বন্ধ জানালা -Bengali jiboner golpo
বন্ধ জানালা -Bengali jiboner golpo


গত আধা ঘণ্টা ধরে মুখ শক্ত করে ফারাবির সামনে বসে আছেন ডক্টর নিজাম, শহরের বেশ নামকরা একজন সাইকিয়াট্রিস্ট এবং সেই সাথে ফারাবির বাবার বন্ধু। তিনি পুরোটা সময় ধরে ফারাবির কাজকর্ম নিখুঁতভাবে লক্ষ্য করছেন। ছেলেটা নিজের মনে মাথা নিচু করে রুবিক্স কিউব মেলাতে ব্যস্ত। এরই মধ্যে ছয়বার মিলিয়েও ফেলেছে। বেশ দক্ষ মনে হচ্ছে কাজটায়। কে জানে হয়ত অবসর কাটে রুবিক্স কিউব নিয়েই। ফাঁকে ফাঁকে ঠিক তিনবার আড়চোখে ডক্টর নিজামকে দেখেছে সে। 

এই আধা ঘণ্টার মধ্যে ফারাবির বাবা, মা আর বড় ভাই মিলে সহস্র অভিযোগ তুলে ধরেছে ফারাবিকে নিয়ে। ফারাবিকে গভীর মনোযোগের সাথে লক্ষ্য করার পাশাপাশি সেই অভিযোগ গুলাও নিজাম সাহেব শুনেছেন। তবে সেসব নিয়ে ফারাবির মধ্যে কোন প্রতিক্রিয়া নেই, যেন রোজকার কিছু কমন কথা শুনছে সে। কেইসটা নিজামের কাছে সিরিয়াস লাগছে, বেশ সিরিয়াস লাগছে। ফারাবির সাথে কথা বলতে হবে। কিন্তু কিভাবে শুরু করতে হবে বুঝে উঠতে পারছে না। 
“বাবা ফারাবি আমার কথা মনে আছে তোমার?”
“না!”
“তখন তুমি অনেক ছোট ছিলে শেষ যে বার দেখা হল। বাবার কোলে ছিলে তুমি। এরপর তো আমেরিকা চলে গেলাম, আর তোমাদের বাসায় আসা হয়নি, দেখাও হল না। না মনে থাকাই স্বাভাবিক”
ফারাবির কোন উত্তর না পেয়ে নিজাম সাহেব আবার কথা শুরু করলেন। 
“তো ফারাবি কি অবস্থা তোমার বল শুনি। পড়াশোনা শেষ না এখনো চলছে? কি নিয়ে পড়ছ?”
“লাস্ট সেমিস্টারে। সিএসসি” 
“বাহ বাহ দারুণ! ইয়াং ম্যান। এরপরের প্ল্যান কি?”
“কিছু না”

কথাটা শোনা মাত্রই ফারাবির বাবা তেলেবেগুনে জ্বলে উঠল-
“দেখলি তুই কি পরিমাণ বেয়াদব হয়েছে ছেলেটা? ত্যারা উত্তর দেয় কিভাবে দেখলি? মনটা চায় স্যান্ডেল দিয়ে চাপার মধ্যে একটা বাড়ি দেই। উনার কোন প্ল্যান নাই। নবাবজাদা! বসে বসে বাপের টাকা ওড়াবে উনি।“

ডক্টর নিজাম তার বন্ধুর এমন তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠার কোন লজিকাল কারণ পেল না। কারো প্ল্যান নাই থাকতে পারে। এটা তো ইউনিভার্সিটির কোর্স আউটলাইন না যে আগে থেকে ডিজাইন করে রাখতে হবে। কিন্তু এসব কথা অন্তত বাঙালি বাবা-মাকে বুঝিয়ে লাভ নাই। এত বছরের ক্যারিয়ারে তিনি এই শিক্ষাই পেয়েছেন। তাই বন্ধুর সাথে কথা না বাড়িয়ে তিনি আবার ফারাবিতে ফোকাস করলেন। 
“হেহে! আরেহ আমার তো মাস্টার্সের পরেও কত প্ল্যান হল, চেঞ্জ হল। এসব কোন ব্যাপার না। প্ল্যান মানেই একটা লিমিট সেট করে দেয়া। যার প্ল্যান নাই, তার জীবনে লিমিট নাই আর সেই পাখির মত উড়তে জানে। তাই না ইয়াং ম্যান?”

