কিভাবে বুঝবেন প্রিয়জনের ভালোবাসা সত্যি না কি মিথ্যা?



কিভাবে বুঝবেন প্রিয়জনের ভালোবাসা 
সত্যি না কি মিথ্যা?

একটা সম্পর্কে যদি ভালোবাসা সত্যি হয়, তাহলে সেটা আপনার জীবনের উন্নতির কারণ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু আপনি যে সম্পর্কে আছেন, সেখানে আপনার সঙ্গীর ভালোবাসা যদি মিথ্যে হয়? তাহলে সেই মিথ্যে ভালোবাসা আপনাকে বরবাদ পর্যন্ত করে দিতে পারে। সম্পর্ক  আমাদের জীবনের একটা জরুরি অধ্যায়। কিন্তু মিথ্যে ভালোবাসার অভিনয় ধোকা খেয়ে অনেকেই নিজের পড়াশোনা এবং ক্যারিয়ার কে নষ্ট করে ফেলেছে, এবং সব  চেয়ে গুরুত্বপূর্ন অনেকের মন থেকে ভালো মানুষদের প্রতি ও বিশ্বাস উঠে গেছে।

তাই আজকে আমি তিনটে এরকম ব্যবহার বা সাইন এর ব্যাপারে আলোচনা করব। যেগুলো যদি আপনার পার্টনার বারবার করে, তাহলে হয়তো আপনি ভুল সম্পর্কে রয়েছেন। অর্থাৎ এই সাইন গুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটাই ইশারা করে, যে সামনের মানুষ তার ভালোবাসা আপনার জন্য মিথ্যে। তো চলুন সেই তিনটে ব্যবহার বা সাইন দেখে নেওয়া যাক।

সাইন নাম্বার এক: পার্টনার যদি সবসময় নিজের কাজ হাসিল করার জন্য আপনাকে কোন না কোন ভাবে ব্যবহার করে। তাহলে বুঝে নিতে হবে তার ভালোবাসা হয়তো মিথ্যে। সেই ব্যবহার করাটা পয়সাকড়ির দিক থেকে হোক, নিজের আবেগ  কে দূর করার জন্য হোক। অথবা অন্য কোনো কারণে হোক। সে যদি শুধু তার প্রবলেম, তার দরকার নিয়ে ইন্টারেস্ট  থাকে। কিন্তু যখন আপনার জীবনে প্রবলেম আছে বা আপনার যদি তার সাফর্ট এর দরকার হয়। তখন সে এসব ব্যাপারে কোন ইন্টারেস্ট  এ দেখায় না। তাহলে  বুঝে নিতে হবে এটা ভালোবাসা নয়। কারণ ভালোবাসা মানে শুধু তার সংকট এর সময়, তার অসুবিধার সময়, আপনাকে পাশে পাওয়া নয়। আপনার সমস্যা এর সময় ও সমান ভাবে পাশে থাকা কে বলে।

সাইন নাম্বার দুই: আপনার পার্টনার যদি সব সময় আপনাকে অন্যের সাথে তুলনা করে ছোট করে। তাহলে এটা ইশারা হতে পারে যে তার ভালোবাসাটা আপনার জন্য মিথ্যে। সে বর্তমান আপনি তাকে ভালোবাসে না। আপনাকে নিজের পছন্দ অনুযায়ী বদলে নিতে চায়।দেখো এর বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ড এরকম, আর তুমি নিজেকে দেখো তুমি কেমন। ওর স্বামীে বা স্তী  কে দেখেছ নিজেকে কেমন মেনটেইন রাখে। আর তোমার দ্বারা কিচ্ছু হয় না। এই টাইপের কথা বার্তা, যখন কেউ আমাদের বলে। তখন তারা নিজেরাই এটা অনুভব করতে পারে না। যে উল্টোদিকের মানুষটা সেটা কতটা খারাপ লাগতে পারে। আর এইসব বারবার শুনতে শুনতে আমরা নিজেরাই নিজেদের কে কখনো অন্যের সাথে তুলনা করে কমজোরি ভাবতে শুরু করি। আমরা নিজেরাও জানিনা। আমাদের মনে হয় হয়তো আমাদের মধ্যে কিছু কমতি আছে। আমি হয়তো ওর যোগ্য নই। কিন্তু সত্যি কথাটা হল আমরা প্রত্যেকে আলাদা আলাদা ভাবে সুন্দর। আমাদের প্রত্যেকের চরিত্র  আলাদা, আর সবচেয়ে বড় কথা টা হচ্ছে আমরা প্রত্যেকে আলাদা আলাদা মানুষ। তাহলে কি করে আমি অন্যের মতো হতে পারি। যে সত্যিকারের ভালোবাসবে, সে আসল আমি টা কেই ভালবাসবে। আমাকে লাইফে উন্নতির জন্য সে মটিবেইট করতে পারে। কিন্তু অন্যের বয়ফ্রেন্ড বা গার্লফ্রেন্ডের সাথে তুলনা করে, আমাকে ছোট করবে না। নিজের পছন্দ মতো গড়ে নিতে চাইলে, সত্যিকারের ভালোবাসা পাওয়া যায় না। মূর্তি কারের তৈরী মাটির মূর্তি পাওয়া যায়।

