জীবনের গল্প - মা হারা এতিম
জীবনের গল্প - মা হারা এতিম


মাজের আর পাঁচটা সৎমায়ের থেকে আমার সৎমা বিন্দুমাত্র আলাদা ছিল না। আত্মীয়দের মুখে শুনেছিলাম, আমার মা যখন হার্ট অ্যাটাক করে মারা যায় সেদিন আমি আর আমার ফুপাতো ভাই সুজন মায়ের সাথে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। মা গিয়েছিল হার্টের ইঞ্জেকশন নিতে। আমি নাকি তখন তিন বছরের শিশু আর সুজন ভাই দশ বছর বয়সী। মা আমাকে সুজন ভাইয়ের কোলে ধরিয়ে দেয়। ইঞ্জেকশনটা শরীরে পুশ করার দুই মিনিটের মধ্যে মা মারা যায়। যা সবার জন্যই আশ্চর্যের ছিল। 

আমরা দুই ভাই। বড় ভাই শাওন আর আমি লিখন। মা মরার কয়েক মাসের মধ্যেই বাবা বিয়ে করে আনে। আমার মা যেমন ফর্সা, স্বাস্থ্যবান, সুন্দরী মহিলা ছিলেন আমার ছোটমাও ঠিক সেইরকমই গড়নের। যখন থেকে বুঝতে শিখেছি কোনদিন দেখিনি আমার সৎমাকে আমাদের দিকে মমতার নজরে দেখতে। সৎমা আমাদের তাকে মা বলে ডাকতে নিষেধ করেছিলেন। আমরা তাকে খালা বলে ডাকতাম। 
আমার বড় ভাইটা বরাবরই সহজ সরল। সে কোনদিন কোনকিছু নিয়ে অভিযোগ করতো না। মা রান্না করে রাখতো সে সময়মতো খেয়ে নিতো। যত পান্তাপানি, বাসি পঁচা খাবার আর যাই রাখুক না কেন সে নির্দিধায় খেয়ে নিতো। কিন্তু মা অভিযোগ করতো শাওন নাকি বেশি ভাত খেয়ে ফেলে। মা সবসময় এটা নিয়ে চেঁচামেচি করতো। আমি ছোট ছিলাম। শাওনের মতো যা তা খাবার আমি খেতে পারতাম না। আমি যখন একটু বড় হই তখন একদিন তরকারি পছন্দ না হওয়ায় একটা ডিম ভেজে ভাত খেয়েছিলাম। সে নিয়ে বাড়িতে তুমুল ঝগড়া শুরু হয়ে গিয়েছিল। সেদিন বাকি দুবেলা আর কোনকিছুই মা আমাকে খেতে দেয় নি। আর খাওয়ার রুচিও ছিল না। অপমানের ভাত আমার হজম করতে কষ্ট হতো। 
কম খেতাম বলে আমার ওজন কমে যাচ্ছিল। ঘনঘন অসুস্থ হতাম। মা বলতেন আমি নাকি অসুখের বাহানা করি। বড় ফুপু অর্থাৎ সুজনের মা মাঝেমাঝে ভালো কিছু রান্না করলে ডেকে পাঠাতেন। ছোট ফু্পু বেড়াতে আসলে লুকিয়ে কিছু টাকা হাতে ধরিয়ে দিতেন। সবাই আমাদের ভালোবাসত কিন্তু তাদেরও নিজস্ব সংসার ছিল। অভাব অনটন ছিল। কতটুকুই বা দিতে পারবেন। 

