নারীগণও ওলী হতে পারে! ইসলামিক ও জীবন


image Google

নারীগণ ওলী হতে পারে!

পুরুষ যেমন ওলী পদ লাভ করতে পারেন তেমনি নারীগণও ওলী পদ লাভ করতে পারে। ওলীর কয়েকটি অর্থ রয়েছে। ওলী, শব্দের একটি অর্থ হলো অভিভাবক, অন্য অর্থে, ওলী, হলো বন্ধু, বা প্রিয় ব্যক্তি। যিনি মহান আল্লাহ পাকের বেশি ইবাদত ও আনুগত্য করবেন তিনিই আল্লাহর প্রিয়ভাজন হতে পারবেন। কারা আল্লাহ তায়ালার ওলী হওয়ার যোগ্যতা রাখেন সে পরিচয়দানে মহান আল্লাহ বলেন-

-الله ولی الذین امنوا لا یخر جهم من الظلما ت الی النور

অর্থঃ আল্লাহর ওলী তারাই যারা মানুষদেরকে অন্ধকার পথ হতে আলোর পথে নিয়ে আসবেন। (সূরা বাকারাঃ ২৫৭)

এক কথায় যারা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলবেন তারাই আল্লাহর ওলী বা বন্ধু। পুরষগণ যেভাবে আল্লাহর ইবাদত করে আধ্যাত্নিক জহতে পা বাড়াতে পারেন তেমনি নারীগণও পারেন। একথার স্বীকৃতি দিয়ে শায়খ ফরিদ ইদ্দীন আত্তার (র) বলেন, আমাদের প্রিয় নবীগণ একথা বলে গেছেন যে, আল্লাহ তোমাদের বাহ্যিক আকৃতির দিকে নজর দেন না, বাহ্যিক আকৃতি গুরুত্বপূর্ণ বা সমস্যা নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো মানুষের কলব বা অন্তরের অভিপ্রায়। যেমন হযরত মুহাম্মাদ (সা) বলেছেন, হাশরের দিন লোকদেরকে তাদের অন্তরের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে একত্রিত করা হবে।

কারণ অনেক মানুষ লৌকিকতার জন্যে আল্লাহর ইবাদত করেন। বস্তুত তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি বা তাঁর হুকুম পালনের জন্য ইবাদত করে না। এজন্যে বুখারী শরীফের প্রথম হাদীসে বলা হয়েছে-
-انما الا عمال با لنیا ت وانما لامری مانوی

অর্থঃ মানুষের প্রত্যেক কাজ তার নিয়ত বা ইখলাসের ওপর নির্ভরশীল। প্রত্যেক ব্যক্তির জন্যে তাই রয়েছে যা সে নিয়ত করেছে।

নবী করিম (সা) আরো বলেছেন, খোদাভীতি বক্ষে, তা তিনি বক্ষের দিকে ইঙ্গিত দিয়েই বলেছেন।

মহান আল্লাহ তায়ালা আরো বলেছেন--
-الذین جاهدوا فینا لنهدینهم سبلنا

অর্থঃ যারা আল্লাহকে পাবার জন্যে চেষ্টা-সাধনা করে, তাদেরকেই আল্লাহ সৎ পথ প্রদর্শন করেন।

কুরআন ও হাদীসের অংশ দ্বারা বুঝা যায় যে, আল্লাহর প্রিয়জন বা ওলী হবার জন্যে পুরুষ-নারীর মধ্যে ভেদাভেদ নেই। যারাই বেশি গুণগান গেয়ে আল্লাহর ভালবাসা অর্জন করতে পারে তারাই ওলী। তারা আল্লাহর কাছে যা চায়, যা দাবি করে তা কবুল হয়। আর তার সুফল নিজের মাঝে বা সমাজের মাঝে বাস্তবায়িত হলে তাকে মানুষ ওলী বা আধ্যাত্নিক জগতের সাধক বলেন। 

নারীগণ যেহেতু পর্দার আড়ালে থাকে, সেহেতু তাদের ওলীত্বটা জনসমাজে প্রকাশ পায় না। তবু কিছু কিছু নারীর ওলীত্বটা প্রকাশ পেয়েছে। তাদের মাঝে হযরত রাবেয়া বসরী (র) ছিলেন অন্যতম। ফরিদ উদ্দীন আত্তার তাঁর সমন্ধে বলেছেন, তিনি ছিলেন এমন এক ব্যক্তি যিনি পূতঃ চরিত্র ও নির্জনবাসিনী। খাঁটি ধার্মিকতা ছিল যার অঙ্গাবরণ।

একটি কথা মনে রাখা প্রয়োজন, নারীগণ ওলী হতে পারেন, কিন্তু নবী হতে পারেন না। তার প্রমাণ হলো মহান আল্লাহ পৃথিবীতে যুগে যুগে যত নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন তারা সকলেই পুরুষ ছিলেন।

পরবর্তীকালে একজন লেখক আল-মুনাওয়ী তাঁর সম্বন্ধে বলেন-- বসরার রাবেয়া ছিলেন মহিলা তপস্বিনী ও নারী দীক্ষাপ্রাপ্তদের শীর্ষে। তিনি ছিলেন নারী তাপসীদের প্রধান এবং যারা আল্লাহর কৃপা লাভ ও সৎশীলতায় অগ্রগণ্য আর অভিজ্ঞ ছিলেন, তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম।

obohelajibon-blog/অবহেলা জীবন

Post a Comment

0 Comments