আপনি কি Single? তাহলে এটা আপনার জন্য? Valentines day


আপনি কি Single? তাহলে এটা আপনার জন্য? Valentines day

আপনি কি Single? তাহলে এটা আপনার জন্য? Valentines day

আমি হইতো খুব বেশী কিছু জানি না ভালোবাসা সম্পর্কে। কিন্তু যখন তুমি সামনে চলে আসো, আমার খোঁজা শেষ হয়ে যায়। আজ ভ্যালেন্টাইনস্ ডে। তাই আজ আমি আপনাদের একটা স্টোরি শেয়ার করবো।আর এই স্টোরি টা তাদের জন্য, যারা এখনো সিংগেল। একটি কলেজে তিনটি বন্ধুর গ্রুপ ছিল। তারা সবাই অনেক ভাল বন্ধুছিল। আর তাদের নাম ছিল তানভীর, রবিন আর সুমাইয়া। রবিন জানতো তানভীর আর সুমাইয়া দুজনেই দুজনকে খুব ভালোবাসে। 

কিন্তু কেউ কাউকে বলতে পারছিলো না। তাই একদিন রবিন দুজনকে ডেকে তাদের মধ্যে কথা বলায়। সেদিন থেকেই তানভীর আর সুমাইয়া বন্ধুত্ব রিলেশনশীপে পরিণত হয়। তাদের ভালোবাসার জীবন শুরু হয়। কলেজে অনেক রকমের অনুষ্ঠান হতো। কিন্তু এদের মধ্যে কোন সমস্যা আসেনি। এদের ভালোবাসা একই ভাবে চলতে থাকে।কখনো এদের মধ্যে ঝগড়াও হইনি। কারণ এদের বন্ধু রবিন সে সব সময় চাইতো। 

তার বন্ধুদের যেন কোন সমস্যা না আসে। তারা যেন দুজনেই অনেক হ্যাপি থাকে। আর এ কারণেই তানভীর ও সুমাইয়া লাভ স্টোরি সুন্দর ভাবে এগিয়ে চলছিলো। কিছুদিন পর তানভীর একটা জিনিস বুঝতে পারে, যে ওর গার্লফ্রেন্ড সুমাইয়া অনেক ডিমান্ডিং ছিল। তার সব সময় কোন না কোন গিফট প্রয়োজন হতো। সে সব সময় সারপ্রাইজ আসা করতো। আর সুমাইয়া কখনো এটা বুঝতেই চাইতো না যে সারপ্রাইজ সব সময় কোনো গিফট দিয়ে হয় না।

অনেক মুহূর্তও সারপ্রাইজ হয়। কিছু মুহূর্ত এমন হয় যা স্মৃতি হয়ে থাকে। কিন্তু তানভীর এই কথা সুমাইয়াকে কিছুতেই বুঝাতে পারতো না। আসতে আসতে মাস চলে। ফেব্রুয়ারি মাস। ভ্যালেন্টাইনস্ উইক চলে আসে। সুমাইয়া তানভীরকে এসে বলে, কত সুন্দর দিন আসছে, রোজ ডে, চকোলেট ডে, টেডি ডে, ভ্যালেন্টাইনস্ ডে। আমরা রোজ বাইরে যাব, পার্টি করবো, ডিনার করবো, ডেট করবো, অনেক গিফট কিনবো, আর অনেক ইনজয় করবো। সব কিছু অনেক সুন্দর হবে।

আর এই সব কিছু যখন সুমাইয়া বলছিলো, তার মুখে আলাদা রকমের খুশি ছিলো। আর তখনি তানভীর বলে আমি এক সপ্তাহের জন্য বাড়ি যাবো। একটু ইমারজেনসি আছে। তাই আমার ফ্যামিলির সাথে আমার কিছু দিন থাকতে হবে। আর যখনি এটা তানভীর বলে, সুমাইয়া বুঝতে পারে সে মিথ্যা বলছে।সুমাইয়া বলে, তুমি আমাকে মিথ্যা বলছো। সত্য কথা বল তুমি আমার সাথে থাকতে চাও না। এটা বলেই সুমাইয়া অনেক রাগ করে আর সেখান থেকে চলে যায়। 

