গল্প - অনেক সাধনার পর (শেষ পর্ব) অনন্য শফিক



শেষমেষ ডিভোর্স হয়ে গেলো আমার।ড্রাইভার ফখরুল এসেছিল পেপার নিয়ে।আমি সিগনেচার করে দিয়েছি। সিগনেচার করতে গিয়ে ভেতরটা আমার কাঁপছিলো। কিন্তু কী করার আছে এতে? এই পৃথিবীতে দুঃখ লাভ আর ত্যাগ তিতিক্ষার জন্যই যে আমার জন্ম হয়েছে!
আমি কেঁদেছি।ডুকরে কেঁদেছি।মা আমায় সান্তনা দিয়েছেন। সান্তনা দিয়ে বলেছেন, 'আল্লাহ যা করেন সব মঙ্গলের জন্যই করেন।তোর জন্য হয়তোবা ভালো কিছু রেখেছেন তিনি। দুঃখ করিস না।সবর কর।'

আমি সবর করেছি। দাঁতের সাথে দাঁত চেপে ধরে সহ্য করেছি।
কিন্তু এরপর থেকে শুরু হলো অন্য উপদ্রব।
পৃথিবীটা ভালো মানুষদের জন্য জাহান্নাম। এই কথাটা ভুল নয়। আমিও টের পাচ্ছি এটা। ভেবেছিলাম বাবার বাড়িতে আমার শুধু ভাত কাপড়ের কষ্ট হবে। কিন্তু না।আমি এখানে অন্য কিছুর গন্ধও টের পাচ্ছি। ইদানিং আমাদের বাড়িতে  কতো রকমের মানুষ যে আসে!কতো রকমের পুরুষ!মধ্য বয়স্ক।যুবক।ডিভোর্স হয়ে গেছে আমার এটা শোনার পর থেকেই তাদের আগমন শুরু হয়েছে।

আমায় সাহায্য করতে চায় ওরা। আমার প্রতি তাদের দরদের কোন প্রকার কমতি নাই।আমি ওদের চোখ দেখেই সব বুঝতে পারি। ওদের মতলব ভালো না।ওরা আমার ভালো চায় না।ওরা আমার জন্য ফাঁদ পাততে চায়!
এরপর একদিন আমাদের বাড়িতে শুভ আসে। এসে আমায় অপমান করে যায়।বলে আমি নাকি বাড়িতে বেশ্যালয় খুলে বসেছি।মেয়েটাকেও নাকি আমি আমার মতো নষ্ট বানাবো।সে মেয়েকে এখানে রাখবে না। আরেকটু বড় হলেই নিয়ে যাবে। এমনকি পাড়ার দশ জনের কাছেও সে বলে গেছে,আমি চরিত্রহীন। বাসার কাজের লোকের সাথে আমার নোংরা সম্পর্ক ছিল। এই জন্যই নাকি সে আমায় ডিভোর্স দিয়েছে। এমনকি আমার ছোট চাচার কাছে এসব বলে গেল। ছোট চাচাদের সাথে এমনিতেই আমাদের সম্পর্ক ভালো ছিল না। বাবাকে ছোট চাচা অনেক ভুগিয়েছে।আর এই সুযোগ পেয়ে 

সে আমার মাকে এসে গতকাল খবরদারি করে গেল।বললো,'মান সম্মান আর রাখবে না নাকি ভাবি! ছিঃ ছিঃ ছিঃ! মেয়ে ওখানেও কুকর্ম করে আসছে।এখন বাড়িতেও।বলি, আমাদেরও তো সমাজের মানুষের সাথে চলতে ফিরতে হয়। কিন্তু এখন তো লজ্জায় মরছি। কাউকে মুখ দেখাতে পারছি না।সবাই থুথু ছিটিয়ে দিচ্ছে নাকে মুখে!'
মা চাচার কথা শুনে কোন কথা বললেন না। তিনি হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন।

আমি চাচার সামনে কোন কথা বললাম না।কথা বলতে পারলাম না।কথা বললে হয়তো বা তিনি আমায় মারধোর করবেন। নয়তো আরো ভয়ংকর কিছু কথা শুনিয়ে যাবেন মাকে। তাই চুপ করে সহ্য করলাম।আর মনে মনে ভাবলাম তার নিজেরও তো পনেরো ষোল বছর বয়সী মেয়ে আছে একটা। আল্লাহ না করুক তার নিজেরও তো এমন দিন ঘটতে পারে! সেদিনও কী তিনি তার নিজের মেয়েকে নিয়ে এমন ঘৃণ্য কথা বলবেন!

চাচা আমাদের বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় বলে গেলেন,যদি আরেকবার আমার নামে উল্টাপাল্টা কিছু শুনেন তবে নাকি তিনি নিজের বংশের মান সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে আমাদের মা মেয়ে দুজনকেই একেবারে গ্রাম থেকে বের করে দিবেন!
মা রাতে আমায় বললেন,'তৃষা, এইখানে আর থাকা যাবে না রে মা! অবস্থা ভালো না।তোর চাচার লোভ পড়ে গেছে আমার বসত ভিটা আর পুকুরের দিকে। এইগুলো সে যেভাবেই হোক দখল নিয়ে ছাড়বেই!'
আমি রাগ দেখিয়ে বললাম,'বললেই হয়ে গেল শুধু। বাবার নামে দলিল করা জমি নিয়ে যেতে পারবে!দেশে আইন নেই!'
মা কাঁদলেন। কেঁদে বললেন,'তুই বুঝবি না রে এসব মা!তুই এসব বুঝবি না!'

আমিও মার সাথে ত্যাজ দেখিয়ে বললাম,'মরতে হয় যদি এখানে পড়েই মরবো। তবুও কোথাও যাবো না।দেখি কীভাবে কী করে!'
মা বললেন,'বোকামি করা যাবে না মা। আমাদের সাথে কেউ নাই!আমরা একা।আমরা অসহায়!'
আমি বললাম,'আমরা একা নয় মা। আমাদের সাথে একজন আছেন। তিনি অসহায়ের সহায়। তিনি মহান আল্লাহ তায়ালা।'
মা বললেন,'ওরা তোর ক্ষতি করবে!'
আমি হাসলাম। হেসে বললাম,'যার সবকিছুই শেষ হয়ে গেছে তার আর নতুন করে কী ক্ষতি করবে  মা?আমি এসব আর ভয় পাই না!'

