গল্প মায়াবতী - ১ম পর্ব - জীবনের কষ্টের গল্প মায়াবতী - সেরা ধারাবাহিক বাংলা জীবনের গল্প
গল্প মায়াবতী - ১ম পর্ব - জীবনের কষ্টের গল্প মায়াবতী - সেরা ধারাবাহিক বাংলা জীবনের গল্প


আমার বিয়ের এক বছর পর হঠাৎ করে একদিন আমার বরের ছোট বোন নিতু আমায় আড়ালে ডেকে নিয়ে গিয়ে বললো, 'ভাবী, তুমি কিছু  মনে না করলে একটা কথা বলতে চাই আমি তোমার কাছে! 

আমি খানিক সময় চুপ থেকে বললাম, 'বল। কিছু মনে করবো না। নিতু বললো, 'তুমি কিন্তু শোনে অনেক কষ্ট পাবে! আমি বললাম, 'কষ্ট পেলে আমি পাবো। তুই বল। নিতু এবার বললো, 'ভাবী, ভাইয়ার সাথে না তোমার বোনের খারাপ সম্পর্ক আছে! 'মানে?' ভীষণ রকম চমকে উঠলাম আমি। নিতু কেঁপে কেঁপে উঠে বললো,'ভাইয়া জানলে আমায় মেরে ফেলবে কিন্তু। আমি গতকাল দেখেছি। 

তুমি তো মার সাথে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলে। আর আমার আর তোমার বোন পৃথুর স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পৃথু হঠাৎ বললো,তার নাকি মাথা ব্যথা। সে স্কুলে যাবে না। ভাইয়াও বললো পৃথু একা বাসায় থাকবে কী করে!তাই সেও আজ অফিস যাবে না। তারও নাকি শরীর খারাপ। অবশেষে আমি একাই পথ ধরলাম স্কুলের। কিন্তু কিছু পথ যাওয়ার পর মনে হলো অংক খাতা টেবিলের উপর রেখে এসেছি। ওই খাতায় আবার সেদিনের হোম ওয়ার্ক। তাই দৌড়ে আবার বাসায় ফিরলাম খাতাটা নিতে। 

কিন্তু ফিরে দেখি!
নিতু কথা শেষ না করেই চুপ হয়ে গেল।
আমি বললাম, 'বল প্লিজ!'
নিতু বললো, 'ভাইয়া আর পৃথু নোংরামি করছিলো। বিশ্বাস করো ভাবী ওদের শরীরে এক রত্তি কাপড় পর্যন্ত ছিল না। আমি সঙ্গে সঙ্গে নিতুর মুখে আমার হাত চেপে ধরে বললাম, 'প্লিজ চুপ কর তুই। আমি আর শুনতে পারছি না। 

নিতু অনেক ঘাবড়ে গেল।সে আমার হাতটা চেপে ধরে বললো, 'ভাবী, আল্লাহর দোহাই লাগে ভাইয়া কিংবা মা যেন কিছু না জানে। এরপর আমি পৃথুকে সাবধান করেছিলাম। কিন্তু পৃথু আমার কথা শুনেনি।সে এখনও ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ভাইয়ার সাথে ঘুরে বেড়ায় রিক্সা করে। সেদিন তো সিনেমাও দেখেছে দুজন একসাথে। আমি সেদিন বলেছি,আমি কিন্তু ভাবীর কাছে সব বলে দিবো। পৃথু তখন বললো,বলে দিলে তোমার ভাইয়া তখন আর তোমার রক্ষা রাখবে না। 

সেই ভয়ে অতদিন আমি চুপ করে থেকেছি।
নিতুকে আমি বললাম,'প্লিজ তুই যা এখন এখান থেকে।আর চুপ থাকিস প্লিজ!আর কেউ যেন কিছু না জানে এ বিষয়ে!'
নিতু বললো,'আচ্ছা ভাবী।'
বলে সে চুপচাপ আমার কাছ থেকে চলে গেল।
কিন্তু আমার কেন জানি মনে হচ্ছে নিতুর কথা সত্য নয়।কারণ নিতুর চেয়ে পৃথুর রেজাল্ট ভালো।এইটে পৃথুর গোল্ডেন এ প্লাস থাকলেও নিতুর মাত্র ফোর পয়েন্ট।পৃথু যদি এসব করেই বেড়াতো তবে তো ওর রেজাল্ট গোল্লায় নামার কথা ছিল! 

