গল্প মায়াবতী - ৫ম পর্ব - জীবনের কষ্টের গল্প মায়াবতী - সেরা ধারাবাহিক বাংলা জীবনের গল্প
গল্প মায়াবতী - ৫ম পর্ব - জীবনের কষ্টের গল্প মায়াবতী - সেরা ধারাবাহিক বাংলা জীবনের গল্প

নিতু ফিরে এলো না। ফিরে এলেন মা। না মা একা আসেননি। তার সাথে একজন এসেছে। মাকে ধরে ধরে নিয়ে এসেছে। যে মাকে ধরে ধরে নিয়ে এসেছে সে একজন যুবক। ত্রিশের উপর কিছুতেই তার বয়স হবে না। চেহারা জুড়ে অদ্ভুত মায়া। অথচ তার গায়ের রং কালো। মানুষ বলে, কালো ছেলেদের দেখলে চোর চোর মনে হয়। 

অথচ এই ছেলেকে দেখে মনে হচ্ছে সে পৃথিবীতে অসম্ভব মায়া নিয়ে জন্মিয়েছে। পৃথিবীর আর কোন মেয়ে বলুক আর না বলুক আমি খুব স্পষ্ট করেই বলতে পারবো,কালো ছেলেরা সহজে প্রতারণা করে না, বরং প্রতারণার শিকার হয় বেশি! সে যায় হোক, এই ছেলের নাম এখনও জানা হয়নি। 

জানার মতো অবস্থা আমার নাই।আমি এখনও আমার মৃত কন্যাকে কোলে নিয়ে বসে আছি। আমার কেন যেন মনে হচ্ছে মায়াবতী আমার সাথে জীবন মরণ খেলা খেলছে। এই যে পাঠক, আপনাকে বলছি। আপনি কী জীবন মরণ খেলা চিনেন? চিনেন না। শুনুন তাহলে। ছোট বেলায় আমায় নিয়ে মা এমন খেলতো।রাতে বিছানায় শুয়ে মা হঠাৎ করে নিঃশ্বাস বন্ধ করে ফেলতো। চোখ বুজে রাখতো।হাত পা টান টান করে নিতো।আমি ভাবতাম,মা আর নাই। সত্যি সত্যি নাই! যখন আমি চিৎকার করে কেঁদে উঠতে চাইতাম।আর ঠিক তখন মা চোখ খুলে ফেলতেন।আমায় বুকে টেনে নিয়ে বলতেন,'কাঁদিস না মা।মজা করেছি তোর সাথে।আমি দেখলাম, আমি মরে গেলে তুই কতটা অসহায় হয়ে যাবি পৃথিবীর কাছে!'

এখন ঠিক আপনার মনে পড়েছে এই অদ্ভুত খেলাটার কথা! আমি নিশ্চিত মায়াবতী আমার সাথে ঠিক এই খেলাটাই খেলছে। এই জন্যই আমি তাকে কোলে নিয়ে বসে আছি। আমার বিশ্বাস সে খানিক পরই চোখ কোলে পিটপিট করে তাকাবে আমার দিকে। তারপর চোখের ভাষায় বুঝাতে চেষ্টা করবে,'কেমন ভয় পাইয়ে দিলাম তোমায় মা?'

মা ঘরে এসেই বললেন, 'নিতু নাই! আমার নিতু নাই!' তারপর যখন আমার কোলের উপর শিশুটিকে দেখলেন তখন অবাক করা চোখে তাকিয়ে বললেন, 'আল্লাহ রক্ষা করেছে। এমনি এমনি হয়ে গেলো। আলহামদুলিল্লাহ।' তারপর আরেকটু কাছে ঘেঁষেই মা চিৎকার করে কেঁদে উঠলেন। আমার নাতিন নাই! আমার নিতুও নাই নাতিনও নাই!' আমি চুপ করে আছি।ভাবছি মায়ের বোকামির কথা। তিনি বুড়ো হয়ে গেছেন অথচ জীবন মরণ খেলাটা চিনেন না এখনও।একটু পর যখন দেখবেন মায়াবতী খিলখিল করে হাসছে তখন তার জিভ তালুর সাথে লেপ্টে যাবে একেবারে!

যুবকের নাম মহসিন। মোড়ে ফার্মেসি আছে তার।বড় ফার্মেসি।ফার্মেসির নাম নীলাভ্রী ফার্মেসি। মহসিন বললো সবকিছু। মা কাঁদছিলেন চিৎকার করে।সে ফার্মেসিতেই রাতে থাকে। ঘুমায় ওখানেই।মার চিৎকার আর কান্না শুনে তার ঘুম ভেঙ্গে গেল। তারপর তাড়াহুড়ো করে দরজা খুলতেই দেখলো রাস্তার একপাশে বসে থেকে মা কাঁদছেন। তারপর মার কাছ থেকে সবকিছু শুনে সে মাকে নিয়ে অনেকক্ষণ খুঁজাখুঁজি করলো। কিন্তু নিতুকে কোথাও পাওয়া গেল না। অবশেষে সে মাকে নিয়ে বাসায় ফিরে এলো।

মহসিন আমার কাছে এসে বললো,'ভাবী, বাবুকে আমার কাছে দেন। আপনার শরীরের অবস্থা ভালো না। আপনার রেস্ট নিতে হবে। এক্ষুনি ফজরের আজান হবে। ভোরের আলো ফুটলেই আমি গিয়ে একজন ডাক্তার নিয়ে আসবো। আপনার চিকিৎসা প্রয়োজন! আমি বললাম, 'না। আমার বাবুকে আমি কারোর কোলে দিবো না।' কিন্তু মহসিন জোর করেই আমার কাছ থেকে বাবুকে কেড়ে নিলো। তারপর আমায় শুইয়ে দিলো বিছানায়।সে এবার বাবুকে একটা চাদরে মুড়িয়ে রেখে দিলো একটা জল চৌকিতে।আমি কাঁদছি। কোন মায়ের সামনে তার সন্তানের লাশ পড়ে থাকতে দেখে সে না কেঁদে থাকবে কী করে বলুন?

ফজরের আজান হয়েছে। মুয়াজ্জিন বলছে,আসসালাতু খাইরুম মিনান নাওম। মহসিন নামাজ পড়ে।সে বললো,ভাবী,আমি মসজিদে যাবো। নামাজ পড়ে একজন ডাক্তার নিয়ে আসবো। আর আটটা নটার দিকে থানায় যাবো।নিতুর বিষয়ে ইনফর্ম করবো।নিতুকে খুঁজে পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ!

মা কাঁদছেন। চিৎকার করে কাঁদছেন।ফ্লোরে গড়াগড়ি খেয়ে কাঁদছেন।পাড়া প্রতিবেশী মানুষগুলো আস্তে আস্তে আসছে। একজন, দুজন,বহুজন। তাদের মুখে নানান কথা। এই একটা মাত্র বাড়িতে এতো কিছু ঘটে গেলো!নিশ্চয় শনির দশা!