এরপর আর মা কিছু বলেননি। কিন্তু তিনি ভয় পাচ্ছেন।ভয় আমিও পাচ্ছি।আমি জানি আমার ছোট চাচা শেষ পর্যন্ত ভয়ংকর জানোয়ার সাজতেও দ্বিধা করবেন না!তার লোভ বড় ভয়ংকর লোভ। সুদের কারবার করতে করতে আর মানুষের উপর অত্যাচার করে করে তিনি একটা আস্ত জানোয়ারে পরিণত হয়েছেন। কিন্তু আমাদেরও তো আর যাওয়ার কোন জায়গা নেই! কোথায় যাবো আমরা?কে দিবে আমাদের আশ্রয়? নিজের ভিটেতেই নিজের নিরাপত্তা খুঁজে না পেলে আর কোথায় গিয়ে নিরাপত্তা পাবো!
সে রাতে মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ইচ্ছে মতো কাঁদলাম। তারপর ঠিক করলাম, আমার সাথে যাই ঘটুক না কেন তা আমি আর মুখ বুজে সহ্য করবো না।মুকাবিলা করবো।
'

যে ভয় আমি পেয়েছিলাম তাই হলো।মাস খানেক ভালোই ছিলাম। কিন্তু মাস খানেক পরই এক রাতে পাড়ার এক মাতাল ছেলে এসে বারান্দায় দাঁড়িয়ে মাতলামি করতে শুরু করলো। দরজা ধরে ধাক্কা দিতে লাগলো। দরজা না খুললে ঘরে আগুন দিবে বললো।শেষে মা ভয় পেয়ে অপারগ হয়েই দরজা খুললেন। কিন্তু দরজা খুলে দিতেই ও ঘরে ঢুকে গেল।ও ঘরে ঢুকার পর পরই ছোট চাচা এসে ঘরে ঢুকলেন। এবং চিৎকার করে অশ্লীল গাল  বকতে শুরু করলেন তিনি মাকে। মাকে চোখ রাঙিয়ে দিয়ে বললেন,'আজকে মা মেয়ে দুইটারেই ঘর থেকে বের করবো! খারাপের দল। আমার বংশের মান সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছিস তোরা!'
আমি এক পর্যায়ে রাগে গর্জন করে উঠে বললাম,'আপনি একটা অমানুষ ছোট চাচা! নিজের ভাইয়ের মেয়েকে নিয়ে এসব নোংরা কথা বলতে আপনার লজ্জা করে না!'
ছোট চাচা রাগ দেখিয়ে আমার কাছে আসেন। এরপর মুখ ভেংচিয়ে বলেন,'লজ্জা। তোর মতো বংশের মুখে চুনকালি লেপে দেয়া মেয়ের জন্য লজ্জা!'

এই সময় এসে আবার ঘরে প্রবেশ করলেন আমার ছোট চাচী। তিনি এসে বললেন,'কী হয়ছে এখানে?কী সমস্যা?'
আমি চোখ আগুন করে দিয়ে বললাম,'আপনার স্বামী আমাকে নিয়ে যা ইচ্ছা তাই বলছে।আমি কিন্তু চাচা বলে তাকে আর সম্মান করবো না বলে দিলাম!'
চাচীর এবার দেখা গেল প্রচন্ড রাগ উঠে গেছে। তিনি আমার দিকে তেড়ে এসে বললেন,'তো কী করবি তুই হ্যা?'
আমি বললাম,'পায়ের স্যান্ডেল ছুঁড়ে মারবো।'
শেষে এই একটি কথায় কাল হলো আমার জন্য!

ছোট চাচা যারপরাণই রেগে গেলেন। এবং আমায় মারতে শুরু করলেন।এক লাথি দিয়ে তিনি আমায় ফেলে দিলেন দূরে। তারপর এলোপাথাড়ি মারতে শুরু করলেন তিনি। সাথে ছোট কাকীও।মা ফেরাতে গেলে তাকেও মারলেন।এক পর্যায়ে আমার কাঁচা শরীর থেকে রক্ত যেতে শুরু করলো।আমি টের পেয়ে ভয়ে আঁতকে উঠলাম।আর চিৎকার করে বলতে লাগলাম আমায় বাঁচাও। বাঁচাও।আমি মরে যাচ্ছি।মরে যাচ্ছি আমি!

এরপর আর কিছু বলতে পারি না। সম্ভবত আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি তখন। এবং যখন চোখ খুলি তখন দেখি আমি একটা ক্লিনিকে বেডের উপর শুয়ে আছি। এবং আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন সেই নার্স আপু যে কি না আমার মেয়ের চিকিৎসা করতে তার স্বামীকে হসপিটালে ডেকে এনেছিল।আপুর পাশে সাদা পাঞ্জাবি পাজামা পড়ুয়া ডাক্তার।যদিও তাকে ডাক্তার কম হুজুর মনে হচ্ছে বেশি।
আমি চোখ খুললে নার্স আপু গিয়ে মাকে ডেকে আনলেন।মা এসে কাঁদতে কাঁদতে নার্স আপুকে বললেন,'মাগো, আপনি আর ডাক্তার বাবা যদি এই উপকারটা না করতেন তবে কী যে হাল হতো আমার মেয়ের!'

নার্স আপু মার হাত ধরে বললেন,'আপনি অস্থির হবেন না।এতে আমার কিংবা নেহালের কোন হাত নেই।সব আল্লাহর ইচ্ছা। তিনিই একমাত্র সুস্থ করার মালিক।আমরা ওসিলা মাত্র।'
এরপর মা ডাক্তার নেহালকে কিছু বলতে যাবেন কিন্তু এর আগেই নেহাল চলে গেল।তার জন্য স্টাফ অপেক্ষা করছে ওটিতে। সিজার আছে একটা।
নেহাল চলে যাওয়ার পর নার্স আপু বসে আমার কাছে সব খুলে বললেন। বললেন, আমার অবস্থা নাকি ভয়াবহ খারাপ ছিল। অনেক রক্ত ভেঙেছে।আমি অজ্ঞান ছিলাম।মা আমায় নিয়ে হসপিটালে এলে নার্স আপু মাকে বললেন, এখানে ভালো চিকিৎসা হবে না। ওরা আলসেমি করে। আমার সাথে চলুন।আমি ওকে আমাদের ক্লিনিকে নিয়ে যাবো। ওখানে আমার দেবর এসে ওকে চিকিৎসা করবে।
আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম,'আপু, নেহাল সাহেবও কী আপনার দেবর?'

নার্স আপু বললেন,'হ্যা আমার দেবর।ও তিন নম্বর। আমার হাসব্যান্ড সবার বড়।মেজোটার নাম ইয়ামিন আশফাক।সেও বড় ডাক্তার।ওরা তিন ভাই ই ডাক্তার।বলতে পারো ডাক্তার ফ্যামিলি।'
আমি মৃদু হাসলাম। হেসে বললাম,'নেহাল সাহেবের স্ত্রীও কী ডাক্তার?'
নার্স আপু হাসলেন। হেসে বললেন,'নেহাল তো বিয়েই করেনি। তবে ইমামিন বিয়ে করেছে গত বছর।ওর ওয়াইফ কী করে জানো?'