আমার কেন জানি মনে হচ্ছে কোন একটা জেদ মেটাতে চায় পৃথুর উপর নিতু। কিন্তু সেই জেদটা কী নিয়ে? তাছাড়া পৃথুকে আমি খুব ভালো করেই চিনি। এমন শান্ত শিষ্ট আরেকটি মেয়ে হয় না। আর সে তো জানে বাবা মা মারা যাওয়ার পর বোনের বাড়ি ছাড়া তার আর কোন আশ্রয় নাই।নিশ্চয় সে তার এই শেষ আশ্রয়স্থল নষ্ট করতে চাইবে না! 

পৃথুকে সে রাতে কিছু বলতে চেয়েও আমি বললাম না। ভাবলাম, একটা মিথ্যে বিষয় নিয়ে ওর মনে কষ্ট দেয়া ঠিক না। তাছাড়া মিতুল "আমার বর" শুনলেও তো খুব মন খারাপ করবে।হতে পারে এই একটা বিষয় নিয়ে আমার সংসারটাও ভেঙে খান খান হয়ে যেতে পারে।তাই আমি এই বিষয়টাকে একেবারে মাটি চাপা দিয়ে ফেললাম। 

এর সপ্তাহ খানেক পর আমার শাশুড়ি মাকে নিয়ে আবার ডাক্তারের কাছে গেলাম আমি চেকআপ করাতে। আমার প্র্যাগনেন্সির সাত মাস পাড় হয়েছে। মিতুল আজকাল আমার উপর খুব স্বতর্ক। গতকাল রাতে সে আমার হাত ধরে বললো, 'বৃষ্টি, তুমি কিন্তু একদম কাজ করবে না বুঝলে। আমি দেখেছি এখনও রান্না বান্না, কাপড় ধোয়া মুছা এইসব কিছু করো তুমি।এটা কিন্তু ঠিক না।পৃথু আছে, নিতু আছে, ওদেরকে বলবে। 

ওরা সবকিছু করবে। এমন শরীর নিয়ে কিছু করলে পরে যদি সমস্যা হয়!বিশ্বাস করো বৃষ্টি আমার খুব ভয় হয় তোমায় নিয়ে! আমি তখন আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠেছিলাম।মিতুলের একটা হাত তখন আমার বুকের উপর টেনে এনে মনে মনে ভাবলাম, ছিঃ! এমন ফেরেশতার মতো একটা মানুষকে নিয়ে কী মন্দ কথাটা আমার কাছে বললো নিতু! তাও আবার আপন ভাইকে নিয়ে! ছিঃ! 

চেকআপ করাতে বের হয়ে অর্ধেক রাস্তা গিয়ে মনে হলো একটা মস্ত ভুল হয়ে গেছে। গতবারের সব কাগজপত্র রেখে এসেছি সোকেশের ড্রয়ারে। তাই আবার ফিরতে হলো গাড়ি ঘুরিয়ে। গেটের কাছে এসে শাশুড়ি মাকে বললাম, 'আপনি বসে থাকুন গাড়িতে মা। 

আমি গিয়ে কাগজপত্র নিয়ে আসছি।'
মা বললেন,'ঠিক আছে।' আমি গাড়ি থেকে নেমে গেট পেরিয়ে ঘরে গিয়েই হতভম্ব হয়ে গেলাম।এ কী দেখছি আমি! ছিঃ! অবশেষে নিতুর কথাই সত্যি হলো। ঘরে ঢুকতেই দেখি পৃথুর সাথে এক বিছানায় মিতুল। ওদের শরীরে এক টুকরো কাপড় পর্যন্ত নাই। ছিঃ ছিঃ ছিঃ!
আমাকে দেখেই দুজন দুদিকে সড়ে গেল।
মিতুল বিছানা থেকে উঠে কাপড় ঠিক করতে করতে ওয়াশরুমের দিকে চলে গেল। 

আর পৃথু বিছানায় থাকা কাঁথাটা নিজের গায়ের উপর ভালো করে ছড়িয়ে দিয়ে মুখটা বালিশের বুকে গুঁজে দিয়ে চুপচাপ শুয়ে পড়লো। আমি আর এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি না। মাথা ঘুরছে। সবকিছু কেমন দুঃস্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। তবুও তো কাগজ পত্র নিয়ে গাড়িতে গিয়ে উঠতে হবে। মার সাথে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। মুখে মেকি হাসি ধরে রাখতে হবে। 

