rose girl pic free valobashar golpo in bengali
গল্প জীবনের - ভালোবাসার - একফালি রোদ ভাইয়া, গোলাপগুলো আমাকে দেবেন?


“ভাইয়া, গোলাপগুলো আমাকে দেবেন?”

বিকেল হয়ে এসেছে। পদ্মা সেতুর উপরে একপাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাপলদের হাঁটাহাঁটি দেখছি। ব্রিজটা এখনো চালু হয়নি। অনেক সুন্দর ভাবে বানানোর জন্য এটা আপাতত পর্যটক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিকেল হলেই এখানে কাপলদের ছড়াছড়ি। যদিও দুর দুরান্ত থেকে এখানে পিকনিকের জন্য বহু মানুষ আসে। তবে লোকাল কিংবা কিছুটা দুরে থাকা কাপলগুলো এখানে এসে সময় কাঁটায়। হাত ধরে ঘুরাঘুরি করে। চারপাশে তাদেরই গুন্জন।
.
আমি এখানে প্রথমবার এসেছি। ব্রিজের কাছে আসতেই একটা পিচ্চি মেয়ে এসে বেশ জোর করেই হাতে ফুল ধরিয়ে, টাকা নিয়ে চলে যায়। যদিও আজকে এসেছি এখানে আরশিয়ার জন্য। তবে সে আমার সাথে দেখা করতে আসবে কিনা সেটাই সন্দেহ। যেহেতু পিচ্চি মেয়েটা আমার হাতে ফুল ধরিয়ে দিয়ে গেছে। ভাবলাম ফুলগুলো আরশিয়াকে দেবো। যদিও আরশিয়া আমার গার্লফ্রেন্ড না। বারবার চারপাশে তাকাচ্ছি আরশিয়া আসবে কিনা। কিন্তু ওর কোনো খোঁজ নেই। আমি সিওর সে আসবে না। তবুও কেনো জানিনা অপেক্ষা করতে অনেক বেশিই ভালো লাগছে।

যখন হাতে ফুল নিয়ে আরশিয়ার জন্য অপেক্ষা করছি। দেখি একটা কাপল কয়েকবার আমার সামনে দিয়ে ঘুরাঘুরি করলো। আমার সামনে এসে একবার দাঁড়িয়ে, মেয়েটার সাথে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটা আমার দিকে তাকিয়ে মেয়েটার হাত ধরে টেনে নিয়ে চলে যায়। কিছু সময় পর আবারো আমার সামনে আসে। আমার দিকে তাকিয়ে চলে যাবে, আমি ডাক দিয়ে বললাম “আপনারা কি কিছু বলবেন?” ছেলেটা আমার সামনে এসে মাথা নিচু করে দাঁড়ায়। পিছনে ছেলেটার হার্ট মানে মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে। ছেলেটা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আমতা আমতা করে বলে “ভাইয়া, কিছু মনে না করলে, ফুলগুলো আমাকে দেবেন? আমি টাকা….”

ছেলেটা থেমে যায়। আমি একটু মুচকি হাসলাম। সে বলতে চাচ্ছে দরকার হলে টাকা দেবে আমাকে। আমি আশেপাশে তাকালাম। ফুল বিক্রি করে এমন কোনো বাচ্চা বা দোকান পেলাম না। ছেলেটার দিকে তাকালাম। ছেলেটা মেয়েটার দিকে তাকিয়ে ইশারায় কথা বলছে। আমি একটু শোনার চেষ্টা করলাম “তোমার মাঝে মাঝে কি হয় বলোতো? ফুল দিয়ে সবার সামনে প্রপোজ করতে হবে, দেখলানা, কোনো জায়গায় ফুল নেই। লজ্জার মাথা খেয়ে ভদ্র লোকের থেকে ফুল চাচ্ছি।” আমি আবারো মুচকি হাসলাম। প্রিয় মানুষদের বায়না গুলো সত্যিই অবাক করার মত হয়ে থাকে। পূরণ না করলে এক দফা ঝগড়া লেগে যায়।

আমি বিকেলের পরিবেশটা উপভোগ করার চেষ্টা করছি। আকাঙ্খা গচ্ছিত নরম বিকেলের পরিবেশটা এখানে থাকা সব কাপলেরা উপভোগ করছে। লালচে মেঘগুলো স্থীর হয়ে রংধনুর মত রং ছড়াচ্ছে। যেন একজন বিখ্যাত শিল্পী ছবি এঁকে দিয়েছে সাদা মেঘের উপরে। সামনে থাকা ছেলেটা আমার দিকে তাকিয়ে বলে..

“আমি জানি, আপনি ভাবীকে ফুলগুলো দেবেন। তবুও যদি আমাকে সেখান থেকে কয়েকটা দিতেন। আসলে এখানে এসেছি ওকে নিয়ে ঘুরতে, কিন্তু কোথাও ফুল পাচ্ছিনা। আচ্ছা না হলে থাক, আমরা খুজে দেখি কোথাও পাই কিনা।” আমি আবারো হাসলাম। আরশিয়া কি আমার বউ? এরা ভাবি বললো? একটু হাসি পাচ্ছে। আরশিয়ার আসার কথা চারটার দিকে। এখন পাঁচটা বেজে গিয়েছে। তাই ভেবেই নিয়েছি সে আর আসবে না। যদিও আরশিয়া আমার থেকে ফুলগুলো নিত না। তবুও মেয়ে বলে ওর হাতে দেওয়ার সাহসটা দেখাতাম। কিন্তু সে তো এখন আসবে না। তাই ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বললাম..