আমি বললাম,'কী করে?'
নার্স আপু বললেন,' একটা প্রতিষ্ঠান খুলেছে। এতিমদের জন্য। ওখানে সে এতিম এবং অসহায় ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা শেখায়। ওদের সব খরচা তার।এমনকি ওদের সব দায়িত্বও তার। তুমি বলতে পারো এইগুলো তার নিজের সন্তানের মতোই!'
আমি বিষ্মীত হলাম।কী ভালো পরিবার ওদের!
নার্স আপু বললেন,'তুমি সুস্থ হয়ে উঠো দ্রুত।আমি বাসায় যাচ্ছি। তোমার সাথে সকালে দেখা করবো এসে।আর আমি আমার ড্রাইভারকে দিয়ে বাসা থেকে তোমাদের জন্য খাবার পাঠাবো। তাছাড়া তোমাদের যা প্রয়োজন শুধু এখানকার যে কাউকে বলবে।বলতে দেরি হবে ওদের করতে দেরি হবে না!'
কৃতজ্ঞতায় আমার চোখ ছলছল করে উঠলো।আমি ভেজা গলায় বললাম,'আপু, আপনি আমার জন্য যা করেছেন তার জন্য---

আপু আমার কথাটা শেষ করতে দিলেন না। তিনি শুধু বললেন,'বোনের জন্য বোন এসব করবে না তো কার জন্য করবে বলো?'
আমি আর কিছু বলতে পারলাম না।কান্নায় আমার মুখ ভেঙে এলো।
আপু তার ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে মুখের নেকাব ফেলতে ফেলতে বললেন,'তোমার জন্য একটা গ্রেট সারপ্রাইজ আছে তৃষা। অপেক্ষা করো তুমি!'
আমি জিজ্ঞেস করতে যাবো কী সেটা। কিন্তু সেই সুযোগ না দিয়েই আপু কেবিন ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন!

পরদিন সকাল বেলা আমি এমন কিছু দেখবো সেই আশা কখনোই করিনি!শুভর মা অর্থাৎ আমার সাবেক শাশুড়ি মা আমায় দেখতে এসেছেন নার্স আপুর সাথে।নার্স আপু মাকে নিয়ে এসে আমার পাশে বসিয়ে দিয়ে বললেন,'দেখো তো তৃষা তোমার জন্য কত্তো বড় একটা সারপ্রাইজ নিয়ে এলাম!'
আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম।সত্যিই এমন কিছু আমি আশা করিনি।
আমি নার্স আপুকে বললাম,'আপু, মাকে কোথায় পেয়েছেন আপনি?মা তো তার ভাইয়ের বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন?'
মা এবার নিজেই কথা বললেন। বললেন,'আমি তো অনেকদিন ধরেই ওদের বাসায় থাকি।'
তারপর তিনি সবকিছু আমার কাছে খুলে বললেন। বললেন, ভাইয়ের বাড়িতে গিয়ে তিনি দেখেন তার ভাই-ই কোন রকম খেয়ে না খেয়ে সন্তানদের সংসারে পড়ে আছে।ছেলেরা দেখভাল করতে চায় না।অসুখে ভোগছে। কিন্তু চিকিৎসা পর্যন্ত করায় না।আর তিনি কী করে সেখানে আশ্রিতা হবেন।তাকে কী করে ওরা দেখবে?সহ্য করবে!
 দু'দিন থাকতে না থাকতেই ভাইয়ের ছেলেরা আর ছেলের বউয়েরা যাচ্ছে তাই বলতে লাগলো তাকে।কথায় কথায় খোঁটা দিতো।বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য সরাসরি না হলেও ইশারায় বুঝাতো।

শেষে তিনি বাধ্য হন ওদের বাড়ি ছেড়ে চলে আসতে। ওদের বাড়ি ছেড়ে এসে তিনি বিরাট শহরে দিকহারা মানুষের মতো এদিক ওদিক হাঁটছিলেন। কোথায় যাবেন কার কাছে আশ্রয় নিবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। তিনি তো জানেন এই শহরে অনেক মানুষ। কিন্তু এদের হৃদয় বলতে কিছু নেই।ওরা ইট পাথরের মতো। মানুষের প্রতি মানুষের সহমর্মিতা এখানে নেই। এমনকি তার নিজের ছেলেই এই শহরের সবচেয়ে নামকরা ধনীদের একজন। কিন্তু এতে তার লাভ কী?এই ছেলেই তো তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে চিরদিনের জন্য!
এলোমেলো ভাবে হাঁটতে হাঁটতে এসব ভাবছিলেন তিনি।এক সময় তিনি ক্লান্ত হয়ে রাস্তার পাশে একটা আম গাছের নিচে বসে ঝিমুচ্ছিলেন।তখন ওদিক দিয়েই রিক্সা করে যাচ্ছিলো নার্স আপু।নার্স আপু যেহেতু মাকে চিনতো তাই মাকে এভাবে ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে রাস্তার পাশে আম গাছের নিচে বসে থাকতে দেখে রিক্সা থামিয়ে মার কাছে এসে বললো,মা কেন এখানে এভাবে বসে আছে। কোন সমস্যা কি না!

প্রথমে বলবেন না বলবেন না করে এক সময় মা বলেই ফেললেন সবকিছু খুলে। বললেন তার আর কোথাও যাওয়ার মতো জায়গা নাই।নার্স আপুর তখন বড় মায়া হলো। এমনিতেই কদিন আগে তার সন্তান মারা গেছে।এর কদিন আগে আবার তার মায়ের মতো শাশুড়িও মারা গেছে।তাই তিনি এই সুযোগটা হারাতে চায়লেন না। মাকে সঙ্গে করে বাসায় নিয়ে গেলেন। বাসার সবাই তাকে দেখে মহাখুশি।নার্স আপুর বর সহ ওদের আর দু ভাই বললো মা সেখানেই থাকবেন এখন থেকে। তাদের তো মা নেই। তিনি তাদের মা হয়েই থাকবেন এখন থেকে!
মার মুখ থেকে সবকিছু শুনে খুশিতে আমার মন বিগলিত হয়ে উঠলো।নার্স আপুর প্রতি কৃতজ্ঞতায় আমার মন প্রাণ ভরে উঠলো।আমি আপুর হাত ধরে বললাম,'আপু, আপনি এতো মহৎ কেন?'

আপু হাসলেন। হেসে বললেন,'এই বাড়িতে যেই বউ হয়ে আসে সেই মহৎ হয়ে উঠে। যদিও আমি মহৎ কেউ নয়।'
এরপর আপু আমার মেয়েকে কোলে তুলে নিলেন।ওর বয়স এখন তিন মাস নয়দিন।আপু ওকে আদর করতে করতে আমায় বললেন,'মেয়ের কী নাম রেখেছো তৃষা?'
আমি হেসে বললাম,'কোন নামই রাখিনি আপু।'
নার্স আপু অবাক হয়ে বললেন,
'ওমা সে কী কথা?মেয়ে বড় হয়ে যাচ্ছে এখনও নাম রাখোনি?তো কী বলে ডাকো ওকে?'
আমি মৃদু হাসলাম। হেসে বললাম,'রাজকুমারী।'
নার্স আপু খুশি হলেন।খুশি হয়ে বললেন,'এটাই সই।ওর নাম রাজকুমারীই।চেহারাও তার রাজ-রানীদের মতোই। মাশাআল্লাহ!'

এরপর নার্স আপু বললেন,'নেহাল আজকে তোমায় দেখতে আসবে।অষুধ পত্র দিয়ে যাবে। পরীক্ষা নিরীক্ষাও করতে পারে।আরো বোধহয় দু তিনদিন তোমার হসপিটালে থাকতে হবে।'
আমি মনে মনে খুশিই হলাম। বাড়িতে আমাদের অগুনতি শত্রু।বিপদ আর বিপদ।এরচে এই ক্লিনিকের ছোট্ট কামরাটি কতো ভালো! 
এরই মধ্যে নার্স আপু জিজ্ঞেস করলেন,'এসব কীভাবে হয়েছিল?'