নয়তো যে মা প্রশ্ন করবেন কী হয়েছে তখন আমি কী উত্তর দিবো? তিনি যদি শুধু একবার জানতে পারেন পৃথু এমন একটা নোংরা কাজে জড়িত তবে তাকে আজকেই তিনি ঘাড় ধাক্কা দিয়ে এ বাড়ি থেকে বের করে দিবেন। তখন পৃথু কোথায় গিয়ে আশ্রয় নিবে? তাছাড়া আমাকেও যে তিনি পৃথুর সাথে এ বাড়ি থেকে বের করে দিবেন না তা কে বলতে পারবে?

একটা দুশ্চিন্তা আর চাপা ঘৃণায় মরে যেতে ইচ্ছে করছে আমার। তবুও নিজের শরীরটাকে অতি কষ্টে টেনে নিয়ে সোকেশের ড্রয়ার খুলে কাগজপত্র বের করে নিয়ে গেলাম গাড়ির কাছে। 

গাড়িতে উঠে এবার ডাক্তারের কাছে গেলাম।ডাক্তার চেকআপ করে হাসিমুখে জানালো, 'আপনি মেয়ে সন্তানের মা হতে যাচ্ছেন।' শুনে খুশিতে আমার শাশুড়ি আত্মহারা হয়ে উঠলেন। তার গলায় পরা স্বর্ণের যে চেইন‌ ছিল ডাক্তারের সামনেই তিনি গলা থেকে সেই চেইন খুলে আমার হাতে তুলে দিয়ে বললেন,'এই  চেইন দিয়ে আমার নাতনীর জন্য তুমি কানের ঝুমকা, নাকফুল,হাতের চুড়ি বানাইবা।' 

আমার চোখ দিয়ে টপটপ করে জল নেমে এলো তখন। না এটা আনন্দের কোন জল নয়।একটা চাপা দুশ্চিন্তার। এই যে অনাগত কন্যা আমার পেটে।সে যখন ভূমিষ্ঠ হয়ে  জানবে তার পিতা একটা পাপিষ্ঠ তখন কেমন হবে? 

আমার শাশুড়ি আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন,'কী গো মা কন্যা সন্তান হবে শুনে তুমি কী খুশি হও নাই?'
আমি কান্নামাখা গলায় বললাম,'খুশি হয়েছি মা। অনেক খুশি হয়েছি।'
'তাহলে কাঁদছো কেন এভাবে?'
'খুশিতে মা।খুশিতে কাঁদছি!'
আমার শাশুড়ি তখন আমায় জাপটে ধরে ফেললেন।আর আমার চোখের দিকে সন্দেহের চোখে তাকিয়ে বললেন,'না গো মা না। তুমি একটা কিছু লুকাচ্ছো আমার কাছে। তুমি কাঁদছো খুশিতে না অন্য কোন কারণে! খুশির কান্না এমন হয় না!কেন কাঁদতেছো সত্যটা কও মা আমার কাছে!সত্যটা আমার কাছে বলতেই হবে! 

* আমার শাশুড়ি তখন আমায় জাপটে ধরে ফেললেন। আর আমার চোখের দিকে সন্দেহের চোখে তাকিয়ে বললেন,'না গো মা না। তুমি একটা কিছু লুকাচ্ছো আমার কাছে। তুমি কাঁদছো খুশিতে না অন্য কোন কারণে! খুশির কান্না এমন হয় না!কেন কাঁদতেছো সত্যটা কও মা আমার কাছে!সত্যটা আমার কাছে বলতেই হবে তোমার!'

আমার সারা শরীর ভয়ে কাঁপছে। হসপিটালের সামনেই মনে হচ্ছে আমি মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যাবো। তবুও নিজেকে শক্ত করে নিয়ে একটা মিথ্যে বানিয়ে বললাম, 'মা, আমি আজকাল খুব খারাপ খারাপ স্বপ্ন দেখছি। ভয়ানক সেসব স্বপ্ন। আমার ভয় হচ্ছে খুব! আমার শাশুড়ি তখন আমায় আশ্বস্ত করলেন আর বললেন, 'এসব কিছু না। 

সারাক্ষণ শুধু দুশ্চিন্তা করো। এই জন্যই এমন স্বপ্ন দেখো।আর দুশ্চিন্তা করবে না বলছি।আর আমি বাসায় ফিরেই সদকা দিয়ে দিবো। কিচ্ছু হবে না।' আমি অতি কষ্টে হাসলাম। 

