রহস্য ও গোয়েন্দা গল্প - দ্য আমেজিং থিফ (পর্ব ৫)


রহস্য ও গোয়েন্দা গল্প - দ্য আমেজিং থিফ (পর্ব ৫) ,বিখ্যাত গোয়েন্দা গল্প, মজার গোয়েন্দা গল্প, গোয়েন্দা গল্প pdf, চুরি গোয়েন্দা গল্প, রহস্য গোয়েন্দা গল্প, রহস্যজনক গোয়েন্দা গল্প, রহস্যময় গোয়েন্দা গল্প, রোমাঞ্চকর রহস্য গোয়েন্দা গল্প, সেরা গোয়েন্দা গল্প, রহস্য গল্প, গোয়েন্দা রহস্য, গোয়েন্দা গল্প বলি, একটি গোয়েন্দা গল্প, গল্পকার, গল্পজোট, গল্পবাজ, গল্পগুজব, গল্পদুটো
রহস্য ও গোয়েন্দা গল্প - দ্য আমেজিং থিফ (পর্ব ৫)

সাফিও - ১
দ্যা আমেজিং থিফ

    (পর্ব ৫)

ফারাবী তার এমন আচরণে অবাক হয়ে বলল, "মি. ওসবর্ন কোথায় যাচ্ছেন?"

"আসলে পাশের ঘরেও অনেক জিনিস আছে যা চুরি হতে পারে, তাই দেখতে যাচ্ছি।"

এই বলে মি. ওসবর্ন উত্তরের অপেক্ষা না করেই চলে গেলেন। ১১টা ৫৮মিনিট, বারোটা বাজতে আর মাত্র দু মিনিট বাকি। আবিদ তুষিতকে ফিসফিস করে বলল, "দেখেছিস তুষিত? মি. ওসবর্ন কিন্তু এখনো আসেননি!" তুষিত মাথা দুলিয়ে সায় দিল। এমন সময় উইলিয়ামও বললেন, "আমি আসছি, একটু অপেক্ষা করো!"

"আপনি এখন কোথায় যাচ্ছেন?" সানজু বলল

"ওই আসলে, ওসবর্নকে আনার ছিল। আমি যাই।"
ঠিক মি. ওসবর্নের মতো উইলিয়ামও চলে গেলেন। অপেক্ষা করতে লাগলো সবাই, বারোটার আগেই উইলিয়াম ফিরে আসেন তাদের কাছে। তুষিত আশেপাশে চেয়ে নিচু স্বরে বলল, "মি. ওসবর্ন এখনো আসেননি!" আবিদ তার কথায় মাথা নাড়লো। কয়েক সেকেন্ড পরই বড় দেয়াল ঘড়িটি ঢং ঢং শব্দ করে উঠলো, বারোটা বেজেছে! ঘড়ির শব্দ শুনে সবাই চমকে উঠলো। মূহুর্তেই সমস্ত মিউজিয়ামের আলো নিভে গেল। কে যেন দুতলার সিড়ি থেকে লাফিয়ে নেমে আসলো হঠাৎ! আবছা আলোতে দেখতে পেয়ে দিবা চিৎকার করে বলল, "মাইকেল এল্ট্রো!" তার কথা শুনেই ইন্সপেক্টর তার ক্যালিবার নাইন এমএম পিস্তল তাক করে বলল, "হ্যান্ডস আপ! পালানোর চেষ্টাও করবে না!" মাইকেল স্থির দাঁড়িয়ে থাকলো, তারপর বলল, "ইন্সপেক্টর আকিব?"

"তুমি, তুমি আমাকে চিনো?" অবাক হলো ইন্সপেক্টর আকিব

"আমি চিনিনা এমন খুব কম মানুষই আছে। তবে আমি আপনাদের চিনি, কিন্তু আপনারা আমাকে চিনেন না। মজাটা তো ওখানেই!"