সাইন নাম্বার তিন: আপনার পার্টনার যদি আপনাকে সম্মান না করে, আপনার কোনো কথার দাম, কোনো ইচ্ছার দাম, যদি তার কাছে না থাকে, তাহলে বুঝে নিতে হবে আপনার জন্য তার ভালোবাসাটা হয়ত মিথ্যে। এবার প্রশ্ন হলো একটা সম্পর্কে একে অপরকে সম্মান করা বলতে কি বোঝায়? একটা সম্পর্কে সম্মান বলতে বোঝায়, একে অপরের ছোট ছোট আবেগ গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া। তার ইচ্ছে তার অনুভূতি গুরুত্ব যেমন আপনার কাছে থাকবে। আপনার ইচ্ছে আপনার অনুভূতি গুলোর গুরুত্ব তেমনি তার কাছেও থাকবে। সে তার ইচ্ছে গুলো তার মতামত গুলো শুধু আপনার ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে, আর আপনাকে প্রতিদিন নিজের গুলোকে তার জন্য ত্যাগ করতে হচ্ছে। এরকম হলে কিন্তু আপনি হয়তো ভুল সম্পর্কে আছেন। সে যদি তার ভবিষ্যৎ নিয়ে, তার ভালো থাকাটা নিয়েই শুধু ভাবে। আর আপনার ভবিষ্যৎ বা আপনার ভালো থাকা যদি কোনো ম্যাটারি না করে। তাহলে বুঝে নিতে হবে সেই সম্পর্কে আপনার কোনো সম্মান নেই।

তবে এক্ষেত্রে একটা কথা বলি। অনেক সময় কাজের ব্যাস্ততার জন্য কিংবা ব্যক্তিগত কোনো সমস্যার জন্য আমাদের পার্টনার  ঠিক মতো সময় দিতে পারে না, কিংবা তাকে আমাদের ছোট খাটো আবেগ গুলোকে ইগনর করে যেতে হয়। এটাকে কিন্তু মিথ্যে ভালোবাসা ভাবলে হবে না। কারণ এটা যেকোনো মানুষের লাইফ এই হতে পারে।

কিন্তু পুরো সম্পর্কটা জুড়েই যদি সম্মান না থাকে। তাহলে একটু ভাবা উচিত। আরেকটা ডিসক্লাইমার আমি দিতে চাই। এই তিনটে সাইন  যেমন ইশারা করে। আপনার পার্টনার  এর ভালোবাসা হয়তো মিথ্যে। কিন্তু এই তিনটে সাইন থাকা মানেই তার ভালোবাসা হান্ড্রেড পার্সেন্ট মিথ্যেই হবে। এটা কিন্তু নাও  হতে পারে। কারণ আমরা অনেক সময় বিভিন্ন রকম পরিস্থিতির শিকার হয়ে, এই টাইপের ব্যবহার করে থাকি। তাই যে কোনো সিন্ধাতে এ আসার আগে আপনার এই মুহুর্তে পরিস্থিতি কে বিচার করুন। ভালোভাবে পার্টনার কে এবং দরকার হলে তার সঙ্গে সামনাসামনি বসে কথা বলুন। ভালো থাকুন আবার দেখা হবে নতুন আর্টিকেলে

©obohelajibon/অবহেলা জীবন

Post a Comment

0 Comments