এবার ফারাবি রুবিক্স কিউব থেকে মুখ তুলে তাকালো। জীবনে হয়ত কেও তার মনের কথাটা প্রথম এভাবে মুখ ফুটে বলেছে আর তার পরিবারের কেও সেটা নিয়ে ঠাট্টা করেনি! ফারাবির হঠাত ডক্টর নিজামকে খুব আপন মনে হচ্ছে। কি অদ্ভুত! 

বাসায় আসার পর থেকেই নিজাম সাহেব ফারাবিকে নিয়ে তার পরিবার থেকে হাজারো অভিযোগ শুনছে। তার সারমর্ম দাঁড়ায়, ফারাবি ছেলেটা বেয়াদব, একগুঁয়ে, জেদি, অলস, ফাঁকিবাজ, অসামাজিক, স্বার্থপর। সে নাকি সারাদিন নিজের ঘরে দরজা আটকে বসে থাকে। কারো সাথে কথা বলে না। কেউ কথা বললে জবাব দেয় না এবং ইত্যাদি ইত্যাদি। নিজাম সাহেব খুব ভাল করেই জানেন এগুলা বাহ্যিক সত্য হলেও ভেতরটা পুরো আলাদা! 
“ফারাবি তোমার রুমে চল তো, একটু গল্প করি”

ফারাবির রুমে সচরাচর কেউ যায় না। আসলে কেউ এই জঙ্গলে যেতে নিজে থেকে আগ্রহ দেখায় না, ফারাবিও কোনদিন কাওকে আগ বাড়িয়ে কিছু বলেনি কোনদিন। নিজামকে নিয়ে ফারাবি রুমে যায়। রুমটা সাধারন মানুষের চোখে ভয়ঙ্কর অগোছালো। কিন্তু নিজাম সাহেবের তা লাগছে না। সবার গোছানোর স্টাইল এক না। এটা ফারাবির গোছানো একটা আপন জগত। ঘরে বেশি কিছু নাই প্রয়োজনীয় কিছু ফার্নিচার ছাড়া। পড়ার টেবিলটায় ধুলো জমেছে। ঘরের এক কোণায় ছোট একটা টি-টেবিল। সেখানে অনেক গুলো কাগজ এলোমেলো পড়ে আছে। নিজাম সাহেব কাগজ নিয়ে দেখলেন কবিতা লেখা। গিটারটি দেখে অবশ্য তার মনে হল এগুলা গানও হতে পারে। 
“বাহ তুমি গিটার বাজাও”
“বাজাতাম”
“কেন? তোমাকে দেখে তো মনে হচ্ছে গিটার আইদার তোমার হবি অর প্যাশন”
“আমার হবি আর প্যাশন দুটাই ইঞ্জিনিয়ারিং। এসব বাজে কাজে আর সময় নষ্ট করি না”
“তোমার ঘরটা এমন অন্ধকার করে রেখেছ কেন?এত বড় একটা দক্ষিণা জানালা আছে, খুলে দাও? আলো বাতাস আসলে ভাল লাগবে”
“পাখিকে খাঁচায় রাখে কেন আঙ্কেল জানেন?”
“পোষ মানানোর জন্য”
“সব পাখি পোষ মানে?”
“না”
“তারা খাঁচা খোলা পেলে কি করবে?”
“উড়ে যাবে!”
“পোষ না মানা পাখি কখনো সেই খাঁচায় ফেরত আসে?”
“না তো! কেন বল তো?”
“ফারাবির এই দক্ষিনা জানালাটাও একটা খাঁচার খোলা জানালা!”

