লাইলাতুল কদর নামজ এবং আমল/ফযীলত কি? এই রাতে আমাদের করণীয় কি?


লাইলাতুল কদর নামজ এবং আমল/ফযীলত কি? এই রাতে আমাদের করণীয় কি? image
হাজার মাসের চেয়েও দামি লাইলাতুল কদর

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ (১) وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ (২) لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ (৩) تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِمْ مِنْ كُلِّ أَمْرٍ (৪) سَلَامٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ (৫)

অর্থ: 
১ নিশ্চয়ই আমি এটা  ক্বদর রাতে নাযিল করলাম।
২: আর আপনি কি জানেন, ক্বদর রাত কি? 
৩: লাইলাতুল কদর হাজার মাস থেকে শ্রেয়
৪: সে রাতে প্রত্যেক বরকত পূর্ণ বিষয় নিয়ে ফেরেশতারা ও রূহ (জীবরাঈল আঃ) অবতীর্ণ হয়, স্বীয় রবের নির্দেশে।
৫: সে রাতে সম্পূর্ণ শান্তি, ফজর পর্যন্ত বিরাজিত থাকে।

وَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْعَشَرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ

অর্থ: রাসুল (সাঃ) বলেছেন রমজানের শেষ দশকে তোমরা শবে কদর অন্বেষণ কর)

মহান আল্লাহ পাকের দরবারে লাখ ও কোটি শোকর যে আল্লাহ তায়ালা এই মহান দূর্যোগের সময় ও আমাদের কে সুস্থ রেখেছেন আলহামদুলিল্লাহ

আমরা সবাই অবগত আছি. যে আমরা এখন যে মাস অতিবাহিত করতেছি সেটা হলো রমজান মাস. এই মাসে এমন একটি রাত্র আছে যাহা হাজার মাস এর ছেয়ে ও উত্তম এবং সেই রাত্র টা হলো কদরের রাত্রি এ কদর এর রাত্রিতে আল্লাহ্ তায়ালা কোরআন নাযিল করেন এবং এই মাসেই যে কদর রাত্রি সেটা কোরআন দ্বারা সুস্পস্ট ভাবে প্রমাণিত, এবং এই রাত্রি রমজান মাসের শেষ দশকের যে কোন দিন হতে পারে,

তাফসীরে মাযহারীতে আছে শবে কদর রমজান মাসের শেষ দশ দিনের মধ্যে আসে কিন্তু এর ও কোন তারিখ নির্দিষ্ট নেই বরং যে কোন রাত্রিতে হতে পারে। এবং প্রত্যেক রমজানে তা পরিবর্তন ও হয়.অর্থাৎ এই রমজানে শবে কদর যে তারিখে হবে আগামি রমজানে সেই তারিখে না ও হতে পারে.

সহীহ হাদীসদৃষ্টে রমজানের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাত্রিগুলোতে শবে-কদর হওয়ার সম্ভানা অধিক..

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন...
فاطلبوها في الوتر منها

যে তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাত্রি গুলোতে তাহা (শবে কদর) তালাশ করো)

ইবনে আবী হাতেম (রাঃ) এর রেওয়ায়েতে আছে একদা রাসুল সাঃ বনী-ইসরাঈলের জনৈক মুজাহিদ সম্পর্কে আলোচনা করলেন, সে এক হাজার মাস পর্যন্ত অবিরাম জেহাদে মশগুল থাকে এবং কখনও অস্ত্র সংবরণ করেনি, মুসলমানগন একথা শুনে বিস্মিত হলে এ সুরা কদর অবতীর্ণ হয়, এতে এ উম্মতের জন্য শুধু এক রাত্রির ইবাদাতই সে মুজাহিদের এক হাজার মাসের এবাদাত অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ প্রতিপন্ন করা হয়েছে..

এই হাদিস দারাও এটাই প্রমানিত হলো যে এই রাত্রি হাজার মাস থেকে শ্রেষ্ঠ.

এই রাতে আমাদের করণীয় কি.?