"আপনার নাম কি?"
"জ্বি, রাকিব। আর ও হল রাহি।"
"আমি, আবির। ফুলগুলো দিতে পারি। যদি আমার সামনেই রাহিকে প্রপোজ করেন।"

রাকিব রাহির মুখের দিকে তাকায়। রাহি একটু মুচকি হাসলো। রাকিবের দিকে ফুলগুলো এগিয়ে দিলাম। হাঁটু ভাঁজ করে ফুল বাড়িয়ে রাকিব বলে “রাহি, তোমাকে রোজ সকালে এক কাপ চায়ের সঙ্গী হিসেবে পাশে চাই, আমাকে ভালোবাসবে? আমি যে তোমার জন্য নিজের অস্তিত্বকে বিলিন করতে প্রস্তুত। ভালোবেসে পাশে থাকতে চাই সবসময়।” মেয়েটা ওর থেকে ফুল নিয়ে মুচকি হেসে প্রপোজ গ্রহন করে। ছেলেটা আমার পাশে এসে লজ্জা মুখে বলে..

"ধন্যবাদ ভাইয়া, অনেকদিন পর ওকে প্রপোজ করলাম। আমরা একি এলাকাতে থাকি।"
"প্রপোজটা অনেক ভালো লেগেছে। ভালোবাসার মানুষগুলোর বায়না পুরণের মাঝে আলাদা একটা ভালো লাগা থাকে।"
"ঠিক বলেছেন। আপনি নিশ্চয় ভাবীকে অনেক অনেক বেশি ভালোবাসেন?" (রাহি)

আমি চুপ হয়ে গেলাম। ভাবী? আমি এখনো বিয়ে করিনি। তবে আরশিয়ার জন্য এসেছি এখানে। আরশিয়া যেহেতু আসবে না। এদের দুজনের সাথে একটু গল্প করা যাক। আর ওরা আরশিয়াকে নিয়েই কথা বলছে তাহলে আমিও একটু বাড়িয়ে গল্প করি।

"হুম, আপনাদের ভাবীকে আমি অনেক বেশি ভালোবাসি। কিন্তু সে আমাকে আরো বেশি ভালোবাসে।"
"হাউ সুইট। ভাবী কেনো আসলো না?" (রাকিব)
"ওর সাথে একটু ঝগড়া হয়েছে। যদিও মিষ্টি ঝগড়া। আসবে হয়ত একটু দেরি করে। আমাকে খুব ভালোবাসে তো।"
"মিষ্টি ঝগড়া? একটু শুনতে পারি?" (রাহি)
"এই যে আমি কালো কোর্ট পরলাম, ওকে বললাম কালো ড্রেস পরতে। কিন্তু না সে পরবে সাদা ড্রেস। এটা নিয়ে একটু ঝগড়া।"
"হাহাহা, ইশ ভাবীকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে।"
.
আমি মুচকি হাসলাম। এই দুজন অচেনা কাপলদের সাথে বেশ খাতির জমিয়ে ফেললাম। যদি আরশিয়া এসব জানতে পারে। নিশ্চিত আমার মুখটা কোনোদিন দেখতে চাইবে না। আসলে আরশিয়াকে এখানে আমি আসতে বলিনি। রেস্টুরেন্টে দেখা করার কথা ছিল। আরশিয়া হল আম্মুর বন্ধুর মেয়ে। আদনান আংকেল আমার মায়ের ক্লাসমেট ছিল। ওনারা নাকি ছোট থেকে আমাদের বিয়ে ঠিক করে রেখেছিল। যদিও এটা আরশিয়া জানেনা। আমাকে আম্মা আরশিয়ার কথা বলার পর পুরো ঘটনাটা বলে। প্রথমে আমি বোকার মত তাকিয়ে ছিলাম। কিন্তু পরে যখন আম্মা বললো আরশিয়ার সাথেই তোর বিয়ে হবে তখন আরশিয়াকে দেখতে চেয়েছিলাম। আরশিয়া ডাক্তার। আর আমি একজন অফিসের কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে আমার বড্ড ডাউট ছিল যে আরশিয়া আমার মত কোনো ছেলেকে বিয়ে করবে না। তাই কনফিউশন দুর করার জন্য আরশিয়ার সাথে দেখা করার প্ল্যান করি। তাই ওকে কল দিয়েছিলাম কয়েকদিন আগে। রিসিভ করেই বলে “আপনি আবির, আমি জানি। আপনার নাম্বারটা আমার আব্বু ফোনে সেভ করে দিয়েছে। আর আপনাকে নিয়ে রোজ আমাদের বাড়িতে কথা হয়। আপনি দুরে বসেই কিভাবে আমাদের বাড়ির সবাইকে পটিয়ে নিয়েছেন? আপনার কথা আমার সামনে বলে বলে কান নষ্ট করে দিয়েছে। আমি জানি কেনো আপনার কথা বলে তারা। আমি কখনো আপনাকে বিয়ে করতে পারবো না। আর ভুলেও যেন আপনি আমাকে নিয়ে কখনো কল্পনা করবেন না। আমি বিয়ে নিয়ে এখনো ভাবিনি। নিজের কাজ নিজে করতে পারি। বুঝলেন মি.?”