কথাটি বলে ফারাবি একটা হাসি দিয়ে অন্য দিকে ফিরল। ডক্টর নিজাম আর কিছু না বলে ফারাবির ঘর থেকে বের হয়ে আসে। এসে দেখে গেস্ট এসেছে বাড়িতে। ফারাবির বড় ফুপি যিনি ছোট থাকতে নিজামকেও নিজের ভাইয়ের মত আদর করতেন এবং উনার হাসবেন্ড। আরেকজন মহিলা তিনি ফারাবির ছোট খালা। 

গেস্টদের দেখে নিজাম তার বন্ধুর সাথে আলাদা কথা বলতে চাইলে ফারাবির বড় ফুপি বাঁধা দিয়ে বলে সবার সামনেই বলতে। ঘরের কথা তো ঘরের সবার সামনেই হওয়া উচিত। ডক্টর নিজাম জানালেন যে, ফারাবি ভয়ঙ্কর ডিপ্রেশনে ভুগছে। ছেলেটার ইমেডিয়েটলি ট্রিটমেন্ট লাগবে, সাহায্য লাগবে, কাউন্সিলিং করা লাগবে, নাহলে অনেক বিপদ হতে পারে। কথাটা শুনেই সবার মাথায় হাত। এই বেয়াদব ছেলে তাহলে এই ভং ধরেছে! এইটুকু বয়সে ডিপ্রেশন। লোকে কি বলবে? পরিবারের চাপে জোয়ান একটা ছেলে মানসিক রোগি হয়ে গিয়েছে? এটা কোন কথা? মান সম্মান কিচ্ছু থাকল না আর।

নিজাম সাহেব ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না ডিপ্রেশনের সাথে এখানে মানসিক রোগ অথবা পরিবারের মান সম্মান কই থেকে আসলো?! তিনি যতই সবাইকে বোঝাতে চাচ্ছেন সবাই ততই বিষয়টাকে ভুল বুঝছে। এক পর্যায়ে ফারাবির বাবা বলেই ওঠে তাদের পরিবারের ব্যাপারে যেন নিজাম আর নাক না গলায়। সেই সাথে আকারে ইঙ্গিতে বলে দিল উনাকে বাসা থেকে চলে যেতে। 

উপায় না দেখে ডক্টর নিজাম বাসা থেকে বের হয়ে চলে গেলেন। ফারাবির সমস্যা তিনি বুঝতে পারছেন। একজন প্রফেশনাল সাইকিয়াট্রিস্ট হিসাবে এবং একজন মানুষ হিসাবে তার দায়িত্ব ছেলেটাকে সাহায্য করা। তবে এজন্য তার পরিবারের সাহায্য লাগবে। ফারাবির বাবার সাথে একদিন ঠাণ্ডা মাথায় আলাদা কথা বলতে হবে। ঘরে আত্মীয় স্বজনদের সামনে কোন সমস্যার কথা বলতে নাক উঁচু  বাঙ্গালিদের অপমানিত বোধ হওয়া নতুন কিছু না। চলন্ত গাড়ির গ্লাস নামিয়ে নিজাম ফারাবির ঘরের বন্ধ জানালাটির দিকে তাকিয়ে থাকে আর মনে মনে প্রচন্ড ভাবে প্রার্থনা করে তার ফিরে আসার আগেই যেন এই জানালা খুলে না যায়! 


ডক্টর নিজাম বাসা থেকে চলে যাওয়ার পর বাসায় একটা হুলস্থুল কাণ্ড শুরু হল। সবার মাথায় হাত। এইটুকু ছেলের নাকি আবার ডিপ্রেশন। ফারাবির এইসব ভণ্ডামি আর নাটক এর কারণে মানুষ ভাবছে পরিবারের কারণে এই বয়সেই ছেলে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। এটা কোন কথা? সমাজে মানুষের কাছে মুখ দেখাবে কেমনে পরিবারের মানুষ? কি এক ছেলে জন্ম দিল, তাকে নিয়ে এখন চলতে ফিরতে অপমানিত হতে হয় পরিবারের! কি লজ্জা, কি লজ্জা! 

