দ্য আমেজিং থিফ  (পর্ব ১) গল্পকার,  দ্য আমেজিং থিফ  (পর্ব ৪) রহস্য ও গোয়েন্দা গল্প দ্য আমেজিং থিফ, ফারহান আহমেদ ফারাবী, বিখ্যাত গোয়েন্দা গল্প, মজার গোয়েন্দা গল্প, গোয়েন্দা গল্প pdf, চুরি গোয়েন্দা গল্প, রহস্য গোয়েন্দা গল্প, রহস্যজনক গোয়েন্দা গল্প, রহস্যময় গোয়েন্দা গল্প, রোমাঞ্চকর রহস্য গোয়েন্দা গল্প, সেরা গোয়েন্দা গল্প, রহস্য গল্প, গোয়েন্দা রহস্য, গোয়েন্দা গল্প বলি, একটি গোয়েন্দা গল্প
রহস্য ও গোয়েন্দা গল্প - দ্য আমেজিং থিফ (পর্ব ৪)

সাফিও - ১
দ্যা আমেজিং থিফ

    (পর্ব ৪)

"আমার জীবনের সমাপ্তি এখানেই। আমার আত্মহত্যার কারণ কেউ খুঁজতে এসো না, আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।"

বইটি বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস ফেলল ফারাবী। বইটির প্রতিটি শব্দে, প্রতিটি লাইনে ছিল অজানা রহস্য। কারো মাথায় আসছে না, মাইকেল মারা গিয়ে থাকলে বর্তমানে মাইকেল এল্ট্রোই বা কে! তুষিত কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, "তার মানে মাইকেলের কৌশল অন্যকেউ ব্যবহার করছে।"

"হতে পারে।" দিবা বলল

"যদি তাই হয় তবে কে করছে এগুলো?" ফারাবী বলল

"এটাই তো রহস্য।" আবিদ বলল

"আমার মনে হয় মাইকেল মারা যায়নি, তার বয়স ও মৃত্যুর কথাটা ভুলও লেখা হতে পারে।" সানজু বলল

বিভিন্ন কথা চলতে থাকে তাদের মাঝে। কেউ বলছে মাইকেল মারা যায়নি, আবার কেউ বলছে প্রতিটি চুরিতে রয়েছে অন্যকারো হাত।

রাত ১টা ২৪মিনিট।
প্রচন্ড বৃষ্টি পড়ছে রাত বারোটা থেকেই, সঙ্গে যোগ হয়েছে ঝড়ো বাতাস। বাড়ির সবাই গভীর ঘুমে, শুধু ফারাবী ছাড়া। সে টেবিলে বসে ল্যাম্প জ্বালিয়ে বইটি পুনরায় ঘেটে দেখছে। মুখে ল্যাম্পের আলো পড়ছে, যত বইটা পড়ছে তত ভ্রু কুচকে আসছে তার। হঠাৎ খোলা জানালার পর্দা সরে গেল, তীব্র বাতাস এসে উড়িয়ে দিল বইয়ের পাশে রাখা সব কাগজ গুলো। ফারাবী উঠে দ্রুত সেগুলো এক করতে শুরু করে, বাতাসের কারণে তার এক করতেও সময় লাগে। সবগুলো কাগজ নিয়ে উঠে দাঁড়াতেই জানালার দিকে চোখ পড়ে ফারাবীর, কারো স্পষ্ট ছায়া ভেসে উঠেছে পর্দায়! ফারাবী স্থির দাঁড়িয়ে দেখতে থাকে, ছায়াটি টেবিলের উপর উপর কিছু একটা রাখলো। বুঝতে বাকি রইল না ফারাবীর, এ মাইকেল এল্ট্রো! কে ওখানে! বলেই টর্চ নিয়ে সে ঘরে যায় ফারাবী, দ্রুত দরজা খুলে আলো ফেলে সমস্ত ঘরে। কোথাও কেউ নেই, টেবিলে একটি ভাজ করা কাগজ পড়ে আছে। ফারাবী বৃষ্টির মাঝে বাহিরে বেরিয়ে পড়লো, দৌড়ে গেটের কাছে এসে আশেপাশে দেখতে লাগলো। ইতিমধ্যেই টর্চ মিটমিট করতে শুরু করে, একসময় বন্ধ হয়ে যায়। হয়তো বৃষ্টির পানি ঢুকেছে। বিরক্ত হয়ে টর্চে থাপ্পড় দিতে থাকে ফারাবী, তবে কাজ হলো না। নির্জন শহরম বৃষ্টির শব্দ ছাড়া কিছু শোনা যাচ্ছে না। ঘরে ফিরে গেল সে, ভেজা শরীর নিয়েই ঢুকলো ঘরটিতে। ধীর পায়ে টেবিলের কাছে এসে চিঠিটা তুলে দেখলো, লেখাটি পড়ে ভ্রু কুচকে জানালার দিকে তাকালো। তার ধারণা ঠিক, এ ছিল অসময়ের অথিতি মাইকেল এল্ট্রো।