আমার এই পক্ষের দুই ভাই আছে। তাদের জন্য মা সব ভালো খাবার আগেই সামলে রাখতেন। কোনদিন মাংসের সলিড পিস আমাদের পাতে পড়ে নি। যা খেতাম হাড় বা চর্বি। আমার চর্বি খেলে বমি চলে আসতো। তাই শুকনা ভাত খেতাম। আর শাওন ওর পাত থেকে দু একটা টুকরা হাড় লাগা মাংস তুলে দিয়ে নিজে ঝোল দিয়ে অনায়াসে ভাত খেয়ে নিতো। এক পিস মাছ আমাদের দুজনকে ভাগ করে খেতে হতো আর ছোট ভাইগুলো আগে আগেই খাবার খেয়ে ফেলতো। আমি যদি না বলে কখনো কিছু খেতাম মা বলতো আমি চুরি করে খেয়েছি। মা এ নিয়ে অনেক বার আমাকে মেরেছে। আমার ছোট ভাই দুটো সব মজা লুকিয়ে খেয়ে আমার নাম দিতো। এ নিয়ে বাবাও আমাকে একবার মেরেছিল। আমাদের মার খাওয়ার ভালো অভ্যাস ছিল। আমার বাবা সবকিছু জেনেও চুপ করে থাকতেন। নতুন বিয়ে করলে হয়তো বাবারা এমনই হয়ে যায়। বেশিরভাগ মা হারা ছেলে মেয়ে বাবা থেকেও যেন এতিম হয়ে যায়। 

আমার দাদা কৃষি ব্যাংকের একজন পিওন ছিলেন। এক অফিস থেকে আরেক অফিসে চিঠি, বিল আদান প্রদান করাই সম্ভবত দাদার কাজ ছিল। আমার দাদা যখন অফিস থেকে আসতেন দাদার সাইকেলটা আমি আর শাওন শখ করে একটু চালাতাম। দাদার ঘরে সব খাবার আমাদের জন্য ফ্রি ছিল। দাদা বিস্কুট, পাউরুটি যা এনে রাখতেন আমাদের ডেকে খেতে দিতেন। ছোট থেকেই দেখি দাদী অসুস্থ। তিনি রান্না করতে পারতেন না ঠিকমতো। আমি সন্ধ্যার পরে দাদার ঘরে পড়তে বসতাম। দাদা আমাদের লুকিয়ে টাকা দিতেন কিছু কিনে খাওয়ার জন্য। কারণ আমার মা জানলে দাদার সাথে ঝগড়া করবে কারণ তার সন্তানদের দেয় নি বলে। আমাদের অপমান করতে দেখলে দাদা সহ্য করতে পারতেন না। মাকে কিছু বলতে গেলে তখন বাবা মায়ের সাথে দাদার ঝগড়া লেগে যেতো। পরে দাদা চোখের জল ফেলতেন।

আমার সব ফুপুর বিয়ে হয়ে গিয়েছিল। শুধু মেজো ফুপুর বিয়ে হয়েছিল না কালো বলে। ফুপু আমাদের নিজের মায়ের মতো দেখতেন সেজন্য আমার সৎমা উনাকে চোখের কুটি দেখতে পারতেন না। দু-তিন বছরের মধ্যে বেশ মোটা অংকের যৌতুক দিয়ে ফুপুর বিয়ে দিল দাদা। যদিও দাদার ততটা সামর্থ্য ছিল না। জমি বেঁচে বিয়ে দিলেন। কিছুদিন সংসার যেতেই ফুপুর ওপরে তার স্বামী আর শাশুড়ি অত্যাচার শুরু করলো। ফুপা অনেক জমিজমার মালিক ছিলেন। সব কাজ তিনি আমার ফুপুকে দিয়ে করাতেন। গরম ধান সিদ্ধ করে বস্তায় পুরে তা চাতালে মাথায় করে তুলতে হতো ফুপুকে। ফুপুর মাথার মাঝখান থেকে চুল উঠে গিয়েছিল। আর উনার শাশুড়ি প্রায়ই উনাকে মারধোর করতেন। কালো বলে বিন্দুমাত্র সহ্য করতে পারতেন না। আর দুদিন পর পর বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনো, এই আনো, সেই আনো বলে পাঠিয়ে দিতেন। পরে ফুপুর একটা কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। কন্যা হওয়ার কারণে তাকে আরো অত্যাচারের স্বীকার হতে হয়। 

