সফল হওয়ার জন্য তুমি কি করবে? ডাক্তার এপিজে আব্দুল কালাম (Powerful Motivation)



ডাক্তার এপিজে আব্দুল কালামের নাম আমরা যখনই শুনি বা ওনার চেহারা আমাদের যখনি মনে আসে, তখন ওনার প্রতি আমাদের সম্মান অটোমেটিক চলে আসে । ওনার জীবন কাহিনী ও ওনার মহানতা সম্পর্কে জেনে চোখে জল চলে আসে, যে কোনো মানুষ এমনটাও হতে পারে। আমি আপনাদের ওনার জীবনের কিছু কথা বলব। যা জানার পর আপনি সেখান থেকে প্রেরণা নিয়ে সফল ও সার্থক হতে পারবেন।

একবার যখন কালাম স্যার ঈশ্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্টে কাজ ছিলেন। তখন একদিন কালাম স্যার এর সেম্বার এ একটি বিজ্ঞানী এসে বলে, স্যার আমি কি আজ সন্ধ্যায় পাঁচটার মধ্যে কাজ শেষ করে বাড়ি যেতে পারি? কারণ । আজ আমি আমার বাচ্চাদের প্রদর্শনীতে নিয়ে যাবার প্রমিস করেছি । এটা শুনে কালাম স্যার অনুমতি দিয়ে দেয়ন। এরপরই, বিজ্ঞানী খুশি খুশি কাজ করা শুরু করে, এরপর ওই বিজ্ঞানী কাজে এত বেশি মগ্ন হয়ে যায় যে সে তার প্রমিস কে ভুলে যায়।

আর, সেটা তখন বুঝতে পারে যখন সে তার হাতের ঘড়িটা দেখে। যেখানে সাড়ে আটটা বেজে গেছে । এটা দেখে সে দ্রুত কালাম স্যার এর সেম্বারে এ আসে । কিন্তু তিনি সেখানে ছিলেন না । তাই সে বাড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পরে, রাস্তায় তার অনেক মনখারাপ ছিল কারণ সে তার বাচ্চাদের করা প্রমিস রাখতে পারেনি। বাড়ি ফিরে সে তার পত্নীকে বলে বাচ্চারা কোথায়? তখন পন্তী বলে তুমি জানোনা কালাম স্যার ঘরে এসেছিলেন, আর বাচ্চাদের প্রদর্শনী দেখানোর জন্য সাথে নিয়ে গেছেন।

আসলে যখন কালাম স্যার দেখেন, ওই বিজ্ঞানী তার কাজে মগ্ন হয়ে আছে। তখন তিনি তার মনোযোগ নষ্ট করা ঠিক মনে করেননি কিন্তু যেহেতু সে তার বাচ্চাদের প্রমিস করেছে। তাই কালাম স্যার তার বাচ্চাদের নিজেই নিয়ে যাবার সিন্ধান্ত নেয়। আর তাদের প্রদর্শনী দেখাতে নিয়ে যায়। নিজের পত্নীর কথা শুনে ওই বিজ্ঞানী টির চোখে জল চলে আসে, আর তার মনে কালাম স্যার এর জন্য সম্মান অনেক গুণে বেড়ে যায়, আর মনে মনে কালাম স্যার কে ধন্যবাদ দেয়।

কালাম স্যার এর জীবনের আর একটি ঘটনা আপনাদের বলতে চাই। একবার কালাম স্যার কে বারাণসীতে একটি সভাতে আমন্ত্রণ করা হয়। সেখানে দেখেন স্টেজে অনেক চেয়ার আছে আর তার মধ্যে মাঝের চেয়ারটি অনেক বড় অনেক উঁচু ছিল। যেখানে কালাম স্যারকে বসতে বলা হয় কিন্তু কালাম স্যার সেখানে বসতে মানা করে দেয়। আর বলে আমিও আপনাদের লেভেলের মানুষ। এরপর এই চেয়ারটিকে সরিয়ে ফেলা হয় আর তিনি সবার সঙ্গে বসেন।

কালাম স্যার কখনোই নিজেকে বড়ো ব্যাক্তি মনে করতেন না। তিনি নিজেকে সবার মতো ও সবার সমান মনে করতেন, আর এই কারণেই কালাম স্যার (কোরআন) গীতা ও বাইবেল এই তিনটি বই পড়তেন। তিনি বলতেন কোন গ্রন্থ ছোট বা বড় নয়। জ্ঞান যেখান থেকে পাওয়া যাবে, নিয়ে নেওয়া দরকার। এটাই ছিলো কালাম স্যারের চিন্তা। কালাম স্যার রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর এৃভেন্ধ্রার যাবার পথে, গেরুলের রাজ ভবনে রাত্রি কাটান।

আর রাষ্টপতির গেষ্ট  হিসাবে তিনি দু'টো লোক কে সেখানে ডাকতে পারতেন। তখন রাষ্টপতি কালাম স্যার দু'টো লোক কে সেখানে গেষ্ট হিসাবে ডেকে পাঠায়। তার মধ্যে একজন ছিলো রাস্তার ধারে বসে থাকা মুচি, আর দ্বিতীয় জন হলো ছোট্ট হোটেলের মালিক। কালাম স্যারের সম্পূর্ণ জীবন অনুপ্রেরণায় পূর্ণ। যেখান থেকে যেকোনো মানুষ অনেক কিছু শিখতে পারবে।

নিজের আন্ডারে কাজ করা, বিজ্ঞানের বাচ্চাদের প্রদর্শনী দেখানো বা সবার সাথে এক সমান চেয়ারে বসা বা রাষ্টপতি হয়ে ও গেষ্ট হিসাবে রাস্তার ধারে বসে থাকা মুচি ও ছোট্ট হোটেলের মালিক কে ডাকা। এই সব কিছু দেখেই বুজা যায়, যে কালাম স্যার কাউকে নিজের থেকে ছোট মনে করতেন নাহ। আর এটাই ওনাকে আরো মহান করে তোলে। তাই আপনি ছাত্র হন বা কোনো যুবক বা আপনি যেই হন না কেনো।

আমাদের সবার কালাম স্যার থেকে শিক্ষা নিয়ে, কাউকে নিজের থেকে ছোট ভাবা উচিত নয়। কারন, প্রতিটি মানুষের  মধ্যে এতোটা ক্ষমতা থাকে, যে সে তার পরিস্থিতি ও পরিছয় পরিবর্তন করতে পারে। আজ আপনি যাকে ছোট ও দূর্বল ভাবছেন, কাল সে তার পরিশ্রম ও কাজের দ্বারা কোথায় পৌছে যাবে। সেটা কেউ জানে না। তাই এখনোই কাউকে ছোট করবেন নাহ।

লেখা: সংগৃহীত 
এ পি জে আব্দুল কালাম কথা ও অনুপ্রেরনা
obohelajibon-blog/অবহেলা জীবন

Post a Comment

0 Comments