পরদিন সকালে।
এবারও একটি হুমকি এসেছে। তাতে লেখা, "আজ রাত বারোটায় আবার আসছি মিউজিয়ামে, ইতি মাইকেল এল্ট্রো।"

"মানে কি! মিউজিয়ামে আসবে বলে এখানে কেন চিঠি দিচ্ছে!"

চিঠিটা ফারাবীর হাতে দিয়ে বলল তুষিত। ফারাবী সেটা হাতে নিয়ে বলল,

"আমিও বুঝলাম না। হয়তো মাইকেল আমাদের চিনে, নাহলে এমন বোকামি সে করবে না।

"সে তো আজ চুরির কথাই বলল না, শুধু বলল আসবে। তার মানে কি! দিবা বলল

"আজ বিকেলে মিউজিয়াম যেতে হবে। চুরির কথা বলেনি এবং চিঠি পাঠানো হয়েছে মি. উইলের বাড়িতে, এটা খুবই অদ্ভুত।" ফারাবী বলল

"আমিও ভাবছি মিউজিয়াম যাওয়া দরকার।" সানজু বলল

বিকেল হলো। মিউজিয়ামে এসে দাঁড়ালো ফারাবী, দিবা, সানজু, তুষিত ও আবিদ। তাদের সাথে উইলিয়াম। তবে সামনে একটি ফিতা টানানো, তাতে লেখা "Don't Entry!"

"এটাতো জুয়েলরির ঘর, ডন্ট এন্ট্রি কেন?" ফারাবী বলল

"আসলে গতকাল চোরটা পুরনো দামি জুয়েলরিও চুরি করেছে।" উইলিয়াম বলল

"কখন আসে কখন যায় টেরও পাওয়া যায় না।" আবিদ বলল

তাদের কথা বলার মাঝেই জুয়েলরি ঘর থেকে এক পুলিশ ইন্সপেক্টর বেরিয়ে আসেন, তার চোখে মুখে চিন্তার স্পষ্ট ছাপ। বাহিরে এত লোক দেখে বললেন, "একি আপনারা এখানে কেন! পেছনে যান।"

"ইন্সপেক্টর আমরাও এই চোরের ব্যাপারে খোঁজ করছি।" ফারাবী বলল

"ওহ, অর্থাৎ তোমরা গোয়েন্দা?"

"হ্যাঁ, অফিসার এখানে কি হয়েছে?" ফারাবী বলল

"এ ব্যাপারে আর কি বলবো, আমি তো এটাও জানিনা যে এসব কাজ মাইকেলের নাকি না!"