দাদা ততদিনে রিটায়ার্ড হয়েছেন। একবার দাদা ফুপুর বাড়ি বেড়াতে গেলেন বহুদিন পরে। ফুপু নিজ হাতে রান্নাবান্না করে দাদাকে খাওয়ালেন। আসার সময় ফুপু নাকি দাদাকে বলেছিল, " আব্বা আমাকে আপনের সাথে নিয়া চলেন। " 
দাদা ফুপুর এই কথা বলার কারণ বুঝেনি। দাদা ভেবেছিল এমনিই হয়তো যেতে চাচ্ছে। তাই বলেছিল " তোমার শাশুড়ির থেকে জিজ্ঞেস করে নিই যাইতে দিবে কি না। "
 জিজ্ঞেস করতে গেলে ফুপুর শাশুড়ি বলে, " না না এখন যাওয়া হইবো না, এখন আমার শরীর খারাপ বাড়ির কাজকাম কে করবে। " 
তাই দাদা জোর দিয়ে ফুপুকে বাড়ি আনতে পারলেন না। আসার সময় নাতনীর মজা খাওয়ার জন্য দাদা টাকা দিয়েছিলেন ফুপুকে। 

ফুপুর বাড়ি থেকে আমাদের বাড়ি ঘন্টাখানেকের রাস্তা। দাদা বাড়ি পৌছে দাদীকে বললেন এক গ্লাস পানি দিতে। পানিটা মুখে দেওয়া মাত্রই আমার চাচার ফোনে ফুপুর মৃত্যুর খবর এলো। ফুপু নাকি আত্মহত্যা করেছে। আমার দাদা কোনমতেই বিশ্বাস করতে পারেন নি ফুপু আত্মহত্যা করেছে। দাদা তাকে হাসিখুশি দেখে এসেছিলেন। আসলে মেয়েরা বোধহয় এভাবেই সব কষ্ট চেপে রেখে মুখে হাসিটা বিদ্যমান রাখে। লাশের শাড়ির আঁচলে দাদার দিয়ে আসা টাকাটা বাধা ছিল। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এলো ফুপু ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন। আর তার গলায়, পাজরে, পায়ে অনেক আঘাতের চিহ্ন ছিল। কোনটাকে বিশ্বাস করবে মানুষ? তাকে মেরে ফেলা হয়েছে নাকি নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। আল্লাহ্ ছাড়া কেউ জানে না। কেন ফুপু আত্মহত্যা করলেন একটা দেড় বছরের কন্যা সন্তান রেখে? বাকি জীবন দাদা আপসোস করেছেন কেন সেদিন মেয়েকে নিজের সাথে আনলেন না। আনলে হয়তো মেয়েটা মরতো না। সেই শোকে দাদা দাদী মারাত্মক অসুস্থ হয়ে গেলেন। আমাদের জীবন থেকে মাতৃ সমতুল্য মানুষটা চলে গেল আর আমাদের সাথে আরো একটা এতিমের নাম যোগ হলো।

আমার চাচা বই, খাতা, কলম যাবতীয় কিছু আমাদের দিতেন। পরীক্ষার আগ দিয়ে চাচীকে আর আমার সৎমাকে লুকিয়ে আমাদের টাকা দিতেন। একবার আমি দুদিন মানুষের জমিতে কাজে গিয়ে আটশো টাকা পেয়েছিলাম। একটা শার্ট কিনবো বলে রেখেছিলাম টাকাটা। কারণ আমাদের ভালো জামাকাপড় ছিল না। কলেজ প্রাইভেট করতে হয়। টাকা পাওয়ার খুশিতে বাড়িতে এসে মাকে বলেছিলাম। সন্তানরা তো মাকেই সব জানায়। মা বাবার মানিব্যাগ থেকে টাকা লুকিয়ে রেখে আমাকে চোরের অপবাদ দিয়েছিল। আমি বাবাকে অনেক বুঝিয়েছিলাম
সেদিন। কিন্তু বাবা আমাকে বিশ্বাস করেনি। আমার নিজের টাকাটাও বাবা কেড়ে নেয়। প্রচুর কেঁদেছিলাম। ভাই আমাকে সান্তনা দিয়ে বলেছিল, " আর কিছুদিন কষ্ট কর। আমি তোকে ভালো শার্ট কিনে দিবো। দেখিস একদিন আমাদের সব কষ্ট মুছে যাবে। "