আমি বলিনি। গোপন রাখতে চেয়েছি। কিন্তু মা হড়বড় করে সবকিছুই বলে দিলেন। একেবারে আমার ডিভোর্সী হওয়া থেকে শুরু করে আমার উপর করা ছোট চাচার অনাচার,অত্যাচার। সবকিছুই।
সবকিছু শোনে ব্যথিত হলেন নার্স আপু। তারপর আমাদের মা মেয়েকে সান্তনা দিয়ে তিনি বললেন,আল্লাহ অসহায়দের পাশে সব সময়ই আছেন।আমরা যেন এসব নিয়ে চিন্তা না করি।তিনি বললেন আল্লাহ তায়ালাই সব ব্যবস্থা করবেন।
এরপর নার্স আপু শুভর মাকে নিয়ে বাসায় চলে গেলেন।
'
বিকেল বেলা ডাক্তার নেহাল এলেন।সব সময় ঠোঁটে মিষ্টি হাসি ঝুলিয়ে রাখা নেহাল। তিনি এসে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখে বললেন,' আগামীকালই চলে যাওয়া যাবে। আপনি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। আলহামদুলিল্লাহ।'
আমি তাকে ধন্যবাদ দিলাম।
 এরপর তিনি আমায় আরো কিছু বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন, বললেন,আমি কী নিজের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবছি কি না! তিনি নাকি সবকিছু তার ভাবী অর্থাৎ নার্স আপুর কাছ থেকে শুনেছেন। আমার ডিভোর্স থেকে শুরু করে একেবারে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যন্ত।
আমি বললাম,'আল্লাহই আছেন।তিনিই সবচেয়ে উত্তম নিরাপত্তা দানকারী। আমার নিরাপত্তার ব্যবস্থা তিনিই করবেন।'
নেহাল খুশি হলেন।খুশি হয়ে আবার জিজ্ঞেস করলেন,'বিয়ে নিয়ে কী ভাবছেন?'
আমার খুব অস্বস্তি লাগছিলো।উনি জ্ঞানীগুণী মানুষ।তার সাথে কথা বলতে এমনিতেই লজ্জা পাচ্ছিলাম।তাও এইসব বিষয়ে।তাই আমি যতোটা পারি ততোটাই আস্তে করে উত্তর দিলাম। বললাম,'এটাও আল্লাহর ইচ্ছে অনুযায়ী হবে। তিনি যা ফয়সালা করে রেখেছেন তাই হবে।'
ডাক্তার নেহাল বোধহয় আমার কথায় মুগ্ধ হয়েছেন। তিনি এক পর্যায়ে জিজ্ঞেস করলেন,'আপনি আপনার জীবনসাথী হিসেবে কেমন পাত্র চান তৃষা?'

আমি এবার সবচেয়ে বড় লজ্জায় পড়লাম।চোখ তুলে কিছুতেই তাকাতে পারছিলাম না।নিচ দিকে তাকিয়ে আমতা আমতা করে বললাম,'এমন পাত্র যে আল্লাহকে ভয় করে এবং কখনোই সীমালঙ্গন করে না!'
নেহাল মৃদু হাসলেন। হেসে বললেন,'ধন্যবাদ। থাকুন তবে আজ। আমাকে আরো রোগী দেখতে হবে গিয়ে। আর আপনার বাবুর বিষয়ে বলুন। মেয়েরে কী ওর বাবার কাছে দিয়ে দেয়ার চিন্তা করেছেন? শুনলাম ওর বাবা বলেছে নিয়ে যাবে একটু বড় হলেই!'
আমি বললাম,'ওর কোন বাবা নেই। আমিই ওর বাবা আমিই ওর মা।আর কেউ ওকে নিয়ে যেতে পারবে না আমার কাছ থেকে।অন্তত আমি বেঁচে থাকতে!'
ডাক্তার নেহাল বললেন,'ঠিক আছে। থাকুন তবে।আসছি।'
আমি বললাম,'জ্বি আচ্ছা। আসসালামুয়ালাইকুম।'
তিনি সালামের উত্তর দিয়ে মুচকি হেসে চলে গেলেন।
'
নেহাল এলে মা এখান থেকে উঠে চলে গিয়েছিলেন।একটু আড়ালে। কিন্তু তিনি সব শুনতে পেয়েছেন।তাই নেহাল চলে যাওয়ার পর পরই মা এসে আমায় বললেন,'ডাক্তার এসব জিজ্ঞেস করলো কেন রে?উনি বোধহয় তোর জন্য ছেলে টেলে দেখবে!'
আমি বললাম,'মা এসব কথা রাখো তো। তুমি দুপুরের খাবার খাওনি।নার্স আপু খাবার পাঠিয়েছেন সেই কখন।খেয়ে নাও।'
মা বললেন,'তুই ও তো খাসনি।আয় দুই মা মেয়ে মিলে খেয়ে নেই।'
আমি বললাম,'আচ্ছা।'
আমার মন আজ এমনিতেই ফুরফুরে। কেন ফুরফুরে তা বুঝতে পারছি না। ভেতরে যে একটা চাপা দুঃখ ছিল তা কেন জানি অনেকটা দূরে সরে গেছে। বুকের ভেতর যে একটা পাথর চাপা ছিল তাও হালকা হয়েছে।বড় ভালো লাগছে আজ।
মা মেয়ে মিলে খেয়ে নিলাম। তারপর মেয়েকে কোলে তুলে নিয়ে খেলতে শুরু করলাম।
মেয়েকে কাতুকুতু দিচ্ছি বারবার।আর মেয়ে খিলখিল করে হাসছে।খুব হাসছে ও। দেখতে কী যে ভালো লাগছে।কী মিষ্টি মেয়েটা আমার!
 তখন অবশ্য সন্ধ্যা শেষ হয়ে রাতের শুরু।আর  তখনই নার্স আপু এলেন আবার।এই সময় তার আসার কথা না। তিনি এসে বললেন,'তৃষা, চলো আমার সাথে।'
আমি অবাক হয়ে বললাম,'কোথায় যাবো আপু?'
'আমাদের বাসায়।'
আমি অবাকের চূড়ান্ত সীমায় পৌছে গিয়ে বললাম,'ওখানে কেন?'
নার্স আপু হাসলেন। হেসে বললেন,'তোমার বাকী চিকিৎসাটা ওখানেই হবে।বুঝেছো?'
আমি সত্যিই বুঝতে পারিনি।তাই বোকার মতো তাকিয়ে রইলাম আপুর দিকে।
আপু হাসছেন। এই হাসির ভেতর কোন রহস্য আছে।কী সেই রহস্য?

