স্টুডেন্ট লাইফে এই ৩টি বড় ভুল আপনাকে ক্ষতি করছে? অনুপ্রেরনা স্টুডেন্ট লাইফ bangla


image Google

স্টুডেন্ট লাইফে এই ৩টি বড় ভুল আপনাকে ক্ষতি করছে?

বন্ধুরা আজকে আমি স্টুডেন্ট লাইফ এর তিনটে এমন ভুল এর কথা বলব। যা সাধারণ আমরা সবাই অবহেলা করি।  কিন্তু এই ভুল গুলো আমাদের ক্যারিয়ার এর বড় ক্ষতি করতে পারে। সবসময় তোমরা শুনে থাকো যে স্টুডেন্ট লাইফ এ সময় নষ্ট করা উচিত না, নেশা করা উচিত না, ক্লাস ফাঁকি দেওয়া উচিত না, বন্ধুদের সাথে বেশি পার্টি করা উচিত না ইত্যাদি। এগুলো তো খুবই কমন কিন্তু এগুলোর বাইরেও এমন কিছু ভুল আছে।

যা আমরা জেনে অথবা না জেনে করে ফেলি। আর সারা জীবন টার জন্য আফসোস করি। কিন্তু চিন্তা করার কোনো কারণ নেই, অবহেলা জীবনের কাজই হলো তোমাদের জন্য এমন কিছু টপিক নিয়ে আসা। যা তোমাদের জীবনের বিভিন্ন সমস্যা কে সমাধান করতে তোমাদের সাথে আছে এবং তোমাদের পাশে থাকবেই। তাই একটু সময় নিয়ে আজকের তিনটে পয়েন্ট মন দিয়ে পড়ুন। কারণ প্রতিটি পয়েন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

নাম্বার ১: তোমার বেস্ট বন্ধু কে দেখে সাবজেক্ট পছন্দ করা। এই ভুলটা আর্স, কমার্স এবং সায়েন্স এর মধ্যে আমাদের একটা চয়েস বাচঁতে হয়। অথবা কোনো একটা সাবজেক্ট পছন্দ করতে হয়। তখন আমরা অনেকেই করে থাকি, আমরা কি করি আমাদের বেস্ট বন্ধু যে সাবজেক্ট পছন্দ করে। আমরা সেটাই পছন্দ করে নেই একসাথে পড়ার জন্য। এটা তোমাদের অনেকের সাথে ইতিমধ্যে হয়েছে। যেহেতু এত বছরের বন্ধুত্ব, একসাথে প্রতিদিন স্কুল কোচিং যাওয়া আসা।

তাই ভবিষ্যৎ তে একসাথে পড়ার জন্য আমরা একই সাবজেক্ট পছন্দ করে নেয়। এটা একটা বড় ভুল। হয়তো তোমার আর তোমার বন্ধুর ইচ্ছা শক্তি এবং প্রতিভা সম্পূর্ণ আলাদা। সে হয়তো গনিতে ভালো আর তুমি ইংলিশ বা তার হয়তো আর্টসে ভালো লাগে আর তোমার অ্যাকাউন্টিং এ । তাই সাবজেক্ট সবসময় টিচার বা তোমার বাবা মার সাথে আলোচনা করে এবং নিজের ইচ্ছা শক্তি বুঝেই পছন্দ করা উচিত। বন্ধুত্ব একসাথে না পড়লে ও রাখা যায়। কিন্তু ভুল সাবজেক্ট পছন্দ করলে পরে অনেক প্রবলেম হতে পারে।

নাম্বার ২: পড়ার চাপে হবি বা আবেগ এর পেছনে সময় না দেওয়া। স্টুডেন্ট লাইফ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবশ্যই পড়াশোনা। কিন্তু এর সাথে সাথে আমাদের নিজের সৃজনশীলতা, নিজের হবি কেউ অনুসরণ করা উচিত। সাপ্তাহিক কিছুটা সময় অন্তত নিজের পছন্দের কাজের জন্য অবশ্যই রাখা উচিত। কিন্তু আমরা অনেকেই স্কুল কলেজ এবং কোচিং এর চাপে নিজের হবি পেশেন্টকে সেক্রিফাইস করে দি। আমি অনেককেই বলতে শুনেছি ছোটবেলায় আঁকা নাচ বা গান শিখতাম কিন্তু এখন পড়ার চাপে ছেড়ে দিয়েছি।