আমি বোকার মত চুপ হয়ে থাকি। প্রথম ফোন কলে এতকিছু শুনবো তা ভাবিনি আমি। সরাসরি বিয়ে করবে না বলল মেয়েটা। আরশিয়াকে ছবিতে দেখেছিলাম। মেয়েটা ওর নামের সাথেই যেন তৈরী। সত্যিই বেশ মায়াবী ও। যথেষ্ট সুন্দরী, আর অজস্র মায়া যেন ওর চোখে মুখে। গায়ে ডাক্তারের পোশাক পরা ছিল। লম্বা কালো চুল ওর মুখের উপর এসে পড়েছিল। বাম হাত দিয়ে সরাচ্ছে ঠিক সেসময় যেন ছবিটা তোলা। আমি বললাম..”আচ্ছা আমাকে বিয়ে করতে হবে না। আমরা কি দেখা করে এ ব্যাপারে কথা বলতে পারিনা? তাহলে ভালো হয়।” আরশিয়া বেশ তারাতাড়ি উত্তর দিয়ে বলে “হুম আমারও তাই মনে হয়, আমাদের দেখা করে সবকিছু ক্লিয়ার করে দেওয়া ভালো। আপনাকে আমার বিয়ে করা সম্ভব না। এ ব্যাপারে আপনার সাথে কথা বলতেই দেখা করবো। বলুন কোথায় দেখা করতে চান?”

আরশিয়া দেখতে যেমন, তেমনি কথা গুলোও বেশ চমৎকার করে বলে। আমি বলি “কোনো রেস্টুরেন্টে বসে কথা বললে কেমন হয়?” আরশিয়া বলে ওঠে “না, কোনো খোলা মেলা জায়গাতে দেখা করবো, তবে বেশি সময় দিতে পারবো না। প্রয়োজনীয় কথা বলেই চলে আসবো। নতুন যে সেতু বানাচ্ছে ওখানেই চলুন দেখা করি, আগামী *** তারিখে বিকেল চারটাই দেখা করবো। আর শুনুন বারবার ফোন দিবেন না। আমি নিজেই এ দিন সকালে ফোন করে আসার কথা জানাবো।”
.
আরশিয়া ফোন কেটে দেয়। আজকে সকালে ফোন করে বলে সে আসবে। যদিও ওর কথা শুনে মনে হয়েছিল সে আসবে না। আর ঠিক তাই হলো। সে আসেনি। রাকিব বলে ওঠে..

"কিভাবে পরিচয় হয়েছিল ভাবির সাথে?"
"ও রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল। সেদিন বৃষ্টি হচ্ছিল। ওর ছাতা উড়ে এসে আমার ছাতায় লাগে। আমারটাও উড়ে যায়। সেদিন দুজনেই ছাতার পিছনে দৌড়াচ্ছিলাম। ছাতাগুলো দুজন ধরি একসময়। দুজনের চোখা চোখি হয়। বাড়িতে চলে যায়। কিন্তু পরে খেয়াল করে দেখি দুজনের ছাতা পাল্টাপাল্টি হয়ে গেছে। তারপর আবার দেখা করা কথা বলা বন্ধুত্ব, প্রেম।"
"বাহ ভাইয়া, আপনাদের লাভ স্টোরি শুনে আমার কেমন যেন হচ্ছে।" (রাহি)
"আপনি এত দুরে কেনো এসে দাঁড়িয়েছেন? জানেন খুজে পেতে কত সময় লাগল?"
.
পিছনে তাকিয়ে দেখি আরশিয়া এসে দাঁড়িয়েছে। আমি চমকে উঠি। ও কালো রঙা ড্রেস পরে এসেছে। রাকিবদেরকে মিথ্যে বানিয়ে গল্প বলছিলাম। অথচ কাকতালিয়ভাবে আরশিয়া কালো পোশাক পরে আসছে। ঘড়ির দিকে তাকালাম। ছয়টা বেজে গেছে। যদিও এখানে রাত দশটা অবদি কাপলেরা ঘুর ঘুর করে। আমি আরশিয়ার দিকে ভালো করে তাকালাম। স্বাভাবিক ভাবেই এসেছে। তবুও যেন বড্ড অসাধারন লাগছে। আমি কিছু বলতে যাবো পাশ থেকে রাকিব বলে ওঠে..

"এটাই আমাদের ভাবী? কেমন আছেন ভাবী? জানেন আপনার জন্য ভাইয়া কতক্ষন অপেক্ষা করছে। আপনাদের গল্প শুনছিলাম। আপনারা যে দুজনকে এত ভালোবাসেন কথা না বললে জানতেই পারতাম না। আর আপনি অভিমান করেও কালো ড্রেস পরছেন এটাতেই বোঝা যায় আপনি ভাইয়াকে কত ভালোবাসেন।"
"আরে থাক না এসব? তুমি রাহির সাথে কথা বলো।"(আমি)
"না ভাইয়া আগে ভাবীর সাথে কথা বলবো। এতক্ষন ওনার গল্প শুনলাম। কথা না বললে হয়?" (রাহি)

আমি লজ্জা পাচ্ছি। ভয়ও পাচ্ছি আমি। এতক্ষন সব ওদের বানিয়ে গল্প শুনিয়েছি। সব যদি বলে দেয় কি হবে? আরশিয়ার দিকে তাকালাম। আরশিয়া আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে? আমি মুচকি হেসে বললাম..

"তুমি আসতে এত দেরি করলা কেনো? তোমার জন্য অপেক্ষা করেছি অনেক সময়। আচ্ছা যাও সরি বলো। বলো না জানু, এমন করে দাঁড়িয়ে আছো কেনো?"

আরশিয়া হা হয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। রাকিব আর রাহি উৎসুক জনতার মত চেয়ে রইল। আরশিয়া ওদের দুজনার দিকে তাকায়। হয়ত পরিস্থিতি বুঝতে পেরে একটু রাগি মুখে বলল..

