গল্প মায়াবতী - ২য় পর্ব - জীবনের কষ্টের গল্প মায়াবতী - সেরা ধারাবাহিক বাংলা জীবনের গল্প
গল্প মায়াবতী - ২য় পর্ব - জীবনের কষ্টের গল্প মায়াবতী - সেরা ধারাবাহিক বাংলা জীবনের গল্প


সারাটা শরীর ঘামে একাকার হয়ে গিয়েছিল আমার। মুখ নীলচে হয়ে এসেছিল মৃত্যুর থাবড়ে। ভাগ্যিস মিতুল আমার গলা থেকে হাত ছাড়িয়ে নিলো।আর বললো,'নাহ তোমায় আমি একেবারে মেরে ফেলবো না। তোমায় খুন করে জেলে খাটতে পারবো না আমি। কিন্তু আমার কথার বাইরে গেলে এমনিতেই তোমার মৃত্যু তোমাকে গ্রাস করে নিবে। হতে পারে তোমার মায়ের পেটের বোনটাই তোমায় খুন করে ফেলবে!'

হা হা হা করে হেসে উঠলো মিতুল।
আমার গলাটা প্রচন্ড ব্যথা করছে।গলায় দাগ বসে গেছে মনে হয়।আমি জানি এরকম ভাবে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া হাজার গুণ শ্রেয়। কিন্তু মানুষ তো পৃথিবীর মায়া সহজে ছাড়তে পারে না। আমিও পারি না। তাছাড়া আমার ভেতর বেড়ে উঠছে আরেকটি আত্মা।মিতুলের না আমার জন্য একটুও মায়া নেই। কিন্তু তার রক্তের সন্তানটার প্রতিও কী তার কোন মায়া নেই! পৃথিবীতে এমন নিষ্ঠুর পিতাও আছে তবে?

আমার খুব কান্না পাচ্ছে।বালিশে মুখ ডুবিয়ে আমি কাঁদছি মিতুল বললো, 'শুনো,যদি কাঁদতে হয় তবে বাথরুমে গিয়ে কাঁদো। এখানে কান্না করা যাবে না।আমি এখন ঘুমাবো।' আমার খুব ইচ্ছে করছে এই শুয়োরটাকে বটি এনে টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলি। কিন্তু তা তো পারবো না। ওকে মেরে ফেললে কী হবে? নিজের মায়ের পেটের বোন যখন বোনের দরদ বুঝলো না, তখন অন্য একজনের প্রতি ক্রোদ্ধ হয়ে কী হবে? পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ হয়তোবা কান্না চাপা দেয়া। সেই কাজটাই আমাকে করতে হলো নিজের সাথে মরণ পণ সংগ্রাম করে। দাঁতের সাথে দাঁত চেপে ধরে সারাটা রাত কাটিয়েছি আমি।

অন্য দশটা সকালের চেয়ে আজকের সকালটা আমার কাছে বেশি ভয়ংকর এবং বীভৎস! সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার রুমেই টেবিলের পাশে মিতুল আর পৃথু বসে আছে।পৃথুকে মিতুল অংক পড়াচ্ছে।আর একে অপরের গায়ে কী সব কথা বলে বলে যেন গড়িয়ে পড়ছে।মিতুল হঠাৎ লক্ষ্য করলো আমি জেগে উঠেছি।আমায় জাগতে দেখে মিতুল পৃথুর আরো কাছাকাছি গেল।সে এবার পৃথুকে পেছন থেকে একটা হাত দিয়ে শক্ত করে ধরে আমার দিকে তাকিয়ে নিঃশব্দে বিকৃত একটা হাসি দিলো। এই হাসিতে সে আমায় বুঝাচ্ছে তার পরম ক্ষমতা এবং আমার গহীন দূর্বলতাকেই! কিন্তু আমার তো এভাবে ভেঙে পড়লে চলবে না। কিছু একটা তো করতেই হবে। কিন্তু কী করবো আমি? পৃথুকে কী পারবো এই পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে?