নার্স আপুদের বাসায় যাওয়ার পর যে আমার উপর এমন চিকিৎসা শুরু হবে তা কী আমি কোনদিন কল্পনা করেছিলাম?
আপুদের বাসায় যাওয়ার পর সারাদিন কেটে গেলেও আমি কিছু বুঝতে পারিনি। কিন্তু রাত আটটার দিকে যখন ডাক্তার নেহাল বাসায় ফিরলেন তখন আপু তাকে আমার কাছে নিয়ে এসে বললো,'তৃষা,বাবু কী ঘুমিয়েছে?'
আমি আস্তে করে বললাম,'হুম।এশার আজানের আগেই ঘুমিয়ে পড়েছে।'
এবার নার্স আপু বললো,'আমি বাইরে গিয়ে দাঁড়াচ্ছি। নেহাল তোমার সাথে বোধহয় কিছু কথাবার্তা বলবে।তোমরা কথা বলো তবে। নেহাল থাকো।তৃষা তোমরা কথা বলো কেমন?'
আমি লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে উঠছিলাম। ডাক্তার সাহেব কী তবে ডাক্তারি পেশা ছেড়ে ঘটকালি শুরু করবেন নাকি এবার? যদিও এটা তাকে একদম মানাবে না। তাছাড়া ডাক্তার নেহাল বড় একজন ডাক্তার। ভালো চিকিৎসা করেন।রোগ ধরতে পারেন সহজেই। তার মতো ডাক্তারের খুব প্রয়োজন এই দেশে! এইসব কিছু মনে মনে ভাবছিলাম আর হাসছিলাম ঠোঁট টিপে টিপে। যদিও আমার বুক ধড়পড় করছিলো। মনে মনে বলছিলাম, এই লোক বিয়ে শাদি নিয়ে কথা না বলুক। এমনিতেই তো আমার জীবনে কতো বড় কলঙ্ক লেপ্টে আছে।কতো কষ্ট জড়িয়ে আছে আমার আষ্টেপৃষ্ঠে। এইসব বিয়ে টিয়ে আমার জন্য নয়। বিয়ে নামক বস্তুটা আমার কাছে ভয়ের।বর নামক বস্তুটা আরো বেশি ভয়ের। যদিও এ বাড়ির দুজন আপুকে দেখে আমি বেশ অবাকই হই।নার্স আপু আর তার জাঁ মিনু আপু।কী কপাল ওদের!বর দুটি যেন মাটির মানুষ!কী ভালোবাসা তাদের স্বামী স্ত্রীদের মধ্যে!
ডাক্তার নেহাল চুপ করে রইলেন।চুপ করে রইলাম আমিও। খানিক সময় পর তিনিই গলা কেশে পরিষ্কার করে নিয়ে বললেন,'তৃষা আপনার শরীর কেমন এখন? পুরোপুরি সুস্থ তো?'
মনে মনে হাসলাম আর বললাম,'কিরকম ডাক্তার বাবু হয়েছেন আপনি যে সামনে রোগীকে বসে থাকতে দেখেও বুঝতে পারছেন না সে কেমন আছে?এটা আবার জিজ্ঞেস করতে হয়!
কিন্তু মুখে ঠিক সুন্দর করে উত্তর দিলাম। বললাম,'ভালো আছি। এখন পুরোপুরিই সুস্থ। আলহামদুলিল্লাহ।'
নেহাল মৃদু হাসলেন। হেসে বললেন,'মেয়ে ঘুমাচ্ছে?'
'হুম।'
'শুনলাম ওর নাম রাজকুমারী রেখেছেন?'
আমি খানিক লজ্জিত হয়ে বললাম,'জ্বি। কিন্তু ওর ভালো নাম মারইয়াম।'
'মাশাআল্লাহ। আল্লাহ তাকে মারইয়াম আঃ এর মতো কবুল করুন।'
'আমিন।'
এরপর তিনি এ কথা সে কথা করে মূল কথায় এলেন। তিনি আমায় জিজ্ঞেস করলেন,'আপনার নতুন করে বিয়ে করতে কোন আপত্তি আছে কী?'
আমি কী বলবো বুঝতে পারছিলাম না।এর আগেও তিনি আমায় একবার জিজ্ঞেস করেছিলেন এই বিষয়ে। তখন কী উত্তর দিয়েছিলাম মনে করতে পারছি না। এমনিতেও আমার জ্ঞান বুদ্ধি কম। সঙ্গে সঙ্গে কোন কথার উত্তর আমি দিতে পারি না। তবুও বললাম,'আপত্তি নেই যদি পাত্র যোগ্য হয়।তবে আমার শর্ত আছে।'
ডাক্তার নেহাল বললেন,'কী সেই শর্ত? কতো গুলো শর্ত?'
আমি আস্তে করে বললাম,'একটিই মাত্র শর্ত। আমার মেয়ে আমার কাছে থাকবে। এবং আমার মেয়েকে নিজের সন্তানের মতোই আদর সোহাগ করতে হবে।এ নিয়ে কখনো কোন ধরনের খোঁটা দেয়া চলবে না!'
নেহাল হাসলেন। শব্দহীন ভাবে। তারপর বললেন,'এই শর্ত অবশ্যই মেনে নেয়া হবে।'
আমি খানিক সময় চুপ করে রইলাম। তারপর হঠাৎ করে মনে হলো আমার আরো একটি শর্ত আছে।এটা বলতে ভুলে গিয়েছিলাম।তাই তাড়াহুড়ো করে বললাম,'শুনুন, আমার আরো একটি শর্ত আছে কিন্তু। বলতে ভুলে গেছিলাম!'
ডাক্তার নেহাল বললেন,'বলুন কী শর্ত।'
'আমার মা আমার কাছে থাকবেন।'
নেহাল হাসলেন। হেসে বললেন,'এটা আগেই মাথায় ছিল।পাত্র এতে বেশ খুশিই হবে।'
মনে মনে প্রশ্ন করছিলাম, তবে অত ভালো পাত্রটা কে?যে কি না বলার আগেই আমার মাকে তাদের বাড়িতে রাখার প্লান সাজিয়ে রাখে!
কিন্তু এমনিতে আমি মুখ খুললাম না। চুপচাপ বসে রইলাম।ডাক্তার নেহাল আমায় জিজ্ঞেস করলেন,'কুরান পড়তে পারেন?'
আমি বললাম,'জ্বি। কিন্তু অতোটা শুদ্ধ হয় না মনে হয়!'
নেহাল বললেন,'শুদ্ধ করে নেয়া যাবে।'