এক বুড়ি মহিলা বললো,'ছিঃ ছিঃ ছিঃ! দেখো গিয়ে ছেলের মতো মেয়েও পর বেডা নিয়া ভাগছে!' এভাবে সবাই মন্দ কথাই বলে যাচ্ছে। কারোর মুখে একটা ভালো কথাও শোনা যাচ্ছে না। কেউ কেউ মায়াবতীর জন্য আফশোস করছে। এতো সুন্দর একটা মেয়ের মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছে না। একজন মহিলা বললো,'মেয়েটা মরে ভালোই করছে। বেঁচে থাকলে বাপের পরিচয় দিতো কী!' বাঙালি মেয়েগুলো এমন কেন? মেয়েরাই কেন মেয়েদের পেছনে সব সময় লেগে থাকে? কেন শূন্য দিন বয়সী একটা মৃত কন্যা শিশুও ওদের কু-চিন্তা থেকে মুক্তি পায় না!

মহসিন এলো ভিড় ঠেলে ভেতরে। তার সাথে একজন মধ্যবয়স্ক ডাক্তার। ডাক্তার আমায় দেখেই বললো, 'একটুর জন্য বেঁচে গিয়েছে। আল্লাহ রক্ষা করেছে। বেবিটা প্রসব হতে আরেকটু দেরি করলেই মা মারা যেতো!' শুনে ভয়ে আমার গা কেঁপে উঠলো। বেঁচে আছি এরচেয়ে আনন্দের আর কী আছে? মানুষ অত দুঃখ নিয়েও বেঁচে থাকতে চায় কেন? তবে কী এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার মতো আর কিছুতেই অত আনন্দ নেই?

মা বেড়িয়ে যেতে চেয়েছিলেন ঘর থেকে।নিতুকে খুঁজতে চান তিনি। কিন্তু মহসিন বাঁধা দিলো।সে বললো,'আমি আরো মানুষ নিয়ে বের হবো।আর একটু পর পুলিশের কাছেও যাবো। আপনার বের হতে হবে না। আপনি এখন ঘরে থাকুন প্লিজ!' মা আবার কেঁদে উঠেছেন হাত পা ছড়িয়ে বসে।

বাইরে থেকে উৎসুক জনতা মার কান্না দেখে মজা পাচ্ছে। মহসিন এবার জমাট জনতাকে তাড়িয়ে দিলো।বললো,'এখান থেকে সড়ে যান বলছি। পুলিশ আসবে এখন। বিপদে পড়তে না চাইলে সময় থাকতে কেটে পড়ুন বলছি। বাঙালি বরাবরই উৎসুকের আড়ালে ভীতু জাতি। বিপদের কথা শুনে সবাই শেয়ালের মতো স্থান ত্যাগ করলো।

ডাক্তার একটা স্যালাইন টাঙিয়ে দিয়ে গেলেন। সাথে অনেক অষুধ পত্তর। তারপর ব্যাগ হাতে চলে গেলেন। মহসিন ডাক্তারকে টাকা পয়সা দিয়েছে।অষুধ এনেছে সে তার নিজের টাকাই। পৃথিবীতে তবে এখনও ভালো মানুষ আছে। ভালো মানুষ না থাকলে মনে হয় অনেক আগেই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যেতো!

মহসিন থানায় ইনফর্ম করেছে। তারপর তার কিছু বন্ধু নিয়ে সে বেরিয়েছে নিতুর খুঁজে। নিতু যে বিপদে পড়েছে এটা নিশ্চিত। তবে ও বেঁচে আছে কি না এটা বলা যাচ্ছে না!

* নিতুকে পাওয়া গিয়েছে তিনদিন পরে।সে নিজে নিজেই হেঁটে হেঁটে গভীর রাতে বাসায় ফিরেছে।এর আগে মহসিন আর তার বন্ধুরা,থানার সবকটা পুলিশ হন্য হয়ে খুঁজেছে। কিন্তু কোথাও খুঁজে পায়নি তাকে। মহসিন ব্যর্থ হয়ে বলেছে, 'ভাবী, আমরা খুঁজে পাইনি ঠিক কিন্তু নিতু আছে। আল্লাহ ঠিক তাকে ফিরিয়ে আনবেন ঘরে। ইনশাআল্লাহ!' মহসিনের কথা সত্যি হলো।নিতু ফিরে এসেছে।আমরা ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম।আর তখন দরজায় টোকা পড়লো। অনেকগুলো।আমি চমকে উঠলাম। মাকে ডাকলাম সঙ্গে সঙ্গে। মা উঠে ঘরের লাইট জ্বাললেন। তারপর হাতে টর্চ নিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বললেন, 'কে? কে দরজায় নাড়ছে?' ও পাশ থেকে নিতু বললো, 'মা আমি। আমি নিতু।' মা হাট করে দরজা খুলে দিতেই ভেতরে প্রবেশ করলো নিতু। এই নিতু আর তিনদিন আগে ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়া নিতু এক নয়। 

এই নিতুকে দেখলেই ভয় করে। তার গায়ে কোন জামা নেই। নগ্ন। বীভৎস এ দৃশ্য। সমস্ত শরীর জুড়ে শকুনের নখের আঁচড়। গালে কামড়ে যেন কোন শিয়ালের দল থোকা থোকা মাংসের দলা উবিয়ে  নিয়ে গেছে। নীচে শুধু এক টুকরো কাপড় বাঁধা। সেই কাপড়ও রক্তাক্ত আর ছেঁড়া-ফাটা।

নিতু কাঁদছে না। চুপচাপ আলনা থেকে একটা শাড়ি নামিয়ে নিজের গায়ে জড়িয়ে নিলো সে। তারপর ফ্লোরের উপর চুপচাপ বসে রইল। মা চিৎকার করে কাঁদছেন। ওকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন। ও মা, এ কী হইলো রে তোর মা! ও মা, মারে, ক্যান গিয়েছিলি তুই মা! নিতু উহ্ করে উঠে বললো, 'মা, প্লিজ আমার গায়ে হাত দিও না। ব্যথা করে খুব!' নিতুর চোখ দিয়ে ক' ফোটা গরম জল বেরিয়ে এলো।

আমার জন্য এসব হয়েছে। আমার জন্য গাড়ি আনতে গিয়ে অর্ধ মৃত হয়ে ফিরে এসেছে নিতু। মা বললেন,'কী হইছিলো নিতু? কই ছিলে তুই?কার কাছে ছিলে?' নিতু কিছুই বলছে না। কাঁদছে ‌। আমি বললাম, 'মা। আগে ওকে গোসল করিয়ে আনুন। তারপর কিছু খেতে দিন। খাওয়ার পর সব শুনবেন।' মা আমায় ধমকে উঠলেন। চুউপ কর তুই হারামজাদি। তোর জন্য আমার মেয়ের এই দশা!' নিতু কান্না থামিয়ে বললো,'মা,ও মা, ভাবীকে দোষছো কেন? ভাবীর জন্য না। তোমার আর তোমার ছেলের জন্য। তোমাদের পাপ আমায় গ্রাস করেছে!'

