ইসলামের দৃষ্টিতে অমুসলিমদের সাথে কেমন সম্পর্ক হওয়া উচিত?


হিন্দু মুসলিম বন্ধুত্ব, অমুসলিমদের সাথে ইফতার করা যাবে, কাফেরদের জন্য দোয়া করা যাবে কি, মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে পার্থক্য, হিন্দুদের বাড়িতে খাবার খাওয়া যাবে কি, অমুসলিমদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সাঃ) কাথা, অমুসলিমদের অনুসরণ, হিন্দুরা কি কাফের, বিধর্মীদের অনুসরণ করা যাবে?, বিধর্মী কাকে বলে
ইসলামের দৃষ্টিতে অমুসলিমদের সাথে কেমন সম্পর্ক হওয়া উচিত? আসোন জেনে নি?

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ○
نَحْمَدُهٌ وَ نُصَلِّيْ عَلى رَسُولِهِ الْكَرِيْمِ أَمَّا بَعْدُ فَقَدْ قَالَ اللهُ تَعَالى فِيْ كَلَامِهِ الْمَجِيْدِ أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ○ اِنَّ الشَّیۡطٰنَ لَکُمۡ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوۡہُ عَدُوًّا ؕ اِنَّمَا یَدۡعُوۡا حِزۡبَہٗ لِیَکُوۡنُوۡا مِنۡ اَصۡحٰبِ السَّعِیۡرِ ؕ﴿۶﴾ وَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلْمَرْأُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ (أَوْ كَمَا قَالَ النَّبِيُّ صَلَّي اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ)

মহান আল্লাহ পাকের দরবারে লাখ ও কোটি শোকর যে আল্লাহ আমাদের কে এতো সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন, এবং আমাদের কে সৃষ্টি জগতের মধ্যে সেরা সৃষ্টি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, আলহামদুলিল্লাহ,

আজকে আমি আপনাদের সামনে মহব্বত. বন্ধুত্ব নিয়ে কিছু প্রয়োজনীয় কথা বলব,কারণ আমরা জীবনের অনেক মূল্যবান সময় নিজের প্রিয় মানুষ প্রিয় বন্ধুর পিছনে ব্যয় করে পেলি.
মহান আল্লাহ তায়ালা অামাদের সবাইকে একে অন্যের প্রতি মহব্বত ভালোবাসা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, এবং মানবদেহে তিনি দিয়েছেন হৃদয় নামে একটি অঙ্গ. যে হৃদয়ে আমরা আমাদের ভালোবাসার মানুষ গুলোকে স্থান দিয়ে থাকি, তবে এরই সাথে সাথে আল্লাহ তায়ালা এই বন্ধুত্বের একটি নীতি স্থাপন করে দিয়েছেন।

সেই নীতি সম্পর্কে আমরা অবগত না হওয়ার দরুন অপাত্রে নিজের বন্ধুত্বের জায়গা করে নিতে চাই. যেটা আমাদের জন্য অনেক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, এবং আপনার আমার বন্ধুত্ব যদি হয়ে উঠে কোন সঠিক ব্যক্তিত্বের সাথে তাহলে আমি আপনি একটি সুন্দর পরিচয় বহন করতে পারবো।

এবং রাসুল (সাঃ) বলেছেন, যার সাথে যার মহব্বত তার সাথে তার কেয়ামত, এখন আমার আপনার বন্ধুত্বটা যদি হয় কোন আলেম এর সাথে তাহলে আমার আপনার কেয়ামত হবে সেই আলেমের সাথে. কোন কোরআনে হাফেজ এর সাথে বন্ধুত্ব হলে তাহলে আমার আপনার কেয়ামত হবে সেই কোরআনে হাফেজের সঙ্গে, সুতরাং বুঝতে হবে আমার আপনার প্রকৃত বন্ধু কে এবং শত্রু কে?