ফারাবি নিজের ঘর থেকে সব শুনছে। ঘরের দরজা বন্ধ থাকলেও সবার কথা স্পষ্ট  শোনা যাচ্ছে। বড় ফুপি খুব গভীর গলায় বলছেন, “আগেই বলছিলাম ছেলেকে প্রাইভেটে ভর্তি না করাতে। টাকার টাকাও যাবে, ছেলে নষ্টও হবে। দেখ গিয়ে বাইরে কোথায় নেশাটেশা করে পড়ে থাকে আর বাসায় এসে এমন ভং ধরে।” সাথে ফুপাও তাল মিলিয়ে বলে উঠল, “দেখ কোন মেয়েজনিত ব্যাপারও হয়ত আছে এর মধ্যে। সেখান থেকেই নেশার দিকে গিয়েছে। মেয়েজনিত ক্যালেংকারি হলে কিন্তু আর সমাজে মুখ দেখাতে পারব না”
       
নাহ! নেশা বা মেয়েজনিত কোন সমস্যাই ফারাবির নাই। আজ পর্যন্ত একটা সিগারেটও ছেলেটা জ্বালিয়ে দেখেনি। সিগারেটের ধোঁয়ায় তার শ্বাস কষ্ট হয় কেন যেন। বন্ধুরা এই নিয়ে কত মজা নিল। আর মেয়ে জীবনে একটাই এসেছিল, সেই চ্যাপ্টার ইন্টারে থাকতেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। 

ল্যাপটপে অফিসের কাজ করতে করতে ফারাবির বড় ভাই ফারাজ বলছে, “ছোট কি চায় না চায় সেটা তো আমাকে বললেও পারে তোমাদের না বলতে পারলে। কই কোনদিন তো আসলো না? আমি কি ওকে ফিরিয়ে দিতাম বা অপমান করতাম কিছু বললে?”
        
কি আশ্চর্য! ভাইয়ের কাছে ফারাবি যতবার তার নিজের কোন শখের কথা বলতে গিয়েছে ততবারই তো হাসির পাত্র হয়ে ফিরে এসেছে। ক্লাস ফাইভে থাকতে একবার ভাইয়ার ফ্রেন্ডদের সামনে গিয়ে ফারাবি বলেছিল সে রকস্টার হবে বড় হয়ে। সে কি হাসি সবার, কি বুলিটাই না করেছিল সবাই মিলে।

ছোট খালা ফেসবুক স্ক্রোল করতে করতেই বলছে, “আপা-দুলাভাই তোমাদের সাথে কথা বলতে নাহয় আনইজি লাগে। আমাকে তো বলতে পারে কিছু হলে। আমি তো ওকে কোন কিছু নিয়েই কিছু বলি না। সব কথা শুনি”

আরেহ?! ছোট খালা এগুলা কি বলে? শেষ যেইবার তার বাসায় গিয়েছিল তখন ফারাবি ইন্টার পাস করেছে মাত্র। জিপিএ ৩.৮ পাওয়া ফারাবিকে খাবার উঠিয়ে দিতে ছোট খালা তার ননদের জিপিএ ৫ পাওয়া মেয়ের সাথে তুলনা করে যেই সূক্ষ্ম খোটাটাই না দিয়েছিল সেদিন। 

 মুহূর্তেই খাবারের টেবিলের উপর রাখা একটা কাঁচের প্লেট ভেঙ্গে ফেললেন ফারাবির বাবা। রাগে ফোঁস ফোঁস করছেন তিনি। উনার এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে ফারাবিকে গলা চিপে মেরে ফেলতে। “ইতর জন্ম নিছে ঘরে একটা। ইতর। আশেপাশের সবার ছেলেমেয়েকে দেখ। আর আমার এই ছোট  ছেলেকে দেখ। স্বার্থপর একটা ছেলে। নিজের স্বার্থ ছাড়া কিছু বুঝে না। আমার টাকা উড়ায় আর আমার দিকেই কোনদিন ফিরে তাকাইল না...”
 