মা আর কথা বলছেন না।
নিতু বললো, 'মা, আমি অপবিত্র। আমার জন্য একটু গরম পানি করো। আমি গোসল করবো এখন।' মা নিতুর জন্য পানি গরম করলেন। তারপর সেই পানিতে নিতুকে গোসল করিয়ে দিলেন।গোসল করাতে গিয়ে তিনি কেঁদে জার জার হলেন। কাঁদলেন এই জন্য যে নিতুর সবটুকু শরীরেই ওদের বিষ দাঁত আর নখের আঁচড়। সারা শরীর জুড়ে ব্যথা।তার গায়ে পানি ঢালতেই সে চিৎকার করে কেঁদে উঠলো। পানি গিয়ে কাঁটা জায়গায় ধরছে খুব করে। নিতু বললো, 'মা আমি মরে যেতাম। একটা গাড়ির নিচে ঝাঁপ দিতাম ঠিক। কিন্তু মরিনি কেন জানো?' কেন?' কারণ আমি পাপ করিনি বলে। রেপড হওয়া কোন পাপ নয়। এই কথা প্রমাণ করতেই আমি বেঁচে আছি!' মা কাঁদছেন আবার। আর বলছেন, 'তোকে নিয়ে আমি কোথায় যাবো বল মা! তোকে তো সমাজের মানুষ দূর দূর করবে! আর ইশকুলে যেতে পারবি না। 

প্রাইভেটে, আত্মীয় স্বজনের বাড়ি!'
নিতু বললো, 'মা, কেন যেতে পারবো না? আমার তো হাত পা আছে। হাত পা তো ওরা ভেঙে দেয়নি! কিছুই বুঝিস না। সমাজের মানুষ যে তোর দিকে থুথু ছিটাবে রে মা!' কেন থুতু ছিটাবে? আমি কী কোন পঁচা ডাস্টবিন নাকি যে আমার থুতু ছিটাবে আমার দিকে? ওদের চোখে তুই এরচেয়েও বেশি পঁচা!' আমি ওদের চোখ উপড়ে ফেলবো।'

মা কাঁদছেন আবার। আর বলছেন,'তোর মাথায় কী কোন গন্ডগোল হয়েছে?ওরা কী মাথায় শক্ত কিছু দিয়ে আঘাত করেছে রে নিতু? নিতু বললো,'মা তুমি এখন চুপ করো। আর যাও আমার জামা কাপড় নিয়ে আসো। সকাল হতেই আমি ঘর থেকে বের হবো।থানায় যাবো। ওখানে গিয়ে ইবলিশগুলোর শরীরের বর্ণণা দিবো। তারপর হসপিটালে যাবো। ওখানে চিকিৎসা নিবো। ওখান থেকে সেবা নিয়ে এসে সুস্থ হয়ে তারপর স্কুলে যাবো। নিয়মিত প্রাইভেটে যাবো।'

মা তার মাথায় হাত চাপড়াচ্ছেন আর বলছেন, 'আহারে! মেয়েটার মাথা ধরে গেছে!' কিন্তু আমি জানি আমাদের নিতুর মাথা ধরেনি।সে আসলে চাচ্ছে সমাজের এই কালো নিয়মগুলো লাথি মেরে তাড়িয়ে দিতে। সে চাচ্ছে সত্যকে সহজ এবং সুন্দর ভাবে গ্রহণ করতে।ধর্ষিতা হওয়া তো কোন অপরাধ নয়। একাত্তরে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে যেসকল মেয়েরা ধর্ষিতা হয়েছিল পাক বাহিনীর দ্ধারা তাদেরকে সমাজের মানুষ কেমন অবহেলার চোখে দেখতো। অনেক পরিবার তাদের মেনে নিতে পারছিলো না। তখন বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, তোমাদের সবার বাড়ির ঠিকানা ৩২নম্বর রোডের ধানমন্ডির বাড়ি। এই বাড়ির মালিক শেখ মুজিব তোমাদের গর্বিত পিতা।স্বয়ং বঙ্গবন্ধু ধর্ষিতাদের সম্মান দিয়ে বুঝিয়ে গিয়েছেন ধর্ষিতা হওয়া  অসম্মানের কিছু নয় কিন্তু ধর্ষিতাকে হেয় করা অসম্মানের।যারা হেয় করে, তুচ্ছ ভাবে ধর্ষিতাদের তারা ধর্ষকদের ধূসর।এরাই মনে মনে সুযোগ খুঁজে ধর্ষণের!

ফজরের আজান হলো। তারপর ফুটলো ভোরের আলো। মহসিন এর আগে দুদিন বাজার নিয়ে এসেছিল সকালে। তাও তার টাকায়। বেচারা এতো ভালো কেন? কিন্তু আজ বোধহয় আসবে না। সে বুঝতে পেরেছে অপাত্রে পানি ঢেলে লাভ নেই। শুধু শুধু অপচয়! কিন্তু এই গোবেচারা আজকেও ঠিক অপচয় করতে এলো। হাতে বাজারের ব্যাগ।সে আসতেই মা তাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে উঠলেন হাউমাউ করে। মহসিন বললো, 'খালাম্মা, কী হয়েছে? কাঁদছেন কেন এভাবে?' মা কাঁদতে কাঁদতেই বললেন, 'নিতু ফিরে আসছে বাপ।' মহসিন বললো, 'আলহামদুলিল্লাহ। এটা তো খুশির খবর।

না বাবা খুশির খবর না। আমার মেয়েটার সর্বনাশ করে দিয়েছে ওরা! মহসিন খানিক সময় চুপ করে রইলো। তারপর কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারলো না। মুখ দেখেই অনুমান করা গেলো সে খুব কষ্ট পেয়েছে। এই সময় ঘর থেকে বেরিয়ে এলো নিতু।নিতুকে দেখে মহসিন চমকে উঠলো। এতো টুকু একটা মেয়ের এই হাল করেছে ওরা! মহসিনের রাগ পেলো। ভীষণ রকম রাগ পেলো। রাগে সে কাঁপতে কাঁপতে বললো,'নিতু, তোমার কী হয়েছে তুমি সব থানায় গিয়ে খুলে বলতে পারবে?'
'পারবো।'

যারা তোমার সাথে এরকম করেছে ওদেরকে তুমি কোনদিন আগে দেখেছো? দেখলেও চিনতে পারিনি তখন। ওদের মুখ বাঁধা ছিল কালো কাপড়ে। ওরা কোন জায়গা থেকে তোমায় তুলে নেয়?' বড় রাস্তার কাছ থেকে। ওখানে একটা সি এনজি দাঁড়ানো ছিল। সি এনিজির সাথে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল ভাইয়ার বন্দু রোহান ভাইয়ার মতো একটা কেউ। আমি ভাবলাম ও বোধহয় রোহান ভাইয়াই। কিন্তু কাছে যেতেই দেখি ওর মুখ কালো কাপড়ে বাঁধা। কিছুতেই চিনতে পারলাম না আর ওকে।

মহসিন নিতুর একটা হাত ধরলো খপ করে। তারপর বললো,'চলো। আমার সাথে চলো। নিতু অবাক হলো না।তার অস্বস্তিও হলো না অন্য একটা অপরিচিত ছেলে তার হাত ধরেছে। মহসিন তার হাত ধরে টেনে টেনে নিয়ে গেল ঘর থেকে বাইরে। তারপর একটা গাড়ি করে ওরা চলে গেল থানার দিকে।একটা অচেনা ছেলে এই মহসিন। আমাদের কিংবা নিতুদের রক্তের কেউ না। কিংবা তার সাথে আমাদের কারোরই আত্মীক কোন সম্পর্ক নাই। শুধু মানুষ হিসেবে অন্য কজন মানুষের সেবায় নিজেকে এভাবে বিলিয়ে দিচ্ছে। এমন মানুষ পৃথিবীতে খুব কম! খুব খুব কম!