এমন মনে হয় যেন ভ্যালেন্টাইনস্ উইক শুরু হওয়ার আগেই এই দুজনের ব্রেক আপ হয়ে গেছে। তানভীর বুঝতে পারছে না সে কি করবে? সে তার বেস্ট ফ্রেন্ড রবিনের কাছে গিয়ে সব কিছু বলে। আর বলে সুমাইয়া অনেক রেগে আছে। সুমাইয়া অনেক গিফট চায়, অনেক ঘুরতে চায়, পার্টি করতে চায় কিন্তু আমি এ সব কিছু কিভাবে করবো?কারণ প্রতিটি কলেজ ছাত্রের কাছে একটি ফিক্সড টাকা থাকে। তানভীর একটা মিডেল ক্লাস ফ্যামিলির ছেলে। 

তাই সে বুঝতে পারছিল না এত খরচ সে কিভাবে করবে? তাই সে মিথ্যা কথা বলেছিল। এরপর তানভীর রুম থেকে বাইরে যাওয়া ছেড়ে দেয়। ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার রবিন তানভীরকে ফোন দেয় আর বলে ভাই একটা সারপ্রাইজ আছে। প্লিজ একবার রেস্টুরেন্টে আয়। তানভীর রেস্টুরেন্টে গিয়ে দেখে, সেখানে একটি বড় পার্টির আয়োজন করা হয়েছে। যা তানভীর ও সুমাইয়া জন্য করা হয়েছে। সেখানে অনেক গিফট রাখা আছে। যা দেখে সুমাইয়া অনেক খুশি হলো। 

তানভীরকে দেখে সুমাইয়া বলে আমি জানতাম তুমি আমাকে সারপ্রাইজ দিবে। কিন্তু এত বড় এত সুন্দর সারপ্রাইজ? তুমি আমার বেস্ট বাবু, আই লাভ ইউ। এটা বলে সুমাইয়া তানভীরকে জড়িয়ে ধরে। এর পরও তানভীর কোন কিছু বলেনি। কারণ সে বুঝতে পারে এসব কিছু তার বন্ধু রবিন করেছে, শুধু তার জন্য। পার্টি শেষ হওয়ার পর তানভীর সুমাইয়াকে বলে, তোমার আর আমার রাস্তা আলাদা, তুমি হইতো জীবনে অন্য কিছু চাও। 

কিন্তু আমি জীবনে অন্য কিছু চাই। আমাদের রাস্তা এক নয়। তাই আমাদের আলাদা হয়ে যাওয়াই ভাল। আর ঐ দিন তানভীর ব্রেকা আপ করে নেয়। এর পর তানভীর দ্রুত রবিন কাছে আসে। আর রবিনকে জড়িয়ে ধরে বলে ভাই, তুই হলে আমার সত্যিকারের বন্ধু, তুই আজ আমাকে শিখিয়ে দিয়েছিস জীবনে রিলেশনশীপের থেকে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হলো বন্ধুত্ব, আই লাভ ইউ ব্রো। এরপর রবিন বলে, ভাই চিন্তা করিস না এখনো ভাবি আসা বাকি আছে। 

এই ছোট গল্পটি আমাদের অনেক বড় শিক্ষা দেয়। যদি বন্ধু আপনার সাথে থাকে, তাহলে সব কিছু আপনার সংগে আছে। এরা সেই বন্ধু যারা লড়াই, ঝগড়া, ভালোবাসা সব সময় আপনার পাশে থাকে। আপনি যখন আপনার পাটনারের সাথে দেখা করতে যান, বাড়িতে এটা বলে যান যে বন্ধুর সাথে দেখা করতে যাচ্ছি। তাই এই বন্ধুদের কখনোই ভুলবেন না। তাই আপনি যদি সিংগেল হোন তাহলে আপনার বন্ধুদের সাথে সময় দিন।

আর সব শেষে উইশ করবো, আপনার জীবনে খুব দ্রুত অনেক ভালোবাসা আসুক।যা কখনোই ফিরে যাবে না। হ্যাপি ভালেন্টাইনস্ ডে। হইতো কিছু জানি না ভালোবাসা সম্পর্কে। 

obohelajibon/অবহেলা জীবন


Post a Comment

0 Comments