রহস্য ও গোয়েন্দা গল্প - দ্য আমেজিং থিফ (শেষ পর্ব )


রহস্য ও গোয়েন্দা গল্প - দ্য আমেজিং থিফ (শেষ পর্ব ৬ ) ,বিখ্যাত গোয়েন্দা গল্প, মজার গোয়েন্দা গল্প, গোয়েন্দা গল্প pdf, চুরি গোয়েন্দা গল্প, রহস্য গোয়েন্দা গল্প, রহস্যজনক গোয়েন্দা গল্প, রহস্যময় গোয়েন্দা গল্প, রোমাঞ্চকর রহস্য গোয়েন্দা গল্প, সেরা গোয়েন্দা গল্প, রহস্য গল্প, গোয়েন্দা রহস্য, গোয়েন্দা গল্প বলি, একটি গোয়েন্দা গল্প, গল্পকার, গল্পজোট, গল্পবাজ, গল্পগুজব, গল্পদুটো
রহস্য ও গোয়েন্দা গল্প - দ্য আমেজিং থিফ (শেষ পর্ব )

সাফিও - ১
দ্য আমেজিং থিফ

   (অন্তিম)

এমন সময় দরজা খুলে কে যেন বলে উঠলো, "থামো!" থমকে গিয়ে মাইকেল বলল, "কে ওখানে!" পেছন ফিরে ফারাবীকে দেখতে পেয়ে ভড়কে গেল মাইকেল। কিছুক্ষণ তাকিয়েই দৌড়ে গেল পাশের ঘরের দিকে। ফারাবী "এই থামো" বলেই তার পিছু নেয়। পাশের ঘরে গিয়ে দেখে কেউ নেই। ফারাবী কিছুটা অবাক হলো। এমন সময় বাকিদের ডাক শুনে পেছন ফিরলো ফারাবী।

"কিরে তোরা?" ফারাবী বলল

"তুই কোথায় ছিলি তাই বল?" আবিদ বলল

"এখানেই ছিলাম, কাউকে বলিনি। বরং উইলিয়াম সাহেব আপনি কোথায় ছিলেন তাই বলুন।" ফারাবী উত্তর দিল

"আমি তো ওসবর্নের সঙ্গে ছিলাম।" উইলিয়াম বললেন

"মি. ওসবর্ন কোথায়?" ফারাবী বলল

"সে তো বাড়ি চলে গেছে।" উইলিয়াম বললেন

"মাইকেল তো চিত্র ঘরেও নেই, মূর্তিটিও অক্ষত আছে। চুরি করলোটা কি!" দিবা বলল

"করতে পারেনি, উইলিয়াম সাহেবের রূপে এখানেই ছিল।" ফারাবী বলল

"মানে! এখন কোথায়?" উইলিয়াম বললেন

ফারাবী আবছা অন্ধকার ঘরটির দিকে আঙুল দিয়ে দেখালো। জানালা দিয়ে প্রবেশ করা হালকা চাঁদের আলোয় ঘরটি কিছুটা আলোকিত।

ঘরের ভেতর প্রবেশ করলো তারা, সঙ্গে ইন্সপেক্টর আকিব। সানজু কিছুটা বিরক্তির ভাব নিয়েই বলল, "এই ঘরটা এমন অন্ধকার কেন? কোনো লাইট নেই?" উইলিয়াম হাঁটতে হাঁটতে উত্তর দিল, "আসলে এখানের সুইচে সমস্যা, তাই ঠিক করাবো বলে ঘরটি বন্ধ রেখেছিলাম। জানিনা কিভাবে খুলে গেল।"

"ভূতে খুলেছে আর কি। তুষিত বলল

"এমন জায়গায় ভূতের নাম নিবি না!" সানজু বলল

"কেন ভয় লাগে নাকি? তুষিত বলল

"না, এমনি।"

"ভেবে দেখ, এখন যদি একটা ভূত এসে... .

তুষিতকে কথাটি শেষ করতে না দিয়েই উইলিয়াম বললেন, "আহা, মেয়ে মানুষ এভাবে ভয় দেখাচ্ছো কেন? ঝগড়া না করে এগোতে থাকো।" এই বলে উইলিয়াম এগিয়ে যেতেই দুতলার বারান্দা থেকে লাফিয়ে সবার পথ আটকে ফেলল মাইকেল! হঠাৎ এমন ঘটনায় চমকে উঠলো সবাই। ইন্সপেক্টর আকিব পিস্তল তাক করে বললেন, "হাত উপরে!"

"যদি না তুলি?" মাইকেল বলল

"নয়তো গুলি চালাতে বাধ্য হবো।" ইন্সপেক্টর আকিব বলল

"দেখুন অফিসার, আপনাকে এ্যারেস্ট করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, গুলি করার নয়। যদি নিজে ফাঁসতে চান তাহলে গুলি করুন।"

মাইকেলের কথা শুনে ভড়কে গেল ইন্সপেক্টর আকিব। দিবা প্রায় চিৎকার করেই বলল, "কি চাও তুমি?" মাইকেল বলল, "সানজুর গলার ওই চেইনটা!" কথাটি শুনে অবাক হলো সবাই। সানজু ঘাবড়ে গিয়ে বলল, "চেইন?"

