গল্প-স্বপ্নচারিতা - জীবনে এসবই যথেষ্ট - কষ্ট তার ওদের জন্য। (জীবনের গল্প)


গল্প-স্বপ্নচারিতা - জীবনে এসবই যথেষ্ট - কষ্ট তার ওদের জন্য। জীবনের গল্প, গল্পের লিংক, গল্প পোকা বাংলিশ, গল্প হলেও সত্যি, গল্পগুলো অন্যরকম, গল্প বলি, গল্প কবিতা, গল্প অভিযোগ, গল্প অবশেষে তুমি আমার, গল্প অবহেলা জীবন, গল্প অবহেলিত জীবন, গল্প অপেক্ষা, গল্প আরব্য রজনী, গল্প ইসলামিক, গল্প ইসলামীক, ইসলামিক গল্প, গল্প ইসলামের, ইসলামিক গল্প ও কাহিনী, গল্প একজন অচেনা মানুষ, গল্প একতাই বল, ঐতিহাসিক গল্প, গল্প খারাপ, গল্প খুব, গল্প খবর
গল্প-স্বপ্নচারিতা - জীবনে এসবই যথেষ্ট - কষ্ট তার ওদের জন্য। জীবনের গল্প

গুনগুন করে সমুধুর কন্ঠে কুরআনের তিলাওয়াত করছিলো মেয়েটি। ঘড়িতে তখন রাত ৩ টা। কাজিন বোনটির ভ্রু জোড়া কুচকে এপাশ থেকে ওপাশ হয়ে যেনো বিরক্তি প্রকাশ করলো। টুপ করে কুরআনটা বন্ধ করে জানালার সারি সারি লম্বা শিকে মুখটা চেপে ধরে চোখ দুটো দিয়ে অাকাশে দৃষ্টি মেলে তাকালো মেয়েটি। ভাবছে ইশ প্রিয় আপুটা শেষ রাত্রিরে রবের সান্নিধ্য থেকে কিভাবে নিজেকে নিভৃত রেখেছে। এই সময়টা রব কত কাছেই না ডাকেন। 

পরদিন আপুটা বলেছিলেন। জারিন! তুমিতো ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ো৷ আবার গভীর রাতে নামাজ না পড়লে হয় না? মৃদু হেসে জারিন বলেছিলো জানো আপু কুরআনে আল্লাহ কত সুন্দর করেই না বলেছেন, 

‘‘রাতের সামান্য পরিমাণ তাঁরা (মু'মিনরা) নিদ্রারত থাকেন, শেষ রাতে তাঁরা ইসতিগফার করেন।’’ [সূরাহ্ আয্-যারিয়াত ৫১/১৮]

হাদীসেও বলা হয়েছে, আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহামহিম আল্লাহ্ তা‘আলা প্রতি রাতে রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেনঃ কে আছে এমন, যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছে এমন যে, আমার নিকট চাইবে? আমি তাকে তা দিব। কে আছে এমন আমার নিকট ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব। [মুসলিম ৬/২৩, হাঃ ৭৫৮, আহমাদ ৭৫৯৫, আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১০৭৯]

কাজিন বোনটা আর প্রতিউত্তর করেনি।

ঝিম ধরা দুপুর আর শান্ত বিকেল গুলোতে আকাশে মেঘের আনাগোনা দেখে জারিন।
জানালার সারি সারি লম্বা শিকে মুখটা চেপে ধরে চোখ দুটো দিয়ে অাকাশে দৃষ্টির ডানা মেলে ওড়ে সে। উড়ু উড়ু দৃষ্টিতে কখনো মেঘ, কখনো ঝলকে ওঠা রোদের বাহু ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায় তার অনুভূতিরা।

আবার ঐ আকাশটিতেই দুচোখ রেখে মুখে উপচে পড়া হাসির বানে ভাসতে থাকে সে, কখনো দুচোখ বেয়ে নেয়ামতের কৃতজ্ঞতার জন্য গড়িয়ে পড়া টুপটুপ জলে স্নান করে ম্লান হয়ে আসে ওর উপচে পড়া হাসির সৌন্দর্য।

মানুষের সাথে সম্পর্কের বাইরে সবটুকু সম্পর্ক ওর আকাশকে ঘিরে। উহু! শুধু আকাশকে ঘিরে না। আকাশের ঐ রবকে ঘিরে। ঐ আকাশের দিকে তাকিয়েই সে ফিসফিসিয়ে বলে " জানো আকাশ! তোমার আমার স্রষ্টা কিন্তু একজনই! তোমাকে যিনি বানিয়েছেন আমাকেও কিন্তু তিনিই বানিয়েছেন। তোমার আমার দেখো কত মিল! "

এক সন্ধ্যারাতের শেষে সে ছাদের উপরের শানবাঁধানো গোল জায়গাটিতে শুয়ে পড়ে। মুখ তার আকাশের দিকে ফেরানো। হাজারটা তারা আর একটি চাঁদ কি সুন্দর জ্বলজ্বল করছে ধূসর আকাশটার বুকে!