থানায় গিয়ে কী হবে জানি না। বাংলাদেশের পুলিশ গুলো জানে শুধু ঘোষ খেতে। কাজের কাজ একটাও করতে পারে না। এই যে নিতুকে ধরে নিয়ে গেল তিনদিন হলো। অথচ তাকে খুঁজে পাওয়া দূরের কথা কোনো হদিস পর্যন্ত করতে পারলো না। অবশেষে সে নিজে নিজেই ফিরে এলো। এবার অবশ্য একটা কাজ খুব পারবে। মনের স্বাদ মিটিয়ে নিতুর কাছে জিজ্ঞেস করবে ধর্ষণের বর্ণণা।ওই ইবলিশগুলো তো শারীরিক ভাবে ধর্ষণ করেছে ওকে,আর থানায় ওরা কথায় কথায় ওকে ধর্ষণ করে ছাড়বে! অবশ্য মহিসনকে দিয়ে ভরসা আছে। এই ছেলের চোখ দেখলেই বোঝা যায়। পুলিশের বড় অফিসার ও যদি অপরাধ করে তবে এ এক চড়ে অফিসারের বত্রিশ দাঁত ফেলে দিয়ে আসবে!

নিতুরা এখনও ফিরেনি। সকাল শেষ হয়ে এবার দুপুর গড়াচ্ছে। মহসিন বোধহয় ওকে নিয়ে হসপিটালে গিয়েছে। মা কাঁদছেন। তার একমাত্র কাজ এখন গলা ছেড়ে কাঁদা!

নিতুর বলা একটা কথা আমার কানে বার বার বাজছে। সিএনজির সাথে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটা দেখতে রোহানের মতো। লম্বা মতো দেখতে রোহান। রোহান তো এমনিতে অনেক নম্র ভদ্র। তাছাড়া সে মিতুলের ভালো বন্ধু। বন্ধু হয়ে বন্ধুর বোনকে কেন তুলে নিয়ে দলবল সহকারে ধর্ষণ করবে সে? নাকি নিতু ভুল দেখেছে। হতেই পারে।হতে পারে রোহানের উপরের সুন্দর মুখোশটা ভুল অথবা নিতুর চোখের দেখাটা ভুল। পৃথিবীতে কতো ভুলের ছড়াছড়ি।কতো কতো ভুল।
ভুল ভুল সব কিছু ভুল!

* মহসিন নিতুকে নিয়ে ফিরে এসেছে।
বাসায় এসে সে জানালো এই থানার বর্তমান ওসি ভালো।নিতুকে তিনি অত ঘাঁটেননি। বরং আফশোস করেছেন। আর বলেছেন, অপরাধীদের  দ্রুত খুঁজে বের করবেন তিনি।আর অপরাধী আসলে কে তা নাকি তিনি অনেকটাই আন্দাজ করে ফেলেছেন। মহসিনের কাছ থেকে কথাটা শুনে আমার মন অতটা শান্ত হলো না।সব পুলিশেরাই আন্দাজ করে অনেক কিছু বলে। কিন্তু আন্দাজ কী সব সময় সত্যি হয়? তবে আমার খুব করে ধারণা হচ্ছে এই আন্দাজটা করেছেন তিনি মিতুলের বন্ধু রোহানের উপর। এখন দেখা যাক আসলে পুলিশ বাহিনী কী করতে পারে!

মহসিন চলে যাওয়ার আগে মাকে বলে গেল, 'খালা নিতুকে ঘুমের অষুধ দিয়েছে ডাক্তার। ও এখনও মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত। রিক্সা করে আসার সময় বার বার সে বলে উঠছিলো, ওই যে ওই লম্বা মতো লোকটা। একদম ওই ছিল। এই যে দেখুন কামড়ে আমার আঙুল টা কী করেছে! আমি তখন তাকিয়ে দেখলাম সামনে লম্বা মতো কেউ নাই আসলে। তারপর আরো কয়েকবার এমন করেছে ও।' মা আবার কেঁদে উঠেছেন। আমার মেয়েটাকে ওরা শেষ করে ফেলেছে। এই মেয়েকে নিয়ে আমি বিপদে পড়বো। ভয়ংকর বিপদে পড়বো।'

মহসিন মাকে একটু আড়ালে ডেকে নিলো। তারপর বললো, 'ওর সামনে এভাবে যদি আপনি কান্নাকাটি করেন একটানা তখন ওর অবস্থা কী হবে একটু ভেবে দেখুন! আর আপনিও অত টেনশন করছেন কেন? আল্লাহ তো আছেন। নিতুর কিচ্ছু হবে না! মা তবুও কাঁদছেন। কেঁদে কেঁদে বলছেন, 'ওকে তো আমি বিয়ে শাদিও দিতে পারবো না। কলঙ্কিনী মেয়েকে কে বিয়ে করবে বাবা?' মহসিন মার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো,'এ নিয়ে আপনার ভাবতে হবে না। কলঙ্কিনী মেয়েকে সে বিয়ে করবে যে বিশ্বাস করে এইসব ধর্ষণ একটা অনাকাঙ্ক্ষিত এক্সিডেন্ট।ধর্ষিতা হওয়া মানে কলঙ্কিত হওয়া না।

গল্প মায়াবতী - ৫ম পর্ব - জীবনের কষ্টের গল্প মায়াবতী - সেরা ধারাবাহিক বাংলা জীবনের গল্প, মায়াবতী গল্প, মায়াবতী পর্ব ১২ তমো মায়াবতী পর্ব ১৩ তমো মায়াবতী পর্ব ১৪তমো ১৫তমো পর্ব ১৬ তমো মায়াবতী পর্ব ১১তমো গল্প, মুগ্ধতা নিয়ে গল্প, সংসার নিয়ে গল্প, মায়া নিয়ে মায়াবতী গল্পের কথা, স্নিগ্ধতা নিয়ে গল্প, জীবন নিয়ে গল্প , মায়াবতী নিয়ে গল্পকার ৩য় পর্ব, মায়া নিয়ে স্ট্যাটাস বাংলা, মায়াবতী কষ্টকর, কেনো এতো মায়াবতী, কষ্টের সংসার, লেখা পিকচার কষ্টের, কষ্টের পিকচার মেসেজ, দুঃখ কষ্টের ছবি, শুধু কষ্টের পিকচার, কষ্টের পিকচার ডাউনলোড, কষ্টের কিছু ছবি, কষ্টের পিকচার HD, ভালবাসার কষ্টের পিকচার, কষ্টের পিক ছেলে, ছেলেদের কষ্টের পিক, কষ্টের পিকচার চাই, কষ্টের পিক মেয়ে
জীবনের কষ্টের স্ট্যাটাস পিক

