ডাব চুরি এবং বিয়ের আসর থেকে প্রেমিকাকে উঠিয়ে আনার পরিণাম কি হতে পারে? জীবনের গল্প


ডাব চুরি এবং বিয়ের আসর থেকে প্রেমিকাকে উঠিয়ে আনার পরিণাম? জীবনের গল্প ,জীবনে বেঁচে থাকার লড়াই!, জীবনের গল্প, জীবন নিয়ে গল্প, জীবন কথা, জীবনের কাহিনী, জীবন গল্প বাংলা, জীবনের কথা, life Story, Life history, তোমার আমার জীবনের গল্প, জীবন নিয়ে লেখা, জীবন নিয়ে বাংলা পোস্ট, অবহেলা জীবনের গল্প, আবেগি মনের কিছু কথা, খুব কষ্ট হচ্ছে আজ, ভালোবাসার গল্প, প্রিয় মানুষকে নিয়ে কিছু কথা, আবেগি উক্তি, জীবনের শেষ কিছু কথা, না বলা ভালোবাসার কিছু কথা, ভাল লাগা কিছু কথা, কিছু না বলা কথা জীবনের, আবেগি মন স্ট্যাটাস, আবেগি কথা sms, মনের কথা কবিতা, আবেগের কথা, না বলা ভালবাসা, অভিমানী ভালোবাসার কথা, কস্টের কথা গল্প, জীবনের শেষ কিছু কথা, না পাওয়ার কিছু কথা, না বলা ভালোবাসার কিছু কথা, ভাল লাগা কিছু কথা গল্প, আবেগ ভরা কিছু কথা, কিছু না বলা গল্প, সুন্দর কিছু কথা গল্প, আবেগি মন স্ট্যাটাস গল্প, খুব কষ্ট হচ্ছে আজ জীবনের গল্প, অভিমানী ভালোবাসার কথা ও গল্প, দূরে চলে যাওয়ার জীবনের গল্প, অবহেলা নিয়ে স্ট্যাটাস গল্প

আক্কেল মেম্বারের গাছের ডাব গুলোকে নিচ থেকে রসগোল্লার মতো লাগে। এই ডাব না খাওয়া পর্যন্ত ঠিকমতো শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে পারছিনা। মনে হচ্ছে অক্সিজেন ডাব গাছে আটকে আছে।

ডাব চুরি আবুল ভাইকে ছাড়া হয়না। আজকে রাতে ডাব নামানোর কথা, সন্ধ্যা থেকেই সে নিখোঁজ। ফোন দিলে ফোন কেটে দেয়। প্রেমিকার বিয়ে ঠিক হয়ে যাওয়ায় ডাব চুরি করে পার্টি হওয়ার কথা। বিরহে লোকটা কোথায় কিভাবে পরে আছে কে জানে। আমরা যে কয়জন আছি খুব ভালো খাইতে পারি, চুরির মাল নিয়ে বড়জোর দৌড়াতে পারি। কিন্তু চুরি করতে পারিনা। 

ডাব খাইতে না পারার আফসোসে চোখে ঘুম লেগে আসছে তখনি মিনমিনিয়ে কে যেন ডাকছে। রাতের বেলা তিনবার পর্যন্ত ডাকের সাড়া দিতে নেই। দাদী বলতো তিনবার পর্যন্ত শয়তান ডাকে। ডেকে বাহিরে নিয়ে ভুলিয়ে-বালিয়ে ঘাড় মটকে দেয়। 

দুই বন্ধু ভোর রাতে মাছ ধরার প্ল্যান করেছিলো। কথা ছিলো এক বন্ধু আরেক বন্ধুকে ডেকে নিয়ে মাছ ধরবে। পরের দিন সকালে বিলের মধ্যে এক বন্ধুর লাশ পাওয়া যায়। কারন যে বন্ধু ডাকার কথা ছিলো সে বন্ধু ঘুম থেকে উঠতেই পারেনি, ডেকে নিয়ে গেছে শয়তান। নিয়ে মেরে ফেলেছে। এমন ভয়ঙ্কর গল্প দাদী ছোটবেলায় শুনাতো। ভয়ে হিসু করতে বের হতাম না রাতে। গল্প শুনার দুই তিন দিন পর্যন্ত দিনের বেলাতেও ভয় পেতাম। অবশ্য পরে দেখি পুরো সারা বাংলাদেশের দাদী-নানীরা তার নাতি-পুতিদের এই একিই গল্প শুনিয়ে গেছে। 

