ষণ গালে বসে আছে যেহেতু রক্ত যা নেওয়ার তা নেওয়া হয়ে যাওয়ার কথা।

এভাবে বসে থাকার তো মানে নেই। কি যেন মনে করে থাপ্পড় একটা বসিয়ে দিলাম। মশার উপরে রাগ হচ্ছিলো খুব তাই বোধহয় একটু জোরে হয়ে গেলো! সুন্দরী চিৎকার দিয়ে বললো 'হাউ ডেয়ার ইউ টু স্লেপ মি?'
আমি কাচুমাচু হয়ে হাত দেখিয়ে বললাম- এই যে দেখেন মশা আর রক্ত। আসলে মশাটা অনেকক্ষণ যাবৎ আপনার রক্ত খাচ্ছিলো, আপনাকে বললাম আপনি শুনেন নি। তাই মেরে দিলাম। দেখেছেন কতো রক্ত খেয়েছে?
মশা রক্ত খেয়েছে আমার খেয়েছে। আপনার কি সমস্যা? আপনি এতজোরে মারলেন কেনো?

আমি আর উত্তর দিতে পারলাম না। একজন বীরপুরুষ আমার কলার ধরে ঠাস করে গালে বসিয়ে বললো 'হারামজাদা বাসে মাইয়া দেখলেই বদমাইশি'? আরো দুয়েকজন এক দুই চোট দিয়ে বাস থেকে নামিয়ে দিলো। মনটা খারাপ হয়ে গেলো।
হাতের রক্তের দিকে তাকিয়ে তিনবার উচ্চস্বরে বললাম 'তুই একটা পাষাণী'!
মনকে বুঝালাম ভালো মানুষের দাম এ দুনিয়ায় নাই সজিব। মন খারাপ করিস না বোকা।

মন খারাপ করলাম না। তবে মশার উপরে জেদ চাপলো খুব।
পকেটে যে কয় টাকা ছিলো সব দিয়ে মশার কয়েল কিনলাম কয়েক প্যাকেট। কয়েল জ্বালিয়ে অলি গলিতে রেখে দিচ্ছি। এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে মশা মরতে দেখার মতো আনন্দ এই পৃথিবীতে আর একটাও নেই। আবার মনে হচ্ছে বলদের মতো রাস্তাঘাটে কয়েল কেনো জ্বালিয়ে যাচ্ছি?
এ শহরে মানুষের চেয়ে মশার সংখ্যা বেশী। তবুও মন মানছে না। একজন এসে জিজ্ঞাসা করলো ভাই কি নেশা পানি করেন?
বললাম দেখে কি তাই মনে হচ্ছে?
না ভাই মনে হচ্ছেনা বলেই তো জিজ্ঞাসা করলাম। মনে হলে তো শুরুতেই নেশাখোর বলে ডাকতাম। তো দেখছি কয়েল জ্বালাচ্ছেন এখানে সেখানে। কারন কি?
ভাই আমি একটা কয়েল কোম্পানিতে চাকরী করি। আমাদের কয়েল যে মশা না তাড়িয়ে দিয়ে ডিরেক্ট মেরে ফেলে সেটাই একটু পর মানুষকে দেখাবো ডেকে ডেকে। আগে কয়েল গুলো জ্বালিয়ে নেই। কোম্পানির প্রচারের জন্য ৭০% ডিসকাউন্ট দিয়ে বেচে দিবো সব।

