গল্প মায়া ও ভালোবাসা ৬ষ্ঠ শেষ পর্ব - ভালোবাসার মায়া এতো কষ্ট কেনো Jiboner Golpo? bangla sad Story


পৃথু আমার ডাকে সাড়া দিলো না। ভয়ে তখন আমার ভেতরটা কেমন হিম হয়ে এলো। বিছানা থেকে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে খাটের কোনায় লেগে মাথায় এমন ব‍্যাথা  পেলাম ! মাথায় একটা হাত চেপে ধরে বিছানা থেকে নামতেই মনে হলো আমি মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যাচ্ছি। 

হাঁটতে সামনে পা বাড়িয়েছি কিন্তু পা মোটেও চলছে না।শরীর থরথর করে কাঁপছে। সারা শরীর গুলিয়ে বমি আসতে চাইছে। কিন্তু বমি হচ্ছে না। আমি এখন কীভাবে রান্নাঘর পর্যন্ত হেঁটে যাবো? আমি চিৎকার করে ডাকলাম আবার পৃথুকে।

'পৃথু, পৃথু বোন আমার তোর কী হয়েছে? তুই এখানে নাই? শব্দ হলো কিসের? পৃথু ওই কুকুরটা কী তোকে ধরে ফেলেছে?' কিন্তু আমার চিৎকার আমার মুখ থেকে বেরিয়ে দূরে আর গেলো না। আমি বিছানায় হেলে পড়লাম। আমার শরীর ঘামছে। প্রচন্ড রকম ঘামছে। কী করবো এখন আমি?কী করবো আমি? মনে মনে আল্লাহকে ডাকছি।

'আল্লাহ, আল্লাহ গো আমার বোনকে তুমি রক্ষা করো। তুমি ছাড়া আর কেউ নাই আমাদের!' আমি কাঁদছি। কাঁদতে কাঁদতে আবার বিছানা থেকে শরীরের সবটুকু শক্তি দিয়ে নিজেকে টেনে তুললাম। তারপর ঢলতে ঢলতে রান্নাঘরের দরজার কাছে গিয়েই দেখি ভয়ংকর দৃশ‍্যটি।

নাঈম দু' ভাগ হয়ে পড়ে আছে রান্না ঘরের মেঝেতে। কাঁধ থেকে নীচের সবটা দেহ আলাদা হয়ে আছে মাথা থেকে।আর পৃথু এক কোনায় দেয়ালে ঠেস দিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে বসে আছে।

আর খুলে ফেলা জামাটা বুকে জড়িয়ে ধরে আছে। তার চোখ দিয়ে টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে। এবার আমার হড়হড় করে বমি শুরু হলো।বমি করতে করতেই আমার নাভীতে এক হাতে চেপে ধরে ও পাশে তাকাতেই দেখি আম্মা দাঁড়িয়ে আছেন।তার হাতে তরকারি কুটার বঁটি। সেই বঁটি থেকে টপটপ করে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে মাটিতে। আর তিনি তখনও রাগে ফুঁসছেন বিষাক্ত নাগিনীর মতো। আমি প্রচন্ড ভয়ে তখন চিৎকার করে উঠলাম।

আম্মা হেঁটে হেঁটে আসলেন আমার কাছে। তারপর হাতের বঁটিটা মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলে  আমার গালে ঠাস করে দু দুটো চড় বসিয়ে দিয়ে বললেন, 'মেয়ে মানুষ হইলেই ভীতু হওন লাগবো আর স্বামীর সবকিছু সহ্য কইরা স্বামীর দোষ গোপন রাখন লাগবো এইটা কোন শাস্ত্রের কথা? যেই পুরুষ বইনের মতন একটা মাইয়ার শইল‍্যে হাত লাগায়, জোর কইরা ইজ্জত মারে সেই পুরুষ আসলে কোন পুরুষ না। 

সেই পুরুষ হইলো কাপুরুষ। নষ্ট পুরুষ। এই কাপুরুষ আমার ছেড়া এইটা ভাবতেই আমার ঘিন্না লাগতাছে। আমি যদি এর জন্মের সময় জানতাম আমার সন্তান বড় হইয়া তার মা জাতীরে ধর্ষণ করবো, ইজ্জত নষ্ট করবো তাইলে আমি ওরে জন্মের পরেই গলা টিইপা মারতাম!' আমি কাঁদছি। প্রচন্ড রকম ভাবে কাঁদছি। 

একজন আদর্শবান মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে কাঁদছি। আম্মা তখন আমার কাছ থেকে গিয়ে পৃথুকে টেনে তুললেন। তারপর তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন, 'তোরা ভয় পাইয়া, লজ্জা পাইয়া আমার কাছে সবকিছু লুকাইছস? কেনো লুকাইছিলি মা? আমি তো এমনিতেই সবকিছু জাইনা গেছি। 

সন্তানেরা ভাবে মা বুঝি কিছুই টের পায় না। কিন্তু সন্তানরা এইটা জানে না যে আন্ধাইর রাইতের বেলা সন্তান যহন ঘুমাইয়া থাকে তহন তার গায়ে একটা মশা বসলেও সেই মা টের পাইয়া যায়। ঘুমে থাকলেও লাফ মাইরা মা জায়গা উঠে। তারপর মশা মাইরা সন্তানের গায়ে হাত বুলাইয়া দেয়। আমি মা। তোদের দুইজনের মা।আমার চোউখ কেমুন কইরা এড়াইয়া যাইবি তোরা? তোদের সব কথাই তো আমি শুনছি। 