পৃথু হঠাৎ পেছনে তাকিয়ে লক্ষ্য করলো আমি সব দেখছি।তাই সে মিতুলের কাছ থেকে ছুটতে চাইলো। কিন্তু মিতুল তাকে ছাড়লো না বলে সেও আর ছুটতে চেষ্টা করলো না তার হাত থেকে। বরং সে এবার তার মাথাটা এনে এলিয়ে দিলো মিতুলের কাঁধের উপর। মিতুল আবার পেছনে তাকালো। তারপর আমার দিকে চোখ রেখে আরেকবার বিকৃত হাসি হাসলো। আমার চোখ থেকে টপটপ করে জলের ফোটা পড়ছে গালের উপর। কপালের শিরা কাঁপছে । রক্তে আগুন ধরে গেছে।

আমি এই অসুস্থ শরীর নিয়েই জলদি বিছানা থেকে নেমে গিয়ে পেছন থেকে পৃথুর চুল টেনে ধরলাম। তারপর ওর দু গালে চড় বসিয়ে দিয়ে বললাম,'যা। এই বাড়ি থেকে বের হয়ে যা।'
পৃথুর চোখ লাল হয়ে উঠেছে রাগে। কিন্তু কিছু বলছে না সে। শুধু দ্রুত শ্বাস প্রশ্বাস টানছে। আর মিতুল বসা থেকে উঠে আমার সামনে দাঁড়িয়ে আমার গালে দু দুটো চড় বসিয়ে দিলো। আর বললো, 'এই বাড়িটা কী তোর বাবার কেনা নাকি রে? কোন সাহস আর অধিকারে তুই পৃথুকে এ বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলিস? মাকে ডাকবো আমি এবার?মা এসে জানুক সবকিছু!'

আমি কী বলবো কিংবা কী করবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না ‌।আজ যদি এই ব্যাপারে মা কিছু জানে তবে সর্বনাশ হবে এটা আমি জানি।উনি কিছুতেই আমাদের দু বোনের একজনকেও এ বাড়িতে রাখবেন না।আমি উনাকে খুব ভালো ভাবেই চিনি। মা যতটা মমতাময়ী ঠিক ততটাই তিনি ত্যাজি! তিনি যদি আমাদের এ বাড়ি থেকে বের করে দেন তবে আমি এ শরীর নিয়ে কোথায় যাবো?কার কাছে যাবো?কে আশ্রয় দিবে আমায়? আর পৃথুটারই বা কী হবে?ওর আর কী বয়স হয়েছে। এই বয়সটাতে তো মানুষ অবুঝ থাকে।সে না হয় অবুঝের মতো কিছু একটা করছে কিন্তু আমি তো তার সাথে অবুঝের মতো কিছু করে ফেলতে পারি না। 

সে আমার কথা না ভাবুক আমার তো তার কথা ভাবতে হয়। তাকে আমার মা জন্ম দিয়েছে ঠিক কিন্তু লালন পালন ,আদর সোহাগটা করেছি আমি।ও তো আমার কাছে মমতার আঁধার। ওর প্রতি তো আমি খুব দূর্বল। ইচ্ছে করলেই তো ওর প্রতি আমি কঠোর হয়ে যেতে পারবো না। তাই আমি একেবারেই চুপ হয়ে গেলাম। মুখে আঁচল চেপে চুপচাপ রুম থেকে বের হয়ে চলে গেলাম ওয়াশরুমে। আর ওখানে কল ছেড়ে ইচ্ছে মতো কাঁদলাম। আর ভাবলাম নিজের ভাগ্য নিয়ে।এমনও ভাগ্য কারোর হয়? শেষমেষ নিজের মায়ের পেটের বোনটা আমার স্বামীর সাথে!

গল্প মায়াবতী - ২য় পর্ব - জীবনের কষ্টের গল্প মায়াবতী - সেরা ধারাবাহিক বাংলা জীবনের গল্প, মায়াবতী গল্প, মায়াবতী কবিতাগুচ্ছ, মায়াবতী নিয়ে উক্তি গল্প, অখিলেশ যাদব, মায়াবতী নিয়ে উক্তি, মুগ্ধতা নিয়ে গল্প, সংসার নিয়ে গল্প, মায়া নিয়ে মায়াবতী গল্পের কথা, স্নিগ্ধতা নিয়ে গল্প, জীবন নিয়ে গল্প ১ম, মায়াবতী নিয়ে গল্পকার ৩য় পর্ব, মায়া নিয়ে স্ট্যাটাস বাংলা, মায়াবতী কষ্টকর, কেনো এতো মায়াবতী, কষ্টের সংসার, লেখা পিকচার কষ্টের, কষ্টের পিকচার মেসেজ, দুঃখ কষ্টের ছবি, শুধু কষ্টের পিকচার, কষ্টের পিকচার ডাউনলোড, কষ্টের কিছু ছবি, কষ্টের পিকচার HD, ভালবাসার কষ্টের পিকচার, কষ্টের পিক ছেলে, ছেলেদের কষ্টের পিক, কষ্টের পিকচার চাই, কষ্টের পিক মেয়ে
ভালোবাসার কষ্টের কথা পিকচার