মহান আল্লাহ তায়ালা কালামে পাকের মধ্যে এরশাদ করেন :

اِنَّ الشَّیۡطٰنَ لَکُمۡ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوۡہُ عَدُوًّا ؕ

অর্থঃনিশ্চয় শয়তান তোমাদের শত্রু; অতএব তাকে শত্রু হিসেবে গণ্য কর।(সুরা ফাত্বির :৬)
এই আয়াত দ্বারা বুঝে আসছে যে শয়তান আমাদের একমাত্র শত্রু, কারণ শয়তান মহান আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করে বলেছে:

قَالَ فَبِعِزَّتِکَ لَاُغۡوِیَنَّہُمۡ اَجۡمَعِیۡنَ

অর্থঃ সে (শয়তান)বলল, ‘আপনার ইজ্জতের কসম! আমি তাদের (বনী আদম) সকলকেই বিপথগামী করে ছাড়ব।’(সুরা সোয়াদ :৮২)

সুতরাং বুঝা গেলো আমাদের প্রধান শত্রু হলো শয়তান তাই আমাদেরকে এমন কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে যে কাজ করলে শয়তান খুশি হয়, এবং মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল অালামীন অসন্তুষ্ট হয়ে যান.
তারপর মহান রাব্বুল অালামীন বলেন।

ؕ اِنَّمَا یَدۡعُوۡا حِزۡبَہٗ لِیَکُوۡنُوۡا مِنۡ اَصۡحٰبِ السَّعِیۡرِ ؕ

অর্থঃ সে তার দলকে কেবল এজন্যই ডাকে যাতে তারা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসী হয়।
এই আয়াত দ্বারা বুঝা যায় শয়তানের একটি দল ও আছে,(সুরা ফাত্বির :৬)
এই ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা অন্য আয়াতে বলেন।

وَ اسۡتَفۡزِزۡ مَنِ اسۡتَطَعۡتَ مِنۡہُمۡ بِصَوۡتِکَ وَ اَجۡلِبۡ عَلَیۡہِمۡ بِخَیۡلِکَ وَ رَجِلِکَ وَ شَارِکۡہُمۡ فِی الۡاَمۡوَالِ وَ الۡاَوۡلَادِ وَ عِدۡہُمۡ ؕ 

অর্থঃ তোমার কণ্ঠ দিয়ে তাদের মধ্যে যাকে পারো প্ররোচিত কর, তাদের উপর ঝাপিয়ে পড় তোমার অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে এবং তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে অংশীদার হও এবং তাদেরকে ওয়াদা দাও’।(সুরা বনী ইসরাঈল:৬৪)
এই আয়াতে শয়তানের দুই রকম বাহিনীর কথা বলা হয়েছে,

অশ্বারোহী বাহিনী এবং পদাতিক বাহিনী, এ বাহিনী কি রকম সে সম্পর্কে তাফসীরে মা'রেফুল কোরআনে বলা হয়েছে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) যিনি সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে অন্যতম মুফাস্সিরে কোরআন বলে স্বীকৃত, তিনি বলেছেনঃ যারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফেরদের পক্ষে লড়াই করে তারা হল শয়তানের বাহিনী. আর যে কাফেরদের সঙ্গ দিয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য অশ্ব নিয়ে দ্রুত অগ্রসর হয় সে হল শয়তানের অশ্বারোহী বাহিনী এবং কাফেরদের সঙ্গ দিয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য যে আস্তে আস্তে পাই পাই করে অগ্রসর হয় সে হল শয়তানের পদাতিক বাহিনী, এই শয়তান আর তার বাহিনী সম্পর্কেই আল্লাহ তায়ালা কোরআনে পাকের মধ্যে বলেছেন।

اِنَّمَا یَدۡعُوۡا حِزۡبَہٗ لِیَکُوۡنُوۡا مِنۡ اَصۡحٰبِ السَّعِیۡرِ

অর্থঃ শয়তান তার দলকে কেবল এজন্যই ডাকে যাতে তারা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসী হয়।(সুরা ফাত্বির :৬)
কাজেই শয়তান এবং তার বাহিনীকে বন্ধু রুপে গ্রহন করা যাবেনা বরং তাদের শত্রু হিসেবে গ্রহন করতে হবে শত্রুর সঙ্গে কোন আন্তরিকতা হতে পারেনা,তাই ইসলামের নীতি হলো যারা কাফের অমুসলিম তাদের সাথে বন্ধুত্ব করা যাবেনা. মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল অালামীন বলেন:

