ইদানীং আমার কাউকে ভালো লাগে না। মন খারাপ হলে কি করবেন? ইসলাম কি বলে?




ইদানীং আমার কাউকে ভালো লাগে না জানো? সবকিছুই অতৃপ্তিতে ঠাসা! মনের কোণে চোরাবালি জমেছে, আমি ক্রমশ তলিয়ে যাচ্ছি। কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না! কেমন যেন নাই নাই, সবদিকে ধূ ধূ প্রান্তর! আমি কেমন যেন বদলে যাচ্ছি তাই না বলো?

হুম, কাহিনী বড্ড সিরিয়াস মনে হচ্ছে। তারপর?

আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। চোখের কিনারায় স্বপ্ন নেই। বৃষ্টিও ভালো লাগে না। দুআ করতে ভুলে গেছি। আমার সবটাই অন্ধকার। চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। মাথাটা পাগল পাগল লাগে। তুমি বিশ্বাস করতে পারছো আমি এভাবে দগ্ধ হয়ে যাবো? কিন্তু হয়ে তো গেছি। আমার নিজেকে ভীষণ অসহ্য লাগে। সবাই জানে আমি খুব হাসি, হাসাই! কিন্তু আমি তো সত্যি সত্যি হাসছি না। এটা কি প্রতারণা নয়? আমি সত্যিই খুব খারাপ হয়ে গেছি! উফ! আর ভাল্লাগে না!

এখন তবে কি করতে চাও?

আমি জানি না কি করবো? কি করা উচিত! কিন্তু এভাবে আর কতদিন! এলোমেলো হিশেবগুলো কিভাবে মেলাই? আমি সবার কাছ থেকে সরে যাবো, খুব দূরে!

আচ্ছা, কেউ কি কষ্ট দিচ্ছে তোমাকে? তুমি তো এমন ছিলে না!

এক্সাক্টলি আমি এমন ছিলাম না। কেন যে এরকম হচ্ছি, আমার মাথা কাজ করছে না জানো! সবাই আমাকে ভালোবাসে! কিন্তু আমি যে নিজেকে বাসি না! প্রতারকের ভালোবাসা পাওয়ার কোন অধিকার নেই!

কাকে ঠকিয়েছো তুমি?

আমি নিজেকে ঠকিয়েছি, এখনো ঠকাচ্ছি। ভেবেছিলাম একটা সুন্দর তৃপ্তিদায়ক জীবন পাবো। কিন্তু আমি তো তৃপ্তির যোগ্য না!

করেছো কী সেটা তো বলো?

আমি তোমাকে তা বলতে চাই না। তুমি আমাকে ঘৃণা করবে। খুব খুব ঘৃণা, অবশ্য ঘৃণা পাওয়ারই যোগ্য আমি! সবার জানা উচিত, আমি কত খারাপ! ভালো মানুষের মুখোশটা টেনে খুলে দিও কেমন? আমি তখন খুব করে হাসবো! হা হা হা!

শান্ত হও। তোমার রেস্ট প্রয়োজন।

শান্তি পেলে তো শান্ত হবো! কিন্তু আমাকে শান্তি দিবে কে? আমি অসহ্য হয়ে যাচ্ছি। আমার মাথায় কত চিন্তা ঘুরপাক খায়! এরকম পরিস্থিতিতে কখনো পড়িনি জানো?

হ্যাঁ। জানি!

তবে হয়েছে কি বলি! আমি মানুষকে নসিহত করেছি। প্রচুর কাউন্সিলিং, প্রচুর এলোমেলো কেইস সলভ করেছি। আমাকে সবাই ভালো বলে। ভালো জানেও! কিন্তু...

কিন্তু কী?

কিন্তু আমি আজ নিজেই অসুস্থ। আমি নিজেকে ঠকিয়েছি। আমার আর নিজেকে ভালো লাগে না। আমি ভীষণ ক্লান্ত! আমার কাউন্সিলিং, আমার লেখালেখি, আমার পড়াশোনা কিছুই আমার উপকার করতে পারলো না। তবে কী লাভ আমাকে দিয়ে? আমি যাদেরকে ভুল পথ থেকে বের করে আনলাম। সেই আমিই কি-না ভুলের সাগরে নিমজ্জিত! আমি তো ডুবে যাচ্ছি!

আসলেই চিন্তার ব্যাপার! তোমাকে আগে এরকম বিক্ষিপ্ত দেখিনি। আরও কিছু কি বলবে?

না! আমি ক্লান্ত বলেছি তো! খেয়াল করো নি হয়তো। খেয়াল করে লাভ টা কি! আমার কথা কাউকেই শুনতে হবে না!

বেশ! বিকেলে নদীর পাড়ে যাবো। তুমিও এসো! গল্প হবে তখন। আপাতত একটু জিরিয়ে নাও। কারো সাথেই কিছু বলতে হবে না! ভুলে যেও না!

