face hide girl pic


চাচাতোবোন পঞ্চমবারের এইচ,এস,সি ফেল করেছে।সব সাবজেক্টে পাশ অনেক আগেই করেছে,শুধু ইংরেজীতে বারবার ধরা খায়।এখন সে আমাদের বাড়িতে বসে আছে,তার কান্না থামানো যাচ্ছে না।পরীক্ষায় ফেল করেছে এজন্য কাঁদছে না,এবার চাচা জোর করে হলেও বিয়ে দিবে,সেই জন্য কাঁদছে।চাচা আগেই বলছে,এইবার ফেল করলে তার বিয়ে দিয়ে দিবে।

---রিমি এবার তো কান্না থামাবি।
---থামাব মানে।তুই কি বুঝবি,আমার কষ্ট।আমার ঐ ছেলেকে বিয়ে করার মোটেই ইচ্ছা নেই।
---আরে ছেলেটা খারাপ কোথায়।চাচার বন্ধুর ছেলে।ভালো চাকরি করে,বাপেরও টাকাপয়সা আছে।
---আমার টাকাপয়সাওয়ালা লাগবে না।ঐরকম ভুঁড়িওয়ালা,টাকলুকে আমি বিয়ে করব না।
---এমন বাচ্চাদের মত আচরণ করিস না।মন শক্ত কর।যাই বলিস,চাচা এবার তোর বিয়ে দিয়েই ছাড়বে।

হঠাৎ রিমি  চুপ মেরে গেল।কি যেন ভাবতে শুরু করল।কিছুক্ষণ পরেই আবার কথা বলা শুরু করল।

---নিলয়!!
---হুম।
---আব্বা তো এবার আমার বিয়ে যে করেই হোক দিয়েই ছাড়বে,ঠিক না।
---হুম,হান্ড্রেড পার্সেন্ট।

রিমি মুচকি হাসতে লাগল।আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম।
---হাসছিস যে!!তার মানে তুই বিয়েতে রাজী।ভেরী গুড,ভাল ডিসিশন।
---হুম বিয়ে করব, কিন্তু ঐ টাকলা,ভুঁড়িওয়ালাকে নয়।তোকে বিয়ে করব।

রিমির কথা শুনে চোখছানাবড়া হয়ে গেল।মেয়েটা বলে কি!

---কি উন্মাদের মত কথা বলছিস!
---ঠিকই,বলছি।তোকে আমার অনেক পছন্দ,শুধু এতদিন বলিনি।আসলে কিভাবে বলব বুঝিনি।

আমি কিছুক্ষণ হেসে নিলাম।
---মজা করছিস,বুঝতে পারছি।
---আমি সিরিয়াস,আমার তোকেই পছন্দ,তোকেই বিয়ে করব।
---রিমি পাগলামি করিস না।আমি তোকে বিয়ে করতে পারবনা।
---তুই ভয় পাচ্ছিস,সবাই কি ভাববে তাইনা।চিন্তা করিস না,আমি সবাইকে রাজী করাব।তাছাড়া টাকলুর সাথে বিয়ে পাকাপাকি হয়নি।

বিড় বিড় করে বলতে লাগলাম,সবাই রাজি হয়ে যাবে,এই ভয়ই পাচ্ছি।বাড়ির সবাই যেন,তাকে আমার থেকেও বেশি ভালবাসে।

---কিছু বললি।
---কই নাতো।
---এত টেনশন নিস না,সব ঠিক হয়ে যাবে।
---রিমি,বইন তোর জন্য আমি নিজে সুদর্শন,স্মার্ট,যার বডি ফিটনেস ভাল,এমন পোলা খুঁজে বের করে আনব।চাচাকে বোঝানোর দায়িত্ব আমার।আমাকে বিয়ে করার কথা ভাবিস না।

---নিলয়!!
---হুম।
---তুই কি জানিস,আমি বার বার পরীক্ষায় ফেল করার পরও,বার বার পরীক্ষা দিয়েছি!!!
---আমি কিভাবে জানব।

রিমি মুচকি হেসে বলল।
---গাধা কোথাকার।আমি তোকে পছন্দ করি বলেই,বারবার পরীক্ষা দিয়েছি,ফেল করার পরও।এভাবে এতবছর ধরে বিয়েটা আটকে রেখেছি।নয়তো আব্বা আমাকে কত আগেই বিয়ে দিতে চেয়েছিল,টাকলুটার সাথে।এতদিন হয়ত পছন্দের কথা আব্বাকে বলেই দিতাম,শুধু তোর অনার্স শেষের অপেক্ষায় ছিলাম।
---তোর মাথা সত্যিই খারাপ।তুই যা তো আমার সামনে থেকে।আমার মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে।
---যাচ্ছি বাবা!