হঠাৎ তার দৃষ্টির সম্মুখে তীর বেগে ছুটে যায় একটি দলছুট তারা। মেয়েটির চোখ দুটো গোল গোল হয়ে আসে, সে মুচকি হাসে। উপচে পড়া হাসিতে তার দুচোখের নিচের চামড়ায় অদ্ভুত সুন্দর কয়েকটি ভাঁজ পড়ে। পাশে বসে থাকা বড় আপু জিজ্ঞেস করে "হাসছো কেন?"
মেয়েটি জবাব দেয় "আকাশে একটি তারা ছুটে গেল মাত্র!"
বড় আপুও মুচকি হাসে। বলে "যাও পড়তে বসো, সামনে ইন্টারমেডিয়েট ফাইনাল এক্সাম তোমার।"

এরপর কেটে যায় একটি বছর। মেয়েটির আকাশ আর তার রবের সাথে সম্পর্ক গাঁঢ় থেকে গাঁঢ়তর হয়। নিয়মিত গভীর রাতে জেগে তাহাজ্জুদ আর রাতের নিরবতার শব্দ শুনতে শুনতে মেয়েটি হারিয়ে যায় প্রকৃতির অকৃপণ সৌন্দর্যের মাঝে, রবের দেয়া অনাবিল প্রশান্তিতে। 

এই তো কটা দিন পর মেয়েটি বড়সড় কোন প্রতিষ্ঠানে পা রাখবে। অন্তত মেয়েটি তেমনই স্বপ্ন দেখে। কেমন হবে সেই অনাগত দিনগুলো? অনাগতের তরে স্বপ্ন বুনে বুনে, লক্ষ্যের পানে এক সুদৃঢ় দৃষ্টি নিবন্ধ করে তার সময়গুলো অতিবাহিত হয়।

তারপরের রাতগুলো তার কাছে আসে আরো মোহময় ছন্দে, ভালোলাগার নিক্কণে সে রাতের গভীরতায় হারিয়ে যায়।

রাত বিরাতে ঘুম ভেঙে গেলে সে উঠে দাঁড়ায়,  বাইরে পূর্ণিমার আলোয় উদ্ভাসিত উঠোনে কয়েক মিনিট পায়চারি করে, মাথা তুলে চাঁদটির দিকে তাকায় আর বিমোহিত হয়।

এরপর এক পা দু'পা করে ওয়াশ রুমের দিকে এগোয়। পানির কলটা ছেড়ে দু'হাত, মুখ, দু'পা ভিজিয়ে অযু করে। রুমে এসে জায়নামাজটা টেনে নিয়ে দুরাকাত সালাতের জন্য সে প্রভুর সামনে দাঁড়িয়ে যায়।

মেয়েটির রুমে টিমটিম করে জ্বলতে থাকা বৈদ্যুতিক আলো খোলা জানালা গলিয়ে বারান্দায়ও উপচে পড়ে। কাজিন বোনটি  বিরক্তিতে আবার ভ্রু কুচকিয়ে আবার ঘুমে ঢলে পড়ে। অন্যদিকে মেয়েটি সিজদাবনত। এভাবে গভীর রাতগুলো মেয়েটির জন্য রহমত হয়ে আসে, এর নিরবতায় মেয়েটি একটি সত্তাকে খুঁজে ফেরে। একটু কাছাকাছি হতে চায় সেই সত্তার, একটু ভালোবাসতে চায় সেই অদেখাকে, একটু অনুভব করতে চায় একজন অন্তর্যামীকে!

এরপর মেয়েটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেয়ে যায়। একজন ফ্রেশার হিসেবে সে পা রাখে বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গনে। প্রথম ক্লাসে সিনিয়রদের র্যাগিং পর্ব চলে। ক্লাস ঢুকে তারা ফ্রেশার রিসেপশনের নামে একেকজকে নাজেহাল করে ছাড়ে। কাউকে দিয়ে নাচিয়ে নেয়, কাউকে কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখে। এসব দেখে মেয়েটি ভড়কে যায়। এরপর বড়দের পক্ষ থেকে স্টেজে ডাক পড়ে সেই মেয়েটির। নিকাবে আবৃত মেয়েটি এগিয়ে যায়, ভেতরে অপমানিত হওয়ার শঙ্কা জাগে তার। তবুও দৃঢ় পায়ে এগিয়ে যায় সে। সিনিয়রদের মাঝে গিয়ে দাঁড়ায়। কয়েকজন সিনিয়র মেয়ে মেয়েটির চারপাশে। মেয়েটি কুঁকড়ে জড়সড় হয়ে যায়।

