নামাজ বাবা নামাজ পড়া নিয়ে তোমার এতো প্যারা ভালো লাগে না
নামাজ বাবা নামাজ পড়া নিয়ে তোমার এতো প্যারা ভালো লাগে না


নামাজ বাবা নামাজ পড়া নিয়ে তোমার এতো প্যারা ভালো লাগে না


সেহেরি খাওয়া শেষে যখন ঘুমাতে চলে যাবো তখন বাবা বললো,
-”একটু পর তো আযান দিবে। ফজরের নামজটা পরে তারপর না হয় ঘুমাতে যা”
আমি চোখ ঢলতে ঢলতে বললাম,
–এখন নামজ পড়ে ঘুমাতে গেলে দেরি হয়ে যাবে। এমনিতেই সারারাত ঘুমাই নি।
বাবা কিছুটা অবাক হয়ে বললো,
-” তাহলে সারারাত জেগে করেছিস কি?

আমি কোন উত্তর না নিয়ে চুপচাপ নিজের রুমে চলে আসলাম।এখন যদি বাবাকে বলি সারারাত গার্লফ্রেন্ডের সাথে কথা বলে পার করেছি তাহলে তো কপালে খারাপ আছে। 

ঘুম থেকে উঠেছি দুপুর ২টার দিকে।পুকুর ঘাটে যখন চুপচাপ বসে ছিলাম তখন খেয়াল করি বাবা নামাজ পরে বাসায় ফিরছে। আমায় পুকুরঘাটে বসে থাকতে দেখে বাবা অবাক হয়ে বললো,
-” কিরে তুই যোহুরের নামাজ পড়িস নি?”
আমি মাথা নিচু করে বললাম,
–না, ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে গিয়েছিলো তাই নামাজ পড়তে পারি নি। 
বাবা কিছুটা রাগের স্বরে বললো, 
-” তুই রোজা রাখিস অথচ নামাজ পড়িস না। এটা তো ঠিক না। নামাজের থেকে তোর ঘুমটা অনেক বড় হয়ে গেলো? ফজরের নামাজটা পড়লি না ঘুমের জন্য আর এখন যোহুরের নামাজটাও মিস করলি ঘুমের জন্য”

এমনিতেই পেটে খুব খিদে লেগেছে তার উপর বাবার জ্ঞান মূলক কথাগুলো আমার ভালো লাগছিলো না। তাই বিরক্ত হয়ে বাবার সামনে থেকে চলে গেলাম। 

ঘড়ির কাটা মনে হয় আটকে আছে কিছুতেই সময় পার হচ্ছে না। আমি সময় কাটানোর জন্য টিভিতে মুভি দেখতে লাগলাম। মুভির শেষে যখন টানটান উত্তেজনা তখনি বাবা হুট করে এসে টিভিটা অফ করে দিয়ে বললো,
-” চল নামাজ পড়তে যাবো। আছরের নামাজের সময় হয়ে গেছে”
আমি রেগে গিয়ে বললাম,
-”তুমি নামাজে যাচ্ছো যাও না। আমায় নিয়ে কেন শুধু শুধু টানাটানি করছো। নামাজ পড়া নিয়ে তোমার এতো প্যারা দেওয়া আমার ভালো লাগে না”

বাবা আমায় কিছু না বলে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চলে গেলো আর আমি আমার মতো করেই টিভিতে মুভি দেখতে লাগলাম।—-

ইফতারটাও শেষ করতে পারি নি এর মধ্যেই বাবা আমার সামনে এসে হাজির।বাবা কিছু বলার আগেই আমি বাবাকে বললাম,
– বাবা সারাদিন রোজা রেখেছি এখন একটু শান্তিতে ইফতার করতে দাও। শুধু শুধু নামাজ পড়া নিয়ে প্যারা দিও না। 
বাবা আমায় কিছু বলতে চেয়েও না বলে চলে গেলো—