দুইবারের ডাকে সাড়া না দিতেই আবুল ভাইয়ের ফোন পেলাম।
- ভাই দরজা খোল।
দরজা খুলে দেখি মেয়ে নিয়ে আবুল ভাই দাঁড়িয়ে আছে। এই মেয়ে কে? 
'এইডা মেয়ে না। এইডা তর ভাবী। ভাই আমি বিয়া কইরা লাইছি। এহন বাইত বউ লইয়া গেলে আম্মা বাইর কইরা দিবো। রাইতটা তর এনে থাকমু, সকালে আম্মারে বুঝাইয়া বউ নিয়া যামু!'
কথা শুনে আবুল ভাইকে শয়তান মনে হচ্ছে। বললাম পুরো কথাটা মোট চারবার বলো। না হয় বুঝতে পারছিনা তুমি শয়তান নাকি আবুল ভাই।
কোন কথা না বলে আবুল ভাই ধপাস করে বউয়ের হাত ধরে ঘরে ঢুকে গেলো।

আম্মা ঘুমিয়ে আছে। চারপাশ নিরব। আবুল ভাইকে নিয়ে কি করা যায় সেটাই বুঝতে পারছিনা। হুটহাট মানুষটা কি জম নিয়ে আসলো!
মেয়েকে দেখে মনে হচ্ছে বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে আসছে। তার মানে এই মেয়ের সাথেই সে লাইন মারতো। সেটা বিষয় না, বিষয় হচ্ছে আমি ডাব গুলোর কথা ভুলতে পারছিনা।

বললাম আবুল ভাই, আপনি বাসর করবেন আর আমি ডাব বিরহে ভুগবো তা হবেনা। চলেন আগে ডাব, তারপর সবকিছু। নতুন বউ ঘরে তালা দিয়ে দাঁ রসি নিয়ে বের হয়ে গেলাম। আবুলকে ভাইকে দেখলাম বউয়ের কানেকানে বলে আসলো ডরাইয়োনা, আমি আইসা যামু জ্বলদি। কানেকানে বললেও আমি শুনলাম।
'তুই ঢাহাত্তে (ঢাকা থেকে) আইলে বেশী জ্বালাছ'
'জ্বালানোর কি আছে? চুরির জিনিসের মতো মজা কিছু আছে কও'?

আবুল ভাই মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো 'নাই', জোৎস্নার আলোয় স্পষ্ট দেখলাম সেটা। উজ্জ্বল, বাবু, সুমনদের ডেকে নিলাম। মিশন আক্কেল মিয়ার গাছের ডাব। আজ অনেক বছর পর! এই পাঁচজনে যে কত চুরি করেছি জীবনে তার হিসেব নাই। যখন গ্রামে ছিলাম - এমন কোন ফল গাছ নাই যেখান থেকে চুরি করিনি, এমন কোন পুকুর নেই যেখান থেকে মাছ নেইনি। মুরগী তো চুরি করেছি শতশত। মানুষ চাইলে যে দিতোনা তা না, তবে চুরির জিনিষের মজাই আলাদা। বর্ষাকালে বিলে অন্যগ্রাম থেকে হাঁস আসতো। নৌকা করে হাঁস ধরে নিয়ে এসে নিজেরাই রান্না করে খেয়ে ফেলতাম। সবখানে লিড দিতো আবুল ভাই। আহা শৈশব! স্মৃতি গুলো চোখে চকচক করে উঠে এখনো! 

