রহস্য ও গোয়েন্দা গল্প - দ্য আমেজিং থিফ (পর্ব ৩)


দ্য আমেজিং থিফ  (পর্ব ১) গল্পকার,  দ্য আমেজিং থিফ  (পর্ব ৩) রহস্য ও গোয়েন্দা গল্প দ্য আমেজিং থিফ, ফারহান আহমেদ ফারাবী, বিখ্যাত গোয়েন্দা গল্প, মজার গোয়েন্দা গল্প, গোয়েন্দা গল্প pdf, চুরি গোয়েন্দা গল্প, রহস্য গোয়েন্দা গল্প, রহস্যজনক গোয়েন্দা গল্প, রহস্যময় গোয়েন্দা গল্প, রোমাঞ্চকর রহস্য গোয়েন্দা গল্প, সেরা গোয়েন্দা গল্প, রহস্য গল্প, গোয়েন্দা রহস্য, গোয়েন্দা গল্প বলি, একটি গোয়েন্দা গল্প
রহস্য ও গোয়েন্দা গল্প - দ্য আমেজিং থিফ  (পর্ব ৩)

সাফিও - ১
দ্যা আমেজিং থিফ

    (পর্ব ৩)

হঠাৎ ইন্সপেক্টর পেছন ফিরে বলল, "এটা কবে ফেরত নিবেন?"

"আপাতত আপনাদের কাছে থাক, সময় মতো আমি নিয়ে আসব। বলা যায়না চুরি করতে হয়তো তার ভালো লাগে!" মি. ওসবর্ন বললেন

ইন্সপেক্টর মুচকি হেসে বলল, "হুম ঠিক আছে।" এই বলে হাসতে হাসতে চলে গেল ইন্সপেক্টর।

পুলিশের কাছে দিয়ে আপাতত সবাই চিন্তামুক্ত, অন্তত থানা থেকে চুরি করতে পারবে না। তবে পরে জানা যায়, গিটারটি থানা থেকেও উধাও! লোক মুখে শোনা যায় ইন্সপেক্টর গিটারটি নিয়ে থানায়ই পৌঁছেনি। বিষয়টি জানতে পেরে ফারাবী ইন্সপেক্টরের সঙ্গে কথা বলতে যায়, তাকে দেখে বসতে বললেন ইন্সপেক্টর। আসার কারণ জানতে চাইলে ফারাবী বলল,

"সকালে আপনার কাছে একটি গোল্ডেন গিটার দেওয়া হয়েছি যা চুরি হওয়ার কথা ছিল, সবাই বলাবলি করছে ওটা নাকি আপনি থানায় নিয়ে পৌঁছাননি?"

কথাটি শুনে ইন্সপেক্টর আকাশ থেকে পড়লেন। অবাক হয়ে বললেন,

"হোয়াট! কিন্তু সকাল থেকেই আমি এখানে ডিউটি করছি, কোথাও যাইনি। এবং আপনার সঙ্গেও আমার এই প্রথম দেখা!"

"কি বলছেন! তাহলে সে কে ছিল!"

এদিকে একটি খালি ঘরে গিটারের বক্সটি টেবিলের উপর রাখে ইন্সপেক্টরের রূপী ছব্দবেশী, তারপর এগিয়ে যায় দেওয়ালে ঝুঁলন্ত আয়নাটির সামনে। হাসতে হাসতে মাথা নিচু করে ক্যাপ ও মাস্ক খুলে আয়নার দিকে মুখ তুলতেই দেখা যায় অজানা কারো চেহারা! চিকন মুছ, মুখ অনেকটা শুকনো। লোকটি একটি কালো এক গ্লাসের গোল চশমা চোখে দিয়ে এবং হ্যাট পড়ে আয়নার দিকে চেয়ে বলল, "অবশ্যই চুরি করতে ভালো লাগে, আমি শেয়ালের মতো চালাক! ইদুরের মতো চতুর!" বলেই হো হো করে হেসে উঠে লোকটি।

