Facebook SDK


যা জানা প্রয়োজন - তায়াম্মুম সম্পর্কে ইসলামি ও জীবন

গত জানুয়ারির ঘটনা। একটা মাহফিলে গিয়েছিলাম ওয়াজ শুনতে। মাহফিল চলাকালীন সময়ে এশার আযান হলে সবাই নামাজের জন্য দাঁড়িয়ে যায়। আমার পাশে যিনি দাঁড়িয়েছিলেন তার ওজু ছিলো না। আর এই মুহূর্তে যে ওজু করবেন তারও কোনো সুযোগ নেই। 

মাহফিলে অনেক লোক সমাগম হয়েছিলো আর নামাজ শুরু হয়ে যাচ্ছে বিধায় বেরিয়ে যাওয়ারও সুযোগ ছিলোনা। আর সবার মাঝখানে একা বসে থাকাটাও কেমন দেখায়। তাই তিনি মাটিতে হাত ঘষে তায়াম্মুম করতে লাগলেন।

আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তার তায়াম্মুম করা দেখছিলাম এবং আমি বেশ অবাক হলাম যখন দেখলাম তিনি ওজুর নিয়মে তায়াম্মুম করছেন। এই বয়সেও উনি তায়াম্মুমের নিয়ম জানেননা? উনার কাজ শেষ হলে আমি বললাম, ভাইয়া কিছু মনে করবেননা, আপনার তায়াম্মুম করা হয়নি। এই বলে আমি তাকে তায়াম্মুমের নিয়ম শিখিয়ে দিলাম। তখন তিনি আবার সঠিক নিয়মে তায়াম্মুম করে নামাজ আদায় করলেন।

এমন অনেকেই আছে যারা ইসলামের বেসিক বিষয়গুলো সম্পর্কে অনেকটাই অজ্ঞ বলা যায়, পাথর দিয়ে তায়াম্মুম, ফরজ গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম, তায়াম্মুম অর্থ কি, তায়াম্মুমের কয় ফরজ, দেয়ালে তায়াম্মুম, তায়াম্মুম ভঙ্গের কারণ, তাইমুন করার নিয়ম, তায়াম্মুমের উপকরণ, তায়াম্মুমের ইতিহাস, তায়াম্মুম সম্পর্কিত আয়াত, তায়াম্মুম সম্পর্কে কুরআনের আয়াত, তায়াম্মুম কত
যা জানা প্রয়োজন - তায়াম্মুম নিয়ম - ইসলামি ও জীবন - Islamic Status

শুধু ঐ ব্যক্তিই না, এমন অনেকেই আছে যারা ইসলামের বেসিক বিষয়গুলো সম্পর্কে অনেকটাই অজ্ঞ বলা যায়। ফরয গোসল, তায়াম্মুম, ওজু, নামাজ ইত্যাদি বিষয়ে অনেকেই সঠিকভাবে জানেনা। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্য। বয়স হয়ে যাওয়ার কারণে অনেকে লজ্জায় কারো কাছে জিজ্ঞেসও করেনা। অথচ এগুলো জানা খুবই প্রয়োজন। 

আমার স্পষ্ট মনে পড়ে, আমরা ছোটবেলা একসাথে সুর করে এগুলো শিখতাম। শুধু মুখে মুখেই শিখতামনা, আমরা এগুলো ব্যবহারিকভাবেও শিখতাম। স্কুলের বারান্দায় পা রাখার আগেই বেসিক বিষয়গুলো মোটামুটি শিখা হয়ে যেত। কিন্তু এখন অনেক সময় ইন্টারপড়ুয়া ছাত্রকেও যদি এগুলো জিজ্ঞাসা করা হয় তাহলে বোবার মত চেয়ে থাকে। এরচেয়ে বড়রাও অনেক সময় পারেনা।

ছোটবেলা আমরা কত সুন্দর করে সুর দিয়ে পড়তাম, 'তায়াম্মুমের ফরয তিনটি। এক নম্বর- নিয়ত করা। দুই নম্বর- পাক মাটিতে হাত মাড়িয়ে সমস্ত মুখমণ্ডল মাসেহ করা। তিন নম্বর- পাক মাটিতে হাত মাড়িয়ে দুই হাতের কনুই পর্যন্ত মাসেহ করা।

তায়াম্মুমের নিয়ম হলো নিয়ত করে শুধু মুখ আর দুই হাত মাসেহ করা। এছাড়া আর কিছু লাগেনা।

১: এজন্য প্রথমে পবিত্র মাটি খুঁজে নিয়ে তাতে উভয় হাতের তালু ঘষে নিতে হবে। এরপর ভালোভাবে সমস্ত মুখ মাসেহ করতে হবে।

২: মুখ মাসেহ করা শেষ হলে আবার মাটিতে আগের মতো হাত ঘষে নিয়ে উভয় হাতের কনুই পর্যন্ত মাসেহ করতে হবে ভালোভাবে। 

তবে মাটি অবশ্যই পবিত্র হতে হবে। আর মাটি জাতিয় সব কিছুতে তায়াম্মুম করা যায়। কিন্তু বাশ, স্টিল, তামা, লোহা ইত্যাদি যেগুলো মাটি জাতিয় নয় সেগুলোতে তায়াম্মুম হবে না। কিন্তু যদি এতে ধুলো জমে থাকে তাহলে তায়াম্মুম হবে। আর হ্যা, তায়াম্মুম সবসময় করা যাবেনা। যদি পানি পাওয়া না যায় কিংবা কোনো শারয়ী ওজর থাকে কেবল তখনি তায়াম্মুম করা যাবে।

যা জানা প্রয়োজন
লেখা: নাবিল হাসান
১ম: মিম্বার Minbar

আমাদের অ্যাপ ফ্রি ডাউনলোড

Post a Comment

কমেন্টে স্প্যাম লিংক দেওয়া থেকে বিরত থাকুন

Previous Post Next Post