সারাদিন রোজা রেখে খাওয়ার পর শরীরটা একদম ছেড়ে দিয়েছিলো।বিছানায় গা লাগাতেই কখন যে ঘুমিয়ে গেলাম নিজেও জানি না। হঠাৎ মনে হলো কে যেন আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। আমি চোখ  মেলে তাকিয়ে দেখি আমার পাশে বাবা বসা।আমি কিছুটা অবাক হয়ে বললাম,
–বাবা তুমি এইখানে?
বাবা মুচকি হেসে বললো,
-” এশারের আযান দিয়েছে চল বাবা ছেলে একসাথে নামাজটা পড়ে আসি তাছাড়া তারাবীর নামাজটাও তো পড়তে হবে।”

আমি মুখটা মলিন করে বললাম,
–বাবা তুমি যাও। আমার শরীরটা ভালো লাগছে না। তাছাড়া খতমী তারাবী পড়নার মতো এনার্জি আমার শরীরে নেই।
বাবা হেসে আমায় বললো,
-” নামাজ বিহীন রোজা রাখা মানে হলো একটা কুকুর সারাদিন খাবারের সন্ধানে এদিন ওদিক ছুটাছুটি করলো কিন্তু কোথাও খাবার খুঁজে পেলো না।রোজা রাখা এক ফরজ আর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে সতেরো ফরজ। তুই একটা ফরজ পালন করতে গিয়ে বাকি সতেরোটা ফরজ মিস করলি এটা তো উচিত না বাবা। রমজান মাস হলো সিয়াম সাধনার মাস। এই মাসে অন্তত যেন আমরা কিছুটা হলেও বুঝতে পারি গরীবের অনাহারে থাকার কষ্ট, যারা কিনা সারাদিন পরিশ্রম করার পরেও দুইমুঠো খাবার জোগার করতে পারে না। এখন তুই যদি গার্লফ্রেন্ডের সাথে সারারাত কথা বলে ঘুম থেকে উঠিস দুইটার সময়, মুভি দেখে সময় পার করিস তাহলে ওদের কষ্টটা বুঝবি কি করে? রোজা তো হবেই না উল্টো আরো পাপ হবে। তোকে আমি নামাজের কথা সব সময় বলি কারণ তুই যদি নামাজ না পড়িস তাহলে তুইতো পরকালে শাস্তি পাবেই আর আমাকেও আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে তোকে কেন নামাজের কথা বলি নি সেজন্য।”

কথাগুলো বলে বাবা চলে যেতে চাইলো কিন্তু কি মনে করে আবার আমার দিকে ফিরে বললো,
-” বাবারে, রমজান মাস আমাদের মুসলিদের জন্য পাপ মুছনের অনেক বড় একটা সুযোগ। তাই নিজেকে একটু সংযত রাখার চেষ্টা করে তারাবীর নামাজটা পড় যাতে মরার পর অন্তত আল্লাহকে বলতে পারিস, আমি ইমামের পিছনে দাঁড়িয়ে পুরো কোরআন তেলায়ত শুনেছি”

কথাগুলো বলে বাবা যখন চলে গেলো তখনি আমার ফোনটা বেজে উঠলো। ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখি আমার গার্লফ্রেন্ড ফোন করেছে।আমি ফোনটা অফ করে দিলাম। আলনা থেকে পাঞ্জাবিটা পড়ে, টেবিলের উপর থেকে টুপিটা নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে গেলাম। 
বাবা যখন আমায় দেখে অবাক চোখে তাকিয়ে রইলো আমি তখন  বাবাকে বললাম,
– চলো, বাবা ছেলে একসাথে নামাজটা পড়ে আসি—-

আল্লাহতালা আমাদের সবাইকে পবিত্র রমজান মাসে বেশি বেশি ইবাদত করার তৌফিক দান করুক আমিন

নামাজ 
লেখ: আবুল বাশার পিয়াস

Post a Comment

কমেন্টে স্প্যাম লিংক দেওয়া থেকে বিরত থাকুন

Previous Post Next Post