বাথরুমে দাঁড়িয়ে থাকতেই মাথাটা কেমন ঘুরে উঠলো। তারপর বমি হলো। বমির সময় মনে হলো আজ বুঝি আমি মরেই যাবো! দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি না কিছুতেই আমি। কাউকে ডাকবো যে সে শক্তিও আমার নাই। কল ছাড়ার কারণে বাইরে থেকে কী কেউ বমির শব্দ শুনতে পাচ্ছে কি না জানি না। 

শুনতে পেলে বোধহয় এতোক্ষণে নিতু অথবা মা আসতো। এসে দরজায় ধাক্কা দিতো।পৃথুও আসতে পারতো।ও তো কাছেই। ওয়াশরুমের সাথেই তো আমার রুম।টেবিলটা একেবারে কাছে। ওখানেই তো বসে আছে মিতুল,পৃথু। না কী ওরা এখন অন্য কিছুতে মেতে উঠেছে! অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর মাথাটা একটু হালকা হলো। বমির উদ্রেক কমলো। বাথরুম পরিষ্কার করে , বালতি থেকে নাকে মুখে পানি ছিটিয়ে ফ্রেশ হয়ে আমি বের হলাম। ঘরে ফিরে দেখি মিতুল কাপড় পাল্টাচ্ছে।পৃথু এখানে নাই।

আমি কিছু না বলে চুপচাপ বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লাম।মিতুল ক্যাডসের ফিতে বাঁধতে বাঁধতে বললো,'পৃথুর মাথা ব্যথা বেড়েছে আবার। ওকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাচ্ছি।' আমার মন সায় দিচ্ছিলো না ওর সাথে কোন কথা বলতে। কিন্তু তবুও বলে ফেললাম,'নিজের স্ত্রীকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার সময় থাকে না কিন্তু স্ত্রীর বোনকে নিয়ে যাওয়ার বেলায় কোন ঝামেলা থাকে না না?' মিতুল আমার দিকে তাকালো। 

তাকিয়ে হেসে বললো,'শত হোক তোমার আদরের বোন তো। ওকে যেমন তুমি ভালোবাসো আমিও তেমন বাসি। ওর কথা কী করে ফেলি বল তো?' এই কথা বলে মিতুল বের হয়ে গেল। তারপর এলো পৃথু।সে এসে বললো,'বুবু,আমি ডাক্তারের কাছে যাচ্ছি।' আমার এতো রাগ পেলো তখন।আমি তাকে ধমক দিয়ে বললাম,'তোকে আমি ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবো।ওর সাথে তোকে যেতে দিবো না।' কিন্তু পৃথু আমার কথা শুনলো না।সে চুপ করে রুম থেকে বের হয়ে মিতুলের সাথে চলে গেল।

ওরা চলে যাওয়ার পর মা এলেন আমার কাছে। এসে বললেন,'অতটুকু অসুখের জন্য আবার ডাক্তারের কাছে যেতে হয়?' আমি কিছু বললাম না। চুপ করে রইলাম। মা তখন বললেন,'বুঝি না বাবা।আর পৃথুটাও যা ন্যাকা।বোন জামাইয়ের সাথে অত গা ঘেঁষাঘেঁষি তো ভালো না।সে তো আর এখন ছোট না। মানুষ দেখলে মন্দ কথা বলবে না!' মায়ের মুখ থেকে কথাগুলো শুনে আমার শরীর কেঁপে উঠলো।মা কী তবে কিছু টের পেয়েছেন?টের পেলে তো সর্বনাশ হয়ে যাবে!

আমি মার কাছে কথাটা ঘুরিয়ে বললাম,'ওর আর বয়স হয়েছে কী মা? সেদিনের মেয়ে।অত শত তো বুঝে না।আর মিতুলকে তো ও ভাইয়ের মতোই দেখে।মিতুল ও তো ওকে দেখে বোনের মতো।' মা আমার কথা শোনার পর কিছু বললেন না। খানিক সময় দাঁড়িয়ে থাকার পর চলে গেলেন রুম থেকে বেরিয়ে।

এরপর রুমে এলো নিতু।সে এসে আমার কাছে ফিসফিস করে একটা কথা বললো।কথাটা শুনে আমার শরীর মূর্ছা যাওয়ার উপক্রম হলো!