আর ধর্ষিতা মেয়ে অন্য সাধারণ দশটি মেয়ের চেয়ে সম্মানিত। কারণ সে তার সাথে অত বড়ো অনাচার হওয়া সত্ত্বেও নিজের অধিকার আদায়ের জন্য বেঁচে আছে। আর যারা অধিকার আদায় করার জন্য বেঁচে থাকতে জানে তারা অন্য সাধারণ মানুষদের মতো নয়।এরা ব্যাতিক্রম। এরা অনন্য! মা বললেন, 'ও বাবা, এ যুগে কী এমন মানুষ আছে গো?' মহসিন মার এই কথার উত্তর দিলো না।সে চুপচাপ চলে এলো আমার কাছে। এসে বললো,'ভাবী, আপনার শরীর এখন কেমন? উইকনেসটা একটু কমেছে?'

আমি মৃদু হাসার চেষ্টা করে বললাম, 'কমেছে ভাই। এখন একটু বল পাচ্ছি শরীরে। তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার ভাষা জানা নাই আমার। আমাদের জন্য যা করছো তুমি!' আমার চোখ থেকে টপটপ করে জল নেমে এলো গালের দু পাশে। তারপর সেই জল গড়িয়ে পড়লো বালিশের উপর। মহসিন বললো, 'ভাবী, এখানে আমার কোন ক্রেডিট নাই। সবকিছু করছেন মহান আল্লাহ পাক। ওইদিন রাতে খালার কান্না শুনে ঘুম না ভাঙলে আমি হয়তো বা জানতেই পারতাম না আমাদের পাশেই একটা বাড়িতে কিছু মানুষ ভয়ংকর বিপদে পড়ে আছে। তিনি আমার মাধ্যমে তাদের সাহায্য করাতে চান। 

আমি তো নগণ্য এক মানুষ ভাবী। কৃতজ্ঞতা যদি প্রকাশ করতেই হয় তবে আপনি মহান আল্লাহর দরবারেই প্রকাশ করুন। আমার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আমায় লজ্জা দিবেন না।কারণ আমি আপনাদের পুরো হক্ব আদায় করতে পারছি না!' এই কথা বলে বেরিয়ে গেল মহসিন।ও চলে যাওয়ার পর ওর চলে যাওয়া পথের দিকে আমি তাকিয়ে রইলাম। হঠাৎ করে এই মহসিনকে আমার মনে হলো,ও একজন মহৎ মানুষ।মহৎ মানুষ বলেই কী রকম অবলীলায় নিজেকে তুচ্ছ ভাবে প্রকাশ করে বড় করে প্রকাশ করেছে তার সৃষ্টিকর্তাকে ।আর মহসিনের কথাগুলো তো মিথ্যে নয়।একটা কথা তো আছেই। পৃথিবীতে যার কেউ নাই তার খোদা আছে। তিনিই তার সৃষ্টির হেফাজত করেন। লালন পালন করেন!

নিতুকে ঘুমের অষুধ দেয়া হয়েছে।অষুধ খেয়ে সে ঘুমাচ্ছে।বেঘুর ভাবে ঘুমাচ্ছে। ঘুমাক। ওর ঘুমোবার প্রয়োজন আছে। অতটুকু একটা মেয়ে।এই মেয়েটার উপর এভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছে শয়তানের দলগুলো! এই দেশে আজকাল অহরহ এমন হচ্ছে। পত্রিকা খুললেই দেখা যায় দু বছরের মেয়ের উপর যৌন নির্যাতন। মেয়েকে ছয় মাস ধরে বাবার ধর্ষণ। মসজিদের ইমাম কিংবা মন্দিরের পুরোহিত আর গির্জার পাদ্রি, যারা ধর্মের শুদ্ধ পুরুষ তারাও এমন ভয়ংকর আর অপবিত্র কাজ করছে। ছিঃ! আমাদের সমাজের ভিতটা এভাবেই পঁচে গেছে,যাচ্ছে!

মা আমার প্রতি এখনও ক্রোদ্ধ। ভীষণ রকম ক্রোদ্ধ। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, 'মা, আপনার কী মনে হয় রোহান অপরাধী?' মা মুখ বাঁকিয়ে আমার কাছ থেকে চলে গেলেন। তারপর আবার জিজ্ঞেস করেছিলাম, 'মা, মহসিন আমাদের জন্য যা করছে এই ঋণ আমরা কিছুতেই শোধ করতে পারবো না!' মা তখনও কোন কথা বলেননি। এরপর আমি আরেকবার মাকে বললাম,'মা, আল্লাহর কী রহমত দেখুন,আমরা যখন ভয়ংকর একটা বিপদে পড়েছি তখন তিনি কীভাবে মহসিনের মতো ভালো একটা ছেলেকে আমাদের ত্রাণকর্তা হিসেবে পাঠিয়ে দিলেন!'

মা এবার কথা বললেন। কিন্তু এই কথাটা ভয়ংকর। তিনি বললেন, 'তুমি আমার সাথে কোন কথা বলবা না। আমার মাইয়ার এই দুর্দশার পেছনে তোমারও হাত আছে! মার কথা শুনে আমার চোখ ফেটে জল এলো। মা এসব কী বলছেন! আমি সঙ্গে সঙ্গে কান্নাভেজা গলায় বললাম, 'মা, আপনি এমন কথা বলতে পারলেন আমায়?' মা রাগত স্বরে বললেন, 'বলতে পারলাম মানে? আমার তো থানায় গিয়া বলা উচিৎ যে আমার মেয়েরে ধর্ষণ করাইছে আমার ঘরের বউ।'

মার এই কথাটা শুনে আমার বুকটা ধ্বক করে উঠলো। চোখ বড়ো বড়ো হয়ে উঠলো। মাথা ভনভন করতে লাগলো। এতো কিছু ঘটে যাওয়ার পরেও মা একটুও পরিবর্তন হতে পারলেন না।তার আচরণ বরং আগের চেয়েও খারাপ হয়েছে। তিনি কী তবে একটুও পরিবর্তন হবেন না কোনদিন?

* নিতু ঘুমোচ্ছে। দিন-রাত, রাত-দিন ‌। পুলিশ তদন্ত করছে। গভীর তদন্ত। কিছু লোক আছে তাদের সন্দেহের ভেতর। এদের মধ্যে রোহান আছে কি?

