বেঁচে থাকার লড়াই!



বেঁচে থাকার লড়াই

আমাদের চারপাশে কত ঘটনা যায় আমরা কেউ সেটার খবর রাখি নাহ ।  ব্যক্তিগত ভাবনা গুলি ভাবতে ভাবতেই আমাদের সারাদিন কেটে যায়। আমাদের মাঝে কত মানুষ আছে যাদের মধ্যে আলাদা ট্যালেন্ট আছে আমাদের এই ব্যস্ত দুনিয়াতে আমরা তার হিসাব রাখি নাহ। গার্মেন্টস কর্মী সাহেদা বেগমের মেয়ে সায়মা। সাহেদা বেগমের স্বামি গত হয়েছেন প্রায় ১০ বছর আগে তার মেয়ের যখন ৯ বছর বয়স। আজ ১৯ জুলাই ২০১৮। সায়মার HSC পরিক্ষার ফল প্রকাশিত হবে আজ । সায়মা কলেজের একজন কৃতি ছাত্রী। সেবিষয়ে কোন সন্দেহ নেই । বরাবর JSC, SSC দুই পরিক্ষায় সে গোল্ডেন ৫ পেয়ে উত্তীর্ন  হয়েছে । টিকটিকটিক দুপুর ২ টা। ফলাফল প্রকাশ। বরাবরের মতো এবারের ও সেরা ছাত্রী সায়মা। তার মা সাহেদা বেগম ও মেয়ের এই সাফল্যে অনেক খুশি। কিন্তু সায়মার ইচ্ছে সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করবে। কিন্তু স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কোনো সহজ ব্যাপার নাহ। তার আগে ঢাকার কোনো ভালো কোচিং সেন্টারে ভর্তি হতে হবে। অনেক টাকার প্রয়োজন।সে তার মাকে বলে তার মা তাকে টাকার ব্যবস্থা করে দেন। কারণ তার মা চান সায়মা লেখাপড়া করুক। যেহেতু তাদের বাড়ি শহর থেকে বেশ খানিকটা দূরে তাই তাকে একটা হোস্টলে থাকতে হবে। কিন্তু একা মেয়ে মানুষ বলে মা প্রথমে রাজি না হলেও পরে অবশ্য মেয়ের কথা ভেবে রাজি হয়ে যায়। এখানে এসে সায়মা দেখলো অনেকেই পরিক্ষার পর পরই কোচিং শুরু করেছে তার অনেকটা দেরি হয়ে গেলো। এটা ভেবে সে অনেকটা ভীত হলো। কিন্তু দুই একদিন যাওয়ার পরে সব টা ঠিকও হয়ে গেলো। এভাবে তার অনেকগুলো বন্ধু হলো। তারা একসাথে গ্রুপ স্টাডি করতো। তার প্রত্যেকে প্রত্যেকের সাথে ভালো আচরণ করতো।  মিলেমিশে তারা একটা পরিবারের মত হয়ে গিয়েছিলো। এভাবে আস্তে আস্তে একদিন "ক"  ইউনিটের  পরিক্ষার দিন সামনে এগিয়ে এলো । সায়মার পরিক্ষার প্রস্তুতি ভালই ছিল। সায়মা চেয়েছিলো সে যাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হতে পারে। পরিক্ষার দিন সকালে সে যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে সে রওনা দিলো কিন্তু রাস্তায় প্রচুর জ্যাম ছিলো ।  এই জ্যামএর জন্য তার ২০ মিনিট লেট হয়ে যায়। হল খুজতে খুজতে আরো একটু দেরি হয়ে গেছে। তার পরিক্ষা খুব বেশি ভালো হয়নি। যখন রেজাল্ট দিলো তখন সায়মা খুব আগ্রহ নিয়ে রেজাল্ট বোর্ডের সামনে গেলো তখন দেখলো তার নাম নেই। ভাগ্যের কাছে সে হেরে গেছে। সে তার বাড়িতে ফিরে আসে। তার মা তাকে বলে যে তুই চিন্তা করিস নাহ সামনের বার আবার হবে। সবাই তো আর স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায় নাহ।

জীবনের গল্প টি লিখেছেন: নুসরাত জাহান

Post a Comment

0 Comments