কাঠবিড়ালির মতো এক ছড়া ডাব চোখের পলকে নামিয়ে ফেললো আবুল ভাই। ডাব দিয়ে বললো তরা খা, আমি যাইগা। বললাম- এনার্জীর দরকার আছে। দুইটা ডাব খাইয়া যান। কথা খারাপ কছ নাই। হারাদিন খাইনাই কিছু। বিস্তর ক্ষেতের মাঝখানে ভরা জোৎস্নায় ডাব খেয়ে যাচ্ছি পাঁচজন। ডাবের পানি খেয়ে মাতাল হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। আবুল ভাই যে ঘরে বউ রেখে আসছে সেটা বোধহয় ভুলে গেছে। ৫ টা খেয়ে ৬টা'র দিকে আগাচ্ছে। একটু পরপর বলতেছে - 'আহাহাহা! আগের দিনের কথা মনে পড়তেছেরে!

হুট করে চোরের দল বলে কয়েকটা লোক আমাদের উপর ঝাপিঁয়ে পড়লো। বেশী খেয়ে ফেলায় আবুল ভাই নড়তে পারেনি। আমরা দৌড় দিলাম! আক্কেল মেম্বার তার দলবল নিয়ে আবুল ভাইকে ধরে ফেললো। ডাব চুরির দায়ে আবুল ভাইয়ের বাসর রাত মিস হবে তা মানতে পারছিনা। তাছাড়া ওনাকে রেখে যাওয়াটাও নীতিতে বাধে। পিছন থেকে ডাক দিয়ে বললাম মেম্বার সাহেব গাছে এত ডাব, ডাব তো আমরা খাইতেই পারি। তাছাড়া সামনের বার তো নির্বাচন করবেন নাকি?
মেম্বার উত্তর দিলো - ধুর মিয়া তুমি আছো ডাব নিয়া। আবুইল্লার খোঁজ লাগাইছি দুপুর থাইকা। ও আমার মামা শ্বশুড়ের মেয়ে ভাগাইয়া নিয়ে আসছে। ওর খবর আছে! 

ঘটনা সুবিধার না। এই বিষয়ে ওকালতি করলে ঝামেলা উলটো নিজের ঘাড়ে চাপবে। কিন্তু কথা হচ্ছে ওই মেয়ে তো আমার ঘরে! বাড়ি যেতে হবে। বাড়ি এসে দেখি মানুষজন জমে অবস্থা খারাপ। আমার ঘর থেকে নাকি মেয়ে মানুষের কান্নার আওয়াজ আসতেছিলো। লোকজন এসে আম্মাকে উঠালো, আম্মা তালা খুলে দেখে বউ সাজা মেয়ে। রটে গেলো সজিব মেয়ে ভাগাইয়া নিয়ে আসছে! আম্মা নাকি অলরেডি দুই তিনবার ফিট খেয়েছে। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে কিছুক্ষণের মধ্যে আরেকবার খাবে।

নাহ আবুল ভাইকে ছাড়া হবেনা। বউ আনছে আবুল, নাম হইছে আমার। দৌড়ে মেম্বার বাড়ি গিয়ে দেখি আবুল ভাইকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। মেম্বারকে বললাম আপনার মামা শ্বশুড়ের মেয়ে আমার বাড়িতে! কথা শুনে মেম্বার আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। কিভাবে কি বুঝাই? 
এত বুঝতে হবেনা। অবস্থা বেগতিক। বাড়িতে গেলে মাইরধর করতে পারে। তারচেয়ে বড় কথা ওই মেয়ের সাথে আসলেই বিয়ে দিয়ে দিতে পারে! উপায় না পেয়ে পুলিশের দিকে হাত বাড়িয়ে বললাম- আমাকেও নিয়ে যান, আমিও বরং থানাতেই চলে যাই!