"অনেক হয়ে গেছে এবার আত্মসমর্পণ করে নাও!" ফারাবী বলল

"আত্মসমর্পণ করতে তো আসিনি।"

কথার মাঝেই মাইকেল একটি বল ছুড়ে মারে সবার সামনে, মূহুর্তেই সাদা ধোঁয়া বল থেকে বেরিয়ে ঘিরে ফেলে সব। এদিক ওদিক পড়ে কাশতে শুরু করে সবাই। মাইকেল হো হো করে হেসে গিয়ে একে একে সব জুয়েলারি তার ব্যাগে ভরতে লাগলো। সবাই এখনো ধোঁয়ার কারণে কাশছে। জুয়েলারিগুলো ব্যাগে ভরে "গুড বাই" বলেই খোলা জানালা দিয়ে বেরিয়ে গেল! "এই থামো!" বলতে বলতে জানালার ধারে গেল ফারাবী, তবে এখানে কেউ নেই। ধোঁয়াও সরে এসেছে, ইন্সপেক্টর আকিব ফারাবীর কাছে এসে বললেন, "দেখেছেন তাকে?"

"একটা মানুষ হুট করেই গায়েব হয়ে গেল কিভাবে তাই ভাবছি!" ফারাবী বলল

"ফারাবী একটা বিষয় খেয়াল করেছিস?" সামজু বলল

"কি বিষয়?" ফারাবী বলল

"ধোঁয়ার জন্য আমরা তাকাতেও পারছিলাম না অথচ মাইকেল সব চুরি করে নিয়ে গেল!"

দিবার কথা শুনে খেয়াল হলো সবার। আসলেই এই ধোঁয়ায় মাইকেলের কিছু হয়নি। ফারাবী ভাবলো, চোর আসার সময় হলেই উইলিয়াম গায়েব হয়ে যায়, তবে আজ দুজন গিয়েও মি. ওসবর্ন এখনো ফিরে আসেননি। একটু ভেবে বলল, "উইলিয়াম সাহেব পরবর্তীবার যখন আবার চুরির কথা বলবে তখন অবশ্যই আমাদের জানাবেন।" একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। খোলা জানালার দিকে চেয়ে অসহায় কন্ঠে বলল, "আমি তো তাও জানিনা, কোনদিন, কখন আর কিভাবে সে আসে!"

পরদিন বিকেলে, মিউজিয়ামে এসে হাজির হয়েছে সবাই। উইলিয়ামের ইচ্ছে মিউজিয়ামটি তাদের পুনরায় ঘুরে দেখাবেন। তাই তাদের সবার অসময়ে এক হওয়া। উইলিয়াম তাদের একটি ঘড়ির ঘরে নিয়ে যান, যেখানে ঘড়ি আবিষ্কারের শুরু থেকে শেষ অবধি সজ্জিত। উইলিয়াম একটি ছোট ঘড়ির কাছে গেলেন। সেটা দেখিয়ে বললেন, এটা সেই প্রথম ঘড়ি যা প্রথম আবিষ্কার হয়েছিল। দিবা অন্য একটি ঘড়ির কাছে গিয়ে বলল, "এটা কেমন ঘড়ি?"

"এটাও আবিষ্কৃত তৃতীয় ঘড়ি।" উইলিয়াম উত্তর দিলেন

"আচ্ছা উইলিয়াম হাসেব এই ঘরে কি একবারও চুরি হয়নি?" ফারাবী জিজ্ঞেস করলো

"আপাতত না, তবে হতে আর কতক্ষণ! আসলে আমি তোমাদের নিয়ে এসেছি শুধু দেখানোর জন্যই নয়, বরং ঘরের সব ঠিক আছে কিনা তাও দেখছি।" উইলিয়াম বললেন

"এখনো এখানে চুরি হয়নি শুনে অবাক লাগছে, পুরনো ঘড়িগুলোর দাম লাখের উপর হবে।" আবিদ বলল

"এসো, তোমাদের পাশের তৈলচিত্রের ঘরে নিয়ে যাই।"

তাদের সবাইকে তৈলচিত্রের ঘরে নিয়ে গেলেন উইলিয়াম, ঘরটির দেওয়াল জুড়ে হরেক রকমের ছবি। তুষিত আশেপাশে কাকে যেন খুঁজতে লাগলো, তা দেখে ফারাবী জিজ্ঞেস করলো, " কাকে খুঁজছিস?"

"এই সানজুটা কই গেল?"