এটা ঠিক নয় তোমার মধ্যে যদি কোনো সৃজনশীলতা থাকে তাহলে তাকে এভাবে নষ্ট করে ফেলা উচিত নয়। কে বলতে পারে ভবিষ্যৎ এ হয়তো সেটাই তোমাকে সাকসেসফুল বানিয়ে দেবে। আমি এরকম অনেককেই চিনি যারা পড়াশোনা কে ভালোভাবে বজায় রেখে ও নিজের হবি নিজের প্যাশন কে টাইম দেয়। তাই তুমিও সপ্তাহে কিছুটা সময় পছন্দের কাজকে অবশ্যই দাও। এতে মনও ভালো থাকবে পড়াশোনা একঘেয়ে লাগবে না আর ভবিষ্যৎ এ তোমার জন্য একটা ক্যারিয়ার অফশন ও তৈরি হয়ে থাকবে।

নাম্বার ৩: এই ভুলটা বহু স্টুডেন্ট করে থাকে। আর তার ফলে তারা বিষণ্ণ হয়ে যায়। সেটা হলো অন্যের লাইফ স্টাইলকে কপি করা। হাই স্কুল বা কলেজে গিয়ে আমরা অনেকেই কোনো উচ্চ প্রোফাইল বন্ধু দের লাইফ স্টাইল দেখে ইমপ্রেস হয়ে যাই। আর সেটা কপি করতে চেষ্টা করি। তার হয়তো কোটি টাকা আছে। প্রতিদিন দামি বাইক চেপে কলেজ এ আসে, আইফোন ব্যবহার করে, ক্যান্টিনে প্রচুর টাকা উড়ায়, পার্টি করে,  আর আমরা যারা বেশির ভাগ মিডেল ক্লাস ফ্যামিলি পড়াশুনা করি, তারা সে গুলা দেখে নিজের বাবা মার কাছে সেগুলো কিনে দেয়ার বায়না করে।

যা হয় তো আমাদের বাবা মার সাধ্যের বাহিরে। এক দু বার হয়তো তারা কষ্ট করে কিনে ও দেয় কিন্তু  কিনে না দিতে পারলে, আমরা নিজেকে বন্ধুদের কাছে ছোট মনে করি। আর এটা দেখে সৃষ্টি হয় হতাশার। আমাদের স্কুল বা কলেজ এ যেটা প্রধানত গুরুত্ব দেয়া উচিত, মানে পড়া শুনা, নিজের ক্যারিয়ার। সেটা থেকেই আমাদের ফোকাস সরে যায়। এর থেকে ভালো এখন লেখাপড়া করে, নিজের লাইফ স্টাইল নিজে বানানো।

আর বিশ্বাস করো সেই লাইফ স্টাইল টা আনন্দ করতে অনেক ভালো লাগবে। তার বর্তমান আর তোমার বর্তমান হয় তো আলাদা। তোমার হয়তো মনে হচ্ছে সে এখন দারুন আনন্দ করছে। কিন্তু  তুমি নিজের লক্ষ্যে কয়েকটা বছর স্থির থাকো। আর ভবিষ্যৎ হবে তোমার হাতের মুঠয়। আর বাকি জীবন টা তুমি আনন্দ করবে। আর একদিন বাবা মায়ের কাছে পয়সা চাওয়ার বদলে তাদের কে দিবে। অবহেলা জীবনে আমি কাউছার ছিলাম আপনাদের সাথে। তো বন্ধুরা ভালো থাকবেন আবার দেখা হবে নতুন কিছু টপিক নিয়ে: ধন্যবাদ

©obohelajibon-blog/অবহেলা জীবন

Post a Comment

0 Comments