ধুর মিয়া' বলে লোকটি হাটা দিলো। নিজের আইডিয়া নিজের কাছেই ভালো লাগলো। নেই কাজ তো খই ভাজ।
লোকজন জড়ো করা যাবে এমন জায়গায় গিয়ে শুরু করলাম ভাইয়েরা আমার,
'জীবন মানে যন্ত্রনা। সে যন্ত্রনা ঘরে হোক বাহিরে হোক, যন্ত্রনাই। যন্ত্রনা ছাড়া জীবন আর সূর্য ছাড়া দিন চিন্তা করা একিই কথা। তবুও এ জীবন চলে যাচ্ছে চলার মতো করে। তবে কিছু যন্ত্রনা আছে মন্ত্র ছাড়া কাজ হয়না। ঘড়ের বউ কামড় দিলে হয় প্রেম আর ঘড়ের মশা কামড় দিলে হয় ডেঙ্গু। প্রেম যন্ত্রনা সামাল দিলে আসে শান্তি আর মশার যন্ত্রনা সামলাতে গেলে ডেঙ্গুর যত অশান্তি। যাত্রী পথের ভাইয়েরা, ২০০০ সালে দেশে প্রথম বড় আকারে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। সরকারি হিসাবে ওই বছর ৫ হাজার ৫৫১ জন আক্রান্ত হয়েছিল আর মারা গিয়েছিল ৯৩ জন। গত বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। মারা গিয়েছিল ২৬ জন। জীবন যেমন কঠিন নয় মৃত্যুও ততো সহজ নয়। এ ডেঙ্গুর জন্য দরকার সচেতনা। আমরা রাস্তাঘাটে ময়লা ফেলি, বৃষ্টির পানি জমে হয় নোংরা। পলিথিন ফেললে পানি জমে পানি পচে তৈরী হয় মরার মশা। ছাদে অব্যবহৃত টব, অপরিষ্কার স্তুপ সবকিছুর জন্যই কিন্তু দায়ী আমরা। ঘরে মশা, রাস্তায় মশা, টঙ দোকানে মশা, কি বলবো ভাইয়েরা বাসেও মশা থাকে আজকাল! এখন করনীয় কি ভাইয়েরা? নিজের জায়গা থেকে নিজেরা শুধরে গেলেই পাল্টে যাবে দেশ। আপনার আমার সোনার বাংলাদেশ।

সচেতনতার যেমন শেষ নাই তেমনি আমাদের সবার পক্ষে সচেতন হওয়াও সম্ভব না। মানুষ মাত্রই ভুল। আর সবকিছু চিন্তা আমার কোম্পানি নিয়ে আসলো 'লণ্ডভণ্ড' কয়েল। একটা জ্বালাইয়া দিবেন মশা মইরা ভূত। মশার চৌদ্দগুষ্টি দিবে ছুট। দাম জিজ্ঞাসা করলে ১২০, আর বিক্রি করছি মাত্র ৮০ টাকা, মাত্র ৮০ টাকা। শুধুমাত্র কোম্পানির প্রচারের জন্য। মাত্র ৭ প্যাকেট আছে।'
মোটামুটি প্রতিযোগীতা করে ৭ জন ভাগ্যবান কয়েল গুলো নিয়ে গেলো। ব্যবসা খারাপ না।
কিনলাম ৫৫ টাকা করে আর বেচলাম ৮০ টাকা। যে কয় প্যাকেট রাস্তায় জ্বালিয়েছি সেগুলোর দাম ও পুষিয়ে গেলো।

হাতে লেগে থাকা সুন্দরীর রক্ত এতক্ষণে শুকিয়ে গিয়েছে। ধুইতে যাবো বান্ধবী জিনাত ফোন দিয়ে বললো হারামজাদা কই তুই?
কয়েল বেচি। কেন?
বাসে কোন মেয়েরে চুম্মা দিছস তুই?
কি বলিস এসব? চুম্মা কেন দিবো? মশা বসেছিলো মেরে দিয়েছি। থাপ্পড় টা একটু জোরে লেগেছে।
তুই ভাইরাল হয়ে গেছিস। তর ভিডিও ছড়াইয়া গেছে ভাই। তুই আইডি ডিএক্টিভেট কর।

মাথাটা ঘুরে গেলো আমার। মানে কি! কিসের মধ্যে কি শুনলাম। ফেসবুকে ঢুকে দেখি কম করে হলেও ১০০ জন মেনশন দিয়েছে। একজন লিখেছে ছিঃ ছিঃ সজিব ভাই, আপনার মতো মানুষের কাছ থেকে এটা আশা করিনি কখনো। ধিক্কার আপনাকে। একজন কমেন্ট করেছে 'একটা একটা সজিব ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর'!
কলিজাটা শুকিয়ে গেলো। বাসে কেউ একজন ভিডিও করে ঘটনাটা ছড়িয়েছে এমন ভাবে যে আমি মেয়েটাকে চুম্মা দিয়েছি! বাস থেকে নামার সময় চেহারা আমার স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছিলো। লোকটা ক্যাপশন দিয়েছে 'এ লম্পটদের জন্য দেশের মেয়েরা আজো পরাধীন'!
কি ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি! আইডি এক্টিভ রাখার সাহস পেলাম না আর। বাসায় যাওয়ার তো প্রশ্নই উঠেনা। রাস্তায় কে কখন কোথায় ধরে গন পিটুনি দেয় সেটারও ঠিক নাই। পালিয়ে বেড়াচ্ছি।