আমার যে নদী ভালো লাগে না!

আমার ভালো লাগে। সবসময় অন্যকে নিয়ে ভেবেছো যখন আমিও তো কিছুটা ভাগ নিতেই পারি। এখন আপাতত উঠি। বিকেলে বের হবো!

হিয়া বললো, "আচ্ছা!"

হিয়ার ঘর থেকে উঠে এলাম। আজ সকাল সকাল ফোন করে সে কী কান্না! তাকে এমন বিধ্বস্ত হতে দেখিনি কখনো। মানুষের মন বোঝা বড় দায়। এই তো কিছু দিন আগেও কত বিষন্নতায় ডুবে থাকা মানুষকে ছোট হাতে অভিজ্ঞদের মতো সামলেছে। অথচ আজ তার মুখে চোখে ক্লান্তি, হতাশার তীব্রতা।

তারপর বিকেল হওয়ার পালা। সিরিয়াস আলাপ জমে আছে...

বিকেল গড়িয়ে এলো।
নদীর পাড়ে সদ্য গজানো কচি ঘাসের উপর বসে আছি দুজনে। হিয়ার মন এলোমেলো, উদ্ভ্রান্তের মতো বসে আছে, হাসছে না!
নদীর দিকে তাকিয়ে আছে কিনা বোঝার উপায় নেই। নিরবতা ভেঙে সাহস নিয়ে আমিই বলা শুরু করলাম।

হিয়া জানিস? তোকে নদীর পাড়ে আনলাম কেন?

না তো বুবু! তুমি বললে আসতে তাই এলাম।

নদীর বুকে উথাল - পাতাল ঢেউ৷ আমি অবশ্য তোর মন বুঝি না। তোর মনের কোণে কষ্টগুলোও না হয় দেখিনা! কিন্তু স্রোতে ভেসে আসা অশান্ত ঢেউগুলো তো দেখি। এতেই না হয় কল্পনা করে নিলাম। অস্থিরতাটুকু তো আর চোখে মাপা যায় না। তাই না?

হিয়া শুনেই স্তব্ধ হয়ে গেলো। বোধ হয় মনের কোনে হু হু করে কষ্ট ছুঁয়ে দিলো মাত্রই। ওকে আর উত্তর দেয়ার সময় দিলাম না। আমিই আমার মতো বলে চলেছি...

হিয়া আমি জানি তোর মানসিক অবস্থা খারাপ। কিন্তু কারণ আমার জানা নেই। অবস্থাটুকু জানি এটাই যথেষ্ট। তুই তো অনেক কাউন্সিলিং করেছিস। পেশেন্ট এর মনের অবস্থা আর সমস্যার প্রকৃত অবস্থা কি সমান?

না আপু । আলাদা! কিন্তু মন সেই সমস্যাকে অনেক বড় করে দেয়। সমাধান আর দেখা যায় না। ( হিয়া ছোট ছোট উত্তর দেয়।)

সমস্যা যতই বিশাল হোক। সমাধান তো একটা থাকা উচিত! তাই না?

কিন্তু আমার সমস্যাটা যে ভিন্ন আপু। আমি নিজেই কাউন্সিলিং করাই। কিন্তু আমার সমস্যার সঙ্গে কোথাও কোন সমাধানের অংশ পাচ্ছি না।

খানিকক্ষণ চুপ থেকে বলে বসি
"আমি তোর সমস্যা যেমন জানি না। সমাধান ও তো করতে পারব না। তবে কিছু শিখতে তো চাইতেই পারি। শেখাবি বল?

আমার কাছে? কি শেখাবো বলো?

তুই তো ইসলাম নিয়ে রিসার্চ করেছিস এতোদিন। ইসলাম শব্দের প্রকৃত অর্থ কি?

আত্মসমর্পণ। এক শব্দে ওর উত্তর দেয়া শেষ।

বাহ! চমৎকার! হেসে নিলাম একগাল! ও অবাক হয়ে তাকালো।

হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?

চোখে একরাশ প্রশ্ন নিয়ে উৎসুক চিত্তে আমার দিকে তাকালো। মেয়েটার চোখে ক্লান্তির ছাপ। বোধ হয় ভেবেছিলো অন্য কিছু বলবো৷ যাক ক্লান্তিকে ছাপিয়ে মেয়েটার মনে প্রশ্নের উদয় হলো ভেবেই ভালো লাগছে। যাক এবার আমার শোনানোর পালা। পুরো সকাল আমি শুনেছি। এবার আমার বলার পালা। (আল্লাহ সহজ করুন।)

বলা শুরু করলাম,
দেখ হিয়া, তুই জানিস প্রশ্নটা খুবই ছোট। কিন্তু উত্তরটাও কি ছোট?