বুখারী ও মুসলিমের এক রেওয়ায়েতে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন যে ব্যক্তি শবেকদরের ইবাদতে দন্ডায়মান থাকে তার অতীতের সব গুনাহ মাফ হয়ে যায়. হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর রেওয়ায়েতে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন শবেকদরে সিদরাতুলমুনতাহায় অবস্থানকারী সব ফেরেস্তা জিবরাঈল (আঃ) এর সাথে দুনিয়াতে অবতরণ করেন এবং মধ্যপায়ী ও শুকরের মাংস ভক্ষণকারী ব্যতিত প্রত্যেক মু′মিন পুরুষ ও নারীকে সালাম
করে: সুবহানাল্লাহ

শবে কদরে আমরা কি দোয়া করবো.?

হযরত আয়েশা (রাঃ) একবার রাসুলুল্লাহ সাঃ কে জিঞ্জেস করলেন: যদি আমি শবেকদর পাই কি দোয়া উত্তরে তিনি বল্লেন; এ দোয়া করো
اَللّهٌمَّ إنَّكَ عَفُوٌّتُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنَّا
অর্থ :হে আল্লাহ আপনি অত্যন্ত ক্ষমতাশীল।ক্ষমা আপনার পছন্দনীয়। অতএব আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন (কুরতুবী)

শবেকদর এর ভিন্ন কোন নির্দিষ্ট নামাজ নাই ঐদিন যে কোন নফল নামাজ আদায়, করা যেতে পারে.

যে ব্যক্তি শবে কদরে ইশা ও ফজরের নামাজ জামাতের সাথে আদায় করে সেও এ রাত্রির ছাওয়াব হাসিল করবে. যে ব্যক্তি যত বেশি ইবাদাত করবে সে তত বেশি ছাওয়াব পাবে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: যে ব্যক্তি ইশার নামাজ জামাতের সহিত পড়ে সে অর্ধ রাত্রির ছাওয়াব অর্জন করে. যদি সে ফজরের নামাজ ও জামাতের সাথে পড়ে নেয় তবে সমস্ত রাত্রি জাগরণের ছাওয়াব হাসিল করে (সুবহানাল্লাহ)

কদরের অর্থ হলো তকদীর এবং আদেশ ও হয়ে থাকে, এ রাত্রিতে পরবর্তী এক বছরের অবধারিত বিধিলিপি ব্যবস্থাপক ও প্রয়োগকারী ফেরেশতা গণের কাছে হস্তান্তর করা হয়, এতে প্রত্যেক মানুষের বয়স. মৃত্যু ও রিজিক বৃষ্টি ইত্যাদির পরিমাণ নির্দিষ্ট ফেরেশতাগণকে লিখে দেওয়া হয়। এমনকি এ বছর কে হজ করবে তাও লিখে দেওয়া হয়. হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর উক্তি অনুযায়ী চারজন ফেরেশতাকে এসব কাজ সপর্দ করা হয় তারা হলেন- ইসরাফীল. মীকাঈল. অজরাঈল. জিবরাঈল (আঃ)। (কুরতবী)

তাই আসুন আমরা এই রাত্রকে অবহেলায় না কাটিয়ে মহান আল্লাহ পাকের ইবাদতে নিজেকে মশগুল রাখি বেশি নফল নামাজ আদায় করি. আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদেরকে হালাল রিজিক ভক্ষন করান. আমাদেরকে নেক হায়াত দান করেন. মৃত্যুর আগে একবার হলে ও রাসুল (সাঃ) এর রওজা মোবারক যেয়ারত করার তৌফিক দিন আমিন আমিন।

এবং মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের কে যে মহান দূর্যোগ দিয়ে পরীক্ষায় পেলে দিলেন সেই দূর্যোগ থেকে আমরা আল্লাহ পাকের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি আমীন ইয়া রাব্বাল আলামীন

লেখা: মোহাম্মাদ সাজ্জাদুর রহমান

©obohelajibon-blog/অবহেলন জীবন

Post a Comment

0 Comments