নিতু এসে বললো,'ভাবী, তুমি জানো ভাইয়া কেন পৃথুকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে গিয়েছে?' আমি বললাম,'না। কেন?' নিতু আমার কাছে এসে ফিসফিস করে বললো,' পৃথুর কেন জানি সন্দেহ হচ্ছে ও প্রেগনেন্ট!' কথাটা শুনে যেন আমার মাথায় বাজ পড়লো। কিন্তু নিতুকেও এবার আমার সন্দেহ হচ্ছে খুব।ও এসব জানে কী করে? নাকি সে দুমুখো সাপের ভূমিকায় অভিনয় করে যাচ্ছে!

আমি ওকে বলেই ফেললাম। বললাম,'নিতু,তুই এসব ভেতরকার খবর জানিস কী করে রে?' নিতুর তখন যা রাগ হলো!সে আমার সামনেই কেঁদে ফেললো। কাঁদতে কাঁদতে বললো, 'আজকাল কারোর মঙ্গল করতে নেই।কারোর সাথে ভালো সম্পর্কও রাখতে নেই।আমি ভুল করেছি।এরচে ওদের পক্ষে থাকায় ভালো ছিল!' আমি ভীষণ অবাক হয়ে গেলাম।এতোটুকুতেই কী কেউ কাঁদে?

আমি ওকে সান্ত্বনা দিলাম। বুকের ভেতর কষ্টের পাহাড় চেপে রেখেও মিষ্টি করে হেসে ওর মাথায় আলতো ভাবে হাত বুলিয়ে দিয়ে বললাম,'ধুর বোকা।এর জন্য কী কেউ কাঁদে!আমি তো তোকে শুধু এটা জিজ্ঞেস করেছি যে তুই এটা জানতে পারলি কীভাবে? নিতু তবুও ঘাড় বাঁকা করে বললো,'না ভাবী আমি সব বুঝি। তুমি আমায় খুব সন্দেহ করো।' আমি ওকে আবার সান্ত্বনা দিলাম। বললাম, 'আচ্ছা যা আমি সরি বলছি তো! এখন বল কীভাবে তুই জানলি এই খবর?' নিতু বললো, 'সকাল বেলা জানলার কাছে দাঁড়িয়ে পুঁইশাক তুলেছিলাম।

ভাইয়া আর পৃথু ছিল তোমার ঘরে টেবিলের কাছে। আর টেবিল তো জানলার পাশেই। তখনই তারা কথা বলেছিলো।পৃথু ভাইয়াকে হঠাৎ করে বললো, মিতুল,একটা গুড নিউজ আছে। ভাইয়া বললো কী গুড নিউজ। পৃথু তখন বললো, তুমি বাবা হতে চলেছো! ভাইয়া হেসে বললো,সে তো আমি জানিই। তোমার সতীনের পেটে সে সন্তান। পৃথু তখন রাগত স্বরে বললো,'খবরদার! ওকে আমার সতীন বলবা না বলছি। তুমি তো জানো না ও আমার কতো বড়ো শত্রু? মানে?

মানেটা হলো ওর বাবা আমার মায়ের খুনি।
ভাইয়া বোধহয় এই কথা শুনে ভীষণ রকম চমকে উঠেছে এবং অবাক হয়েছে।অবাক হয়েছি আমিও। জীবনে তো এমন কথা কখনো শুনিনি!ওর বাবা আর তোমার বাবা তো একই,মাও তো এক। কিন্তু তোমার বাবা ওর মায়ের খুনি বিষয়টা কী? ভাইয়া এটাই জিজ্ঞেস করেছিল পৃথুকে। বলেছিলো,এই পৃথু,কী সব উল্টা পাল্টা বলছো তুমি? পৃথু তখন বললো,না আমি ঠিকই বলছি। উল্টাপাল্টা কিছুই বলছি না ‌

ভাইয়া বললো,'পৃথু সবকিছু ভেঙে বলো। একচ্যুয়েলি আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। ধাঁধা লাগছে।' পৃথু তখন ঝাঁজালো গলায় বললো, 'এইসব বিষয়ে তোমার তো অত নাক গলিয়ে লাভ নেই।আমারটা আমি বুঝবো। এখন তোমারটা আগে তুমি বুঝে নাও!' ভাইয়া বললো,'কী বললে বুঝতে পারিনি!আমারটা আমি বুঝে নিবো মানে?' 'আমার ধারণা আমার পেটে তোমার বেবি আসছে!' ভাইয়া চমকে উঠলো। আর বললো,'ফান বন্ধ করো। তোমার বয়স কম হলেও তুমি তো অতটা কাঁচা নও। তোমাকে তো আমি চিনি। তোমার তো ভুল হওয়ার কথা নয়!'