বাসায় ফেরার পর দেখি পৃথু বিছানায় নীচ দিকে মুখ দিয়ে জড়োসড়ো হয়ে শুয়ে আছে।বাদল ঘরে নাই। নিতু টেবিলে বসে পড়ছে। মা অসময়ে পৃথুকে শুয়ে থাকতে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, 'কী গো পৃথু কী হয়েছে তোমার? এভাবে শুয়ে আছো কেনো?'
পৃথু চাপা গলায় বললো, 'সকাল থেকে মাথা ধরেছে খুব।'
'অষুধ খাইছো?'

পৃথু মার সেই কথার কোন জবাব দিলো না। 
আমি মাকে বললাম, 'নাপা খেয়েছে। সকাল বেলা আমিই দিয়ে গিয়েছিলাম টেবলেট। এইসব মাথাব্যথা সহজে ছাড়ে না!'
মা আর কোন কথা বললেন না। তিনি বাথরুমে চলে গেলেন হাতমুখ ধুতে। আমি পৃথুর দিকে আরেকবার আড় চোখে তাকালাম। দেখলাম তখনও সে আগের মতই শুয়ে আছে জড়োসড়ো হয়ে। 

গল্প মায়াবতী - ১ম পর্ব - জীবনের কষ্টের গল্প মায়াবতী - সেরা ধারাবাহিক বাংলা জীবনের গল্প, মায়াবতী গল্প, মায়াবতী কবিতাগুচ্ছ, মায়াবতী নিয়ে উক্তি গল্প, অখিলেশ যাদব, মায়াবতী নিয়ে উক্তি, মুগ্ধতা নিয়ে গল্প, সংসার নিয়ে গল্প, মায়া নিয়ে মায়াবতী গল্পের কথা, স্নিগ্ধতা নিয়ে গল্প, জীবন নিয়ে গল্প, মায়াবতী নিয়ে গল্পকার, মায়া নিয়ে স্ট্যাটাস বাংলা, মায়াবতী কষ্টকর, কেনো এতো মায়াবতী, কষ্টের সংসার, লেখা পিকচার কষ্টের, কষ্টের পিকচার মেসেজ, দুঃখ কষ্টের ছবি, শুধু কষ্টের পিকচার, কষ্টের পিকচার ডাউনলোড, কষ্টের কিছু ছবি, কষ্টের পিকচার HD, ভালবাসার কষ্টের পিকচার, কষ্টের পিক ছেলে, ছেলেদের কষ্টের পিক, কষ্টের পিকচার চাই, কষ্টের পিক মেয়ে
কষ্টের স্ট্যাটাস ফ্রি পিক

সন্ধ্যার আগে আগে নিতু আমায় ইশারায় ডাকলো বারান্দায় যেতে।আমি বারান্দায় গেলে সে আমার কাছে এসে বললো,'ভাবী, তুমি কী পৃথুকে কিছু বলে দিয়েছো?'
আমি বললাম,'না। কিছু বলিনি তো!'
নিতু বললো,'তাহলে সে আমায় রাগী রাগী গলায় অত কথা শুনালো কেন?'
আমি অবাক হয়ে বললাম,'কী শুনিয়েছে?'
'সবাইকে নাকি মজাটা সে বুঝিয়ে ছাড়বে!'
'সবাইকে কী মজা বুঝিয়ে ছাড়বে?'
কী জানি।আমি ঘরে ফিরে দেখি সে একা বাসায়।চোখ মুখ ফুলা ফুলা। চুল এলোমেলো।আমি বললাম,কী হয়েছে রে পৃথু তোর?
সে বললো,রোগ হইছে।
আমি বললাম, কিসের রোগ।
সে তখন বিরক্তি প্রকাশ করে বললো, মানুষ জ্বালানির রোগ।

আমি ভীষণ অবাক হয়ে বললাম, এটা কী বললি তুই। এটা আবার কেমন কথা!
পৃথু তখন বললো, সবকটাকে যখন মজা বুঝিয়ে ছাড়বো তখন বলতে পারবি এটা কেমন রোগ! নিতুর কথা শুনে আমার শরীর কেমন কেঁপে উঠলো। আমি বললাম,'এই নিতু,এসব কী হচ্ছে বল তো বোন?' ঠিক তখন মা বারান্দার দিকে উঁকি দিলেন।আমি আর নিতু তখন দুদিকে সড়ে পড়লাম। 