সেদিন রাতে।

"আমি সত্যিই বুঝতে পারছি না, এই চোর কিভাবে এমন করে!"
এক প্রকার বিরক্ত হয়েই দিবা কথাটি বলল। ফারাবী মাথা তুলে বলল,

"অপেক্ষা করো, এর রহস্য অবশ্যই সামনে আসবে।"

"কিন্তু যদি কোনো ক্লু না পাই তাহলে কেস সোল্ভ হবে কিভাবে?" সানজু বলল

"ভেবে দেখি।"

সবাই একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলল, যেন এই কেস তাদের দ্বারা সমাধান করা সম্ভব নয়। ঠান্ডা বাতাস বইছে বাহিরে, হয়তো বৃষ্টি পড়বে। ঝড়ো বাতাস এসে পড়লো সানজুর মুখে, তার কিছু মনে পড়লো হঠাৎ। উত্তেজিত হয়ে বলল, "এই! এমন এক চোর ১৯৪৯ এর দিকে ছিল!"

"১৯৪৯? পাগল হয়েছো নাকি?" তুষিত বলল

"এত আগের কথা বলে কি লাভ? কথাটি সত্য বলেও আমার মনে হয় না।" আবিদ বলল

"দাঁড়া দাঁড়া, সানজু সব খুলে বলো তো?" ফারাবী বলল

"তার নামটা ঠিক মনে নেই, তবে ঠিক এভাবেই চুরির ঘটনা ঘটতো। কোথায় যেন পড়েছি!" সানজু বলল

"এটা নয়তো যে সেই এসব করছে?" আবিদ বলল

"সে আদও কি বেঁচে আছে যে আবার চুরি করবে?" তুষিত বলল

দিবা বলল,
"হতে পারে তার কৌশলগুলো ব্যবহার করছে কেউ, অথবা তার অতৃপ্ত আত্মা.. .

"এখন আত্মা আসলো কোথা থেকে! ফারাবী বলল

"চুরি করতে না পারায় অতৃপ্ত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে বেচারা!"

আবিদের কথা শুনেই হো হো করে হেসে উঠে সবাই, দিবা রেগে গিয়ে দু তিনটা কিল বসিয়ে দেয় আবিদের পিঠে। তবে ফারাবী হাসছে না, তার কাছে সানজুর বলা কথাটি বেশ কাজের বলে মনে হচ্ছে। চশমাটি খুলে রুমাল দিয়ে মুছে চশমাটা চোখে দিল, খোলা জানালার পর্দা ইচ্ছে মতো ঢুলছে ঝড়ো বাতাসে।

পরদিন সকালে।
বৃষ্টি ভেজা দিন না হলেও, আকাশে হালকা মেঘ জমে আছে। গতদিনের মতো ফারাবী, দিবা, সানজু, তুষিত ও আবিদ একসঙ্গে হলেও ফারাবী আজ কাজে মগ্ন। ল্যাপটপে কি যেন সার্চ করছে।

"একি সূর্য আজ কোন দিকে উদয় হলো!"

ফারাবীকে খোটা দিয়ে কথাটা বলল তুষিত। ফারাবী সঙ্গেসঙ্গে প্রতিবাদ করলো, "একটা ইমপোর্টেন্ট কাজ করছি, বিরক্ত করিস না।"

"হঠাৎ ল্যাপটপে এত কি করছিস? সানজু বলল

"তোর কথা অনুযায়ী এমন কেউ আগে কখনো ছিল কিনা, সেটা দেখছি।" ফারাবী বলল

দিবা ফারাবীর চেয়ারে হাত রেখে দাঁড়াল। অপলক দৃষ্টিতে কম্পিউটারের লেখাগুলোর দিকে চেয়ে আছে। হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে দিবা বলল, "এমন একজন ছিল যার জন্ম লনডনে!" দিবার কথায় ফারাবীর কিছু একটা মনে পড়লো। বলল, "হ্যাঁ তার কথা আমিও শুনেছি! তবে এটাকে কাল্পনিক ভেবে এড়িয়ে গিয়েছিল।" দ্রুত উঠে গিয়ে ব্যাগ থেকে একটা বই বের করে কিছু একটা খুঁজতে শুরু করলো ফারাবী। 