"হ্যাঁ। দেখো আজ তোমাদের ফারাবী গোয়েন্দা মশায়ের কারণে চুরি করতে পারিনি, একদম তেলাপোকার মতো লুকিয়ে ছিল। চুরির হুমকি দেওয়ার পর চুরি না করলে আমার খাবার হজম হয়না। যদিও সানজুর গলার হার ওটা ওত দামীও নয়, তবুও আমার খাবার হজম করতে হবে!"

বলেই হো হো করে হেসে উঠলো মাইকেল। ফারাবী কি মনে করে ভালো করে তাকালো মাইকেলের দিকে। তাকিয়েই সে চমকে উঠলো! মাইকেলের কোমরে গুজে রাখা উইলিয়ামের লোকেশন ডিভাইসটি। আর উইলিয়ামও নিশ্চিন্ত ভাবে দাঁড়িয়ে আছে, যেন সবই স্বাভাবিক। আবার মি. ওসবর্নও কাউকে না জানিয়ে চোরের মতো বাড়ি চলে গেছে। ফারাবী যা বুঝার বুঝে গেল, ভ্রু কুচকে চোখ তুলে তাকালো মাইকেলের দিকে। নিচু স্বরে বলল, "মাইকেল! তোমার আসল পরিচয় আমি বুঝে গিয়েছি!" ফারাবীর কথা শুনেই মাইকেলের হাসি বন্ধ হয়ে গেল। অবাক হয়ে ফারাবীর দিকে পেছন ফিরে তাকালো সবাই। ফারাবী পুনরায় বলল, "তোমরা হয়তো বুঝতে পারোনি এখনো, যে এই সব দামী দামী জিনিস চুরি করে বেড়ায় সে উইলিয়াম সাহেব!"

"কি!"

ফারাবীর মুখে এই কথা শুনে অবাক হলো সবাই। সানজু বলল, "কিন্তু উইলিয়াম সাহেব তো এখানেই আছেন?"

"এ উইলিয়াম সাহেব নন। যখন চোর আসে তখন উইলিয়াম সাহেবের কথা অনুযায়ী তিনি চিত্র ঘরে ছিলেন, তবে মি.ওসবর্ন আমায় বলেছিলেন উইলিয়াম সাহেব থাকবেন এই ঘরেই।" ফারাবী বলল

"বুঝতে পারছি না ভাই, কি বলছিস?" তুষিত বলল

"মাইকেল নিজেই তার প্রমাণ।"

এই বলে লোকেশন ডিভাইসটির দিকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে ফারাবী বলল, "যদি আমি ভুল না হই তাহলে এটা নিশ্চয়ই উইলিয়াম সাহেবের লোকেশন ডিভাইস। এটা মাইকেলের কাছে কিভাবে এলো? আর মি. ওসবর্ণ ভালো করেই জানেন এখন সকলেই পুলিশের সন্দেহ রয়েছে, তারপরও কেন চোরের মতো কাউকে না জানিয়েই বাড়ি চলে যাবেন? অর্থাৎ মি. ওসবর্ণ, উইলিয়াম ও মাইকেল এল্ট্রো এই তিনজন একইদলের, এবং যে এই মিউজিয়ামে চুরি করে বেড়ায় সে উইলিয়াম সাহেবই!"

ফারাবীর এমন কথায় চমকে গেল মাইকেলও। ইন্সপেক্টর আকিব অবাক হয়ে বললেন, "তাহলে, এখানে যে উইলিয়াম আছে সে কে?"

"সবকিছুর উত্তর এই উইলিয়ামই আমাদের দিবে। বলো কে তুমি!"

এই বলেই একটানে তার মুখোশ খুলে নিল ফারাবী। চেহারা দেখে সবার চোখ যেন কপালে, উইলিয়ামের চেহারার মুখোশ সরে যেতেই বেরিয়ে এসেছে মি.ওসবর্নের চেহারা!

"মি. ওসবর্ন!" দিবা অবাক হয়ে বলল

"তার মানে, উইলিয়াম সাহেবই মাইকেল এল্ট্রো!" সানজু বলল

"উইলিয়াম সাহেব, কেন করলেন আপনি এগুলো?" মাইকেলের উদ্দেশে বলল ফারাবী

"তোমাদের ভুল হচ্ছে, আমি উইলিয়াম নই।" মাইকেল বলল

"উইলিয়াম সাহেব আমরা আপনাকে সম্মান করতাম, দয়া করে বলুন কে করেছেন!"