"সব তো তোমার দোষ, তুমি নিজেই আমাকে না নিয়ে চলে আসলে। আজকে চলো, তোমাকে বোঝাবো।"
"নাহ ভাবী, কিছু বলতে হবে না। ভাইয়া আপনাকে অনেক বেশি ভালোবাসে। আপনাদের বৃষ্টিতে ভেজার গল্প শুনে আমি শিহরিত।" (রাহি)
"আচ্ছা, তোমরা কথা বলো আমরা বরং হাঁটি।"

ওদেরকে কথাগুলো বলে আরশিয়ার হাত ধরে ওদের থেকে অনেক দুরে নিয়ে চলে আসলাম। কিছুদুর আসার পর ওর হাত ছেড়ে দিয়ে দাঁড়ালাম। আরশিয়ার দিকে তাকিয়ে বললাম..

"আসলে, ওদের সাথে একটু মজা করে গল্প করেছিলাম। ওরা…"
"বুঝতে পারছি। এখন কাজের কথা বলুন।"
"হুম বলুন।"
"আপনার আম্মু আর আমার আব্বু আমাদের বিয়ে ঠিক করেছে। আপনার কতগুলো ছবি আমার বিছানায় পড়ে আছে। যদিও আমি বাড়িতে আপনাকে বিয়ে করবো না এ ব্যাপারে কিছুই বলিনি। তবে উত্তরটাও জানাইনি। আমি চাই আপনি নিজেই না করে দিন।"
"এত সুন্দর মেয়েকে যদি বিয়ে করতে, না করে দিই, সৌন্দর্যের অপমান করা হবে।"
"দেখুন বেশি বকবেন না। আমি কিছু জানিনা, বিয়ে করবেন না আমাকে, এটা যেভাবেই হোক জানাবেন। আমাকে আপনার পছন্দ হয়নি এটা বাড়িতে বলবেন।" (আরশিয়া)

আমি কিছুই বললাম না। আরশিয়া এমনিতেই অনেক সুন্দর। এখন যদি ওকে সুন্দরের প্রশংসা করে ইম্প্রেস করার চেষ্টা করি সে সব ছেলেদের মত আমাকে ভাবতে শুরু করবে। ব্রিজের একপাশে এসে দাঁড়ালাম। উঁচু জায়গাতে দুজন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছি। তাই বললাম..

"আসলে আমি চেয়েছিলাম, আপনাকে না করে দিতে। ছবি দেখে আপনাকে আমার সত্যিই পছন্দ হয়নি। আমি কিছুতেই বোঝাতে পারছি না, আম্মা কি দেখে আপনার মত একটা মেয়েকে আমার জন্য সিলেক্ট করে ফেললো। আমারও না আপনাকে বিয়ে করার একদমই ইচ্ছে নেই। আমি এগুলোই বলতে ডেকেছিলাম আপনাকে।"
.
কথাগুলো বলে আমি আরশিয়ার দিকে তাকালাম। আমার দিকে ও চোখ বড় করে তাকিয়ে রইল। ও ঠিক কি বলবে হয়ত সেটাই খুজতে ব্যস্ত। আমি একটু মুচকি হাসি দিয়ে বললাম..

"আচ্ছা তাহলে আসি। প্লিজ আমাকে আবার বলবেন না, আপনাকে এগিয়ে দিয়ে আসতে।"

কথাটা বলে আমি আর দাঁড়ালাম না। হনহন করে হেঁটে চলে আসলাম। ঠিক হয়েছে। সুন্দরী মেয়েদের বেশি পাত্তা দিতে নেই। কারন তারা নিজেকে সুন্দরী তো মনে করেই, আর ভাবে যে ছেলেরা তার জন্য পাগল হয়ে বসে আছে। একটু তাকালেই মেয়েরা ভাব নেওয়া শুরু করে দেয়। এমনটা হয় বিয়ে বাড়িতে। মেয়েদের দিকে ছেলেরা তাকালে চোখ মুখ এমন করবে যেন ছেলেগুলো বড় অন্যায় কাজ করে ফেলেছে।
.
“মেয়েটাকে কেমন দেখলি? জানতাম তো পছন্দ হবে।”

খাবার টেবিলে আম্মা কথাটা বলল। আমি একটু আঁড়চোখে তাকালাম ওনার দিকে।

"হু.. পছন্দ হয়েছে।" (আমি)
"তাহলে বিয়ের কাজটা সেরে ফেলি?"
"হু।"
"কি হু হু করিস?" (আম্মা)
"হু"

খাবার শেষ করে রুমে আসলাম। আসলে সত্যি বলতে আরশিয়াকে আমার বেশ পছন্দ হয়েছে। কিন্তু এটা যদি ওকে বলি সে এমনিতেই আমাকে আর সহ্য করতে পারবে না। বালিশে হেলান দিয়ে ফোনটা হাতে নিতেই আরশিয়ার কল আসলো। কিছু সময় ফোনের দিকে তাকিয়ে রইলাম আমি। প্রথম রিং এ রিসিভ করা যাবে না। তাহলে ভাববে আমি তার কথা ভাবছিলাম। কথাগুলো ভাবতে ভাবতে আবারো কল। এবার শেষ মুহুর্তে এসে রিসিভ করলাম।

"কালকে আমার সাথে দেখা করবেন।"
"জ্বি.. কে বলছেন?" (আমি)
"মানে কি? ঐ ছেলে আমাকে চিনতে পারছেন না আপনি?" 
"নাহ তো.. ওহ আপনি? আসলে নাম্বারটা ডিলিট করে দিয়েছি তো তাই বুঝতে পারিনি।"

ওপাশ থেকে আরশিয়ার কোনো শব্দ শুনতে পেলাম না। কেবল খট করে একটা শব্দ হল। হয়ত ফোনটা বিছানায় আঁছাড় মেরেছে। আমি শব্দ ছাড়াই হাসলাম। সে বলে ওঠে..