মনে মনে,
 ﻵ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﺃَﻧْﺖَ ﺳُﺒْﺤَﺎﻧَﻚَ ﺇِﻧِّﻲْ ﻛُﻨْﺖُ ﻣِﻦ
َ ﺍﻟﻈَّﺎﻟِﻤِﻴْﻦَ
 ‘লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহা-নাকা ইন্নী কুনতু মিনায যোয়া-লিমীন’। দু'আ টা আওড়িয়ে যাচ্ছে।

মেয়েটিকে অবাক করে দিয়ে পেছন থেকে একজন বড় আপু বলে ওঠে "তুমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়? "

মেয়েটি হ্যাঁ বোধক জবাব দেয়। তারপর মেয়েটির পছন্দ অনুসারে কিছু একটা পারফর্ম করতে বলে সিনিয়ররা। মেয়েটি তার প্রিয় একটি কবিতার কয়েকটি ছত্রক তার সামনে উপবিষ্ট ক্লাসমেটদের শোনায়। নাহ্! মেয়েটি র্যাগিংয়ের শিকার হয়নি, বরং বড়দের কাছ থেকে যা পেয়েছে তা সম্মান ও স্নেহ।
জোহরের সালাত আদায়ে মেয়েটিকে বের হয়ে আসতে দেয় বড়রা। হাতে তুলে দেয় ফুল সহ অন্যান্য অনুষঙ্গ।
মেয়েটি ক্লাসে আসে- যায়, গড্ডালিকাপ্রবাহে গা না ভাসিয়েই।

বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেই অনেকে অনেক রকম সম্পর্কের দিকে ঝুঁকে পড়ে। মেয়েটিও একটি সম্পর্কের দিকে ঝুঁকে পড়ে। সেটি তার রবের সাথে সম্পর্ক, সেই বন্ধনকে সে সর্বাধিক গুরুত্বের সাথে দেখে।

একদিন বইয়ের ভাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র এক ভাইয়ের থেকে ভালোবাসার আকুতি মাখা চিঠি পেয়েছিলো। নিকাবের ফাকে শুধু চোখ দেখে, তার এটিচিউট দেখেই নাকি ভালো লেগেছিলো। একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়েছিলো জারিন।

স্মরণ করে দিয়েছিলো আল্লাহর কড়া নির্দেশনা, "তোমরা যেনার নিকটবর্তী হইয়োও না। এটা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট পথ।" [সূরা বনী ইসরাইল : ৩২]

এভাবে একে একে কেটে যায় ওর জীবনের একেকটি দিন। আকাশে তারকাদের চিনে নিতে নিতে কেটে যায় অনেকগুলো সন্ধ্যা।

অরাজকতা আর অনাচারের এই তথাকথিত অাধুনিকতার নাগপাশে সে বন্দী হতে দেখেছে অনেকগুলো প্রদীপ্ত অন্তরকে। মেয়েটির চোখের সামনে ঝরে গেছে অনেকগুলো প্রস্ফুটিত ফুল। এই যুগের ঘূর্ণিপাকে হারিয়ে গেছে অনেকগুলো ঈমান। সবকিছু প্রত্যক্ষ করে মেয়েটি বিমূঢ় হয়ে কেঁদেছে, দুচোখ লাল করে তুলেছে সিজদার অশ্রুতে, ক্রন্দনে।
পৃথিবীর জটিলতা আর কুটিলতা, চারপাশের অসঙ্গতি আর অরাজকতা মেয়েটিকে করে তুলেছে নীরব প্রার্থনাকারী। সে প্রার্থনা করে এবং পরিবর্তন ঘটানোর স্বপ্ন দেখে।

একদিন ভাইভা দিতে ম্যামের চেম্বারে প্রবেশ করে সে। ম্যামের সম্মুখের টেবিলের সামনে বসে পড়ে ও। ম্যাম বলে ওঠেন-
" জারিন! আপনি কি জানেন আপনি এই ক্লাসের আর দশজনের থেকে অন্যরকম একজন? "

মেয়েটি বোবা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।
ম্যাম বলে চলেন -" অবশ্যই আপনাকে ইসলাম মানতে হবে। আখিরাতের সাথে সাথে দুনিয়ার অর্জনেও সচেষ্ট হতে হবে। "
মেয়েটি এমন সব অনুপ্রেরণায় এগিয়ে যায়, এগিয়ে চলে। সারাদিনের দায়িত্ব পালন শেষে তার দুচোখ আকাশে স্থির হয়, সে দিন দিন এগিয়ে চলে আকাশের মতো এক বিশালতার দিকে।

