আপনিও অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারবেন! Bangla Motivational


আপনিও অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারবেন! যদি আপনাার কাছে ইচ্ছা শক্তি থাকে?
image Google

আপনিও অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারবেন! Bangla Motivational

আমি আজকে আপনাদের এমন এক মহিলার জীবন কাহিনী শুনাবো,যার ৪ বসর বয়সে পলিও হয়েছিল এবং ডাক্তাররা বলেছিলো সে সারা জীবন আর নিজের পায়ে দাড়াতে পারবে না। কিন্তু তার ইচ্ছা শক্তি তাকে শুধু নিজের পায়ে হাটাইনি তাকে পৃথিবীর সেরা অ্যাথলেটিক বানিয়েছে। 

সেই মহিলার নাম হলো উইলমা (WILMA) RUDLPH আসুন তার জীবন থেকে প্রেরণা গ্রহণ করি। ১৯৪০ সালে আমেরিকার এক গরীব পরিবারে উইলমা এর জন্ম হয়েছিলো।তার বাবা একজন কুলি এবং তার মা অন্যদের বাড়িতে হাউস ক্লিনার কাজ করতেন। WILMA একজন PREMATURE BABY হিসেবে জন্ম গ্রহন করেছিলেন এবং জন্মের পর থেকেই বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগতেন। যখন তার বয়স ৪ বছর তখন তার মা বাবা জানতে পারে WILMA পলিও রোগে আক্রান্ত এবং ডাক্তাররা বলেন সে কোন দিন নিজের পায়ে হাটতে পারবেন না। 

সে তার বাঁ পায়ের শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। হাটা চলা করার জন্য তাকে ব্রেস পরে হাটতে হয়। যখন তার আশে পাশে বাচ্চাদের দৌড়াতে দেখে তখন তারও ইচ্ছা করে দৌড়াতে। একদিন তার মনের কথা তার মাকে জানায়।তার মা ছিলেন অত্যান্ত আশাবাদী মহিলা ছিলেন। তাই WILMA র মনোবল বাড়ানোর জন্য তাকে বলে, এই পৃথিবীতে ইচ্ছাশক্তি ও মনোবল দ্বারা সব কিছু করা সম্ভব। 

সেই ছোট্ট শিশু সেটা শুনে তার ভেতরের ইচ্ছা আর মনোবল কে আরও বাড়িয়ে তুললো। সে মনে মনে ঠিক করে তাকে হাটতেও হবে এমনকি তাকে অলিম্পিকেও দৌড়াতে হবে। WILMA নয় বছর বয়সে তার পায়ের ব্রেস খুলে ফেলে এবং হাটতে চেষ্টা করে।সে বারবার পড়ে যায়, তার চোট লাগে।কিন্তু সে হার মানে না।তার মনে বিশ্বাস সে একদিন উঠে দাড়াতে পারবে। বারবার চেষ্টা করতে করতে সে একদিন কারো সাহায্য ছাড়াই উঠে দাড়ায়। 

তেরো বছর বয়সে সে প্রথম দৌড়ে অংশ গ্রহণ করে এবং সে দৌড় শেষ স্থানে গিয়ে দৌড শেষ করে। WILMA তাতেও হার মানে না। পরপর সে অনেক গুলো দৌড়ে অংশ গ্রহণ করে এবং সে জয়ী হয়। এতে তার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়তে থাকে। পনের বছর বয়সে WILMA ED TEMPLE নামের এক কোচের সাথে দেখা করে। WILMA কোচকে বলে,সে পৃথিবীর সব থেকে দ্রুততম অ্যাথলেট হতে চায়। TEMPLE তার আত্মবিশ্বাস দেখে তাকে ট্রেনিং দেওয়া শুরু করে। 
তারপর WILMA অনেক দৌড় জিতে এবং সেই দিন আসে যেদিন সে অলিম্পিকে কোয়ালিফায় হয়। অলিম্পিকে তার সামনে ছিল সেই সময়কার নামিদামী অ্যাথলেটরা।WILMA সবাইকে হাড়িয়ে ১০০ মি. দৌড়ে সোনা, ২০০ মি. দৌড়ে সোনা এবং ৪০০ মি. রিলে দৌড়ে সোনা জিতে।অলিম্পিকের ইতিহাসে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখিত হয়ে যায়। একটি মেয়ে যে কিনা চার বছর বয়সে পলিও আক্রান্ত হয়ে হাটতে পারে নাই সে অলিম্পিকে সব থেকে দ্রুততম অ্যাথলেট হয়ে সোনা জিতে আনে। এক অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলে। 

আমরা অনেক সময় জীবনে কোন সমস্যায় পরলে ভেংগে পড়ি আর ভাবি আর হইতো কিচ্ছু করার নেই। WILMA যদি এমন ভাবতো তাহলে সে কখনই ইতিহাসের পাতায় নাম লিখাতে পারতো না। যখনই আমাদের জীবনে কোন সমস্যা দেখা দেয় তখন আমাদের WILMA এর জীবন কাহিনী থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করা উচিৎ। আসুন নিজেদের বলি জীবনে কোন অবস্থায় ভেংগে পড়বো না। যত সমস্যাই আসুক আমি লড়ে নিবো এবং আমি একদিন জিতবোই।

Tag: অনুপ্রেরণা
Tag: জীবনের গল্প
Tag: WILMA RUDLPH/Story

obohelajibon/অবহেলা জীবন

Post a Comment

0 Comments