উচ্চমাধ্যমিক পাশের পরে আমি টিউশন করে আমার পড়াশোনার টুকিটাকি খরচ চালাতাম। আমার শরীরে উন্নতির জন্য আমি দিনরাত পরিশ্রম করে টাকা জমিয়ে জিমে ভর্তি হলাম। আমি নিজের টাকা থেকে জিমের নিয়ম অনুযায়ী খাবার কিনে খেতাম। ডিম সিদ্ধ করতে যেতাম তাই আমার সৎমা আমার রান্নাঘরে ঢোকা বন্ধ করে দিল। আমি নাকি গ্যাস ফুরিয়ে ফেলি। পরে আমি মাটির চুলায় ডিম সিদ্ধ করতাম। জিম করার কারণে আমার ক্ষুধা বৃদ্ধি পেয়েছিল। সেসময় যতটুকু খাবার আমার প্রয়োজন ছিল, এই সেই বাহানায় তার চেয়ে কম খাবার পেতাম। বাধ্য হয়ে আমিই রান্না করা শুরু করি। গালি খেতাম, মাথায় নিতাম না। 

শেষ কবে যে ঠিকমতো আমার বাবা আমাদের জামাকাপড় কেনার টাকা দিয়েছে হিসাব নেই। ছোট থেকেই শুধু ঈদে একটা করে শার্ট কিনে দিতেন আমাদের দুই ভাইকে তাতেই বছর পার। সৎমায়ের ভাই অর্থাৎ মামা আমার ছোটভাইদের জন্য ঈদ উপহার পাঠাতেন। কোনদিন আমাদের সেই সৌভাগ্য হয়নি উপহার পাওয়ার। আমার মামাও সেসময় স্টুডেন্ট ছিল। আর নানা মারা গিয়েছিলেন অনেক বছর আগে। তাদেরই আর্থিক টানাপোড়াতে চলতে হতো। 
আর একবার চাচা আমাদের টি-শার্ট কিনে দিয়েছিল বলে চাচী ঝগড়া করে বাপের বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। চাচাকে বলেছিলাম, " আমাদের যা আছে এতেই চলবে। আপনি আমাদের জন্য অনেক করেছেন। দোয়া কইরেন শুধু। "
আমার ভাই ততদিনে মাস্টার্স পাস করেছে। সে চুপচাপ সব অপমান সহ্য করে। কিন্তু আমি মাঝেমাঝে মুখের ওপর জবাব দিয়ে ফেলি। এদিকে আমার মা ছোট ভাই দুটিকে আহ্লাদে আটখানা করে মানুষ করছে। পড়াশোনায় তাদের মন নেই। যখন যা আবদার করে মুহূর্তেই চলে আসে। পারে না মা তাদের মুখে তুলে খাইয়ে দেয়। 

মাঝেমাঝে খবর নিতাম, এতিম ফুপাতো বোনটাও ঠিক আমাদের মতো তার সৎমায়ের সংসারে অযত্নে মানুষ হচ্ছে। তার আশপাশের লোক বলতো, ছোট্ট স্কুলে পড়া মেয়েটাকে নাকি বাড়ির সমস্ত কাজ করতে হয়। কিছুই করার ছিল না চোখের পানি ফেলা ছাড়া। 

