রহস্য ও গোয়েন্দা গল্প - দ্য আমেজিং থিফ (পর্ব ২)


দ্য আমেজিং থিফ  (পর্ব ১) গল্পকার,  দ্য আমেজিং থিফ  (পর্ব ২) রহস্য ও গোয়েন্দা গল্প দ্য আমেজিং থিফ, ফারহান আহমেদ ফারাবী, বিখ্যাত গোয়েন্দা গল্প, মজার গোয়েন্দা গল্প, গোয়েন্দা গল্প pdf, চুরি গোয়েন্দা গল্প, রহস্য গোয়েন্দা গল্প, রহস্যজনক গোয়েন্দা গল্প, রহস্যময় গোয়েন্দা গল্প, রোমাঞ্চকর রহস্য গোয়েন্দা গল্প, সেরা গোয়েন্দা গল্প, রহস্য গল্প, গোয়েন্দা রহস্য, গোয়েন্দা গল্প বলি, একটি গোয়েন্দা গল্প
রহস্য ও গোয়েন্দা গল্প - দ্য আমেজিং থিফ (পর্ব ২)

সাফিও - ১
দ্য আমেজিং থিফ

    (পর্ব ২)

আতঙ্কে মেতে উঠে পাহারারত সবাই। মুকুট রাখা ঘরটিতে ঢুকেই আলো জ্বালিয়ে দেখে, মুকুট নেই! সবার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো। ঠিক বারোটা বাজতেই আলো নিভে গেল, তার কয়েক সেকেন্ডের মাঝেই চুরি! অবাক হয়ে ফাঁকা মুকুটের স্ট্যান্ডটির দিকে তাকিয়ে রইল সবাই, বিশাল ঘড়িটি এখনো অনবরত ঢং ঢং করেই চলছে।

পরদিন সকালে।
মুখের উপর সকালের মিষ্টি রোদ পড়তেই ফারাবীর ঘুম ভেঙে গেল। শীত চলে আসছে প্রায়, মৃদু বাতাসের সঙ্গে অল্প ঠান্ডায় বিছানা ছেড়ে উঠতে মন চায়না। হঠাৎ দরজায় কারো কড়ানাড়ার শব্দ, ঘুম ঘুম চোখে তাকায় ফারাবী। পুনরায় শব্দ হতেই উঠে বসে বলল, "ভেতরে চলে এসো!" দরজা খুলে কাজের লোকটি এসে ঢুকে বলল, "সবাই উঠে পড়েছে, আপনিও ফ্রেস হয়ে খাবার টেবিলে চলে আসুন।"

"ঠিক আছে আপনি যান, আমি আসছি।"

কাজের লোকটি চলে যেতেই ফারাবী উঠে ফ্রেস হতে চলে গেল। ফ্রেস হয়ে কাপড় বদলে গেল খাবার টেবিলে। সবাই সেখানে আগে থেকেই বসে গল্প করছে। ফারাবী হাই তুলতে তুলতে বলল, "শুভ সকাল বন্ধুরা।"

"শুভ সকাল, এখনো ঘুম যায়নি?" দিবা বলল

"কি করবো? এেত ভ্রমনের পর আমার আর ভালো লাগে না।"

এই বলে টেবিলে মাথা রেখে চোখ বুজে রইল ফারাবী। তুষিত তাকে ধাক্কা দিয়ে বলল, "উঠ! আর কত ঘুমাবি?"