রিমি চেয়ার থেকে উঠে গেল,বাড়ির যাওয়ার জন্য।রিমিদের বাড়ি আমাদের বাড়ি থেকে বেশি দূরে নয়।

হাসতে হাসতে বলে গেল,চিন্তা করিস না,বিয়ে আমি তোকেই করব,তোর মনে অন্য কেউ থাকলে ঝেড়ে ফেল।

যাওয়ার সময়,রান্নাঘরে আম্মার সাথে কি যেন বলে গেল।আমি আম্মার কাছে শোনার প্রয়োজন মনে করিনি।

চিন্তায় থাকার কথা রিমির।এখন নিজেই চিন্তায় পড়ে গেলাম।কিছুটা রাগও হচ্ছে রিমির উপর।মেয়েটাকে শুধু বোনের নজরেই দেখি,বলতে গেলে ভাল বন্ধুও।আমরা সমবয়সী,একই ক্লাসে পড়তাম ইন্টার পর্যন্ত।কিন্তু কে জানত মেয়েটা আমাকে নিয়ে একটু বেশিই ভাবে।যাইহোক,সে আমাকে নিয়ে যা ভাবে ভাবুক,তাকে বিয়ে করা আমার সম্ভব নয়।
**
**
**
রাতে নিজের রুমে বসে ইউটিউব স্ট্রিমিং করছিলাম।ছোটবোন এসে জানিয়ে দিয়ে গেল,আব্বা ডাকছে,খুব জরুরি ব্যাপার।ভাবতে লাগলাম,কি এমন জরুরি ব্যাপার হতে পারে।রুম থেকেই বের হতেই দেখি রিমির পরিবারের সবাই হাজির।সবাই ডাইনিং রুমে বসে আছে।বুঝতে বাকি রইল না,কাহিনী কি!!!

---তোর আর রিমির বিয়েটা পাকাপাকি করেছি।একসপ্তাহ বাদেই তোদের বিয়ে।

আব্বার কথা শুনে মোটেই অবাক হইনি।বুঝতেই পেরেছি,এমন কিছু ঘটেছে। অবাক হলাম,রিমির কান্ড দেখে।এই মেয়ে এত ট্যালেন্টেড কে জানত,অল্পসময়ের মধ্যে সবাইকে রাজি করিয়েছে।একটাই কনফিউশন চাচাকে কেমনে রাজি করালো!!এমন ট্যালেন্ট পড়াশোনায় লাগালে,ফেল করত না।

---তোমরা বিয়ে ঠিক করলে,আমার মতামত নেয়ার গুরুত্ব মনে করলে না।আমি এই বিয়েতে রাজী কিনা!
---তোর আম্মা বলল,তুই রিমিকে পছন্দ করিস।

এইবার মাথায় ঢুকল,রিমিই আম্মাকে এতকিছু বলেছে।

---আব্বা আমি ওকে,বিয়ে করতে পারব না।
---কেন পারবিনা!!তুই কি অন্যকাউকে পছন্দ করিস?আর করলেও ভুলে যা।
---পছন্দের কেউ নাই।তারপরেও রিমিকে বিয়ে করা সম্ভব নয়।
---রিমির সাথেই তোর বিয়ে হবে।
---কিন্তু আব্বা।
---তোর কোন কিন্তু শুনতে চাচ্ছি না।

যেখানে আমার কোন কথার দাম নেই,সেখানে কথা বলাই বেকার।তাই অন্যকিছু প্লান করার চিন্তাভাবনা করতে শুরু করলাম।

প্লান করলাম বিয়ের আগের দিন রাতে বাড়ি থেকে পালাব।বন্ধুর কাছে ফোন দিয়েই সবকিছু ঠিকঠাক করে রাখলাম।

কেউ যেন সন্দেহ না করে,যে আমি বাড়ি থেকে পালাচ্ছি।তাই সবসময় হাসিখুশি থাকছি।রিমির চলাচল আমাদের বাড়িতে আগের তুলনায় বেড়ে গেছে।আর আমাকে দেখলেই মুচকি হাসছে।তার হাসি দেখে আমার গা জ্বলছে বারবার।বেশিরভাগ সময়ই আমার ছোটবোনের সাথে সময় কাটাচ্ছে।আল্লাহই জানে দুজন কি প্লান করছে।
**
**
**
প্লান মোতাবেক বিয়ের  আগের দিন রাতে পালানোর জন্য তৈরী হলাম।আগে নিশ্চিত হয়ে  নিলাম সবাই ঘুমিয়েছে কিনা।তারপরে ঘর থেকে বের হলাম।মেইন গেটের তালার চাবি আগেই ডুপ্লিকেট তৈরী করে রেখেছিলাম।এখন শুধু খোলার পালা।চাবিটা কেবল তালায় লাগিয়েছি,তখনই,