তারপর আমি কিছু বলার আগে তিনিই আবার বললেন। বললেন,'ঠিক আছে। আপনার সাথে বড় ভাবী কথা বলবেন এই বিষয়ে বিস্তারিত।আমি আসছি। আসসালামুয়ালাইকুম।'
আমি আস্তে করে সালামের উত্তর দিলাম।
'ওয়ালাইকুমুস সালাম।'
ডাক্তার নেহাল উঠে চলে গেলে আমার কেমন জানি লাগছিলো। নিজেকে কেমন বেশরম মেয়েদের মতো মনে হচ্ছিল।ভেবেই পাচ্ছিলাম না তিনি কী‌ প্রশ্ন করছিলেন আর আমি কীভাবে এসব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিলাম। আবার দুটো শর্তও জুড়ে দিলাম। আচ্ছা উনি আবার আমায় বেয়াদব, লজ্জাহীন মেয়ে ভাবেননি তো!
এসব ভাবছিলাম আর নখ খুটছিলাম দাঁতে। তখনই নার্স আপু রুমে এলো। এসে আমার পাশে বসে আমার হাত ধরে মৃদু হেসে বললো,'কথা হয়েছে তোমাদের?'
আমি বললাম,'জ্বি আপু। হয়েছে।'
'পাত্র সম্পর্কে কিছু বলেছে নেহাল তোমায়?'
আমি বললাম,'না তো। কিছু বলেননি উনি।'
আপু বললেন,'তো জিজ্ঞেস করবে না তুমি?পাত্র সম্পর্কে সবকিছু আগে ভাগেই জেনে নেয়া উচিৎ।আমি কী নেহালকে আবার ডাকবো?'
আমি না বলতে যাবো কিন্তু এর মধ্যেই ডাক্তার সাঈদ মুরসালিন বাসায় ফিরেছেন।ফিরেই তিনি আপুকে ডাকলেন।
'শেফা,ও শেফা? কোথায় তুমি?'
তার ডাকে কী যেন একটা ছিল।কী একটা যেন ঘটেছে আর তা তিনি বলতে চাচ্ছেন।
আপু আমার রুম থেকে বেরুতে বেরুতে বললেন,'এই তো এখানে আমি।কী হয়েছে?'
সাঈদ মুরসালিন ভাইয়া এদিকে এগিয়ে এসে আপুর কাছে জোরে জোরে বললেন,'তৃষার যে এক্স হাসব্যান্ড শুভ--'
আপু চিন্তিত গলায় বললেন,'হ্যা শুভ।কী করেছে ও?দেখা হয়েছিল নাকি তোমার সাথে? কিছু বলেছে তোমায়?'
মুরসালিন ভাইয়া বললেন,'আরে শুনো আগে তুমি।'
এর মধ্যে শুভর মা এগিয়ে এসেছেন ছেলের নাম শুনে। আমিও দরজার কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়ালাম। রাগে আমার শরীর কাঁপছে। আমার কেন জানি আশঙ্কা হচ্ছে ভাইয়াকে শুভ অপমান করেছে।
কিন্তু আমার আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে ভাইয়া বললেন,'একটা ভয়াবহ ঘটনা ঘটে গেছে।শুভ খুন হয়েছে।আর ওর ওয়াইফ উধাও। পুলিশ কোথাও খুঁজে পাচ্ছে না তাকে! ধারণা করা হচ্ছে ওর ওয়াইফই এই খুনের সাথে যুক্ত।'
শুভর মা শুনে চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করে দিলেন।তার অবস্থা ভালো না। মনে হচ্ছে এক্ষুনি জ্ঞান হারাবেন। কিন্তু আমার খুব একটা কষ্ট হলো এতে। যদিও আফশোস হচ্ছিলো। আফশোস হচ্ছিলো এই জন্য যে, বেচারা সময় থাকতে বুঝেনি।ওর জন্য যে ষড়যন্ত্রের জাল বোনা ছিল তা সে চোখে দেখেনি।আমি সাবধান করেছি।মা সাবধান করেছেন।সে তখন আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী না ভেবে ভেবেছে শত্রু। এবং আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।সম্পর্ক ছিন্ন করেছে তার জন্মদাতা মায়ের সাথেও।যেই মা তাকে গর্ভে ধারণ করেছেন,যেই মা তাকে বুকের দুধ খাইয়ে বড় করে তুলেছেন,হাত ধরে হাঁটা শিখিয়েছেন,অসুখ হলে সেবা করেছেন, আল্লাহর দরবারে কেঁদে কেটে তার জন্য দোয়া করেছেন, সেই মাকে ঘাড় ধরে বাড়ি থেকে বের করে দিতেও সে একটুও ভাবেনি!তার যা প্রাপ্য ছিল তাই সে আজ পেয়েছে। আল্লাহ মানুষকে ছাড় দেন কিন্তু ছেড়ে দেন না।
শুভ মার সাথে অত বড় অনাচার করা সত্ত্বেও মা কিন্তু ঠিকই পাগলের মতো ছটফট করতে করতে চলে গেলেন যে বাড়ি থেকে তার ছেলে তাকে বের করে দিয়েছিল সেই বাড়িতেই। ছেলের লাশটা দেখতে। আসলে সন্তানেরা মায়ের সাথে অনাচার করলেও মা তা মনে রাখতে পারেন না কখনোই!
'
ওইদিন আর বিয়ের বিষয়ে কোন কথাবার্তা হলো না। এমন একটা খবর শোনার পর এসব বিষয়ে আলাপ করা যায় না। শুধু এইদিনই না। এরপর আরো মাস দেড়েক চলে গেল আমি আর মা আপুদের বাসায় রয়ে গেলাম।শুভর মাও ছেলের দাফন কাফন সেরে কদিন বাড়িতে থেকে তারপর ফিরে এলেন। কিন্তু ততোদিনেও এই বিষয়ে কথা হলো না।কথা হলো আরো পরে।ওই বিষয়টা যখন একটু চাপা পড়লো তখন।নার্স আপু আমায় একদিন বললেন,'তৃষা,পাত্রের সম্পর্কে তুমি জানবে না কিছু?

