গল্প - অবহেলা না ভালোবাসা পর্ব ১ ২ ৩ ৪ ৫ golpo obohela na valobasha in bengali গল্পের লিংক
গল্প - অবহেলা না ভালোবাসা পর্ব ২ golpo obohela na valobasha 02 in bengali

পর্ব :- ২
Writer :- Kabbo Ahammad

এদিকে চিঠিটা পড়তে পড়তে ঝাপসা হয়ে গেলো রিয়ার চোখ। দু'ফোঁটা অশ্রু টুপ করে ঝরে পড়লো। চিঠির ভাজে। খুব কান্না পাচ্ছে ওর। আজ খুব কাঁদবে সে। কারণ ওর তো খুশি হওয়ার কথা, কিন্তু একটা কীসের শূন্যতা অনুভব করছে হৃদয়ের গহীন। ওর মনে হচ্ছে কি জেনো একটা ওর কাছ থেকে চিরোতরে 
হারিয়ে যাচ্ছে। যেটা সে আর কখনোই ফিরে পাবেনা।

এভাবেই কেটে যায় আমার ৪ টা বছর। আজ আমি
আমার অস্ট্রেলিয়া থেকে স্টাডি শেষ করে দেশে ফিরলাম।
দেশে এসেই আমার মনে পড়ে  গেলো সেই পুরোনো কষ্ট গুলো। মনে পড়ে গেলো সেই সব কথা। যার কারণে 
আমি দেশ থেকে কাঁদতে কাঁদতে অস্ট্রেলিয়া চলে গিয়েছিলাম। আবারো আমার ওর কথা গুলো মনে পড়তে শুরু করলো। মনে পড়তে লাগলো রিয়ার দেওয়া সেই কষ্ট গুলোর কথা।
আমি যে রিয়াকে ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে ওর কথা আমার আর মনে পড়েনি তা কিন্তু না। আমার ওর কথা সেখানে গিয়েও সারাক্ষণ মনে পড়তো। আর আমি ওর কথা ভেবে সারাক্ষণ সেখানে নীরবে কাঁদতাম।

তারপর আমি এসব কথা ভাবতে ভাবতে নিজের বাসায় চলে আসলাম। ও হ্যাঁ আর একটা কথা আমি যে দেশে আসবো সে কথাটা কিন্তু বাসার কাউকে জানাই নি। কারন সবাইকে সারপ্রাইজ দেবো বলে।

তারপর বাসায় এসে আমি আগে দরজার কলিঙ্গ বেলটা চাপলাম। আর আমার বেলটা চাপার কিছুক্ষণ পরেই আম্মু এসে দরজাটা খুললেন। দরজাটা খোলার সাথে সাথে আম্মু আমায় দেখে একদম কিছুক্ষণ শব্দহীন স্তব্ধ হয়ে গেলেন।

তারপর হঠাৎ দৌড়ে এসে কাঁদতে কাঁদতে আমায় জড়িয়ে ধরলেন। আর আম্মুর কান্না দেখে আমিও সাথে সাথে কাঁদতে লাগলাম। তারপরে আম্মু আমায় কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলেন:-

----কাব্য তুই "বাবা' তুই কেমন আছিস হ্যাঁ ...!!
এতোদিন পড়ে কি তোর আমাদের কথা মনে পড়লো বল? জানিস  আমি'আর তোর আব্বু প্রতিটা দিন তোর আশায় এই দরজার পথ চেয়ে বসে থাকি শুধু মাত্র তোর আশায়। শুধুমাত্র এইভেবে যে এই বুঝি তুই আজকে বাসায় আসবি। আর আসবি তো আসবি.
আসার আগে আমাদের একটা ফোন করে আসবি না।তাহলে আমি ও তোর আব্বু দুইজন মিলেই এয়ারপোর্টে তোকে আনতে যেতাম।
এই বলেই আবারো আম্মু কাঁদতে শুরু করলেন।

---আরে আরে আম্মু তোমাদের কথা সেখানে সারাক্ষণ মনে পড়তো। ইচ্ছে করতো সেখান থেকে ছুটে চলে আসি তোমার কাছে। কিন্তু আমি চাইলেই তো আর তোমাদের কাছে ছুটে আসতে পারবো না!! 
আচ্ছা তুমি কেমন আচ্ছো আম্মু!! আর আব্বু কেমন আছে?

---আমরা সবাই এতোদিন তোকে ছেড়ে ভালো ছিলাম না। কিন্তু এখন সবাই ভালো থাকবো।
কেন না তুই এসে গেছিস না। তাহলে কি আর আমরা সবাই খারাপ থাকতে পারি। তুই তো আমাদের সবার ভালো থাকার ঔষুধ বাবা। আচ্ছা তুই কি বাসার বাইরেই দাড়িয়ে আমার সাথে কথা বলবি!! 
নাকি বাসার ভিতরেও আসবি.!!! (আম্মু)

---আমি কোথায় বাইরে দাড়িয়ে থাকার জন্য বসে আছি.! তুমিই তো আমায় বাসার ভিতরে ডুকতে দিচ্ছো না। আর তুমি ডুকতে না দিলে আমি কি করে ভিতরে যাবো বলো.?(আমি)