ফারাবি নিজের ঘর থেকে কথা গুলা শুনছে। কিছুক্ষণের জন্য সে স্বার্থপর শব্দটার মানে ভুলে গিয়েছে। আসলেই কি ফারাবি স্বার্থপর? ওর তো ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ইচ্ছা ছিল না। আর্টসে পড়ার ইচ্ছা ছিল, মিউজিক করার ইচ্ছা ছিল। বাবার ইচ্ছাতেই তো ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ভর্তি হল। ইঞ্জিনিয়ারিং তার মাথায় ঢুকে না। গান ছেড়ে দিল, বন্ধু ছেড়ে দিল, পড়ালেখায় টাইম দিতে হবে। প্রচুর চেষ্টা করে সে ভাল রেজাল্ট করার, বাবাকে খুশি করার। তবুও সেই স্বার্থপর, কি অদ্ভুত দুনিয়া! 

এতক্ষণ ফারাবির মা চুপ ছিলেন। এখন তিনিও সবার সাথে যোগ দিলেন। কাঁদতে কাঁদতে বিলাপ করছেন, “কি এক ছেলে জন্ম দিলাম, কাছে আসে না, কথা বলে না। ভাল মন্দ জানতে চায় না, বলেও না। ডাকলেও আসে না”

ফারাবি এখন মনে মনে হাসে। তার মা শেষ কবে তাকে কাছে ডেকেছিলেন তার মনে নাই, শেষ করে কাছে এসে বলেছিলেন ‘বাবা তোর মনটা ভাল তো?’ সেটা ফারাবির মনে নেই। এরপর ফারাবিকে নিয়ে আরও হাজারটা কথা হল। সবই তার দোষ নিয়ে। ইশ! ফারাবির মত খারাপ ছেলে পৃথিবীতে বুঝি একটাও জন্ম নেয় নি! 

ঘরের ভেতর বিছানার উপর বসে সময় কতটা কেটে গিয়েছে ফারাবির জানা নেই। এ নিয়ে অন্য কারোরও মাথা ব্যথা নেই বাসায়। সবাই আজকে ওকে নিয়ে খুব রেগে আছে। নিজের সাথে ফারাবি এতক্ষণ হিসাব মেলানোর চেষ্টা করল। হিসাব মেলানো শেষ হলে ফারাবি খাট থেকে নামে। তার গিটারটি সুন্দর করে মুছে ব্যাগে ভরে রাখে। নিজের লেখা গানগুলা যত্ন করে ড্রয়ারে রাখে। সিলিং ফ্যানটা বন্ধ করে দেয়। বাইরের আবহাওয়া এতটাও ঠাণ্ডা না যে ফ্যান ছাড়া চলবে। তবুও বন্ধ করে দিল। আজকের ওয়েদারে ঘরের দক্ষিণা জানালাটা খুলে দিলেই হবে। শো শো করে বাতাস আসবে, রোদ আছড়ে পড়বে এতদিনের এই বন্ধ জানালার বদ্ধ ঘরে। সিলিং ফ্যানের এই কাজে প্রয়োজন নেই আর, তবে অন্য কাজে আসতে পারে! নিজাম আঙ্কেল ঠিকই বলছিলেন, যার জীবনের লক্ষ্য নাই, তার জীবনের কোন সীমা নাই, সে পাখির মত উড়তে পারে। ফারাবি হাজার বছরের পুরনো বন্ধ দক্ষিণা জানালাটা খুলে দিল। জানালাটা ঠিক যেন একটা খাঁচার খোলা জানালা। আর ফারাবি একটা পোষ না মানা পাখি, পাখি উড়ে যাবে!
.
বন্ধ জানালা
লেখাঃ ফারজানা সিদ্দিকী নম্রতা 

Post a Comment

কমেন্টে স্প্যাম লিংক দেওয়া থেকে বিরত থাকুন

Previous Post Next Post