মহসিন আসলেই মা কাঁদেন। যেমন একটু আগে ফজরের নামাজ পড়ে মহসিন ব্যাগ ভর্তি বাজার,অষুধ পত্তর নিয়ে এলো। মা তখন তার সামনে দাঁড়িয়ে তার হাত থেকে বাজারের ব্যাগ নিতে নিতে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন তিনি। মহসিন অবাক হয়ে বললো, 'খালা কী হয়েছে? কাঁদছেন কেন?' মা আঁচলে চোখ মুছতে মুছতে বললেন, 'বাবা, নিতুকে নিয়ে আমি কোথায় যাবো বলো? মানুষ খারাপ কথা বলে। ওকে আমি বিয়ে শাদি দিতে পারবো না কোনদিন!' মার এটা জপুনি হয়ে গেছে।নাকি মহসিন এলেই শুধু তিনি ইচ্ছে করে এমন করেন!হতেই পারে।

মহসিন বললো, 'খালা, আপনাকে আগেও বলেছি এইসব কিছু নিয়ে আপনি ভাববেন না। নিতু সুস্থ হোক।আমি তো আছি। নিতুকে নিয়ে আপনি বিপদে পড়বেন না। তুমি আর কয়দিন থাকবা গো বাপ! বিয়ে শাদি করলে তো আর বউমা তোমারে আমাদের বাড়িতে আসতে দিবো না! মহসিন এই কথা কাটিয়ে গেলো। সে বললো, 'খালা, যান রান্না করুন।রান্না করে নিতুকে ঘুম থেকে তুলে খাইয়ে দিয়ে অষুধ খাওয়ান। মাকে এই কথা বলে মহসিন চলে এলো আমার কাছে। এসে আমার পাশে বসলো।ঠিক যেমন আপন ভাইটি এসে তার বোনের কাছে বসে সেভাবেই।

মহসিন আমায় বললো, 'ভাবী, খালা নিতুকে নিয়ে ভীষণ দুশ্চিন্তায় ভোগছেন! আমি ভেবে অবাক হই! এমন একটা লক্ষ্মী মেয়েকে নিয়ে কেউ অতো দুশ্চিন্তা করে!' আমি কোন কথা বললাম না। শুনে চুপ করে রইলাম। মহসিন আমায় চুপ করে থাকতে দেখে নিজেই আবার বললো, 'ভাবী, নিতুকে যদি আপনাদের বোঝা মনে হয় তবে ওকে আমি নিয়ে যাবো।আমি বিয়ে করবো নিতুকে। এতে আমার মান সম্মান ক্ষুন্ন হবে না একটুও!'

মহসিনের এই কথা শুনে যেন আমার কিছুতেই বিশ্বাস হতে চায় না। ও কী সত্যি সত্যি এই কথা বলছে না মজা করছে! আমি কাঁপা কাঁপা গলায় বললাম, 'ভাই, সত্যি বলছেন?' মহসিন বললো,'একশোবার সত্যি বলছি। কিন্তু মাকে এখন কিছুই জানানো যাবে না। কিন্তু মা ঠিকই শোনে ফেললেন। মহসিন আমার কাছে এলে তিনি দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকেন। মহসিন এটা জানে না। কিন্তু আমি জানি। মা দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে উঁকিঝুঁকি বেয়ে দেখেন মহসিন আমার সাথে কী সব কথা বলে।কী করে আমার সাথে! মা আজ মহসিনের মুখ থেকে খুশির সংবাদ টা শোনে দৌড়ে ঘরে ঢুকে গেলেন। তারপর পাগলের মতো আচরণ করতে শুরু করলেন। তিনি মহসিনের একটা হাত ধরে বললেন,'তুমি আমারে বাঁচাইছো বাপ! তুমি আমারে জন্মের বাঁচন বাঁচাইছো।

মহসিন লজ্জায় মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে নেয়।আমি বলি,'মা, আপনি এখন যান। নিতুকে ঘুম থেকে তুলে খাইয়ে দিন গিয়ে। মা আমার দিকে তখন রাগী রাগী চোখে তাকান। তারপর মুখ কালো করে ঘর থেকে বেরিয়ে যান। মার এইসব আচরণ দেখে আমার কান্না পায়।মন খারাপ করে। তবুও মহসিনের সামনে নিজেকে সুখি মানুষ হিসেবে প্রকাশ করি। ঠোঁটে একটা মৃদু হাসি ঝুলিয়ে রাখি অতি কষ্টে। মহসিন এবার জিজ্ঞেস করে মিতুলের কথা।ও কী কোন ফোন করলো কি না।অথবা কোথায় আছে এইসব কিছু আমরা জানি কি না!
আমি বললাম, কিছুই জানি না। তারপর সে জিজ্ঞেস করলো রোহানের কথা।

বললো, 'ভাবী, রোহানকে পুলিশ খুঁজছে। কিন্তু পাচ্ছে না। এতেই সন্দেহ হয়! আমি খানিক সময় চুপ করে রইলাম। তারপর বললাম, 'আমি যতোটুকু জানি রোহান ভালো ছেলে। অনেক ভালো। কিন্তু সে এমন কীভাবে করতে পারে! মহসিন মাথা চুলকাতে চুলকাতে কিছু বলতে চেয়েও বললো না। আমিই জিজ্ঞেস করলাম ওকে। বললাম,'রোহানকে চিনতে তুমি?'
'চিনি।'
'তোমার চোখে ও কেমন?'
'আমার ওকে খুব সন্দেহ হচ্ছে।'
'কেন সন্দেহ হচ্ছে?'
'কারণ ঘটনার দিন রাত্রি বেলা রোহানকে আমি  আমার দোকানের সামনে দিয়ে যেতে দেখেছি একবার ‌। যদিও তা এশার আজানের সময়। কিন্তু ঘটনা ঘটেছে তো অনেক রাতে!'

রোহান ওখান দিয়ে গেলেই যে ও এমন করেছে এটা নাও হতে পারে! কিংবা হতেও পারে। বলা তো আর যায় না কার ভেতর কী থাকে! মা তখনও দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমার বলা কথাটা শুনেই তিনি চটজলদি ঘরের ভেতর ঢুকলেন। আর আমার কাছে এগিয়ে এসে মহসিনের সামনেই বললেন, 'বউ, তুমি যে বললা রোহান নিরপরাধী, এইটা কেমনে বললা তুমি? নিতু তোমার জন্য কী না করছে বউ? তবুও তুমি তার সাথে শত্রুতা শুরু করলা যে!'