"কালকেই দেখা করবেন আমার হসপিটালে।"
"হু"
.
ফোন রেখে দিয়ে হো হো করে হাসলাম আমি। আরশিয়াকে প্রথম ছবিতে দেখেছিলাম। তারপর চুপিচুপি ওকে ওদের বাসার সামনে এসেও দেখেছি। আরশিয়াকে বিয়ের জন্য আনটিকে ফোন দিয়ে খোজ নিতাম। যেন বোঝাতাম আমিই একমাত্র ভালো ছেলে আরশিয়ার জন্য। বাড়ির সবাই রাজি হয়ে যায়। কিন্তু আরশিয়ে বিয়ে করতে চাইছে না। কিন্তু কেনো?
.
আমি ওর সামনের চেয়ারটাতে এসে বসেছি। সে টুকটাক কাজ করতে লাগল। আমি ওর দিকে তাকালাম না। কিছু সময় পর কাজ শেষ করে ও বললো..

"চলুন, হাঁটবো।"
"আচ্ছা।"

আরশিয়ার সাথে হাঁটছি। মেয়েটা আমার উপর রেগে আছে। ছোট একটি রেস্টুরেন্টে এসে বসলাম। দুজনে কিছু সময় চুপ থেকে আরশিয়া প্রথমে বলে..

"দেখুন, ভালোভাবে বলছি, আমার বাসায় আপনি যাবেন না। আমি আপনাকে বিয়ে করবো না। আপনাকে আমার পছন্দ না। কালকে বাসায় যেয়ে আপনার কথায় শুনতে হয়েছে। আমি চাই বিয়েটা বন্ধ করুন।"
"আমারো সেম অবস্থা। আমাকেউ আপনার একটুও পছন্দ না। আচ্ছা আপনিও আমাকে প্লিজ বিয়ে করবেন না। আপনাকে কোনো ভাবেই আমি পছন্দ করতে পারছি না। ব্যাপারটা একটু বুঝুন প্লিজ।"
.
আরশিয়া আমার দিকে কপাল কুঁচকে তাকাল। আমি চোখ সরিয়ে নিলাম। আরশিয়া টেবিলে জোরে একটা চড় দিয়ে বসা থেকে উঠে চলে যায়। আমি হাসতে থাকি। এই মেয়েকে তো আমি বিয়ে করবোই। আমি কিছু সময় রেস্টুরেন্ট থেকে অফিসে চলে আসি।

পরেরিদন সকালে ওদের বাড়িতে আসলাম। সোফাতে বসে আরশিয়ার ছোট বোনের সাথে মজা করছি। একটু পর আনটি আসলো। আমাকে দেখেই জোরে জোরে আরশিয়াকে ডেকে বলে..

"আরশিয়া, দেখে যা কে এসেছে। জামাই এসেছে রে। তাড়াতাড়ি আয়। বাবাগো, এখনো বিয়ে হয়নি তোকে দেখার জন্য মনে হয় আর থাকতে পারছে না। জলদি আয়।"
"মা.. জামাই মানে,, কিসের জা*** আপনি?"

মায়া ভিতর থেকে বেরিয়ে আসে। এসে দেখে আমি সোফাতে বসে আছি। আমাকে দেখেই আরশিয়া চমকে ওঠে। আরশিয়াকে দেখে সিমি বলে..

"আপু, পাঁচশো টাকা দাও তো। মেকাপ ফুরিয়ে গেছে। কিনতে যাবো।"
"আরে, শালিকা আমি থাকতে তোমার আপুর থেকে কেনো নিবা?"
"হুম তাই তো? দুলাভাই দিন টাকা দিন। এখন থেকে আপনার থেকে নেবো সব।"
"সিমি, চুপ থাক। বাইরের কারো থেকে টাকা নিতে তোর লজ্জা করছে না? (আরশিয়া)
"বাইরের কেনো হবে? তোমার বর তো। আমার দুলাভাই। আম্মুকে বলছি তুমি দুলাভাইকে বাইরের লোক বলছো।"
"এই না না… দিন টাকা দিন, অসহ্য।" (আরশিয়া)

আমি মুচকি হেসে সিমিকে পাঁচশো টাকার নোট দিলাম। ওর জন্য কাজটা আরো সহজ হয়ে গেলো। আরশিয়া আমার দিকে রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।

"কি সমস্যা কি? আপনি আমাদের বাসায় কি করেন?" (আরশিয়া)
"এমনি আসলাম।"
"আমাকে দেখতে আসছেন? বাসায় কেনো আসলেন? হসপিটালে যেতেন।"
"আমি তো রোগী না।"
"উফ, আপনি বিরক্তিকর। দেখুন এসব কোনো কিছুতেই কাজ হবে না।"
"জ্বি, কি কাজ হওয়ার কথা বলছেন?"
"চুপ।"
.
আরশিয়া ভিতরে চলে যেতে প্রস্তুত হয়। আমি ওকে ডাক দিয়ে বললাম..