"আরে হ্যাঁ, একটু আগেও তো সাথে!" আবিদ বলল

"তোমরা শান্ত হও, আমি দেখছি।"

উইলিয়াম তার পকেট থেকে একটি ডিভাইস বের করলেন। কিছুক্ষণ তা দেখে বললেন, সানজু আসছে, একটু পেচনে পড়ে গিয়েছিল। ঠিক তখনই ঘরে প্রবেশ করলো সানজু! ফারাবী কিছুটা অবাক হয়ে বলল, "আপনি কিভাবে বুঝলেন সে আসছে?" উইলিয়াম ডিভাইসটি তার হাতে দিয়ে বললেন, "এটা এমন এক যন্ত্র যার মাধ্যমে নিজের সঙ্গে থাকা মানুষদের অবস্থান জানা যায়।" তার কথা শুনে ডিভাইসটিতে চোখ বুলালো, বিভিন্ন রঙের ছয়টি বিন্দু দেখা যাচ্ছে যন্ত্রটির স্ক্রিনে।

"এইযে সাদা বিন্দুটি আমার অবস্থান, এবং লালটি তোমার।" উইলিয়াম বললেন

"তার মানে, একটু ভালো করে খেয়াল করলে যা বুঝা যায়, নীলটি দিবা। তুষিত হলুদ, আবিদ সবুজ এবং সানজু গোলাপী।" ফারাবী বলল

"যন্ত্রটি বেশ কাজের।" সানজু বলল

"হুম তা নাহলে তোমাকে খুজতে আমরা অন্য কোথাও চলে যেতাম, আর তুমি কেঁদে কেঁদে বেড়াতে।"

বলেই হাসতে শুরু করলো তুষিত। তার সঙ্গে হেসে উঠলো ফারাবী, দিবা, আবিদ ও উইলিয়াম।

কিছুদিন কোনো হুমকি আসলো না মাইকেলের কাছ থেকে। তবে আসতেও দেরি হলো না। মিউজিয়াম থেকে ফেরার পথে কথা বলতে বলতে একটি লিফটে উঠে ফারাবী ও তুষিত। লিফটের দরজা লেগে যেতেই নিচে নামতে শুরু করলো লিফটটি। তারা কথা বলতে বলতে একসময় তুষিতের চোখে পড়ে, লিফটের দরজার কোণে গুজে রাখা একটি ভাজ করা ছোট কাগজ।

"ফারাবী, ওটা কি?" তুষিত কাগজটি দেখালো

"কাগজ মনে হয়, এখানে কে কাগজ ঢুকিয়ে রাখবে!" ফারাবী বলল

"দাঁড়া দেখছি।"

তুষিত কাগজটি নিয়ে ভাজ খুলল। ফারাবী কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলো, "কি লেখা?"

"আজ রাত বারোটায় মিউজিয়ামের সবচেয়ে দামি দুটোর মাঝে একটি চুরি করতে আসছি। আপনাদের প্রিয় চোর, মাইকেল এল্ট্রো।"

"এখানে চিঠি কেন দিল?"

"প্রিয় চোর মানে কি!"

"আজ রাতে আবার আসছে, চল সবাইকে জানিয়ে দিতে হবে।"

লিফট নিচে নামতেই তারা গিয়ে দেখা করলো উইলিয়াম ও মি. ওসবর্নের সঙ্গে। মি. ওসবর্ন তাদের ঢুকতে দেখে বললেন, "আরে আপনারা! ভেতরে আসুন।"

"দেখুন আমরা অযথা গল্প করতে আসিনি, এই চিঠিটা দেখুন।"

কাগজটি এগিয়ে দিল ফারাবী। মি. ওসবর্ন তা পড়লো, তার চোখ বড় হয়ে ভ্রু কুচকে আসলো মূহুর্তেই। মি. ওসবর্নের এমন অবস্থা দেখে উইলিয়াম বললেন, "কি লেখা এতে?"

"ডিরেক্টর, আজ আবার চোরটা আসছে!" মি. ওসবর্ন বললেন

"কি!"

মূহুর্তেই উইলিয়াম উত্তেজিত হয়ে পড়লেন। ফারাবী তাকে অভয় দিয়ে বলল, "চিন্তা করবেন না উইলিয়াম সাহেব, কি চুরি করবে বলে আপনার মনে হয়?" তুষিত বলল

"একটা মূর্তি এবং ওয়েল পেন্টিং আছে যা মিউজিয়ামের সবচেয়ে দামী।" উইলিয়াম বলল

"হুম, আপনি গতবার চুরির সময় যেভাবে ব্যবস্থা নিয়েছিলেন ঠিক সেভাবেই ব্যবস্থা নিন। আমার কাছে একটা প্ল্যান আছে, যা আপনাদের বলা সম্ভব নয়।"

"কেন? সবাই মিলে পরিকল্পনা মুতাবেক কাজ করা সহজ হবে।" উইলিয়াম বলল

"এখন আমার সন্দেহে আপনারা দুজন আছেন!" ফারাবী বলল

"কিহ!"