মিতুল বাসায় ফিরলো রাত গভীর করে।তার হাতে মিষ্টির প্যাকেট।সে সবাইকে মিষ্টি খাইয়ে দিয়েছে নিজের হাতে। এবার আমার কাছে এসে আমার মুখে মিষ্টি তুলে দিতে চাইতেই ওর কাছ থেকে দূরে সরে গেলাম আমি। আর বললাম, 'সাবধান, আমার কাছে ঘেঁষবে না তুমি।' মিতুল হাসার ভান করে বললো, 'ওমা, মেয়ে হবে বলে খুশি হওনি না তুমি?' আমি কিছু বলার আগেই সে চিৎকার করে ডাকতে শুরু করে দিলো একে ওকে। 'ওমা, মা দেখে যাও তোমার বউমার কান্ড! এই পৃথু, পৃথু তাড়াতাড়ি এসো তো এখানে। নিতু, এই নিতু, তোর ভাবীর কান্ড দেখে যা।' আমি আস্তে করে বললাম, 'ভালো হচ্ছে না কিন্তু বলছি। কথাটা শেষ হওয়ার আগেই এরা সবাই এসে উপস্থিত। সবার আগে এলো পৃথু। 

সে এসেই মিতুলের হাতে থাকা মিষ্টির প্যাকেট থেকে একটা মিষ্টি নিয়ে আমার মুখে পুরে দিলো। আমার ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র শাশুড়ি মার জন্য মিষ্টিটা গিলতে হলো। কিন্তু মিষ্টি গলা দিয়ে নামাতে নামাতে আমার চোখ ভিজে আসছে জলে। বুকের ভেতর থেকে হু হু করে কান্না আসছে। ইচ্ছে করছে চিৎকার করে কেঁদে উঠতে। আমার ভাবতেও অবাক লাগছে আমার ছোট বোনটা যে কি না সবে ক্লাস নাইনে পড়ে সে এক ভয়ংকর পাকা অভিনেত্রী হয়ে গেছে। 

যাকে আমি ভালোবেসে,মায়া করে,আশ্রয় দিয়েছি, মায়ের মতো করে ভালোবেসেছি , সেই আপন বোন আমার কী করে এমন হয়ে গেল?
পৃথু আমায় চুপ করে থাকতে দেখে বললো, 'বুবু,কী হলো তোর বলতো? মেয়ে বাচ্চা আর ছেলে বাচ্চা কী রে?যুগ পাল্টেছে বুঝলে? এখন ছেলে মেয়ে সবাই সমান।ছেলেরা যেমন দশ বিশটা মেয়ে পেছনে ঘুরাতে পারে মেয়েরাও তেমন পারে!হি হি হি।' 

অসভ্যের মতো কথাগুলো বলে পৃথু হাসিতে ফেটে পড়লো।তার সাথে মাও হেসে ফেললেন। তিনি হয়তো এই কথার মর্মার্থ বুঝতে পারেননি। কিন্তু আমি আর নিতু চুপ থেকেছি।কারণ আমরা জানি পৃথু এমন কথা কেন বলে উঠেছে হঠাৎ!

তারপর ওরা সবাই ঘর থেকে চলে গেল।মিতুল এবার আমায় বললো,'কী হয়েছে?অত ঢং করছো কেন?' আমি কান্নার স্বরে বললাম,'ঢং মানে? তুমি তো আমার সব শেষ করে দিয়েছো!'
মিতুল মৃদু হাসলো। হেসে আমার কাছে এসে আমায় জড়িয়ে ধরে বললো,'ধুর বোকা মেয়ে, সকালে কী না কী হয়েছিল এটা এখনও মনে রেখেছো তুমি!'

মিতুলের কাছ থেকে ছুটতে চেয়েও আমি ছুটতে পারলাম না।ও আমায় শক্ত করে ধরে আছে।
আমি এবার কাঁদতে কাঁদতেই বললাম,'তোমার কাছে এটা কিছুই না না? তোমার স্ত্রীর ছোট বোনের সাথে দৈহিক সম্পর্ক করেছো এটা তোমার কাছে সামান্য কিছু?মনে না রাখার কিছু?'