নার্স আপু আমায় একদিন বললেন,'তৃষা,পাত্রের সম্পর্কে তুমি জানবে না কিছু? অনেক দিন তো হয়ে গেল। তোমার ইদ্দতের দিনগুলোও অনেক আগেই শেষ হয়েছে। এবার বিয়ে করতে সমস্যা নেই। সবকিছু জেনে বুঝে করে ফেলো।'
আমি স্বলাজ হেসে আমতা আমতা করে বললাম,'জ্বি। জানতে তো চাই-ই‌ । বলুন তো কে পাত্র। উনার পরিচয় কী।'
নার্স আপু হাসলেন। হেসে বললেন,'ধারণা করে বল তো কে হতে পারে এটা?'
আমি লজ্জায় পড়ে গেলাম।তাই চুপ করে নিচ দিকেই তাকিয়ে রইলাম।
আমায় দেখে আপু বুঝতে পারলেন।তাই তিনিই আগ বাড়িয়ে বলে দিলেন,'পাত্র দূরের কেউ না।ও তোমার চিকিৎসক। আমার দেবর।ডাক্তার নেহাল। তুমি একটু ভেবে চিন্তে দেখো ওর বিষয়ে।পাত্র কিন্তু ভালো।একটু লাজুক স্বভাবের। এরকম লাজুক ছেলেরা সব সময় রোমান্টিক হয়।বউ ছাড়া ওরা কিছুই বোঝে না। লজ্জার কারণে অন্য কাউকে ওরা কিছু বলতে পারে না কিংবা অন্য কাউকে ভালোও বাসতে পারে না বলে এরা ওদের সারা জীবনটা স্ত্রীকেই ভালোবেসে কাটিয়ে দেয়।'
আমি সত্যিই এতোটা কোনদিন ভাবিনি। ভাবনা তো দূরের বিষয় এসব নিয়ে কল্পনা করাও তো দুরুহ ব্যপার ছিল আমার পক্ষে। আমার এমন দূরবস্থায় ডাক্তার নেহাল এসে আমার ত্রাণকর্তা হয়ে পাশে দাঁড়ালে বেশ মানাতো ! কিন্তু আমায় বিয়েও করতে চান তিনি।আমি তো ডিভোর্সী। একটা মেয়ে আছে আমার। তারওপর গরীব ঘরের মেয়ে আমি। পিতৃহীন। এতো কিছু জানার পরেও তার মতো স্বনামধন্য ডাক্তার আমায় বিয়ে করবেন! কেন? নাকি জগতে কেউ কেউ আছে এমন যারা মানুষকে দয়া দেখাতেই জন্ম গ্রহণ করে! তারা মানুষের রুপ ঐশ্বর্য বয়স ধন সম্পদ অবস্থান দেখে না!তারা মহৎ। অসহায়ের সহায় হতেই ওদের জন্ম?
আমি ঠিক জানি না।
আমি নার্স আপুকে বললাম,'আপু, আমার মতো হতভাগীকে তিনি বিয়ে করতে চান কেন?'
নার্স আপু হেসে বললেন,'এই কথাটা আমাকে নয় তাকেই জিজ্ঞেস করো।ও আজ বিকেলে বাসায় থাকবে।ছাদে তোমার সাথে কথা বলবে। আরেকটা কথা,রাজকুমারীর দাদি নানি উভয়েই এই বিষয়ে জানেন।তারা এতে সম্মতি দিয়েছেন। এবার তোমার পালা।'
আমি আর কিছু বললাম না।আপুও ব্যস্ত মানুষ।ডিউটিতে চলে যাবেন তিনি। আমার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলেন দ্রুত।
'
বিকেল বেলা হঠাৎ করেই আমার মনটা ফুরফুরে হয়ে গেল। কেন জানি খুব আনন্দ পাচ্ছি মনে। এতো টুকু জীবনের মধ্যিখানের সব অতীত হঠাৎ করেই স্মৃতি থেকে উধাও হয়ে গেছে।আজ আমার অদ্ভুত অদ্ভুত শখ হচ্ছে। মনে হচ্ছে আমি এখনও সেই পনেরো বছর বয়সী কিশোরী।আজ আমার খুব করে ইচ্ছে করছে কলাপাতা রঙের একটা শাড়ি পরতে কুঁচি দিয়ে। শাড়ির সাথে ম্যাচ করে দু হাত ভর্তি রংবাহারি কাঁচের চুড়ি। চোখ ভর্তি কাজল। ঠোঁটে হালকা গোলাপ রঙের লিপস্টিক।আর কপালে সরু একটা টিপ।আমি খুব যত্ন করে এই কাজগুলো করলাম। কতোদিন এসব করি না।আমায় হাসিখুশি দেখে মা কী যে খুশি হলেন! আমি নিরবে তাকিয়ে দেখেছি মা কাঁদছেন।এই কান্নায় মোটেও শামিল হলাম না আমি। বরং ঠোঁটে লিপস্টিক মাখতে মাখতে ঠোঁট ফাঁক করে একটু হাসলাম।এই হাসির কারণ আছে। কারণটা হলো আমি জানি মায়ের এই কান্না দুঃখ- শোকের কোন কান্না নয়।তার এই কান্না আনন্দের। আমায় হাসিখুশি দেখে তিনি খুশিতে কাঁদছেন। তাকে এভাবেই দেখতে চাই আমি।সব সময়।সারাটি জীবন ধরে!
'
রাজকুমারীকে নিয়ে খেলছি।ওর পেটের নরম তুলতুলে মাংসে কাতুকুতু দিলে সে ফিক করে হেসে উঠে। হাসতে হাসতে একেকবার তার দম ফেটে যায় যেন।আমায় এভাবে হাসিখুশি মুখো দেখে তারও বুঝি ভালো লাগে। সেও পলকহীন তাকিয়ে থাকে আমার দিকে। আনমনে ‌। আমার তখন ইচ্ছে করে সারা জনম ভর এভাবেই থাকতে। হাসিখুশি। আমার মায়ের জন্য।আর আমার রাজকুমারীর জন্য।
'
এই শেষ বিকেলেই রাজকুমারী ঘুমিয়ে পড়েছে।ঘুমুক।মেয়েটা আজকাল ঘুমায়ই না একদম। সারাদিন খেলাধুলায় মগ্ন হয়ে থাকতে চায়।ভালোই হয়েছে ঘুমিয়েছে। আমার আবার ডাক্তার সাহেবের সঙ্গে একটু একান্তে কথা বলতে হবে। ওদিকে ডাক্তার নেহালের গলাও শোনা যাচ্ছে।চির লাজুক মানুষটা আজ ইচ্ছে করেই আমায় তার গলার আওয়াজ শোনাচ্ছে।এর সাথে ওর সাথে কথা বলছে।এই কথাগুলো অবশ্য নিরর্থক। কিন্তু আমি জানি এইগুলো একেবারেই নিরর্থক নয়। এইগুলো সাংকেতিক।এর অর্থ হলো আমি যেন ছাদে যাই। আমার সাথে তার কথা আছে।আমি নিজে নিজেই গাঢ় করে হাসলাম। তারপর ধপধপ করে পা ফেলে সিঁড়ি ডিঙিয়ে চলে গেলাম ছাদে। গিয়ে দাঁড়ালাম গোলাপ বাগানের পেছনে। ওখানে পূবালী সমিরন বয়ে বেড়াচ্ছে। সেই সমিরন জুড়ে ফুলেল মিষ্টি গন্ধ। এইসব গন্ধে কী এক নেশা আছে। এইসব গন্ধ সবাই নিতে পারে না ‌।সংসার বাদ দেয়া সাধকেরাও এসব গন্ধে মাতাল হয়ে ঘরে ফিরে যেতে উন্মুখ হবে। আবার নতুন করে সংসার পাতবে!
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এইসবই ভাবছিলাম আমি।এরইমধ্যে কখন যে নেহাল এসে আমার পাশে দাঁড়ালো আমি খেয়াল করিনি।এক সময় যখন ও আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে হাত নাড়িয়ে বললো,'এই যে, আপনাকে আমি তিন তিনবার সালাম দিয়েছি আপনি কিন্তু একবারও জবাব দেননি। এবার একসাথে তিনবার জবাব দিন বলছি।'