তোরা ফিসফিস কইরা কইছস কিন্তু সেই কথা আমার কানে আইসা ঠিকই বাজছে। আর আমি তহন থাইকাই সুযোগের অপেক্ষা করছি। এক নারীর সম্ভ্রম রক্ষা করার লাইগা আরেক নারী তার পাপী সন্তানরেও  খুন করতে পারে এইরকম মানসিকতা প্রত‍্যেক নারীর হওন  উচিৎ। আমি জানি নিজের হাতে আইন তুলে নেওন ভালা না। কিন্তু যেই দেশের আইন- বিচারের উপর নারীর ভরসা নাই সেই আইন বিচারের জন্য অপেক্ষা কইরা তো আমি আমার দুই মাইয়া আর এক নাতীরে মৃত্যুর মুখে ঠেইলা দিতে পারি না।

এইডা ঠিক আমি খুন করছি অপরাধ করছি।এর জন্য পুলিশ আমারে হাজতে নিবো। আমার ফাঁসি হইবো। কিন্তু এই ফাঁসির জন্য আমার কোন দুঃখ‌ নাই। আমি তো পৃথিবীর মাঝে একটা নজির দেখাইয়া গেলাম। নারী জাতীর বুকে সাহস জাগাইয়া গেলাম।সব নারী তো আর আমার কথা শুনবো না। শুনতে পাইবি শুধু তোরা দুইজন। শোন, শুইনা রাখ আমার দুইডা কথা।

১-নারী হইয়া জন্ম নেওন কোন পাপ না। পাপ হইলো কারোর অত‍্যাচার সহ‍্য করা। এহন থাইকা কোন কুলাঙ্গার পুরুষ যদি তোদের দিকে হাত বাড়ায় তাইলে সেই হাত বঁটি দিয়া কাইটা ফেলবি। চিৎকার কইরা মানুষের কাছে জানান দিবি, এই শালা গুন্ডা, লম্পট। মা জাতীর দিকে ও হাত বাড়ায়।

২-পুরুষ মানুষ ভালো বাসলে তার লাইগা জীবন দিয়া দিবি। কিন্তু অত‍্যাচার করলে মুখ বুইজা সহ‍্য করবি না। সরাসরি আইনের কাছে যাইবি।আইন যদি তোরে আশ্রয় না দেয় তাইলে নিজেই আইন নিজে তৈরি কইরা নিবি। 

মনে রাখবি,যেই দেশের আইন তার নাগরিকের কাজে লাগে না সেই আইন সচল না অচল। এই অচল আইনের পাছায় লাত্থি দিয়া তারে সচল করতে হইবো।কী পারবি না? আমি আর পৃথু আম্মার মুখের দিকে তাকিয়ে আছি চাতক পাখির মতো। যেন তার মুখ দেখার জন্য আমরা কত যুগ যুগ ধরে ব‍্যাকুল হয়ে আছি। চিরদিন তাকিয়ে থেকেও যেন এ দেখা আমাদের শেষ হবে না!

কিন্তু হায় নির্মম ভাগ্য! একটু পরই তো এই মা আমাদের সামনে আর থাকবে না। থাকবে অন্ধকার কারাগারের বদ্ধ কুঠুরির ভেতর। কিন্তু এমনও তো হতে পারে যে অন্ধকার জেলখানা আলোকিত করে আমাদের মা আমাদের কাছে ফিরে আসবে। 

তারপর সে তার সেই আলোর জ‍্যোতি দিয়ে সারাদেশ আর সারা পৃথিবী‌ আলো ঝলমলে করে তুলবে! আমার মনে হয় সত‍্যি সত‍্যি পারবে। যারা সত‍্য এবং সুন্দরের জন্য নিজেদের উৎসর্গ করে তারা কোনদিন ব‍্যার্থ হয় না। তারা কোনদিন পৃথিবীর ইতিহাস থেকে মুছে যায় না।

-- সমাপ্ত --

(নিজের হাতে কখনই আইন তুলে নেয়া যাবে না। কিন্তু প্রতিবাদ করতে হবে। বাংলাদেশে বর্তমান  সময়ের সবচেয়ে ভয়ানক সমস‍্যার নাম ধর্ষণ।ধর্ষণের শাস্তি একমাত্র মৃত্যুদণ্ড এবং তা বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খুব শীঘ্রই কার্যকর হলেই ভয়ে অন‍্য নারী খেকো গুলো লেজ গুটিয়ে পালাবে।

আর সবচেয়ে বড় কথা হলো আমাদেরকে পুরুষ-নারীর চেয়ে বেশি করে মানুষ হতে হবে। যেন আমাদের পুরুষ মনের মাঝে কোন নারীকে দেখে কখনো এমন মনে না হয়,আরে এতো নারী,নারী হলো দূর্বল। একে কাবু করা তো কোন ব‍্যাপারই না। বরং আমাদের এমন ভাবতে হবে যে,এতো নারী,নারী তো মা। যে মা আমায় তার পেটে ধারণ করেছিলেন। যেই মায়ের পায়ের নীচে আমার বেহেস্ত। আহা! আমি তো আমার বেহেস্ত অত হেলায় নষ্ট করে দিতে পারি না!)

  • বন্ধ হোক ধর্ষণ
  • ধর্ষকের একমাত্র শাস্তি হোক মৃত‍্যু‌দন্ড
  • ধর্ষক কারো সন্তান ভাই পিতা নয়
  • ধর্ষকের জন‍্য কোন ছাড় নেই
  • প্রতিবাদ করুন তীব্র প্রতিবাদ

লেখা: অনন্য শফিক

আমাদের অ্যাপ ফ্রি

Post a Comment

কমেন্টে স্প্যাম লিংক দেওয়া থেকে বিরত থাকুন

Previous Post Next Post