"আচ্ছা শুনুন, আপনাকে আমার বিয়ে করতে হবে না।"
"সত্যিই?"
"হুম। শুধু একমাস আমার সাথে ফোনে কথা বলতে হবে রাত জেগে। আমি মাঝে মধ্যে ডাকবো, ঘুরতে যাবেন। অল্প সময়ের জন্য আসলেও হবে। মাত্র একমাস আমার সাথে ফেক রিলেশন করতে হবে আপনার। যদি রাজি থাকেন তাহলে আমি বিয়ে ভাঙার ব্যবস্থা করে দেবো।"
"সত্যিই তো বিয়ে ভাঙবেন?"
"হুম।"
"আমি রাজি।" (আরশিয়া)
.
আরশিয়ার থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসি আমি। দিনের আলো ফুরিয়ে রাত হয়। বিছানায় শুয়ে আরশিয়ার নাম্বারে কল দিলাম। কয়েকবার বাজার পর রিসিভ হল।

"কেমন আছো? তুমি তো আমার এখন এক মাসের গার্লফ্রেন্ড। তাই তোমাকে তুমি করে বলছি।"
"হুমম। কি বলুন।"
"আচ্ছা… তোমার চোখে কি ছোট বেলাতে জাদু পানি লাগিয়ে দিয়েছিল কেউ?" (আমি)
"মানে?"
"না মানে তাহলে এত আকর্ষনীয় কেনো? বারবার তাকাতে ইচ্ছে করে। আহ কি মায়াবী চোখ।"
"ফ্লার্ট করা হচ্ছে তাই না?"
"ফ্লাট করবো কেনো? তুমি তো অলরেডি পটতেই যাচ্ছো।"
"একদমই না। এই আরশিয়াকে এত সহজে পটানো সম্ভব না।"
"তাহলে ডিল শুরু হোক।"
"ওকে এটাতেও রাজি।"
.
দুজনে আরো কিছু সময় কথা বলি। প্রতিদিন রাতে আমরা কথা বলতে থাকি। প্রথম প্রথম কথা বলার পরিমান কম ছিল। আস্তে আস্তে সেটাও বেড়ে গিয়েছে। প্রতি সপ্তাহে আমরা একবার করে দেখা করি। প্রতিদিন বিকেলে আরশিয়াদের বাড়িতে যেয়ে সবার সাথে আড্ডা দিয়ে থাকি।
.
আজ ২৫ দিন হয়েছে আমাদের শর্তের। আরশিয়াকে ফোন দিলাম। ও সাথে সাথেই রিসিভ করলো। আমি বললাম..

"তোমার তো হ্যাপি হওয়ার দিন চলে এসেছে।"
"কিসের?"
"আর মাত্র পাঁচদিন বাকি আছে শর্ত শেষ হওয়ার।"
"কিসের শর্ত?"
"এই যে একমাসের প্রেমিকা হিসেবে তুমি আমার সাথে ছিলে।"
"ওহ.. হুম।"

আরশিয়া চুপ হয়ে থাকে। ওর ওহ হুম বলার শব্দটা আমার কাছে আজকে অন্যরকম লাগছে। প্রথমে তো আরশিয়া ফোন রাখার জন্য না না রকম অযুহাত দেখাতো। লাষ্ট দশদিন আগে সে নিজে থেকেই কল করতো। অনেকটা সময় সে কথা বলতো। সারাদিন কি করেছে, তার ভালো লাগা, খারাপ লাগা সব নিজে থেকেই বলতো। আমি শুনতাম, হাসতাম, তাকেও হাসাতাম। তবে কি এখন আরশিয়া আমাকে পছন্দ করা শুরু করেছে? না না, তাহলে তো সে বলতো আমাকে।

"চুপ করে আছো কেনো?" (আমি)
"না এমনি। আচ্ছা আজকে ভালো লাগছে না,  একটা ইমার্জেন্সি আছে, পরে কথা বলবো।"

আরশিয়া ফোন রেখে দেয়। আমি মনে মনে হাসলাম। সেদিন রাতে আর ফোন দিলাম না। ফোনটা অফ রেখে দিই। সকালে ফোন অন করতেই সাথে সাথে ফোন আসলো। তাকিয়ে দেখি আরশিয়ার কল। আমি কিছুটা অবাক হলাম। রিসিভ করে ওপাশ থেকে কথা শোনার প্রস্তুতি নিলাম..

"এই ছেলে, কি সমস্যা তোমার? কাল থেকে কেনো ফোন অফ?"
"না মানে, আর চার দিন আছে তো? তাই নিজেকে প্রস্তুত করছি আপনার থেকে ভালো থাকার।"
"আমি আপনি হয়ে গেলাম?"
"একমাস পর তো সব শেষ। তাই আগে থেকেই বলছি আরকি।"
"কালকে আমার সাথে দেখা করবা তুমি।" (আরশিয়া)
"দেখা করবো না।"
"এখনো চারদিন বাকি শর্তের। তাই এ চারদিনে আমাদের দেখাও হবে।"
"আচ্ছা।"
.
পরেরদিন আমি আরশিয়ার ঠিকানা অনুযায়ী দেখা করতে গেলাম। যেয়ে দেখি সে আগে থেকেই বসে আছে। এরাকমটা কখনো হয়নি। সবসময় আমিই আগে যেয়ে বসে থাকতাম আরশিয়ার জন্য। আজকে প্রথমবার সে আমার জন্য অপেক্ষা করছিল।