"দেখ আমি মেয়ে হয়েও ক্লান্ত হইনি, আর তুই!" সানজু বলল

"ক্লান্ত তো আমারও লাগছে।" আবিদ বলল

"আচ্ছা মি. উইল খাওয়া শেষে আমরা এলাকাটা ঘুরে দেখতে পারি?" দিবা বলল

"অবশ্যই, কেন পারবে না?" মি. উইল বললেন

"আসলে এমন জায়গা আগে কখনো দেখিনি।" দিবা বলল

"এবার দেখবে, তাড়াতাড়ি খাওয়া শেষ করে বেরিয়ে পড়ো।"

খাওয়ার পর্ব শেষ করে তারা বেরিয়ে পড়লো ইমুলু শহরটি ঘুরে দেখতে, শহরটি দেখতে অনেকটা খ্রিষ্টান দেশগুলোর মতো। হাঁটতে হাঁটতে মাইকেলকে নিয়ে বিভিন্ন কথা হচ্ছে তাদের মাঝে। তবে দিবা অন্যদের চেয়ে বেতিক্রম, সে শহরটি দেখা নিয়ে ব্যস্ত। শহরটি দেখতে দেখতে হঠাৎ সামনে ভীড় চোখে পড়লো তার। সে বলল, "ফারাবী, সামনে এত ভীড় কেন?" বলল

"কোথায়?" ফারাবী বলল

"ওইযে মিউজিয়ামের সামনে!"

সানজুর কথা শুনে সামনে তাকিয়ে ভীড় দেখতে পায় ফারাবী। বেশ ভীড় ওখানে পুলিশের লোকও আছে।

"এত ভীড় কেন! চল গিয়ে দেখি।" ফারাবী বলল

ভীড়ের মাঝে এসে দাঁড়ায় তারা। ওখানের একজন পুলিশকে জিজ্ঞেস করলে জানা যায় এখানে ঠিক রাত বারোটায় চুরি হয়েছে! কথাটি শুনে একে অপরের দিকে তাকা তাকি করে তারা।

"এ নিশ্চয়ই মাইকেল এল্ট্রোর কাজ।" ফারাবী বলল

"এই মিউজিয়ামটা বেসরকারি মনে হয়।" তুষিত বলল

"তাহলে মালিকের সঙ্গে কথা বললে হয়না?" সানজু বলল

"হুম আমিও তাই ভাবছিলাম।" ফারাবী বলল

মালিকের সঙ্গে দেখা করতে মিউজিয়ামের কাছে যায় ফারাবী, দিবা, সানজু, তুষিত ও আবিদ। ভেতরে যেতেই একলোককে চেয়ারে বসে থাকতে দেখে তারা। কেমন যেন চিন্তার রেখা তার কপালে, বয়স প্রায় ৬৫ বছর। ফারাবী তার কাছে এগিয়ে গিয়ে হাত বাড়িয়ে বলল, "আমি ফারাবী, এই মিউজিয়ামটা কি আপনার?" তার কথা শুনে ভদ্রলোক মাথা তুলে তাকালেন।হাত মিলিয়ে বললেন, "হুম আমি উইলিয়াম থমসন, তোমরা কারা?"

"আমাদের আপনি চিনবেন না, মাইকেল এল্ট্রোর চুরির বিষয়টা দেখতেই আমরা এসেছি।" সানজু বলল

"বসো, কি মনে করে এলে?"

"আঙ্কেল লোক মুখে শুনলাম মাইকেল নাকি এই মিউজিয়ামে চুরি করেছে?" দিবা বলল

"হুম, অনেক টাকা খরচ করে ওটা আনিয়েছিলাম। কি করবো ভেবে পাচ্ছি না।"

"আচ্ছা চুরির আগে কি আপনার কাছে কোনো হুমকি আসেনি?" ফারাবী বলল

"হ্যাঁ, একটি ছোট কাগজে লিখে দিয়েছিল "আজ ঠিক রাত বারোটায় মিউজিয়ামে রাখা মুকুটটি চুরি হতে চলেছে, ক্ষমতা থাকলে থামিয়ে দেখাও!"