পৃথু হাসলো। হেসে বললো,'মিতুল, তুমি ঠিক ধরেছো।আমি বয়সের চেয়ে বেশি পাকা। অনেক বেশি পাকা।পাকা বলেই আমি ভুল করিনি।ভুলটা করেছো তুমি। তুমি কী ভেবেছো তোমার সব কথায় আমি শুনবো? তুমি আমায় ভুলিয়ে বালিয়ে আমায় লুফে নিয়েছো।আমি তখন চুপ ছিলাম। তুমি ভেবেছিলে কম বয়সে আবেগের বশে তোমার প্রেমে হাবুডুবু খেয়ে আমার সম্ভ্রম তোমার হাতে তুলে দিচ্ছি আমি!
না না,আমি জেনে বুঝেই সবকিছু করেছি।বেবিটা আমি কনসিভ করেছি জেনেই। এখন তোমাকে নাঁচাবো। পুতুলের মতো নাঁচাবো!'
ভাইয়া তখন একেবারে চুপসে গেল।

পৃথু বললো,'কী একেবারে বেলুনের মতো ফুটুস হয়ে গেলে কেন? হাওয়া শেষ নাকি?'
ভাইয়া তখন বললো,'শুনো পৃথু, খুব বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু! তোমার বোনের প্রেগনেন্সি চলছে। কদিন পর আমার একটা মেয়ে আসবে পৃথিবীতে। তোমার ভাগ্নী। তুমি কীভাবে এটা করতে পারলে?' পৃথু হাসলো। হেসে বললো,'আর আপনি যখন আমার গায়ে হাত দিলেন, ওইসব করলেন তখন কী মনে হয়নি একবারের জন্যও যে আমি আপনার বোনের মতো! নিজের স্ত্রীর ছোট বোন কী নিজের বোনের মতো না?' ভাইয়া আবার চুপ করে রইলো।

পৃথু বললো,'চুপ করে থাকলেও কোন লাভ নাই। ফেঁসে তো গেছোই।ধমকা ধামকি করলে থানায় গিয়ে রেইপ কেইস দিয়ে দিবো বুঝলে?'
ভাইয়া বোধহয় ভয়ে কেঁপে উঠেছে তখন।আমি নিজেও বাইরে দাঁড়িয়ে থেকে কেঁপে উঠেছি।পৃথুর অত সাহস! অতটুকু মেয়ে অতকিছু জানে! ভাইয়া বললো,'প্লিজ এরকম করো না। তোমার বোনের কী হবে একটিবার ভেবেছো?ও তো তোমায় অনেক আদর করে।ভালোবাসে? নিজের সন্তানের মতো করে তোমায় বড় করেছে!'

'ওরে বাবা আপনি দেখি খুব মোরালিটিও জানেন!মানে আমি নিজের বোনের কথা ভাবছি না বলে আপনার কষ্টে চোখ ফেটে জল আসছে! কিন্তু আপনি যে আপনার স্ত্রীকে ঠকিয়ে তার বোনকে দিনের পর দিন ইউজ করে গেলেন তখন কোথায় ছিল আপনার স্ত্রীর প্রতি এই দরদ,প্রেম প্রীতি, ভালোবাসা? কোথায় ছিল? কোথায়?'

ওর প্রশ্নগুলো কঠিন। এইসব প্রশ্ন কাটিয়ে যাওয়া ভাইয়ার পক্ষে সম্ভব নয়। তবুও ভাইয়া ওকে কথায় ভুলাতে চেষ্টা করলো। ভাইয়া বললো,'পৃথু,যা হয়ে গেছে তা সব ভুল ছিল। আমাকে ক্ষমা করে দাও প্লিজ! আর তোমার বোনটার প্রতি একটু তাকাও!' 'তাকাবো? কীভাবে তাকাবো? আমি তো আমার নিজের ক্ষতি করে আমার বোনের দিকে তাকাতে পারবো না! আগে তো নিজের বাঁচতে হবে। নাকি?' তোমাকে আমি ভালো ছেলে দেখে বিয়ে দিয়ে দিবো।'

বিয়ে দিয়ে দিলেই ওই ছেলে সবকিছু মেনে নিবে? আমার পেটের বেবিটাকেও মেনে নিবে তাই না?'
'ও তো কিছুই জানবে না!'
'কেন জানবে না। পেটের বেবি কী উধাও হয়ে যাবে? তাছাড়া আমি কী আগের মতো হয়ে যাবো?'