আমি অবাক হয়ে বললাম, 'মা, আমি ওকে নিরপরাধ কখন বললাম? আমি তো বলেছি,ও তো ভালো ছিল।ও এমন করতে পারলো কীভাবে?। ওকে নিরপরাধী তো আমি বলিনি! আর আপনিও তো রোহানকে ভালো রকম চিনেন। নিজের ছেলের মতো ওকে আদর সোহাগ করতেন! এমন একটা মানুষ সম্পর্কে এসব ভাবতেও তো খারাপ লাগে। কিন্তু মা আমি এটা বলিনি যে ও নির্দোষ! এরমধ্যেই মা বললেন, 'তুমি তো দেখি এখন মহসিনরেও অবিশ্বাস করতেছো! মহসিন এবার কথা বললো। সে বললো, 'খালা, আপনি আসলে বিষয়টা বুঝতে পারেননি।ভাবী‌ রোহানকে নির্দোষ বলেনি।ভাবী এটা বুঝাতে চেয়েছে যে ভালো মুখোশ পরা মানুষ গুলো হঠাৎ কীভাবে বদলে যায়!' মা তবুও রাগ নিয়ে এখান থেকে চলে গেলেন। আমি নিশ্চিত মহসিন এখান থেকে চলে গেলে মা আমায় হাজারটা মন্দ কথা বলবেন। সে বলুক। এখন মহসিনের সাথে কিছু কথা বলে নেই। মহসিন বললো, 'ভাবী, রোহান যে অপরাধী এটা আমার কাছে আরো স্পষ্ট। কেন জানেন? আমি আরো অবাক হয়ে বললাম, 'কেন? সে বললো, 'এখন বলবো না। আগে ও ধরা পড়ুক। তারপর জানবেন।'

মহসিন চলে গেল।ও চলে যাওয়ার পর হঠাৎ মিতুলের নম্বর থেকে আমার ফোনে একটা কল এলো। আমি ভীষণ ভাবে চমকে উঠলাম। এটা কী সত্যি? হ্যা সত্যি। মিতুল নামে সেভ করা।এগারো নম্বরের শেষের দুই ডিজিট আটাশ। কিন্তু ফোন রিসিভ করতে করতে কেটে গেল। তারপর কতো সময় ধরে যে অপেক্ষা করেছি সে আর কল দেয় না।আমি এখান থেকে ডায়েল করি। ফোন বন্ধ। সংযোগ বিচ্ছিন্ন! মাকে ডেকে খবরটা জানাতে চাই। কিন্তু সাহস হয় না। কারণ একটু আগেই তিনি আমার চুল ছিঁড়তে এসেছিলেন। ভাগ্যিস কী মনে করে যেন চলে গেলেন। চুল পর্যন্ত আর হাত নিয়ে আসেননি। আমার কান্না পাচ্ছে। মিতুল কী মনে করে হঠাৎ ফোন করেছিল? ওদের কী কোন বিপদ হলো? নাকি কিছু বলতে চায় ও!রোহানের বিষয়ে কিছু বলতে চায়?

রাত একটার সময় একটা ফোন এলো।আমি ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। ঘুম থেকে ধরফড় করে উঠে ফোন রিসিভ করি। মহসিনের নম্বর। কিন্তু গলাটা মহসিনের নয়। একটি মেয়েলি গলা। সেই মেয়ে জানালো,'আপনি কী উনার ভাবী? মানে নম্বরটা ভাবী নামেই সেভ করা ফোনে! আপনার দেবর মারাত্মক ভাবে আহত হয়ে হসপিটালে এডমিট আছে এখন।তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।জলদি আসুন আপনারা।' আমি বলতে চাইলাম কোন হসপিটাল? কিন্তু এর আগেই ফোন কেটে গেল। তারপর অনেকবার ফোন দেয়ার পরেও কেউ রিসিভ করলো না ওপাশ থেকে। 

* আমার খুব কান্না পাচ্ছে। অস্থির লাগছে সবকিছু। শরীর এখনও সুস্থ হয়নি। বিছানা থেকে উঠতে গেলে কষ্ট হয়। হাঁটতে গেলে মনে হয় মাথা ঘুরে পড়ে যাবো। কিন্তু এই খবরটা শোনার পর এক লাফে উঠে গেলাম শুয়া থেকে। তারপর খাট থেকে নেমে দ্রুত পায়ে চলে গেলাম মার ঘরে মার কাছে। গিয়ে দেখি মা ঘুমাচ্ছেন। মায়ের শরীরে প্রচন্ড জোরে ঝাঁকুনি দিয়ে বললাম,'মা,ওমা, মহসিন আহত হয়ে হসপিটালে ভর্তি!' মা ঘুম থেকে উঠে চোখ কঁচলে বললেন,'কী বললা? মহসিন আহত হয়েছে ভীষণ। এখন হসপিটালে ভর্তি।'
'কোন হসপিটালে?'
মা কাঁপা কাঁপা গলায় বললেন।
আমি বললাম,'তা তো জানি না।'
'শুনলা কেমনে এই খবর?'
'একজন মহিলা ফোন করেছিল।'
'কী বলছে ফোন করে?'
'ও খুব আহত।'
'কেউ মেরেছে নাকি?'
'জানি না তো।এক্সিডেন্টও তো করতে পারে!'
'কী জানি!'
'মা আসুন এক্ষুনি আমরা যাই।'
'না। 

তুমি যাবে না। এই শরীর নিয়ে কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন নাই। তাছাড়া তুমি গেলে নিতুকে কে দেখবে? বাসায় ও একা থাকবে কী করে! তারচেয়ে আমি একা যাই। গিয়ে দেখি কী অবস্থা।আর ওর ফার্মিসিতে গেলেই খবর মিলবে ও কোথায় আছে!'
মা অবশেষে একাই গেলেন।আমি আর নিতু বাসায় রয়ে গেছি। নিতুর ঘুম এখন কমেছে। কিন্তু সে আর আগের মতো কথাবার্তা বলে না।সব সময় চুপচাপ শুয়ে থাকে।অপলক চেয়ে থাকে উপরের দিকে। মাঝেমধ্যে তার চোখ লাল হয়ে থাকে।মনে হয় একা একা মন খারাপ করে কাঁদে! কিন্তু তাকে আমি কিছু জিজ্ঞেস করি না।এতে যদি তার আরও মন খারাপ হয়!

মহসিন কীভাবে আঘাত পেয়েছে জানি না। কতো ভালো একটা ছেলে।ওর সাথে আবার শত্রুতা কার থাকবে? হয়তো গাড়ি এক্সিডেন্ট করেছে। হতে পারে রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় কোন গাড়ি এসে উঠে গেছে তার শরীরে! মা আসার আগ পর্যন্ত বোধহয় কিছু জানা যাবে না। না জানা গেল এক্ষুনি। মা বের হওয়ার খানিক পর পরই।মহসিনের নম্বর থেকে আবার কল এসেছে। যে মেয়েটি আগে কল করেছিল সে একজন নার্স। 

নার্স মেয়েটি এবার বললো, 'আপনি কী বৃষ্টি?'
আমি বললাম, 'জ্বি। আমি বৃষ্টি।'
'আপনার সাথে মহসিন একটু কথা বলতে চায়। যদিও ওর অবস্থা খুব খারাপ। কিন্তু সে‌ জানে আপনি হসপিটালে আসতে পারবে না। তাই সে ফোনেই আপনার সাথে কথাটা বলতে চায়! আমি বললাম,'ওর অবস্থা কেমন এখন? নার্স মেয়ে শক্ত মুখে বললো,'সুবিধার না। পেটে চাকু ঢুকিয়ে দিয়েছে। কলিজা বোধহয় কেটে গেছে!'