আমি লজ্জায় পড়ে গেলাম। লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে মৃদু হেসে তিন তিনবারই সালামের জবাব দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,'আপনি কেমন আছেন?'
নেহাল বললেন,'ভালো আছি।'
তারপর আমরা অনেকক্ষণ ধরে নিশ্চুপ ছিলাম। নিশ্চুপ থাকলেও আমাদের কথা হয়েছে।চোরা চোখে।আমি খেয়াল করেছি।নেহাল আড় চোখে বড় যত্ন করে দেখছে আমায়। আমার বুক তখন থরথর করে কাঁপছিলো।কত কী যে বলার ছিল আমার। জিজ্ঞেস করার কথা ছিল তিনি কেন আমায় বিয়ে করতে চান।আরো কতো কী! এসবের কিছুই তো বলা হলো না। কোন কিছু জিজ্ঞেস না করেও আমি মনে মনে এই বিয়েতে কবুল দিয়ে ফেললাম।কী আশ্চর্য বিষয়!
------------
দিন কীভাবে যেন দ্রুত চলে যায়।এই তো সেদিন নেহালের সাথে বিয়ে হলো আমার। এখনও স্পষ্ট মনে আছে সবকিছু। আমাদের ফুলশয্যার রাতে আমার মেয়ে রাজকুমারীর হঠাৎ করে পেটে ব্যথা শুরু হলো।অষুধ দেয়ার পরেও মেয়ের কোন কাজ হচ্ছে না।পেটের ব্যাথা কমছে না কিছুতেই। মেয়ে গগণবিদারী চিৎকার করছে। কোন ভাবেই ওর চিৎকার থামছে না। অবশেষে আমি ওকে কোলে তুলে নিয়ে ঘরে পায়চারি করতে শুরু করলাম। তখনই কেবল ও একটু শান্ত হলো।ওর চিৎকার বন্ধ হলো।খুশি হয়ে ওকে এবার যেই না শুইয়ে দিতে যাবো তখনই আবার চিৎকার।আমি ভয় পাচ্ছিলাম। না জানি নেহাল আমায় ধমক দিয়ে বসে কি না!শত হলেও পুরুষ মানুষ। ওদের রাগ বেশি থাকে। তাছাড়া এটা তার জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ রাত। এই রাতটা আমার মেয়ে এভাবে নষ্ট করে দিচ্ছে!
নেহাল এক পর্যায়ে আমার কাছে এসে বললো,'দিন। ওকে আমার কাছে দিন।'
আমি ভয়ে মুষড়ে উঠি।না জানি রাগে মেয়েকে নিয়ে বাইরে কোথাও ফেলে রেখে আসে কি না।আমি অনেক শুনেছি এমন।সৎ মা বাবারা এমনই করে। এমন অনেক ঘটনা আছে। আমি কাঁপা কাঁপা হাতে ওর কোলে রাজকুমারীকে তুলে দিলে ও বড় যত্নে মেয়েকে বুকের সাথে আগলে নিয়ে সারা ঘরময় পায়চারী করতে শুরু করলো। মেয়েও তখন একেবারেই নিরব। শান্ত। পায়চারি করতে করতে সে আমায় বললো,'যতোক্ষণ মেয়ে না ঘুমোবে ততক্ষণ আমরা উদল বদল করে এভাবে মেয়েকে কোলে নিয়ে পায়চারি করবো। ঠিক আছে?'
আমার চোখ জলে ভিজে উঠেছিল তখন। সেই জলে চোখের কাজল লেপ্টে গিয়েছিল।আমি হাতের পিঠ দিয়ে সেই কাজল ধোয়া চোখ মুছতে মুছতে বললাম,'ঠিক আছে।'
সে রাত আমরা কেউই বিছানায় গা লাগাতে পারিনি। মেয়ের চোখে ঘুম এলো একেবারে ফজরের আযানের পর। অদ্ভুত বিষয় হলো এর মধ্যে আমার নিজের বিরক্তি এলেও নেহালের একটুও বিরক্তি এলো না!
এরপরের সময় গুলো আরো মধুময় ছিল।এই মধুময় সময়গুলো কাটতে লাগলো আরো দ্রুত।এর অনেক অনেক বছর পর এলো এক 
রমজানের রাত। সেই রাতে আমি মাইগ্রেনের ব্যথায় কাতর হয়ে ঘুমের অষুধ খেয়ে বিভোর হয়ে ঘুমোচ্ছি। ঘড়িতে সম্ভবত তখন রাত দুটো পয়ত্রিশ বাজে। রাজকুমারীর গলাছাড়া ডাকে হুট করে ঘুম ছেড়ে উঠলাম।ঘুম থেকে উঠে চমকে গিয়ে ওকে জিজ্ঞেস করলাম,'কী হয়েছে?ডাকছিস কেন রে মা?'
রাজকুমারী শঙ্কিত মুখে বললো,'আব্বু মাড় গলাতে গিয়ে হাত পুড়ে ফেলছে!'
আমি তাড়াহুড়ো করে আমার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে ওমরের গায়ে কাঁথাটা ভালো করে জড়িয়ে দিয়ে বিছানা থেকে নামলাম। তারপর এক রকম দৌড়েই গেলাম কিচেনে। দৌড়ে গিয়ে নেহালের হাতটা ধরে মুখ থেকে একটু লালা নিয়ে ওর হাতের পুড়ে যাওয়া স্থানে ঘসতে ঘসতে বললাম,'কে বলেছে রান্না করতে এসে?যতোসব মাতুব্বুরী!'
নেহাল তখন দুষ্টু কিশোরদের মতো দাঁত কেলিয়ে খিলখিল করে হাসতে শুরু করলো। হাসতে হাসতে সে বললো,'আমি যদি রান্না করতে এসে হাত পুড়ে না ফেলতাম তবে তুমি কী এভাবে আধঘুমো চোখে এভাবে দৌড়ে এসে আমার হাতে ঠোঁট ছুঁইয়ে চুমু খেতে?ফুঁ দিয়ে হাতে বাতাস করে দিতে?রাগম্ভীর গলায় এভাবে শাসন করতে আমায়?
আমি আর কিছু বলতে পারলাম না। চোখ জ্বলে যাচ্ছে আমার। ইচ্ছে করছে গলা ছেড়ে কাঁদতে। কিন্তু কাঁদতেও পারছি না একটু।মেয়েটাও তার আব্বুর মতো নির্লজ্জ।ওর কমনসেন্স বলতে নাই।আমরা স্বামী স্ত্রী মিলে যে একটু প্রণয় করবো এই সুযোগ কী আর সে দিবে?সে এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবে হাবলার মতো। তাকে আবার ধমকও দেয়া যাবে না ।তাকে এক ধমক দিলে তার আব্বু আমাকে দশ ধমক দিয়ে বসিয়ে রাখবে ঠাঁই!
---সমাপ্ত---
(এই গল্পের শেষ পর্ব লিখা ছিল যেই ফোনের নোটে সেই ফোন আমার এক কাজিন নষ্ট করে ফেলায় শেষ পর্ব দিতে পারিনি এতো দিন। ভেবেছিলাম ফোন ঠিক হলে দিবো। ফোন এখনও ঠিক হয়নি। এদিকে সময়ও লম্বা হচ্ছে।তাই নতুন করে পর্বটা লিখে দিতে হলো। অনেক দিন গল্প না লিখায় হুট করে এটা লিখতে গিয়ে খাপছাড়া হয়েছে।মন মতো হয়নি। তবুও আশা করি আপনারা রেসপন্স করবেন। আপনাদের রেসপন্স পেলে, উৎসাহ পেলে আমরা ভালো ভালো গল্প লিখার শক্তি পাই! ধন্যবাদ সবাইকে 

অনন্য শফিক

Post a Comment

কমেন্টে স্প্যাম লিংক দেওয়া থেকে বিরত থাকুন

Previous Post Next Post