বিভিন্ন জায়গায় চাকরির পরীক্ষা দিতে যেতে অনেক টাকার দরকার হতো আমার ভাইয়ের।  বাড়ি থেকে সে একটা টাকাও পেত না। আত্মীয়স্বজনের কাছে ধার করে সে চাকরির পরীক্ষা দিতো। আল্লাহর অশেষ রহমতে সে একটা চাকরি পেয়ে যায়। যেদিন থেকে আমার ভাই চাকরি পায় সেদিন থেকে আমাদের সৎমা আমাদের মায়ের চোখে দেখতে শুরু করে। চাকরির অর্ধেক বেতন ভাই মায়ের হাতে তুলে দিত। 
ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। আমার ভাইটা চাকরি পাওয়ার বছর দুয়েক পরে কিডনি রোগে আক্রান্ত হলো। বড্ড পাগল ছিল সে। শরীরের মায়া, অসুখ বিসুখ কিচ্ছু বুঝতো না। শুধু ছুটে বেড়াতো পাগলের মতো। তা নাহলে এমন সময় অসুখ ধরা পড়লো যে চিকিৎসার আর কোনো উপায় থাকলো না। সারাটা জীবন সে কষ্ট করলো মুখ বুজে। আমরা কতো কষ্টের দিন পার করেছি কিন্তু যখন একটু সুখের মুখ দেখলাম আমার ভাইটা দুনিয়াতে আমাকে একা করে বিদায় নিল। মা মরার কষ্ট বুঝেছি ভালোবাসা না পেয়ে কিন্তু সবচেয়ে প্রিয় সঙ্গী ভাইকে হারিয়ে আমার দুনিয়া অন্ধকার লাগতো।ভাইয়ের মৃত্যুর পরে জীবনে প্রথম মায়ের মধ্যে একটু সত্যিকারের মমতার আঁচ পেলাম। উনিও তড়পাতেন কারণ উনি আমাদের অনেক কষ্ট দিয়েছেন। উনি আমার সাথে দুর্ব্যবহার কমিয়ে দিলেন। পরে মা একদিন আমার হাত ধরে বলেছিলেন, " আমি অন্যায় করেছি বাবা। আমি তোমাদের খাওয়ার খোটা দিয়েছি, মারধোর করেছি, টাকা চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়েছি, আমার হয়তো জাহান্নামেও জায়গা হবে না। কিন্তু আমি তো তোমার মা। তুমি কি আমাকে ক্ষমা করতে পারবে? "
সেদিন মা প্রথমবার আমাদের তাকে মা বলার সুযোগ দিয়েছিলেন। ভাই মারা যাওয়ার কয়েকমাসের মধ্যে প্রাণের দাদা দাদীও আল্লাহর কাছে চলে গেলেন। 

বাবা মারা গেছে স্ট্রোক করে অনেক বছর হলো। মাও বৃদ্ধ হয়ে গেছে। মা এখন আমার সংসারে থাকে। আমার ছোট ভাইয়েরা মায়ের দায়িত্ব নেওয়ার বিন্দুমাত্র আগ্রহ দেখায় নি। মা তাদের সাথে থাকতে চাইলে তারা অসম্মতি জানিয়েছে। কিন্তু মায়ের মর্ম আমি বুঝি কারণ আমার মাকে আমি চোখে দেখি নি। সারাজীবন মানুষের মাকে দেখেছি বাচ্চাদের আদর করতে। তাকিয়ে দেখতাম আর চোখের জল ফেলতাম। আমরা কোন আদর ভালোবাসা পায় নি। এই শেষবেলায় যদি সামান্য একটু ভালোবাসা পাওয়ার সুযোগ পায় তা আমি কোনকিছুর বিনিময়ে হাতছাড়া করতে চাই না। মা তো মা'ই। 
আমি আর আমার স্ত্রী একটা এতিমখানা খুলেছি। অন্তত কিছু বাচ্চা খেয়ে পড়ে সুস্থভাবে যেন মানুষ হতে পারে। সুস্থ ছেলেবেলা পায়। 

শুধু বারবার মনে পড়ে, আমাদের মা বেঁচে থাকলে হয়তো ছেলেবেলাটা এতো কষ্টের হতো না। মা বেঁচে থাকলে হয়তো ভাই যত্নের অভাবে মরতো না। সে আজ আমার কাধে হাত রেখে বলতো, " কিরে, বলেছিলাম না একদিন আমাদের সব কষ্ট মুছে যাবে। "

গল্প: মা হারা এতিম
লেখনীতে-- নূর-এ সাবা জান্নাত

Post a Comment

কমেন্টে স্প্যাম লিংক দেওয়া থেকে বিরত থাকুন

Previous Post Next Post