'বেবিটা থাকবে না।আমরা ডাক্তারের সাথে কথা বলবো। এবং আজকেই। এক্ষুনি যাবো।'
'হ্যা। ডাক্তারের কাছে তো আমার যেতেই হবে। প্রেগনেন্সি অবস্থায় একজন নারীর নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলা উচিৎ।আমি ডাক্তারের কাছে যাবো পরামর্শ নিতে।'
'হাউ ডিয়ার ইউ!'

ভাইয়া বোধহয় পৃথুর গায়ে হাত তুলেছিল। পৃথু তখন ঝাঁজালো গলায় বললা,'হাতটা কেটে গলায় ঝুলিয়ে দিবো। এখন থেকে আমায় একটা ধমক দিলেও অবস্থা ভয়াবহ হবে।সারা পাড়া জানবে তুমি একটা রেপিস্ট। নিজের শালীকে রেইপ করে গেছো দিনের পর দিন।'
ভাইয়ার কন্ঠে কাঁপুনি।

সে বললো, 'পৃথু,পাগলামো করো না। তোমাকে আমি পাঁচ লাখ টাকা দিবো। তবুও সবকিছু ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করো তুমি।' পৃথু হাসলো। হেসে বললো,'টাকা নিয়ে আমি কী করবো? এই পাঁচ লাখ টাকা কী আমার সতীত্ব ফিরিয়ে দিতে পারবে?'

'পৃথু, তুমি একটুও বুঝতে পারছো না।টাকার কথা না বাদই দিলাম কিন্তু সমাজের কথা তো ভাবো!আজ যদি এইসব কথা মানুষ শুনে তখন কী অবস্থা হবে? আমার, তোমার, তোমার বোন, আমার পরিবারের সকলকে মানুষ ঘৃণা করবে!আর তোমাকেও তো মানুষ আঙুল তুলে দেখাবে।বলবে বোন জামাইয়ের সাথে --
ছিঃ ছিঃ ছিঃ!'

পৃথু পাল্টা জবাব দিলো।
বললো, 'এখন ছিঃ ছিঃ ছিঃ করছো কেন?
যখন আমার উড়না টেনে ধরেছিলে।যখন নানান স্বপ্ন দেখিয়েছিলে তখন এই লজ্জা কোথায় ছিল?আর যখন নোংরামি টা করেছিলে তখন?
চুপ করে থাকবে না। উত্তর দেও?

তুমি তো একটা নির্লজ্জ। আমিও নির্লজ্জ। নির্লজ্জ মানুষ ছাড়া এইসব নোংরামি কেউ করে? কখনো করতে পারে? পারে না। যেহেতু আমাদের লজ্জা নাই তাহলে মেকি লজ্জার ভাণ করে কী লাভ বলো?' ভাইয়া এবারও চুপসে গেছে। সে তবুও নানান উপায় বের করছে খুঁজে। সে এবার বললো, 'পৃথু, এইসব কিছু তো অনেক হয়।কতো দুলাভাই তার শ্যালিকাকে,কত দেবর তার ভাবীকে?

'শাট আপ! অনেক হয়েছে। সবার মতো করে আমায় ভাবলে তো হবে না। সব সাপই তো আর ঢোড়া সাপ না যে পায়ে পিষে গেলেও ভয়ে জলে নেমে যাবে। কিছু সাপ গোঁখরাও হয়। যার লেজে পা পড়লে ছোবল দেয়। বুঝেছো কিছু মিস্টার মিতুল?'

ভাইয়া বললো,'আচ্ছা ওইসব কিছু বাদ।কী করলে তবে তুমি চুপ করবে? এটা এখন বলবো না। আগে চলো ডাক্তারের কাছে যাই। গিয়ে দেখি আমি স্বাভাবিক কি না! তারপর ভেবে চিন্তে সব বলবো।' ভাইয়া বললো,'আর,ওই যে বললে তোমার মায়ের খুনি বৃষ্টির বাবা?এই বিষয়টা বুঝিয়ে বলো! 
চলবে...
লেখা: অনন্য শফিক 

সবার আগে গল্প পেতে আমাদের অ্যাপটি ডাউনলোড করে রাখতে পারেন! ধন্যবাদ

আমাদের অ্যাপ ফ্রি ডাউনলোড

Post a Comment

কমেন্টে স্প্যাম লিংক দেওয়া থেকে বিরত থাকুন

Previous Post Next Post