সে বললো, না ইসলামের সংজ্ঞাটা সুবিস্তীর্ণ। আল্লাহর জন্য নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করে, নিজের জীবনকে সুসজ্জিত করার জন্য তাঁরই নিকট নিজেকে সমর্পণ করা।

ভেবেছিলাম আমিই উত্তরটা বলবো। কিন্তু তুই তো আরও সুন্দর করে বললি। আচ্ছা নফসকে বেধে রাখলে স্বাধীনতাটা কি বিনষ্ট হলো না?

আপাতদৃষ্টিতে তাই মনে হয়। জানো বুবু? আত্মার ক্ষুধা বড়ই তীব্র কিন্তু আল্লাহর নিকট সঁপে দিলে আল্লাহ এই আত্মার যত্ন নেন। বিক্ষিপ্ত নফসকে বেধে তার কাছে সমর্পণ করে দিলে আল্লাহ তাকে শান্ত শিষ্ট হওয়ার শিক্ষা দেন। মাঝে মাঝে আমার কাছে বোনেরা হৃদয় ভাঙা গল্প শোনায়। আমি শুনতেই থাকি মনযোগ দিয়ে। তাদের হৃদয়ে কত যন্ত্রণা বলো! কিন্তু এই যন্ত্রণা আল্লাহর কাছেই গিয়ে শেষ হয়ে যায়। মানুষ আর কি করতে পারে?

অনর্গল বলে যাচ্ছে মেয়েটা! আমার আর বক্তা হওয়া হলো না। যাক আমিও ফ্রী ট্রিটমেন্ট নিয়ে নিলাম সুযোগ বুঝে!

নিরবতা ভেঙে গেলো আবার তার কথাতেই,

জানো আপু! এই আকাশ, নদী, পাহাড় - পর্বতে আল্লাহর যত্ন মিশে আছে, আল্লাহর ভালোবাসা! মানুষ বড়ই অকৃতজ্ঞ। খুব সহজেই অনুগ্রহ ভুলে যায়। আল্লাহর সৃষ্টির দিকে তাকালে বিরাট বিরাট রহস্যের জট খুলে যায়।

আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে ভীষণ পছন্দ করি। নিজেকে খুব হালকা মনে হয়। এক আকাশ স্তরে স্তরে সাজানো মেঘমালা দিয়ে ভরে যায়। এই মেঘ নিয়ে একটি আয়াত আছে আমার খুব পছন্দের জানো কি?

সকালের পরে এই প্রথম তার চোখে আশার ছাপ দেখতে পেলাম, যন্ত্রনায় ছটফট করছে কাউকে দেখলে যতটা কষ্ট হয়, তার মুখেই আশার কথা শুনলে ভরসা জাগে।

কোন আয়াত?

তিনি সৃষ্টি করেছেন স্তরে স্তরে সপ্তাকাশ। দয়াময় আল্লাহর সৃষ্টিতে তুমি কোন খুঁত দেখতে পাবে না; আবার দেখো, কোন ত্রুটি দেখতে পাও কি? ( সূরা মুলক : আয়াত ৩)

কিছুটা দুষ্টুমির ছলে জবাব দিলাম
না পাই না তো।

আরে বাবা এটাই তো আয়াত ! আল্লাহর সৃষ্টির দিকে তাকালে তুমি স্নিগ্ধতা পাবে। মন খারাপ হবে না কখনো। এরপরেও যদি মন ভারী হয়। তখন সালাতের সিজদাহ লম্বা করবে। কাঁদতে মন চাইলে খুব কাঁদবে। জায়নামাজ শুষে নিবে কষ্টগুলো। উফ কতো কথা বলি আমি! কি যেন বলছিলে?

হিয়ার কথায় আমার প্রশ্নটার কথা মনে পড়লো, বলছিলাম ইসলাম অর্থ কী? তুই আমাকে একটু ভেঙে ভেঙে বুঝা।

হিয়া হেসে নিলো,
তবে শোনো আপু, ইসলাম শব্দের অর্থ হচ্ছে আত্মসমর্পণ। কিন্তু সর্বত্রই ঢালাওভাবে এখন ইসলামের অর্থ শান্তি হয়ে গিয়েছে। নেহাৎ ইসলাম শান্তি দেয়। কিন্তু এর প্রকৃত অর্থ হলো আল্লাহ কাছে নিজেকে সঁপে দেয়া। নিজেকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিয়ন্ত্রণ করা। অনেক সময় মনে কু ধারণা আসে। তখন আমরা মনের কথা শুনলেই নিজেকে ঠকাবো। কিন্তু আল্লাহ চান আমরা নিজেকে জেতানোর চেষ্টা করি। এইজন্য আমাদের জীবনের সর্বত্রই ইসলামের সৌন্দর্য দিয়ে সুরক্ষা বেষ্টনী গড়ে দিয়েছেন। কঠিন লাগছে?