শুনে আমার ভেতরটা কেমন কেঁপে উঠলো ভয়ংকর ভাবে। কে এমন করলো? মহসিনের অতো বড় শত্রুটা কে? নার্স এবার মহসিনের কাছে গিয়ে ফোন ধরলো। মহসিন খুব কষ্ট করে কথা বলছে।সে কাঁপা কাঁপা গলায় বললো, 'ভাবী, আমি বলেছিলাম না রোহানকে আমার সন্দেহ হচ্ছিল এটা সত্যি হলো। পুলিশের কাছে দৌড় ঝাঁপ করায় আর আপনাদের বাসায় ঘন ঘন যাওয়ায় সে আমায় মেরেছে। ভয়ংকর ভাবে মেরেছে। বেঁচে আসবো কি না এবার জানি না। তবে আপনি নিতু কে নিয়ে সাবধানে থাকুন। ঘরেও কিন্তু শত্রু আছে আপনার।' কথাটা শেষ করতে পারলো না মহসিন।

বড় ডাক্তার এসে ধমকে উঠেছে নার্সকে। ডাক্তার বলছে, 'মৃত্যু সয্যায় একটা রোগীকে নিয়ে মজা হচ্ছে!ওর হাতে ফোন দিলে কেন তুমি? কোন সাহসে?' নার্স মহিলা বোধহয় ভয় পেয়েছে। তাই সে সঙ্গে সঙ্গে ও পাশ থেকে ফোন কেটে দিয়েছে।

বাইরের শত্রু রোহান কিন্তু ঘরের শত্রুটা কে? পৃথু, মিতুল? ওরা তো এখন বাইরের! নাকি কাছে পিছেই কোথাও আত্মগোপন করে আছে ‌। ওখান থেকে এসব পরিচালনা করছে। কিন্তু মিতুল তো আর তার আপন বোনের অত বড়ো ক্ষতি করবে না। বাকী থাকে পৃথু। আচ্ছা পৃথু কী মিতুলকে ছেড়ে অন্য কোথাও চলে গেছে। তারপর ওখান থেকে এসব করছে? মিতুল তো কাল ফোন করেছিলো। তবে কী সে এই খবরটা জানাবার জন্যই ফোন করেছিল!

সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হলো আমি যা ভেবেছিলাম তাই হলো। মিতুল ফিরে এসেছে এবং সে একা। সে এসে বললো, 'বৃষ্টি, আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে! সব শেষ হয়ে গেছে! আমি চুপ করে রইলাম।ওর সাথে কথা বলার কোন রুচি হলো না। সে এবার আমার হাত ধরতে চাইলো। কিন্তু আমি দূরে সড়ে গেলাম। এবার সে কাঁদতে শুরু করলো।

এই সময় ধীরে ধীরে হেঁটে নিতু এলো এখানে। তারপর মিতুলকে সে বললো, 'তুই এখানে কেন এসেছিস?' মিতুল মাথা নিচু করে চুপ করে রইলো। নিতু এবার ভীষণ জোরে ধমকে উঠলো। বললো, 'কথা কানে ঢুকছে না তোর? বলছি তুই এখানে কেন এসেছিস? তুই আর কী চাস? নিজের সন্তানটা তোর জন্য মারা গেছে।তোর রক্তের বোনটা রেপড হয়েছে। আরেকটা ছেলে যে কি না আমাদের সাহায্য করতে এগিয়ে এলো সেও আজ জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে হসপিটালের বেডে পড়ে কাতরাচ্ছে।আর কতজনকে নিয়ে খেলতে চাস তুই?এরচে বিষ এনে দে।আমরা সবাই খেয়ে একসাথে মরে যাই। তারপর তুই বেঁচে থাক। 

তোর শখ পূরণ হোক!'
নিতুর চোখ বেয়ে টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে গালের উপর। কী যে মায়া হচ্ছে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে! মিতুল এবার শব্দ করেই কেঁদে উঠলো। হো হো করে কাঁদছে ও।এই কদিনে ওর চেহারা খানিক ভেঙেছে। সুন্দর এবং কালো বড়ো বড়ো চোখ দুটো লাল সিঁদূরের মতো হয়ে আছে। চোখের নীচে গাঢ় কালি জমেছে। নিতু চুপচাপ ওখান থেকে বেরিয়ে গেল। মিতুল কাঁদছেই। আমার কী করা উচিৎ এখন? ওকে মাফ করে দেয়া? এতো কিছুর পরেও কী অত সহজ ভাবে কাউকে ক্ষমা করা যায়?আমি জানি না!

মিতুল কান্নাভেজা গলায় বলছে সবকিছু।বলছে,'বৃষ্টি,আমি ভুল করেছি।পৃথুই আমাকে প্লেইস দিয়েছিল ওর কাছাকাছি যাবার।আমি প্রথম প্রথম নিজেকে কন্ট্রোল করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দূর্ভাগ্য আমার।আমি পারিনি নিজেকে কন্ট্রোল করতে।প্রথম প্রথম ওর প্রতি আমার ফিজিক্যাল একটা টান ছিল। ওখানে ঠিক ভালোবাসা বলতে কিছু ছিল না। ভেবেছিলাম খুব দ্রুত ওর কাছ থেকে সড়ে আসবো। কিন্তু পারিনি। ততদিনে মানসিক ভাবে ওর প্রতি উইক হয়ে পড়ি আমি। ভালোবেসে ফেলি ওকে। তারপর তোমার সাথে দূর্ব্যবহার শুরু করি।আর একটা সময় বাড়ির আর কারোর কথা না ভেবেই শুধুমাত্র ওকে হ্যাপি করার জন্য বাড়ি থেকে পালিয়ে যাই। পৃথু বলেছিল ওর পেটে আমার বেবি। কিন্তু এখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর জানতে পারি এই বেবিটা আমার নয়। অন্য একজনের। মিতুল বলে চলছে।আর এখানে এসে সে থেমে যায়।তার কপাল ঘামছে।সে এবার তার কপালের ঘাম মুছলো। তারপর বলতে শুরু করলো আবার।

কিন্তু ঠিক এই মুহূর্তেই একটা কল আসে আমার মোবাইলে। গলাটা পৃথুর। পৃথু বললো, 'বুবু, আমার অনেক কথা আছে তোর সাথে। সবকিছু তোর সাথে খুলে বলতে চাই। আমি এতোক্ষণ রোহানের কাছেই ছিলাম। এখন পালিয়েছি। তুই আমার সাথে একটু দেখা করতে পারবি প্লিজ!দেখা না করলে তোরই ক্ষতি হবে। প্লিজ! এবং তোর একা দেখা করতে হবে। আমি কী বলবো বুঝতে পারছি না। আচ্ছা এটা কী ওর কোন ফাঁদ?জানি না। তবুও বোকার মতো বলে ফেললাম, 'আমি তোর সাথে দেখা করবো।

চলবে

সবার আগে গল্প পেতে আমাদের অ্যাপটি ডাউনলোড করে রাখতে পারেন! ধন্যবাদ

আমাদের অ্যাপ ফ্রি ডাউনলোড

Post a Comment

কমেন্টে স্প্যাম লিংক দেওয়া থেকে বিরত থাকুন

Previous Post Next Post