لَا یَتَّخِذِ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ الۡکٰفِرِیۡنَ اَوۡلِیَآءَ مِنۡ دُوۡنِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ۚ وَ مَنۡ یَّفۡعَلۡ ذٰلِکَ فَلَیۡسَ مِنَ اللّٰہِ فِیۡ شَیۡءٍ اِلَّاۤ اَنۡ تَتَّقُوۡا مِنۡہُمۡ تُقٰىۃً ؕ وَ یُحَذِّرُکُمُ اللّٰہُ نَفۡسَہٗ ؕ وَ اِلَی اللّٰہِ الۡمَصِیۡرُ

অর্থঃ মুমিনরা যেন মুমিনদের ছাড়া কাফিরদেরকে বন্ধু না বানায়। আর যে কেউ এরূপ করবে, আল্লাহর সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। তবে যদি তাদের পক্ষ থেকে তোমাদের কোন ভয়ের আশঙ্কা থাকে। আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর নিজের ব্যাপারে সতর্ক করছেন এবং আল্লাহর নিকটই প্রত্যাবর্তন। (সুরা আলে ইমরান :২৮)

এই আয়াতে স্পষ্ট ভাবে আল্লাহ তায়ালা বলে দিয়েছেন কাফেরদের সাথে কোন মুমিন বন্ধুত্ব রাখতে পারবেনা, তবে যতটুকু রাখতে পারবে তা ও নিজের আত্মরক্ষার জন্য . সেটাও পরিস্থিতির স্বীকার হলে, তবে এর আগে না. অমুসলিমদের সাথে বন্ধুত্ব রাখা যাবেনা এটার অনেক কারণ. তার মধ্যে একটা হলো হাদীসে এসেছে : أَلْمَرْأُمَعَ مَنْ أَحَبَّ

অর্থাৎ যার সাথে যার মহব্বত, ভালোবাসা,বন্ধুত্ব,তার সাথেই তার হাশর হবে কাফেররা দুনিয়াতেও একসাথে থাকবে জাহান্নামেও একসাথে থাকবে, আর মুসলমানরা দুনিয়াতে ও একসাথে থাকবে জান্নাতেও একসাথে থাকবে,আল্লাহ তায়ালা বলেন :

یَجۡعَلَ الۡخَبِیۡثَ بَعۡضَہٗ عَلٰی بَعۡضٍ فَیَرۡکُمَہٗ جَمِیۡعًا فَیَجۡعَلَہٗ فِیۡ جَہَنَّمَ ؕاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡخٰسِرُوۡنَ

অর্থঃ আর মন্দের কতককে কতকের উপর রাখবেন এবং সেগুলোকে একসাথে স্তূপ করবেন। এরপর তা জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।(সুরা আল আনফাল:৩৭)

এই আয়াতে কাফেরদেরকে কিভাবে জাহান্নামে ফেলা হবে সে প্রসঙ্গে বলা হয়েছে একটার উপর আরেকটাকে স্থাপন করা হবে, যেরকম লাকড়ী একটার উপর আরেকটা রেখে গাঠ বাধা হয় এভাবে রাখা হবে তারপর তাদেরকে দোযখে নিক্ষেপ করা হবে বোঝানো হবে যে দুনিয়ায় যেমন এক আদর্শে এক মতবাদে মিলে মিশে ছিলে ঐরকম এক সাথে জাহান্নামে যাও, আর মুমিনদের কে দলে দলে এক সাথে জান্নাতে নেওয়া হবে।

যাদের সাথে যাদের মহব্বত ছিলো তাদের সাথে তাদের জান্নাত হবে, নবীদের সাথে যাদের মহব্বত নবীদের সাথে তাদের জান্নাত, সাহাবীদের সাথে যাদের মহব্বত সাহাবীদের সঙ্গে তাদের জান্নাত হবে, আর ফাসেক ফাজের ও কাফেরদের সাথে যাদের মহব্বত তাদের সঙ্গে তাদের হাশর ও জাহান্নামে অবস্থান হবে, তাই কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব রাখা যেতে পারেনা. সুতরাং আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে যাতে আমরা কোন অমুসলিম কাফেরকে বন্ধু বানিয়ে নিজের ক্ষতি না করি..