"কেনো এমন করছো তুমি? (আরশিয়া)
"কেমন করছি? শর্ত ছিল যেটা সেটা তো পালন করছি। হুট করে পরিবর্তন হলে খারাপ লাগতো। তাই আগে থেকে প্রস্তুত করছি নিজেকে। কিছু বলবেন?" (আমি)
"তুমি অনেক খারাপ। তোমাকে বিয়ে করবো না আমি কখনো।"
"হিহিহি.. আচ্ছা আরশিয়া শুনুন। আসলে কি, চেয়েছিলাম এক মাসে আপনাকে পটাবো। কিন্তু আপনি পটবেন না এটাও বাজি ধরে ফেলেছিলেন। মেনে নিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম হয়ত আপনি আমার প্রেমে পড়বেন। কিন্তু না। সত্য বলতে আমি আপনাকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম। এখন আর কিছু পাওয়ার নেই। ভালো থাকবেন। আর হা, বিয়েটা ভেঙে দেবো কয়েকদিনের মধ্যে। চিন্তা করবেন না।"
.
কথাগুলো বলে আর দাঁড়ালাম না। ভেবেছিলাম পিছন থেকে আরশিয়া ডাকবে। এ জন্য আস্তে ধীরে হাঁটছিলাম। কিন্তু না, সে ডাকেনি। মেজাজটা খুব খারাপ হয়। ভাবছিলাম হয়ত সে আমাকে পছন্দ করা শুরু করেছে। কিন্তু না আমিই ভুল ছিলাম।
.
নাম্বারটা চেন্জ করে ফেললাম। অফিস থেকে কয়েকদিনের ছুটি নিয়ে একা একা রুমে বসে থাকি। আসলে কিছুই ভালো লাগে না আমার। সবটা সময় আরশিয়ার সাথে কাটানো গত একমাসের সময়গুলো বড্ড বেশি মনে পড়ে। কিছু সম্পর্ক থাকে, যেটা অল্প কয়েকদিনের জন্য হলেও মনে হয় কত কাছের, কত আপন ছিল সে। অনায়াসে তাকে বিশ্বাস করা যায়। ভালোবাসতে ইচ্ছে করে।

তিনদিন পর রুমে শুয়ে শুয়ে ফেসবুকিং করছি, আম্মু রুমে প্রবেশ করে। আম্মুকে বিয়ে ভাঙার জন্য কতবার যে বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু পারিনি। আম্মু এসে বলল..

"বান্দর ছেলে, কি করেছিস তুই আরশিয়ার সাথে?"
"মানে? আমি কি করবো?"
"তাহলে সে কেনো, ঠিকমত খাচ্ছে না। বলছে তুই নাকি কথা বলিস না আর ওর সাথে। তোর নাকি ওর পছন্দ হয়নি। বিয়ে করবি না বলেছিস? কেনো করেছিস এমন?"
"কিহ? আরশিয়া এসব বলেছে বাড়িতে? এই মেয়ের সমস্যাটা কি? এ জন্য অংকুশ দাদু বলেছিল ‘মেয়েদের মন বোঝা, নয়রে নয় সোজা।’ আমি আম্মুর দিকে তাকালাম। উনি বলে..

“তোকে আরশিয়ার, আম্মু যেতে বলেছে। আজকেই যাবি। না হলে তোর কপালে খারাপ আছে বলে দিলাম। ফাইজলামো পাইছোস?”

উনি চলে গেলো। আমি টাসকি খেয়ে বসে রইলাম। এটা কি হল? আরশিয়া কেন এরাকম করে বলেছে? সব দোষ আমার উপরে কেনো চাপিয়েছে? আমাকে বিয়ে করবেনা বলেছিলল, এমনকি বিয়ে ভাঙার অফারেও রাজি হয়ে এখন কেন সে এমন করছে? পছন্দ করে? তাহলে সেদিন কেনো আমাকে পিছন থেকে ডাকেনি?
.
বিকেলের সময়ে আরশিয়াদের বাসায় আসি। আনটি আমার সামনে বসে আছে। লজ্জায় মাথা উচু করে তাকাতে পারছি না। শালিকা এসে দুলাভাই বলতে বলতে বাড়ির মানুষ একজায়গায় করে ফেলেছে। কেবল আরশিয়া আমার সামনে আসেনি। আনটি বলে..

"দেখো বাবা, সম্পর্কে একটু ঝগড়া হতেই পারে। তাই বলে এত রাগ করবা? সব ঠিক করে নাও। আমি যেন আর না শুনি তোমাদের ঝগড়া হয়েছে।"

আনটি চলে গেলো। আমি বোকার মত বসে আছি। শালিকা এসে আমার পাশে বসলো। আমি তাকিয়ে মুচকি হাসলাম। আরশিয়াকে কোথাও দেখছি না কেন? কই গেলো ও? এতক্ষন খুব আমাকে নিয়ে মাতামাতি করেছে। তাহলে সামনে কেন আসছে না?

"আপুকে খুজছেন? সে অভিমান করেছে। আচ্ছা দুলাভাই বলুন তো..আপুর সাথে ঠিক কি নিয়ে ঝগড়া হয়েছিল?"
"জানিন, হয়ত তোমার আপু আমাকে ভালোবাসে না।"
"তাহলে একটা কাজ করুন। আপুকে আমি ডেকে আনবো। আপনি বলবেন, শাঁড়ি পরে আজকে আপনারা প্রথম যেদিন, যেখানে দেখা করেছিলেন সেখানে দেখা করবেন। যদি আপু শাঁড়ি পরে আপনার কথামত তাহলে ভাববেন আপু আপনাকে ভালোবাসে।"
"বাহ, দারুন আইডিয়া তো।"
.
শালিকা চলে যায় ভিতরে। কিছু সময় পর আরশিয়াকে আমার সামনে হাজির করে। শালিকা ভিতরে দৌড়ে চলে যায়। আমি আরশিয়ার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলাম। আরশিয়া বলল..