আজ দুইদিন যাবৎ পালিয়ে পালিয়ে আছি, মাস্ক পড়ে থাকি। সুযোগ পেলে কয়েল বিক্রি করি।
শেষ রক্ষা হলোনা। রাতে আমায় পুলিশ গ্রেপ্তার করলো বসিলা থেকে। কোন এক নারীবাদী বাদী হয়ে আমার নামে মামলা করেছে। মামলার ধরন 'বাসে তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা'!
মাইর খেয়ে টাল হয়ে আছি। চোখে মুখে কিছু দেখছিনা। এর মধ্যে এক পুলিশ আমার ফোন নিয়ে এসে বললো নেন আপনার সাথে একজন কথা বলবে।
খুব কষ্ট করে হ্যালো বললাম।
-আপনি কি সজিব?
-জ্বী।
-আসলে আমিই সেই মেয়ে যার গালে মশা মেরে দিয়েছিলেন আপনি। আসলে পুরো ব্যাপারটার জন্য আমি দুঃখিত। এমন হয়ে যাবে ভাবিনি। কোত্থেকে কে ভিডিও করলো, পুরো বিষয়টাকে ভুল ভাবে প্রেজেন্ট করলো। আমার নিজেকে খুব অপরাধী মনে হচ্ছে। খুব কষ্ট করে আপনাকে মেনশন দিচ্ছিলো এমন সবাইকে নক দিয়ে দিয়ে শেষমেশ জিনাত নামের এক মেয়ের কাছ থেকে আপনার নাম্বারটা পেয়েছি। আমি সবকিছুর জন্য দুঃখিত। আরেকটা ভিডিও বানিয়ে আমি সবার কাছে ক্ষমা চাইবো। আমাকে মাফ করে দিবেন না?

মাফ করে দিয়েছি বোন। আমি মোঃপুর থানায় আছি। খুব মেরেছে। আরেকচোট বোধহয় দিবে। ওরকম প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমাকে এসে নিয়ে যান বইন।
মেয়েটা ফোন কেটে দিলো। আমার একটু স্বস্তি লাগছে। হুট করে মনে হলো মাইরের উপরে আসলেই কোন ঔষধ নাই। এত সুন্দরী মেয়েকে জীবনেও আমি বোন ডাকতাম না। তাল হারিয়ে বলে ফেলেছি। এজন্য কিঞ্চিৎ খারাপ লাগছে!

সুন্দরী কথা রেখেছে। ওই নারীবাদী মহিলাকে সাথে নিয়ে এসে মামলা তুলে আমাকে ছাড়িয়ে নিয়েছে। দুজন একসাথে রিক্সায় যাচ্ছি। পুলিশ ঘড়ি আর ফোন রেখে দিয়েছে। তাই সময় দেখতে পাচ্ছিনা।

জিজ্ঞাসা করতে যাবো কয়টা বাজে তখনি দেখি তার গালে মশা বসে আছে! এবার একসাথে দুইটা। আমার হাত ফিশফিশ করছে। হাত চেপে ধরে রেখেছি। কোন ভাবেই হাত নাড়ানো যাবেনা।
সুন্দরী বললো এমন করছেন কেনো? কি হয়েছে?
কিছুনা। কিছুনা বললাম এই কারনে যে, এবার চাচ্ছি মশা তার সব রক্ত খেয়ে ফেলুক। আমি আর কিচ্ছু বলবোনা। এই মেয়েটা টের পায়না কেনো? না পাক। আসলে দুই মিনিট অপেক্ষা করে আমি আর সহ্য করতে পারছিনা। থাপ্পড় টা কি দিয়ে ফেলবো?

নাহ! আর ঠিক হবেনা! রিক্সা থামিয়ে নেমে হাটা ধরলাম। সুন্দরী ডেকে বললো এই যে যাচ্ছেন কোথায়?
বইন জাহান্নামে যাই। আপনি যান গা!
সে যাচ্ছে কিনা জানিনা, আমার পিছু পিছু আসছে কিনা তাও জানিনা। আমি আর পিছনে ফিরে তাকাবো না। একদম তাকাবোই না। অনেক হয়েছে, আর না!

লেখক: সজিব সিকদার

Post a Comment

0 Comments