বসা থেকে উঠে প্রায় চিৎকার করে কথাটি বলল উইলিয়াম। চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে গেল মূহুর্তেই, চুপ হয়ে গেল মি. ওসবর্ন ও তুষিতও। ফারাবী ও উইলিয়াম চেয়ে রইল একে অপরের দিকে। হঠাৎ নীরবতা ভাঙলো ফারাবী। বলল, "আপনাদের উপর সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ আছে উইলিয়াম সাহেব। চুরি হওয়ার ঠিক পাঁচ মিনিট আগেই মি. ওসবর্ন সেখান থেকে কাজের অজুহাত দেখিয়ে চলে গিয়েছিলেন, এবং চুরি হওয়ার দু মিনিট আগে আপনি চলে গিয়েছিলেন মি. ওসবর্নকে নিয়ে আসার অজুহাতে।"

"হ্যাঁ কিন্তু আমি তো আবার ফিরে এসেছিলাম না?"

কথাটি বলেই মি. ওসবর্নের দিকে তাকালেন উইলিয়াম। ফারাবী তাদের দুজনের দিকে একবার তাকিয়ে বলল, "হুম এসেছিলেন, তবে আমি ভাবছি যাওয়ার কথাটা।"

"দেখো আমার মিউজিয়ামেই চুরি হচ্ছে, আর তুমি আমাকেই সন্দেহ করছো?" উইলিয়াম বললেন

"উইলিয়াম সাহেব তদন্তের সময় আমি আমার বন্ধুদেরও সন্দেহ করতে পারি, তদন্তের সামনে কেউ আপন পর হয় না। তুষিত" চল।

তুষিতকে নিয়ে সেখান থেকে ফারাবী দরজা লাগিয়ে চলে আসলো। অবাক দৃষ্টিতে দরজার দিকে চেয়ে উইলিয়াম ও মি. ওসবর্ন।

রাত ১১টা ৪০মিনিট।
একটি গ্লাসের বাক্সের ভেতর রাখা মূর্তির আশপাশে কড়া নজরদারি চলছে, অপর দিকে ওয়েল পেন্টিংয়ের ঘরেও। দিবা, সানজু, তুষিত ও আবিদ সবাই উপস্থিত, তবে ফারাবী নেই। কোথায় গিয়েছে তাও কাউকে জানায়নি সে। মূর্তির সামনে পায়চারি করছেন উইলিয়াম। একটু চিন্তিত হয়েই বললেন, "মিউজিয়ামের সবচেয়ে দামী জিনিস! দামী বলতে আমার মতে স্কটল্যান্ডে তৈরি রোমান আর্মির ওয়েল পেইন্টিংটাই আছে, তবে এই মূর্তিটাও কম সুন্দর নয়।"

হঠাৎ চিত্র ঘরে এক প্রচন্ড শব্দ হলো, তীব্র শব্দের সাথেই বন্ধ হয়ে গেল মেইন সুইচ! অন্ধকারে ছেয়ে গেল সব। উইলিয়াম চিৎকার করে বলল, "ও চিত্র ঘরেই আছে, জলদি যাও!" তার নির্দেশে ছুটে গেল গার্ড ও পুলিশ, সঙ্গে দিবা, সানজু, তুষিত ও আবিদ। মূহুর্তেই সমস্ত ঘর খালি হয়ে গেল। মূর্তির দিকে ঘুরে একটানে মুখোশ খুলে ফেলল উইলিয়াম, মূর্তির গ্লাস বক্সে উইলিয়ামের চেহারার বদলে ভেসে উঠেছে মাইকেল এল্ট্রোর চেহারা! হাসতে হাসতে হাত বাড়ালো মূর্তির দিকে।

চলবে

লেখা - ফারহান আহমেদ ফারাবী

Post a Comment

0 Comments