তবে তার মানে এটা নয় যে তাদের সাথে খারাপ আচরন করবো. না, ইসলাম আমাদেরকে সেটা করতে ও নিষেধ করেছে, বন্ধুত্ব রাখা যাবেনা ঠিক তবে তাদের সাথে আমরা সৌজন্যমূলক আচরন করবো. এবং তাদের কে সৌজন্য রক্ষার্থে আপ্যায়ন ও করতে পারবো এবং তাদের আপ্যায়ন ও গ্রহন করতে পারবো যদি সে আপ্যায়ন কোন প্রণীর গোস্ত দিয়ে না হয়, (কারণ তারা আল্লাহর নামে জবাই করেনা আর আল্লাহর নাম না নিয়ে জবাইকৃত পশুর গোস্ত মুসলমানদের জন্য খাওয়া হালাল নয়) সুতরাং তাদের সাথে কোন গালমন্দ করা যাবেনা সেই ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন:

وَ لَا تَسُبُّوا الَّذِیۡنَ یَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ فَیَسُبُّوا اللّٰہَ عَدۡوًۢا
بِغَیۡرِ عِلۡمٍ ؕ

অর্থঃ আর তোমরা তাদেরকে গালমন্দ করো না, আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে তারা ডাকে, ফলে তারা গালমন্দ করবে আল্লাহকে, শত্রুতা পোষণ করে অজ্ঞতাবশত। (সুরা আল আন' আম:১০৮)

যদি আমরা তাদের সাথে বাড়াবাড়ি করে তাদের দেব -দেবীদের কে গালমন্দ করি তারাও আমাদের ধর্ম আর আল্লাহ তায়ালা কে নিয়ে বাড়াবাড়ি করবে তখন এটার জন্য দায়ী হবো আমরা . কারণ

হাদীসের মধ্যে এসেছে :

إِنَّ مِنَ ألْكَبَائِرِأنْ يَّشْتِمَ ألرَّجُلُ وَالِدَيْهِ .قَالُوْ يَا رَسُوْلَ اللّه وَهَلْ يَشْتِمُ الرَّجُلُ وَالِدَيْهِ؟قَالَ نَعَمْ،يَسُبُّ أَبَا الرَّجُلِ فَيَسُبُّ أَبَاهُ وَيَسُبُّ أُمَّهٌ فَيَسُبُّ أُمَّهٌ(ترمذي)

অর্থঃ তোমরা মাতা পিতা কে গালি দিওনা মাতা পিতা কে গালি দেয়া কবীরা গোনাহ. সাহাবয়ে কেরাম বল্লেন ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ)কেউ নিজের মাতা- পিতাকে ও গালি দেয় কি.?রাসুল সাঃবললেন অন্যের পিতাকে গালি দিলে সেও তার পিতাকে গালি দিবে, অন্যের মাকে গালি দিলে সেও তার মাকে গালি দিবে।

এখানে বুঝানো হয়েছে যে অন্যের মাতা পিতাকে গালি দিয়ে সে যেন প্রকারান্তরে নিজের মাতা -পিতাকেই গালি দিল. মনে করুন আপনি যখন আরেক জনকে অমুকের বাচ্ছা, অমুক জাদা বলবেন তখন সেওতো আপনার মা বাবা সম্পর্কে ওরকম বলবে. তাহলে আপনার মা বাবা সম্পর্কে ওরকম বলার কারণ তো আপনিই হলেন, যা হোক বিধর্মীদের মতবাদ মতাদর্শ সম্পর্কে সমলোচনা যদি করতেই হয় তাহলে সেটা খুব শালীন ভাষায় করতে হবে, মার্জিত ভাষায় হতে হবে. যদি অশালীন ভাষায়, অমার্জিত ভাষায় বাড়াবাড়ি করে বলেন তাহলে আমাদের ইসলাম ধর্ম আর মহান আল্লাহ রাব্বুল অালামীন সম্পর্কে ও ওরকম বাড়াবাড়ি করবে এবং সেটার কারণ হবেন আপনিই