"কি সাংঘাতিক!" আবিদ বলল

"এবার তো সবচেয়ে দামি জিনিসটি চুরি হয়েছে, পরবর্তীতে অন্যান্য দামি জিনিসগুলোর দিকে নজর দিতে পারে। চলো, মিউজিয়ামটি ঘুরে দেখাই।"

উইলিয়াম তাদের মিউজিয়ামের ভেতর নিয়ে গেলেন। বিভিন্ন দামি ও পুরনো জিনিসে ভর্তি মিউজিয়াম। তাদের একটি ঘরে নিয়ে গেলেন উইলিয়াম, আঙুল দিয়ে একটি স্ট্যান্ড দেখিয়ে বললেন, "ওইযে, ওখানেই ছিল মুকুটটি।" দিবা সেটার কাছে গিয়ে বলল, "চুরি যে করেছে তার কোনো ক্লু ও রেখে যায়নি!"

"এ যে সে চোর নয়। চুরির আগেই জানিয়ে দেয়, কতবড় সাহস।" ফারাবী বলল

"আমি ভাবছি এত সিকিউরিটির মাঝে চুরি করলো কিভাবে!" সানজু বলল

"সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে এসেছে আর কি।" তুষিত বলল

"হুম এত মানুষের মাঝে ফাঁকি দিবে কিভাবে?" আবিদ বলল

"তাও কথা! মাথা নাড়লো তুষিত

"শুনেছি ব্যবসায়ী মি. উইলের বাড়িতে ঠিক এভাবেই চুরি হয়েছে, তাই আমি যত বেশি সম্ভব সিকিউরিটি বসিয়েছিলাম।"

"উইলিয়াম সাহেব, আমরা মি. উইলের বাড়িতেই এসেছি।" ফারাবী বলল

কথাটি শুনে উইলিয়াম কিছুটা অবাক হলেন। অপ্রস্তুত হয়ে বললেন, "উইলের বাড়িতে! তোমরা তো এখানের বলে মনে হয়না, কি কাজে এসেছো?"

"আমরা শখের গোয়েন্দা, এই চুরির বিষয়ে তদন্ত করতে এসেছি।" দিবা বলল

"ওহ আচ্ছা।"

"দেখুন উইলিয়াম সাহেব, এই কেসটা খুব রহস্যময়। তাই কেসটা সোল্ভ করতে আপনার সাহায্যের প্রয়োজনও হতে পারে।" ফারাবী বলল

"হ্যাঁ অবশ্যই, সাহায্য লাগলেই বলবে।"

"আপাতত একটাই সাহায্য। আপনার মিউজিয়ামে অনেক দামি জিনিস আছে, এবং তা চুরি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক। তাই কেসটি সোল্ভ করতো এখানে আমাদের মাঝে মাঝে এখানে আসতে হতে পারে।" ফারাবী বলল

"অবশ্যই আসবে, আমার সঙ্গে দেখা করলেই চলবে।"

এমন সময় এক প্রাপ্ত বয়স্ক লোক এসে বলল যে মিউজিয়াম আপাতত লাগানো হবে। সেদিনের মতো মিউজিয়াম থেকে ফিরে আসে তারা। মি. উইলের বাড়ি ফিরেই বিষয়টি নিয়ে আলাপ শুরু হলো, এই চোর কোনো সাধারণ চোর নয়।

রাত ৩টা ২৪মিনিট।
শহরের সবাই আলো নিভিয়ে গভীর নিদ্রায় মগ্ন, মিউজিয়াম অন্ধকার। চাঁদের আলো জানালা দিয়ে এসে অন্ধকার দূর করার চেষ্টা করছে, মৃদু বাতাসে ঢুলছে জানালার পর্দা। হঠাৎ ঘরের আবছা আলোতে একটি ছায়ামূর্তি দেখা গেল। পরনে অভার কোট, মাথায় হ্যাট। ধীর পায়ে এগিয়ে এসে টেবিলের উপর একটি ছোট চিঠি রেখে দিল লোকটি, চাঁদের আলোয় তার আঙুলের আংটিটা চকচক করছে। কাগজটি একটি ছোট পাথরের নিচে চাপা দিয়ে বিদায় নিল সে।