একটু তো লাগছে।
আচ্ছা তবে সহজ করি, ধরো তোমার মন খুব খারাপ। খুব খুব বেশি খারাপ। এমন অবস্থায় তোমার ছাঁদ থেকে লাফ দিতে ইচ্ছে হচ্ছে।

ও বাবা বলিস কি!

হেহে! উদাহরণ দিলাম। মানে মন অস্বাভাবিক খারাপ হয়ে গেলে তখন ইসলাম বলে, মনকে আল্লাহর সন্তুষ্টির কাছে ছেড়ে দিতে। মন চাইবে তোমার কষ্টগুলোতে ডুবে যেতে। কিন্তু ইসলাম তোমাকে সেই ডুবে যাওয়ার ক্ষমতা দিবে না। তুমি মুসলিম! মানে তোমার মনের উপর অধিকার তুমি আল্লাহকে দিয়েছো। তোমার মন ঝাঁপ দিতে চাইলে তুমি তাকে ধমক দিয়ে আল্লাহকে স্মরণ করিয়ে দিবে। জানো এটা নিয়েও আয়াত আছে?

এটা নিয়েও?

হ্যাঁ, অনেকগুলো আয়াত আছে,
আল্লাহ বলেন,
"যারা ঈমান আনে এবং আল্লাহর স্মরনে যাদের অন্তর প্রশান্ত হয়; জেনে রাখো আল্লাহর স্মরণ দ্বারাই অন্তর সমূহ প্রশান্ত হয়। (সূরা আর রাদ- আয়াত ২৮)

আমি তো আমার দুঃখ ও অস্থিরতাগুলো আল্লাহর সমীপেই নিবেদন করছি।" [সুরা ইউসুফ : ৮৬]

আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহর রহমত থেকে কাফের সম্প্রদায় ব্যতীত অন্য কেউ নিরাশ হয় না।" [সুরা ইউসুফ : ৮৭]

এরকম আরও অনেকগুলো আছে মনে পড়ছে না আপু।

অনেকটা সময় গড়িয়ে গেলো। বিকেলের স্নিগ্ধ হাওয়ায় কচি ঘাসগুলো দুলছে। নদীর বুকে সোনালী আলোর ঝলমলে রঙে চারপাশটা আলোকিত। হিয়া নদীর দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আনমনে ভাবছে।

কিছু ভাবছিস?” আমার প্রশ্নে চমকে গেল হিয়া!

হ্যাঁ বুবু।

কী?

আমার নামের অর্থ কী জানো?

কী?

মন।
আমি নিজেকে এবার খুব করে বেঁধে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করে আসবো। যেন দুঃখের সময় আল্লাহর কাছেই ফিরে যেতে হয়। বড্ড হালকা লাগছে।

বাহ, তাই! তবে বলতো এখানে এসে কেমন লাগছে?

খুব ভালো!

সকালেই না বললি নদী ভালো লাগে না?

বিক্ষিপ্ত মনের কথা ধরতে নেই। মনটাকে বেঁধে আল্লাহর কাছে পাঠিয়ে দেবো। আল্লাহ মন যখন দিয়েছেন তাকে যেচে খারাপ রাখতে যাবো কেন?

বলেই তৃপ্তি নিয়ে হাসলো মেয়েটা। নিকাবের আড়ালে অবশ্য দেখা যাচ্ছে না। তবে তৃপ্তির নিঃশ্বাসে সঙ্গে দীর্ঘশ্বাস মেলেনা। হয়তো একবুক যন্ত্রণা নেমে গেলে, এভাবেই মানুষ শান্ত হয়ে বসে থাকে।

নিরবতা ভেঙে বলে ফেললাম, " জানিস আমারও একটি আয়াত মনে পড়ছে, বলে ফেলি? তোর বর্তমানের সাথে মিলে!”

হ্যাঁ, অবশ্যই বলো!

নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে" [সূরা আল ইনশিরাহ : আয়াত ৬]
আয়াতটা পছন্দ হয়নি?

কী যে বলো বুবু? এই আয়াতটা তো আমার ভীষণ প্রিয়! মনের সব কষ্ট উধাও হয়ে যায়।

~হিয়ার মাঝে~

obohelajibon-blog/অবহেলা জীবন

Tags: অনুপ্রেরণা, Motivation, ইসলামের কথা, মন খারাপ, আমি কেমন যেন বদলে যাচ্ছি, মনে অনেক কষ্ট, মন ভালো নেই আমার, ইসলাম কি বলে, মন ভালো করার হাদিস, মন ভালো হওয়ার দোয়া

Post a Comment

0 Comments