---ভাইয়া।

এইরে ধরা খেয়ে গেলাম মনে হয়।কে জানত ছোটবোন আমার উপর নজর রাখছে।

---তুই এতরাতে বাইরে কেন।
---চোর ধরার জন্য।রিমি আপু তো ঠিকই বলেছিল,তুমি বাড়ি থেকে পালানোর চেষ্টা করবে।ভাগ্যিস তোমার উপর নজর রেখেছিলাম।
---নারে বইন আমি হাওয়া খাওয়ার জন্য বাইরে আসছিলাম।
---শীতে কেউ রাতে হাওয়া খায়।আব্বু আম্মু।

ছোটবোনের ডাকের সাথে সাথেই সবাই হাজির।আর আমার সব প্লান ভেস্তে গেল।সাথে আব্বু আম্মুর ঝাড়ি।

শেষপর্যন্ত রিমির হাত থেকে নিস্তার পাওয়া গেল না।পরেরদিনই রাতে পারিবারিকভাবে আমাদের বিয়ে হল।

একবুক হতাশা নিয়ে বাসর ঘরে প্রবেশ করলাম।রিমি বিয়ের কাপড় চেঞ্জ করে কালো রংয়ের একটা শাড়ি পরেছে।কালো শাড়িতে রিমিকে অনেক সুন্দর লাগছে।কিন্তু তাতে আমার কিছু আসে যায় না।আমাকে দেখেই রিমি আমার কাছে এল।

---তো কেমন লাগল আমার খেল।
---বাকওয়াস।বিয়ে হয়েছে বলে ভাবিস না,তোকে আমি ভালবাসব।
---দেখা যাবে,এই তুমি আমাকে "তুই" করে বলছো কেন।আমি তোমার বউ এখন।
---আমি মানিনা।
---তুমি না মানলেও কিছু করার নেই।এখন বিয়ে হয়ে গেছে।
---তোর সাথে কথা বলাই বেকার।

রিমি একটু মুচকি হেসে,
---এই পোশাক খুলে সিম্পল কিছু পরে এসো।তারপরে ছাদে যাব।
---তোর কথা শুনব না।
---না শুনলে আম্মাকে(মানে আমার আম্মা) ডাক দিব।
---আমাকে থ্রেট দিচ্ছিস।
---অবশ্যই।স্বামীকে একটু বশে রাখতে হয়।কি হল দাঁড়িয়ে কেন!!তাড়াতাড়ি যাও।

এই মেয়ের পাগলামি নিয়ে পারা গেলনা।তাই পোশাক চেঞ্জ করে সিম্পল কিছু পরলাম।

---এই শীতে ছাদে না গেলে হতোনা।
---যেতেই হবে।আমার স্বপ্ন বিয়ের দিন রাতে স্বামীর সাথে ছাদে অনেকক্ষণ কাটাব।

অবশেষে যেতেই হল।ছাদে গিয়েই অবাক হলাম।পুরো ছাদজুড়ে লাইটিং করা হয়েছে।পরিবেশটা অনেক সুন্দর লাগছে।নিজের বাড়ি অথচ নিজেই খেয়াল করিনি এতকিছু করা হয়েছে।দুজনেই ছাদে রাখা বেঞ্চে বসে আছি।নিরবতা ভেঙে রিমিই শুরু করল।
---নিলয়!
---হুম।
---এখনও রেগে আছো।
---জানিনা।
---প্লিজ রাগ করো না।আমি তোমাকে পাগলের মত ভালবাসি।তাই তোমাকে জোর করে বিয়ে করা ছাড়া উপায় ছিলনা।

রিমির কথা শুনে মেয়েটার প্রতি রাগটা কিছুটা কমে গেছে।আমি চুপ করে আছি,আমার আর কিছু বলারও নাই,এইরকম কথা বললে কিভাবে রাগ 
করে থাকা যায়।কিন্তু ওকে যে আমি,শুধু বোনের নজরে দেখি।ধুর আবার একই কথা কেন ভাবছি।বিয়ে যখন হয়েই গেছে আর ভাবার কি আছে।ভালবন্ধু ছিলাম,এখন একটু বেশি কিছুই ভাবতে হবে।নিজেকে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতে হবে।হয়ত নিজের মনোভাবকে চেঞ্জ করতে পারবো,হয়তোবা না।

কিছুক্ষণ যেতেই রিমি আমার কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ল।এই মেয়ে এত দ্রুত ঘুমিয়ে যায়,জানতামই না।।শীত বেশ পড়ছে,নিজের গায়ের চাদরটা রিমির গায়ে দিয়ে দিলাম।লাইটের আলোতে মেয়েটাকে অনেক মায়াবী লাগছে।বুকের ভেতর কেমন হয়ে উঠল।নিজের কাছেই অবাক লাগছে।হয়ত একদিন,তাকে ভালবেসে ফেলব।এটা শুধু সময়ের অপেক্ষা।

সমাপ্ত

Story: পাগলী মেয়ে

WRITER: DAYTIME DREAMER

Post a Comment

কমেন্টে স্প্যাম লিংক দেওয়া থেকে বিরত থাকুন

Previous Post Next Post