"আপনি এখানে কেনো এসেছেন?"
"প্রাক ঐতিহাসিক কালে এটা আমার শ্বশুর বাড়ি ছিল তাই দেখতে আসলাম। আগামী মাসে আমার বিয়ে তো। এ জন্য দাওয়াত দিতে এসেছি।"
"কিহ?"
"হুমম। আচ্ছা শুনুন,আজকে আপনার সাথে দেখা করাবো তাকে। আপনি কি শাড়ি পরে আসবেন? প্রথম যেখানে দেখা হয়েছিল আমাদের সেখানে আসবেন।"
"পারবো না। আপনি সামনে থেকে যান।"
"আরে চিন্তা করবেন না। বিয়ে আপনাকে করবো না।"
"চুপ।"
"তাহলে শাড়ি পরে আসছেন তাই তো? অপেক্ষা করবো কিন্তু। যদি শাড়ি পরে আসেন তাহলে… না থাক। প্লিজ শাড়ি পরবেন না। আপনাকে শাড়িতে অনেক বেশি সুন্দরী লাগবে। যদি সে দেখে হিংসে করে তখন সমস্যা হবে।"

আর বসলাম না আমি। প্রচুর হাসি পাচ্ছে। বাইরে বের হয়ে বাড়ির দিকে তাকালাম। ব্যালকণিতে শালিকা দাঁড়িয়ে আছে। আঙ্গুল উঁচু করে বেষ্ট অফ লাক বলে উৎসাহ দিলো ও। আহা এরাকম একটা শালি যদি ঘরে ঘরে থাকতো।
.
আমি দাঁড়িয়ে আছি সেতুর উপর। শার্টের সাথে জিন্স প্যান্ট পরা। আসার রাস্তার দিকে বারবার তাকাচ্ছি। আরশিয়ার কোনো খোজ নেই। বিকেলের শেষ সময়টা চলে এসেছে। সন্ধ্যার সূচনা আসতে চলেছে। কিন্তু আরশিয়ার কোনো খোঁজ নেই। কিছু সময় পর দেখলাম আরশিয়া চকলেট রং এর শাড়ি পরে আমার দিকে এগিয়ে আসছে। আমি ওর আসার দিকে চেয়ে আছি। আরশিয়া এসে আমার পাশে দাঁড়ালো। আমি হতভম্ব হয়ে চেয়ে আছি।

"কই?"
"কি কই?" (আমি)
"আপনার প্রেয়সী কই?"
"সে তো এসে গেছে।"
"হুম, তো ডাকুন। পরিচিত হই।"
"আচ্ছা ওয়েট। তোমার ছোট ব্যাগে আয়না আছে?"
"হুম, ছোট আয়না আছে। কেনো?" (সে)
"বের করো।"
"ওকে, এই নিন।"
"মেলাও। আয়নার দিকে তাকাও। দেখতে পাবা তাকে। মানে আমার প্রেয়সীকে দেখতে পাবা।"
"মানে? ওটা তো আমি।"
"হুম, আমার প্রেয়সী তো তুমি।"
.
আরশিয়া নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। আমি ওর মুখের দিকে তাকালাম। আমার দিকে তাকিয়ে মাথা নিচু করে নিয়ে বলা শুরু করে..

"প্রথম প্রথম আপনাকে আমার পছন্দ হয়নি। ভেবেছিলাম আপনাকে কখনো বিয়ে করবো না। আমার পরিবার আপনার জন্য পাগল। সবসময় আপনার কথা বলতো। আমার বোন আরো বেশি বলতো। তবুও আপনাকে মেনে নিতে পারছিলাম না। বিয়ে ভাঙার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। তাই সেদিন আপনার শর্তে রাজী হয়েছিলাম। প্রথমে খুব বিরক্ত লাগতো কথা বলতে। তারপর আস্তে আস্তে আপনার প্রতি হুট করেই ভালে লাগা তৈরী হয়ে যাই আমার। হয়ত সেটা ভালোবাসায় রুপ নেয়। কিন্তু এবার আপনি আমাকে বিয়ে করবেন না বলে না করে দিলেন।

খুব খারাপ লাগছিল। কেনো এমন করলেন? আপনি একটা বাজে ছেলে। কষ্ট দিয়েছেন আমাকে। আপনার সাথে সময় কাটাতে আমার এখন ভালো লাগে। জানিনা আপনি এগুলো বিশ্বাস করবেন কিনা। তবে এটাই সত্যি। যখন আপনি বললেন আপনি বিয়ে করছেন অন্য কাউকে। তখন মনে হয়েছিল সবকিছু ভেঙে ফেলি।"
.
আরশিয়া কিছু বলছে না আর। আমি মুখ ঘুরিয়ে বিজয়ের হাসি হাসলাম। ওর সামনে যেয়ে বললাম..

"আসলে, সত্যি কথা হলো, আমার প্রথম থেকেই তোমাকে ভালো লাগেনি। তোমাকে আমার মত একটা ছেলে বিয়ে করবে ভাবতেই কেমন যেন লাগছিল। আমার তোমার সাথে বিয়ে করার একদমই ইচ্ছে নেই।"
"কি? কি বললে তুমি?"
"না মানে, মজা করলাম। তোমাকে আগে থেকেই ভালোবাসি বুঝছো?"
"তোমাকে আমি…."

আমি ওর থেকে পিছিয়ে আসলাম। আরশিয়া জোরে হেঁটে আমাকে মারতে এসে জড়িয়ে ধরলো। আমি হাসবো নাকি নাচবো বুঝতে পারছি না। তবে এটা সিওর, সুন্দরী মেয়েগুলো খালি ছেলেরা প্রপোজ করে বলে ভাব নিতেই জানে। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে তারা যে এক নাম্বারের গাধি, তা না মিশলে কেউ জানবে না। আপাতত তাকে জড়িয়ে ধরি। পরে না হয় সবটা বলবো।
---—‘(সমাপ্ত)’—---
একফালি রোদ
লেখা> Abir Hasan Niloy

Post a Comment

কমেন্টে স্প্যাম লিংক দেওয়া থেকে বিরত থাকুন

Previous Post Next Post