"তার মানে? দিবা বলল

"আসলে এখানের স্টাফদের জিজ্ঞেস করে যা জানলাম, তা হলো এই মিউজিয়ামে নাকি একটা প্রেতাত্মা আছে। যে সব চুরিগুলো করছে।

"এটা কেমন কথা? প্রতাত্মা চুরি করছে!" সানজু বলল

"কথাটা আমারও বিশ্বাস হয়নি। অনেকজনকে জিজ্ঞেস করলাম। বিভিন্ন তথ্য দিল, সবই ছিল অস্বাভাবিক। আমরা এটা জানার চেষ্টা করছি যে এগুলো মাইকেলের কিনা। আমার মনে হয়, এই মিউজিয়ামে কিছু একটা আছে। কোনো অজানা রহস্য!" ইন্সপেক্টর বলল

পরদিন সকালে।
জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন মি. ওসবর্ন। এক নজরে বাহিরের প্রকৃতির দিকে চেয়ে আছেন। হঠাৎ দরজা খোলার শব্দ শুনে মি. ওসবর্ন পেছন ফিরে তাকালেন। ফারাবী এগিয়ে আসতে আসতে বলল, "কি হয়েছে মি. ওসবর্ন? ডেকেছিলেন কেন?" মি. ওসবর্ন পুনরায় জানালার দিকে ঘুরে বললেন, "আবারো হুমকি এসেছে!"

"কি? আবারো?" সানজু বলল

"হ্যাঁ, এটা গতকাল রাতেই এসেছে।"

এই বলে মি. ওসবর্ন একটি কাগজ রাখলেন, ফারাবী সেটা নিয়ে পড়ার চেষ্টা করলো।

"আজ ঠিক রাত বারোটায় দেখা হচ্ছে, জুয়েলারি ঘরে চুরির উদ্দেশে আসছি। ইতি মাইকেল এল্ট্রো!"

"দেখেছো সে কি বলেছে?" মি. ওসবর্ন বললেন

"তার মানে চুরি আজ রাত বারোটায় হবে।" আবিদ বলল

"হ্যাঁ তুমি ঠিক বলেছো!"

অজানা কারো কন্ঠ শুনে পেছন ফিরে তাকায় সবাই, গতকালের সেই ইন্সপেক্টরকে দেখে তুষিত বলল, "আরে অফিসার আপনি?" ইন্সপেক্টর এগিয়ে আসতে আসতে বললেন, "ঠিক এমন চিঠি জুয়েলারি চুরির সময়ও এসেছিল, এবং চুরিও হয়েছে!"

"মি. ওসবর্ন, কি চুরি করবে বলেছে?" ফারাবী বললেন

"বলেনি, শুধু বলল জুয়েলারি ঘরে চুরি করবে।" মি. ওসবর্ন বললেন

"আচ্ছা গতকাল শুধু শুধুই কেন মি. উইলের বাড়ি চিঠিটা দিয়েছিল?" সানজু বলল

"হতে পারে আমাদের এখানে ডেকেছিল, তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে সে আমাদের চিনে!" ফারাবী বলল

"আজ রাত বারোটায় আমরা সবাই এখানে থাকবো, আশা করি তোমরাও থাকবে।" ইন্সপেক্টর বললেন

"চিন্তা করবেন না অফিসার, আমরা থাকছি।" ফারাবী বলল

সূর্য ডুবতে থাকলো, ধীরে ধীরে রাত নেমে আসলো ইমুলু টাউনে। এখন রাত ১১টা ৪৫মিনিট। প্রচুর গার্ড ও পুলিশে ভরপুর মিউজিয়াম। অপেক্ষা শুধু রাত বারোটার। জুয়েলারি ঘরে পায়চারি করছে ফারাবী, তার আশেপাশে বাকিরাও। সঙ্গে পুলিশ। ধীরে ধীরে সময়ও এগুতে শুরু করেছে। ফারাবী দেয়ালে লাগানো বড় ঘড়িটির দিকে তাকিয়ে বলল, "আর মাত্র পাঁচ মিনিট!" তার কথায় যেন সবাই আরো সতর্ক হয়ে গেল। হঠাৎ মি. ওসবর্ন আমতা আমতা করে বলল, "আমি একটু সামনের ঘর থেকে আসছি!"

চলবে

লেখা - ফারহান আহমেদ ফারাবী

Post a Comment

কমেন্টে স্প্যাম লিংক দেওয়া থেকে বিরত থাকুন

Previous Post Next Post

Ads