সাহেব আমাকে এক টুকরো গোশত দিবেন !




দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করে
রাবেয়ার মা রাবেয়ার বাবাকে বললেন,
আমি তো পিঁয়াজ-মরিচ কেটে রেখেছিলাম,
কেউ তো এখনো গোশত পাঠালো না !
প্রতিবেশীরা আমাদের কথা কি ভুলে গেলো না তো? আপনি কি একটু গিয়ে দেখবেন?

রাবেয়ার বাবাঃ তুমি তো জানো গু আজ পর্যন্ত কারো কাছে আমি হাত পাতিনি
আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই আমাদের জন্য
কোন না কোন ব্যবস্থা করে দেবেন ।

দুপুরের পর পীড়াপীড়িতে বের না হয়ে পারলেন না রাবেয়ার বাবা।
প্রথম গেলেন বড় সাহেবের বাড়ীতে।
বললেন,বড় সাহেব ! আমি আপনার পড়শী। কিছু গোশত দেবেন ?

গোশত চাইতেই বড় সাহেবের চেহারা গোস্বায় লাল হয়ে গেল। তাচ্ছিল্যের সাথে বললেন, কি জানি কোত্থেকে গোশত চাইতে চলে আসে-বলেই ধরাম করে দরজা বন্ধ করে দিলেন বড় সাহেব।

অপমানে রাবেয়ার বাবার চোখে পানি চলে আসলো।
ভারী পায়ে চলতে চলতে এবার গেলেন মিঁয়া সাহেবের ঘরের দিকে,
দরজায় করাঘাত করে বিনীতভাবে
কিছু গোশত চাইলেন।
মিঁয়া সাহেব গোশতের কথা শুনেই বিরক্তিভরে তাকালেন।
পলিথিনে কয়েক টুকরো গোশত দিয়ে
দ্রুত দরজা বন্ধ করে দিলেন।
যাক ছোট মেয়েটাকে তো একটা বুঝ দেয়া যাবে, এমনটা ভাবতে ভাবতে রাবেয়ার বাবা ঘরে ফিরে এলেন।
ঘরে ফিরে পলিথিন খুলে দেখলেন
শুধু দুটো হাড্ডি আর চর্বি।
চুপচাপ রুমে গিয়ে কাঁদতে লাগলেন।

এরই মধ্যে ছোট রাবেয়া
বাবাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, বাবা !
গোশত লাগবে না। আমি গোস্ত খাবো না, আমার পেট ব্যাথা করছে।
মেয়ের একথা শুনে বাবা আর চাপা কান্না ধরে রাখতে পারলেন না।

এমন সময় বাইরে থেকে
সবজি বিক্রেতা করিম ভাই ডাক দিলো। রাবেয়ার বাপ ঘরে আছেন ?
রাবেয়ার আব্বু দরজা খুলতেই করিম ভাই তিন- চার কেজি গোশতের  একটি ব্যাগ হাতে নিয়ে বলল, গ্রাম থেকে বড় ভাই নিয়ে এসেছে। এতো গোশত কি একা খাওয়া সম্ভব, বলেন ?
এটা আপনারা খাবেন।
আনন্দ আর কৃতজ্ঞতায় রাবেয়ার বাবা
ভেজা চোখ মুছতে লাগলেন।
অন্তর থেকে করিমের জন্য দোয়া করতে লাগলেন।
গোশত রান্না করে সবাই মজা করে খেয়ে উঠতে না উঠতেই প্রচন্ড বাতাস তুফান শুরু হলো। বিদ্যুৎও চলে গেল।
সারাদিন গেল, এমনকি দ্বিতীয় দিনও বিদ্যুৎ এলো না বাতাস তুফানে  ট্রান্সমিটার জ্বলে গিয়েছিলো।

রাবেয়ার বাবা
তৃতীয় দিন রাবেয়াকে নিয়ে হাঁটতে বের হলেন।
বাবা-মেয়ে দেখলো,
বড় সাহেব ও মিঁয়া সাহেব গোশত ভরা অনেকগুলো পোঁটলা ডাস্টবিনে ফেলতেছেন।
বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে থাকা সব গোশত নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
ফেলে দেয়া পঁচা গোশতের উপর একদল কুকুরকে হামলে পড়তে দেখে রাবেয়া বলল, বাবা তারা কি
কুকুরদের খাওয়ানোর জন্য কুরবানী করেছিলেন?

পাশ থেকে মিঁয়া সাহেব ও হাজী সাহেব ছোট মেয়েটির কথা শুনে লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেললেন।

হ্যাঁ, এটিই আমাদের সমাজের
অধিকাংশ মানুষের বাস্তবচিত্র।
আমরা যেন মিঁয়া সাহেব আর বড় সাহেবদের মতো না হই। লাইনে দাঁড় করিয়ে নয় বরং
(সম্ভব হলে) অভাবীদের ঘরে ঘরে কুরবানীর গোশত
পোঁছে দেয়া হচ্ছে আমাদের কাজ।

আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে উত্তম বিনিময় পাওয়ার আশায়।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সমস্ত নেক আ'মল গুলো কবুল করুন।
আমাদের ভুল-ত্রুটিগুলো যেন মাফ করে দেন আল্লাহ তায়ালা-
আমিন।

লেখা টি পাঠিয়েছেন: সাজ্জাদুর রহমান

Post a Comment

0 Comments