মোট কথা আমাদের কোন অন্তরঙ্গ সম্পর্ক থাকতে পারবেনা কোন অমুসলিম এর সাথে, কারণ তাদের সাথে যদি আমাদের অন্তরঙ্গ সম্পর্ক হয়ে যায় তাহলে দেখা যাবে আমাদের নিকট তাদের আদর্শ ভাল লাগবে, এরপর আস্তে আস্তে আমরা দ্বীনের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে যাবো,এবং তাদের আদর্শের অনুসারী হয়ে যাবো এভাবে আমরা জাহান্নের দিকে এগিয়ে যাবো.
মহান আল্লাহ রাব্বুল অালামীন বলেন:

وَ لَا تَرۡکَنُوۡۤا اِلَی الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا فَتَمَسَّکُمُ النَّارُ ۙ

অর্থঃ আর যারা যুলম করেছে তোমরা তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না; অন্যথায় আগুন তোমাদেরকে স্পর্শ করবে। (সুরা হুদ:১১৩)
অর্থাৎ এটা আমাদের জন্য জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়াবে, এ জন্যই অমুসলিমদের সাথে বন্ধুত্ব রাখতে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে. আর এই লিখার এটাই উদ্দেশ্য যাতে আমরা কোন অমুসলিম এর সাথে অজ্ঞতা বসত বন্ধুত্ব না করি.

বন্ধুত্ব করবেন তা-ও হতে হবে কোন মুসলিম পরহেযগার ব্যক্তির সাথে,বন্ধুত্ব করার ক্ষেত্রে ইসলামের কোন বাধা নেই তবে সেটা হতে হবে আল্লাহর পছন্দনীয় লোকদের সাথে.
সেই সম্পর্কে আল্লাহ তায়াল বলেন।

اِنَّمَا وَلِیُّکُمُ اللّٰہُ وَ رَسُوۡلُہٗ وَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا الَّذِیۡنَ یُقِیۡمُوۡنَ الصَّلٰوۃَ وَ یُؤۡتُوۡنَ الزَّکٰوۃَ وَ ہُمۡ رٰکِعُوۡنَ

অর্থঃ তোমাদের বন্ধু কেবল আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনগণ, যারা সালাত কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে বিনীত হয়ে।
এরাই হতে পারে আমার আপনার বন্ধু, কোরআন শরীফে আরো বলা হয়েছেঃযারা আল্লাহর সাথে আল্লাহর রাসুলের সাথে বন্ধুত্ব রাখে তারা হল আল্লাহর দল. আর আল্লাহর দল দুনিয়াতে ও বিজয়ী হবে পরকালে ও বিজয়ী হবে, পরকালে তারা জান্নাতে যেতে পারবে, তাহলে বুঝা গেলো দুনিয়াতে দুইটি দল এক হলো আল্লাহর দল আরেক হলো শয়তানের দল. আরবীতে বলা হয় হিযবুশ শয়তান, বা শয়তানের দল, আর হিযবুল্লাহ বা আল্লাহর দল, একজন মানুষ হয়তো আল্লাহর দলভুক্ত হবে না হয় শয়তানের দলভুক্ত হবে. আমি যদি খাঁটি মুমিন হই, খাঁটি মুসলমান হয়ে থাকি তাহলে আমাকে আল্লাহর দলভুক্ত হতে হবে.

সমস্ত মুমিনরা হলো আল্লাহর দলভুক্ত, আর এই দলের নেতা হলেন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)তাই আল্লাহ, আল্লাহর রাসূল আর পরহেযগার ব্যক্তিরাই হতে পারেন আমার আপনার বন্ধু. আমি আপনি একমাত্র তাঁদেরই দলের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি যে যত বেশী পরহেযগার সে তত বেশী আমার আপনার ঘনিষ্ট. একজন খাঁটি বন্ধু সে আপনার জন্নাতে যাওয়ার কারণ হতে পারে আর একজন খারাপ বন্ধু আপনার জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হতে পারে.

তাই আসুন আমরা বন্ধুত্ব করার ক্ষেত্রে সতর্ক হই. আপনার আমার বন্ধুত্ব যেন আমাকে আপনাকে দংশ এর দিকে না ঠেলে দেয়,

আল্লাহ আমাকে আপনাকে সঠিকটা বুঝে আমল করার তৌফিক দান করুন। আমীন

وَمَا تَوْفِيْقِيْ إلَّا بِاللهِ

ألسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهٌ

লেখা: সাজ্জাদুর রহমান

Post a Comment

0 Comments