পরদিন সকালে।
গতবারের মতো আজও মিউজিয়ামে চুরির হুমকি। আজ লেখা "আজ রাত বারোটায় পুনরায় আসছি, মিউজিয়ামে রাখা স্বর্ণের গোল্ডেন গিটারটি উধাও করতে!" চিঠিটা টেবিলের উপর রেখে অসহায়ের মতো বসে রইলেন উইলিয়াম। পাশে তার এসিস্টেন্ট মি. হ্যারি ওসবর্ন। তার সামনে বসে ফারাবী, দিবা, সানজু, তুষিক ও আবিদ। কারো মুখে কথা নেই। একসময় নীরবতা ভেঙে ফারাবী বলল, "আচ্ছা, গিটারটা পুলিশের কাছে দিয়ে দিলে কেমন হয়?"

"পুলিশের কাছে কেন?" মি. ওসবর্ন বলল

"থানায় থাকলে চুরি করতে পারবে না, ধরা পড়ার সম্ভাবনা অনেক।" ফারাবী বলল

"আমারো তাই মনে হয়, এখানে সহজেই চুরি করতে পারবে তবে থানায় পারবে না।" দিবা বলল

"আচ্ছা তোমরা কথা বলো, আমি একটু বাড়ি থেকে আসছি।"

এই বলে উইলিয়াম উঠে যেতে থাকলেন। ফারাবী পেছন থেকে বলল, "উইলিয়াম সাহেব কি হলো?"

"একটু কাজ আছে, এখনই আসছি।"

উইলিয়াম চলে গেলেন। ফারাবী চেয়ে রইল তার দিকে। হঠাৎ মি. ওসবর্নের কথায় ভাবনায় ছেদ পড়লো তার।

"তাহলে ঠিক আছে, আপাতত সময় নষ্ট করতে চাইনা। সামনেই পুলিশ স্টেশন, চলো।"

মি. ওসবর্ন উঠতে যাবে এমন সময় ঘরে এসে ঢুকলো ইন্সপেক্টর হাডসন। তাকে দেখে উঠে দাঁড়ালো সবাই। উইলিয়াম আমতা আমতা করে বলল, "ইন্সপেক্টর আপনি এখানে?"

"শুনেছি আবারও নাকি চুরি হবে, তাই দেখতে আসলাম।" ইন্সপেক্টর বললেন

"ভালোই করেছেন, আমরাও এখন থানায় যেতাম।" মি. ওসবর্ন বলল

"কেন?"

"আসলে আমরা চাচ্ছি গোল্ডেন গিটারটা থানায় থাকুক, তাহলে চুরির সম্ভাবনা কম থাকবে।"

"ওহ, আচ্ছা কি চুরি হওয়ার কথা তা কি দেখতে পারি?"

"অবশ্যই, আসুন আমার সঙ্গে।"

ওসবর্ন তাদের নিয়ে গেল গোল্ডেন গিটারটির ঘরে, গিটার দেখে সবাই মুগ্ধ। পুরোপুরি স্বর্ণের তৈরি মনে হয়। গ্লাসের ভেতর লম্বা একটি স্ট্যান্ডে দাঁড় করানো গিটারটি। ইন্সপেক্টর তা দেখে বলল, "হুম চোরের নজর পড়ার মতোই।"

"আপনি গিটারটি নিয়ে থানায় রাখুন, তাহলে হয়তো বাঁচা যাবে।" মি. ওসবর্ন বলল

"ঠিক আছে, আপনারা কোনো চিন্তা করবেন না।"

গিটারটি বাক্স বন্দি করে ইন্সপেক্টরের হাতে তুলে দেওয়া হলো, সবাইকে বিদায় জানিয়ে বাক্সটি নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন ইন্সপেক্টর। পেছনে দাঁড়িয়ে তাকে চলে যেতে দেখছে সবাই, যাওয়ার সময় ঠোটের কোণে এক রহস্যময় হাসি ফোটে উঠে ইন্সপেক্টরের!

চলবে

লেখা - ফারহান আহমেদ ফারাবী

Post a Comment

0 Comments