লেখক: সজিব সিকদার

আরো পড়ুন:

image Google

বেঁচে থাকার লড়াই জীবনের গল্প

আমাদের চারপাশে কত ঘটনা যায় আমরা কেউ সেটার খবর রাখি নাহ ।  ব্যক্তিগত ভাবনা গুলি ভাবতে ভাবতেই আমাদের সারাদিন কেটে যায়। আমাদের মাঝে কত মানুষ আছে যাদের মধ্যে আলাদা ট্যালেন্ট আছে আমাদের এই ব্যস্ত দুনিয়াতে আমরা তার হিসাব রাখি নাহ। গার্মেন্টস কর্মী সাহেদা বেগমের মেয়ে সায়মা। সাহেদা বেগমের স্বামি গত হয়েছেন প্রায় ১০ বছর আগে তার মেয়ের যখন ৯ বছর বয়স। আজ ১৯ জুলাই ২০১৮। সায়মার HSC পরিক্ষার ফল প্রকাশিত হবে আজ । 

সায়মা কলেজের একজন কৃতি ছাত্রী। সেবিষয়ে কোন সন্দেহ নেই । বরাবর JSC, SSC দুই পরিক্ষায় সে গোল্ডেন ৫ পেয়ে উত্তীর্ন  হয়েছে । টিকটিকটিক দুপুর ২ টা। ফলাফল প্রকাশ। বরাবরের মতো এবারের ও সেরা ছাত্রী সায়মা। তার মা সাহেদা বেগম ও মেয়ের এই সাফল্যে অনেক খুশি। কিন্তু সায়মার ইচ্ছে সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করবে। কিন্তু স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কোনো সহজ ব্যাপার নাহ। তার আগে ঢাকার কোনো ভালো কোচিং সেন্টারে ভর্তি হতে হবে। অনেক টাকার প্রয়োজন। 

সে তার মাকে বলে তার মা তাকে টাকার ব্যবস্থা করে দেন। কারণ তার মা চান সায়মা লেখাপড়া করুক। যেহেতু তাদের বাড়ি শহর থেকে বেশ খানিকটা দূরে তাই তাকে একটা হোস্টলে থাকতে হবে। কিন্তু একা মেয়ে মানুষ বলে মা প্রথমে রাজি না হলেও পরে অবশ্য মেয়ের কথা ভেবে রাজি হয়ে যায়। এখানে এসে সায়মা দেখলো অনেকেই পরিক্ষার পর পরই কোচিং শুরু করেছে তার অনেকটা দেরি হয়ে গেলো। এটা ভেবে সে অনেকটা ভীত হলো। কিন্তু দুই একদিন যাওয়ার পরে সব টা ঠিকও হয়ে গেলো। 

এভাবে তার অনেকগুলো বন্ধু হলো। তারা একসাথে গ্রুপ স্টাডি করতো। তার প্রত্যেকে প্রত্যেকের সাথে ভালো আচরণ করতো।  মিলেমিশে তারা একটা পরিবারের মত হয়ে গিয়েছিলো। এভাবে আস্তে আস্তে একদিন "ক"  ইউনিটের  পরিক্ষার দিন সামনে এগিয়ে এলো। সায়মার পরিক্ষার প্রস্তুতি ভালই ছিল। সায়মা চেয়েছিলো সে যাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হতে পারে। পরিক্ষার দিন সকালে সে যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে সে রওনা দিলো কিন্তু রাস্তায় প্রচুর জ্যাম ছিলো।

এই জ্যামএর জন্য তার ২০ মিনিট লেট হয়ে যায়। হল খুজতে খুজতে আরো একটু দেরি হয়ে গেছে। তার পরিক্ষা খুব বেশি ভালো হয়নি। যখন রেজাল্ট দিলো তখন সায়মা খুব আগ্রহ নিয়ে রেজাল্ট বোর্ডের সামনে গেলো তখন দেখলো তার নাম নেই। ভাগ্যের কাছে সে হেরে গেছে। সে তার বাড়িতে ফিরে আসে। তার মা তাকে বলে যে তুই চিন্তা করিস নাহ সামনের বার আবার হবে। সবাই তো আর স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায় নাহ।


Post a Comment

0 Comments