ম্যাম জিজ্ঞেস করেন -" পর্দার বিধানটি কুরআনের কোথায় বলা আছে, বলতে পারবেন? "
মেয়েটি চট করে উত্তর দেয় "সূরা নূরে, সূরা আহযাবে ম্যাম।"
ম্যাম আবার প্রশ্ন করেন - "বলতে পারবেন কত নং আয়াত?"
মেয়েটি বলে ওঠে -" সূরা নুরের ৩১ থেকে ৩৫ নং আয়াত এবং সূরা আহযাবের ৫৯ নং আয়াত।"
ম্যাম মেয়েটির নিকাব দেখে ভ্রু কুচকান না, যেমনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সচরাচর হয়ে থাকে।
বিপরীতে ম্যাম বলে ওঠেন "All the best!"

ভাইভা দিয়ে জারিন প্রশান্তির হাসি হেসে ভাবছিলো কেউ হারাম থেকে বাঁচার জন্য,আল্লাহর পথে আসার জন্য, গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করেন।

হাদিসে এসেছে – "কেউ আল্লাহর দিকে আসার জন্য এক বিঘত অগ্রসর হলে তিনি তার দিকে এক হাত এগিয়ে আসেন। কেউ এক হাত আসলে তিনি দু'হাত এগিয়ে আসেন। কেউ আল্লাহর দিকে হেঁটে আসলে তিনি তাঁর দিকে দৌড়ে যান।" [ইবনু মাজাহ, হাদিস নং ২১৪৪। (হাদিসটি – সহিহ)]

শুধু জানার মাঝেই জ্ঞানের স্বার্থকতা নয়, এটি ধারণ করা ও ছড়িয়ে দেয়ার মাঝেই মেয়েটি তৃপ্তি অনুভব করে।
ক্লাসমেটদের পর্দাকে উৎসাহিত করে।

মেয়েটি যখন স্কুলে নবম শ্রেণীতে পড়তো তখন তার বোরকা পড়ায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বোরকাকে স্কুল ড্রেস হিসেবে নিয়েছিল তার ১০ জন সহপাঠী।
এখন এই বড়বেলায় অনেকের অনুপ্রেরণা হতে বড্ড পরিক্বর।

ঝিম ধরা দুপুর গড়িয়ে বিকেল যখন আসে মেয়েটি বেলকনিতে চেয়ার টেনে বসে। হাতে থাকে একটি বই অথবা পবিত্র কুরআন। নিবিষ্ট চিত্তে সে অধ্যয়ন করে। যাবতীয় অপ্রয়োজন থেকে সে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতেই পছন্দ করে।

সন্ধ্যায় মুয়াজ্জিনের আজানের শব্দে সে উঠে দাঁড়ায় জায়নামাজে। রাতের আবছা অন্ধকারে মেয়েটিকে দূর আকাশ পানে তাকিয়ে কাঁদতে দেখা যায়। প্রশ্ন জাগছে তাই না যে মেয়েটি ভালোর সঙ্গে বাস করে সে মেয়েটির দুঃখবোধ থাকতে পারে কিসের?

তাহলে শুনুন, এই যে জগতের সবগুলো অসঙ্গতি, অনাচার, দূরে মধ্যপ্রাচ্যের জনপদে জনপদে অনাহারক্লিষ্ট মুখ, ফিলিস্তিনের দুঃখ, আমার প্রতিবেশীর কষ্ট, পাশের বাড়ির কলহ এসবই দেখে কান্না আসে। সহ্য করতে পারিনা। ওদের জন্য যে কিছু করবো তার ও তো সাধ্য আমার নেই! "

মেয়েটির নিজের জীবন নিয়ে কোন দুঃখবোধ নেই। দুমুঠো খেতে পারছে, মাথার উপরে একটি ছাঁদ আছে, পরিধেয় বস্ত্র আছে -- জীবনে এসবই যথেষ্ট । কষ্ট তার ওদের জন্য।
সর্বোপরি আলহামদুলিল্লাহ।

আচ্ছা ঐ মেয়েটিকে দেখে কি সবচেয়ে উদ্যমি ও সংগ্রামী মেয়ে হিসেবে মনে হয় না। আর স্বপ্নে ধারণ করতে ইচ্ছে করেনা এমন একটি রূপকে, সেই রূপের বাস্তবায়নে শান্তির পসরা সাজিয়ে ফেরি করতে ইচ্ছে জাগেনা, জারিনের মতো করে।

লেখা: জেবা ফারিহা

Tags: গল্প- স্বপ্নচারিতা
Tags: জীবনের গল্প

Post a Comment

0 Comments