কিছুক্ষণ পর একটা পৃষ্ঠা বের করে বইটি টেবিলের উপর রেখে বলল, "এই সেই চোর যার কথা সানজু বলেছিল, তবে এটা তাকে নিয়ে লেখা কাল্পনিক গল্পের বই।" বইয়ের শেষে লিখেছে গল্পের মাইকেল এল্ট্রো কোনো কাল্পনিক ব্যক্তি নয়।
সবাই চুপ হয়ে মনোযোগ দিয়ে মাইকেলের ছবিটা দেখছে। কিছুক্ষণ পর সানজু বলল, "ছবিতে দেখেই ভয় করছে, বাস্তবে কেমন হবে!"

"আরে সে আর নেই! তুষিত বলল

"আমি ভাবছি সে যদি না থাকে তাহলে কে করছে এসব!" ফারাবী বলল

"আচ্ছা লাইব্রেরিতে দেখলে কেমন হয়? যদি এর ব্যাপারে কিছু জানতে পারি?" আবিদ বলল

"হুম সময় নষ্ট করা চলবে না, এখনই চল।"

ফারাবীর কথা মতো লাইব্রেরির উদ্দেশে বেরিয়ে পড়লো সবাই। লাইব্রেরি পৌঁছেই বিভিন্ন বই দেখতে শুরু করে তারা। একের পর এক বই দেখছে। কোথাও কিছু নেই। দেখতে দেখতে হঠাৎ একটি বইয়ে চোখ আটকে যায় দিবার, সবাইকে ডেকে বইটি দেখায়। খয়রি রঙের একটি বই, তার উপর লেখা "মাইকেল এল্ট্রো দ্য আমেজিং থিফ"। বইটি নিয়ে মি. উইলের বাড়ি যায় তারা।

রাত ৮টা বাজে।
ফারাবীর রুমে এসে জড়ো হয় ফারাবী, দিবা, সানজু, তুষিত ও আবিদ। বইটি পড়তে শুরু করে ফারাবী। সবাই মন দিয়ে শুনতে শুরু করে,

মাইকেল এল্টোরো ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত চোর, যার কৌশল ও মেধা ছিল অন্যসব মানুষের চেয়ে একদমই আলাদা। মাইকেল চুরির পূর্বেই চিঠির মাধ্যমে সবাইকে জানিয়ে দিত। এবং বলতো, নজরদারি যেন প্রখর হয়। তবে চুরি হওয়া থেকে কেউ তাকে ব্যর্থ করতে পারেনি। তার অন্যতম প্রিয় রঙ কালো, এবং সে সবসময় কালো রঙের অভার কোট ও কালো হ্যাট ব্যবহার করতো। 

তার চুরি করা প্রথম জিনিসটি ছিল পঞ্চাশ কোটি পাউন্ডের একটি গোল্ড কয়েন, কয়েনটি ছোট হলেই তার দাম ছিল পঞ্চাশ কোটি পাউন্ড। কয়েনটি চুরি হয় এক মিউজিয়াম থেকে, এবং লোক মুখের বিভিন্ন কথার কারণে একসময় মিউজিয়ামটি বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৪৫ সালে প্রায় ৫১বছর বয়সে নিজের ঘরে আত্মহত্যা করে, আত্মহত্যার কারণ কেউ কখনো জানতে পারেনি। আত্মহত্যার পূর্বে মাইকেল তার শেষ চিঠি লিখে যায়। তাতে লেখা ছিল,

চলবে

লেখা - ফারহান আহমেদ ফারাবী

Post a Comment

0 Comments