মিতুল এবার ধমকের গলায় বললো,'চুপ করবে তুমি?মা যদি কোনভাবে জানতে পারে বিষয়টা তখন কী হবে জানো?দু বোনের একটাকেও এ বাড়িতে আর থাকা লাগবে না।বুঝেছো?' আমি আর কান্না থামিয়ে রাখতে পারলাম না।

আমার কান্নার যেন কোন শব্দ না হয় এই জন্য মিতুল আমার মুখে তার হাত চেপে ধরলো।আর গলার আওয়াজ ছোট করে আমায় ধমকাতে ধমকাতে বললো,'চুপ করো বলছি। এক্ষুনি চুপ করো বলছি।'

আমি কোন ভাবেই কান্না থামাতে পারছি না।
মিতুল তখন বললো,'মাকে ডাকি আবার?'
আমি তখন চুপ হয়ে গেলাম একেবারে। মিতুল বললো, 'এই তো লক্ষ্মী মেয়ে। এবার থেকে তুমি আমার সব কথা শুনবে কেমন?আর না শুনলে তো বুঝতেই পারো।আমি না ভীষণ খারাপ একটা ছেলে। আমার লজ্জা শরম কিচ্ছুটি নেই।কেউ আমার বিষয়ে কিছু জেনে গেলে আমার কিচ্ছু হবে না। কিন্তু তোমাদের দুটি বোনের কী হবে জানো?জানো না। ঘরের কথা বাদ দিলাম। সমাজের মানুষেরা তোমাদের দু বোনকে না একসাথে কবর দিবে ‌।বুঝলে সোনা?'

মিতুল হা হা হা করে হেসে উঠলো। সেই ভয়ংকর এবং অসভ্য হাসি। এরকম ভাবে একটু আগে হেসেছিল আমার বোন পৃথুও। মিতুল বললো, 'এখন চুপচাপ শুয়ে পড়ো বিছানায়। তোমার পেটে আমার বেবি।আমি চাই না আমার বেবির কোন ক্ষতি হোক।বলে সে আমায় টেনে নিয়ে বিছানার উপর জোর করেই শুইয়ে দিলো। তারপর সুইচ টিপে বাতি নিভিয়ে দিলো। আমি ওকে বললাম, 'কোন মুখে বলছো এই বেবি তোমার?' 

মিতুল তখন রাগত স্বরে আমার মুখের কাছাকাছি তার মুখ এনে বললো,'কী রে তুই কী আমার আঁড়ালে অন্য পুরুষ নিয়ে শুয়েছিলি নাকি যে বলছিস আমি কোন মুখে বলি এই সন্তান আমার?' আমি ওর মুখে একদলা থুথু ছিটিয়ে দিয়ে বললাম,'লজ্জা করে না তোর কুকুর? নিজের মতো ভাবস সকলকেই?' মিতুল রাগে ফুঁস ফুঁস করতে করতে আমার উড়না টেনে নিয়ে ওর মুখ মুছে নিয়ে আমার গলায় দু হাত দিয়ে চেপে ধরলো। 

তারপর বললো,' হারামজাদি, তোকে না আজ মেরেই ফেলবো আজ। তোর আর বেঁচে থাকার কোন অধিকার নাই।' আমার গলা কেমন আটকে আসছে। মনে হচ্ছে এক্ষুনি মরে যাবো আমি।হ্যা একটু আগেও ভেবেছিলাম এমন লজ্জা আর দুঃখ নিয়ে বেঁচে থাকার কোন প্রয়োজন নাই। 

কিন্তু এখন বাঁচার জন্য এতো মন কাদছে কেন? কিন্তু আমি কী আজ আদৌও ওর হাত থেকে বাঁচতে পারবো? মিতুল তো কিছুতেই ছাড়ছে না আমায়। আমার চোখ ছুপ ছুপ আঁধারে ঢেকে আসছে।মাথা ভার হয়ে আসছে। কাঁশি আসছে বারংবার।আর মনে হচ্ছে চোখের সামনে মাছির  মতো ভণভণ করে উড়ছে মৃত্যু ।আমি কী আর আজ বাঁচতে পারবো না ওর হাত থেকে? 
চলবে

সবার আগে গল্প পেতে আমাদের অ্যাপটি ডাউনলোড করে রাখতে পারেন ধন্যবাদ

আমাদের অ্যাপ ফ্রি ডাউনলোড

Post a Comment

কমেন্টে স্প্যাম লিংক দেওয়া থেকে বিরত থাকুন

Previous Post Next Post