ফারাবীর কথায় মাইকেল অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে রইল, ধীরে ধীরে মুখোশটি খুলে ফেলে দিল নিচে। বেরিয়ে আসা উইলিয়ামের চেহারার দিকে সবাই চেয়ে রইল সবাই। উইলিয়াম বলতে শুরু করলেন,

"আমি তখন মিউজিয়ামটি খুলেছি প্রায় বিশ বছর, বিভিন্ন দামী জিনিস দেখে লোভ সামলাতে পারিনি। তবে আমার টাকা কম ছিল তাও নয়। তবুও, আলাদা একটি লোভ হয়ে পড়ে মাইকেল এল্ট্রোর চুরির কৌশলগুলো শুনে। আমি তার মতোই পোষাক তৈরি করলাম, সাথে মুখোশও। তার কৌশল মতো চুরির আগেই চিঠি দিতাম, এবং বারোটা বাজলেই মেইন সুইচ অফ করে সবার মাঝে থেকেই জিনিসটি সরিয়ে নিতাম। মুখোশ থাকতো বলে কেউ টের পেত না। জিনিসগুলো বিক্রি করে ভেবেছিলাম আরো কোটি পতি হবো। তবে কোথা থেকে তোমরা এসে আমার সব পরিকল্পনা নষ্ট করে ছাড়লে!"

বলেই হাতের পিঠ দিয়ে চোখ মুছলো উইলিয়াম, ইন্সপেক্টর আকিব ইতিমধ্যেই কন্সটেবলদের ওয়্যারলেসের মাধ্যমে চিত্র ঘরে পৌঁছাতে বলেছে।ফারাবী কয়েক পা এগিয়ে বলল, "অর্থাৎ মি. ওসবর্ন আপনাকে এসব কাজেও সাহায্য করতো?"

"হ্যাঁ, চুরির সময় ওসবর্ন আমার চেহারা দ্বারা তৈরি মুখোশ পড়ে থাকতো। এবং আমি থাকতাম মাইকেল এল্ট্রোর রূপে।" উইলিয়াম উত্তর দিলেন

"তবে আপনি বন্ধ ঘরেও চুরি করতেন কিভাবে?" সানজু বলল

"মাইকেল এল্ট্রো এক ধরণের চাবি তৈরি করেছিল, যার মাধ্যমে যেকোনো তালা নিমিষেই খোলা সম্ভব। সেটা আমিও তৈরি করেছিলাম।"

উইলিয়াম তার পকেট থেকে একটি চাবি বের করে দেখালেন। সরু ও চিকন একটি চাবি। এমন সময় ঘরে এসে প্রবেশ করলো তিনজন পুলিশ কন্সটেবল। ইন্সপেক্টর আকিব তাদের উইলিয়াম ও মি. ওসবর্নকে গ্রেফতার করার হুকুম দেয়। গ্রেফতার করা হয় দুজনকে। সবার সামনে দিয়ে তাদের নিয়ে যায় পুলিশ। অবাক হয়ে দরজার দিকে চেয়ে থাকে ফারাবী, দিবা, সানজু, তুষিত ও আবিদ।

পরদিন।
সাফিওকে বিদায় দিতে উপস্থিত হয়েছে অনেকে। গাড়িও অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। মি. উইল এগিয়ে ফারাবীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে বললেন, "তোমাদের ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবো না। অনেক সাহায্য করেছো আমাদের।"

"এটা আমাদের ডিউটি ছিল মি. উইল।" মুচকি হাসলো ফারাবী

"কিন্তু মিউজিয়ামটির কি হবে?" দিবা বলল

"এটা বন্ধ করে দেওয়া হবে।" ইন্সপেক্টর আকিব বললেন

"অর্থাৎ আসল মাইকেল এল্ট্রোর কয়েন চুরির কারণে যেভাবে মিউজিয়াম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, ঠিক সেভাবে!" তুষিত বলল

"উইলিয়াম চোর হতে পারে কিন্তু মানুষ খারাপ নন, সানজুকে তিনিই খুঁজে বের করেছিলেন।" আবিদ বলল

"আমি নিজেই আসতে পারতাম হুহ!" সানজু বলল

"যাইহোক অবশেষে নিজের ডিবাইসের কারণেই সে ধরা পড়লো।"

ফারাবীর কথা শুনে হেসে উঠলো সানজু, হেসে উঠলো উপস্থিত সবাই।

বাস ছেড়ে দিয়েছে। হাত নেড়ে বিদা। জানাচ্ছে সবাই। দেখতে দেখতেই ইমুলু টাউন পেছনে কোথাও হারিয়ে গেল। থেকে গেল শুধু সরু রাস্তা, দুপাশের সারি সারি গাছগাছালি। কেউ জানেনা, সাফিওর দ্বিতীয় কেস কতটা ভয়ানক ও রহস্যময় হতে পারে।

সমাপ্ত

লেখা - ফারহান আহমেদ ফারাবী

Post a Comment

0 Comments