এই বলেই আমি বাসার ভিতরে ডুকে গেলাম। তারপর নিজের রুমে ঢুকে আবারও নিজের রুমটা কে দেখতে 
লাগলাম। পুরো রুমটাই যেমন রেখে গিয়েছিলাম রুমটা ঠিক তেমন টাই আছে। তবে একটা দিকে লক্ষ করে দেখলাম যে আমার রুমের সব কিছু একদম ঠিক-ঠাক ভাবে গোছানো আছে.। কিন্তু কিভাবে আমি তো আমার রুমটা কখনোই  এমন গুছিয়ে রাখতাম না.! তাহলে আমার রুমটা কে গুছিয়ে রেখেছে! পরে আবার ভাবলাম 'হয়তো আম্মুই আমার রুমটা গুছিয়ে রেখেছিলেন আমি যাবার পরে। তাই আমি আর বেশি কিছু না ভেবে ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে বিছানায় 
নিজের শরীর টাকে এলিয়ে দিলাম।
কেন না আমি ফ্লাইটে জার্নি করে এসে অনেক ক্লান্ত হয়ে গেছি। তারপর হারিয়ে গেলাম ঘুমের রাজ্যে

বিকেলে আম্মুর ডাকেই আমার ঘুম ভাঙ্গলো। তারপর উঠে আবারও ফ্রেশ হয়ে  আমার রুম থেকে বাইরে বের হয়ে এলাম। বাইরে বের হয়ে এসে দেখি বাসায় অনেক মানুষ। পরে আম্মুর কাছে জিজ্ঞাসা করতেই তিনি বললেন যে আমার ফিরে অাসায় তিনি আমাদের সকল কাজীন দেরকে দাওয়াদ করেছেন। তাই বাসায় এতো মানুষ আর সব আত্মীয় স্বজন।
তাই আমি আর কিছু না বলে নিচে চলে এলাম আমার কাজীন দের সাথে কথা বলার জন্য। আর নিচে এসেই তাদের সাথে হ্যানসেক করতে লাগলাম। আর তারাও আমার সাথে পরিচিতো হতে লাগলো। আর আমার ভালো মন্দ জিজ্ঞাস করতে লাগলো। আর অস্ট্রেলিয়া পড়াশুনো কেমন হয়েছে এবং ইত্যাদি.........

সন্ধ্যায় এবং রাতে অনেক মানুষ জন এবং আরো আত্মীয় স্বজন এলেন। আর এরমধ্যে আব্বুও আমি আসার খবর পেয়ে অফিস থেকে নিয়ে ছুটে চলে আসেন। তারপর আমাকে দেখতে পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে জড়িয়ে ধরে আমার সাথে অনেক গুলো কথা বলেন।
তারপর আব্বুর সাথে কথা বলার পরে আমিও রেডি হয়ে নিচে চলে এলাম সবার সাথে দেখা করার জন্য।

(ও হ্যাঁ আপনাদেরকে এটা জানিয়ে রাখি যে এখন আমি আর আগের মতো সেই বকা খ্যাতমার্কা স্টাইলে থাকি না। সেখানে গিয়ে নিজেকে অনেক চেন্জ করেছি। এবং চেন্জ করে ফেলেছি নিজের সব কিছু
এখন আর কেউ আমাকে বকা খ্যাত বলতে পারেনা। এখন আমাকে যেই দেখে তারা সবাই আমার সাথে
নিজে থেকে কথা বলতে আসে। তবে বিশেষ করে মেয়েরা। তারা এখন আমাকে দেখলেই নিজে থেকে আমার সাথে কথা বলতে আসে।)

তো আমি নিচে এসে দেখি যে আমার সব কাজীনরা সবাই চলে এসেছে। আর তাদের মাঝে হঠাৎ দেখলাম যে আম্মুর বান্ধবী মানে রিয়ার আম্মু "আঙ্কেল-আন্টিরাও চলে এসেছেন আর তাদের সাথে রিয়াও আছে।
তবে ওকে দেখে মনে হচ্ছিলো ওর মনটা অনেক খুশী।
যাক আমার এতো বেশী কিছু ভেবে এত কাজ নেই।
তাই আমি এত কিছু না ভেবে তাদের সাথে দেখা
করতে চলে গেলাম। আমি সোজা তাদের সামনে গিয়ে বললাম :-

---আঙ্কেল-আন্টি!!
আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু। কেমন আছেন আপনারা?
আমাকে তো ভুলেই গেলেন। আসার পর একটি বারো আমার সাথে দেখাও করলেন না।

---ওয়ালাইকুম আসসালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ "বাবা। আমরা সবাই ভালো আছি।
আর আমরা তোমায় ভুলে গেছি নাকি তুমি আমাদের 
সবাই কে ভুলে গেছো হ্যাঁ।
সেই যে ৪বছর আগে গেলে আর আমাদের তো তেমন ফোনই করতে না। আমাদের কথা এত তাড়াতাড়ি করে ভুলে গেলে। আর  সেখানে গিয়ে তো দেখছি মাশ্আল্লাহ্  অনেক সুন্দর হয়েছো। (আন্টি)

---আন্টি''
আপনাদের সবার কথাই আমার সেখানে সারাক্ষণ মনে পড়তো। কিন্তু আমি চাইলেও যে আর তখন আপনাদের সবার কাছে ছুটে আসতে পারতাম না। আর হ্যাঁ কতোদিন আর  ক্ষ্যাতমার্কা হয়ে থাকবো বলুন! তাই সেখানে গিয়ে সময়ের সাথে সাথে নিজেকেও একটু বদলে ফেলেছি  আরকি। 
এই বলেই আমি এবার রিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখলাম। আমি ওর দিকে তাকিয়ে দেখি সে এক নজড়ে আমার
দিকে চেয়ে আছে। হয়তো বা সে আমাকে এভাবে এই রকম ভাবে আশা করেনি। আমি ওর এমন চেয়ে থাকা  দেখে ওকে আর কিছু না বলে সেখান থেকে সরে এলাম। সেখান থেকে সরে আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখলাম যে রিয়া আমার দিকে আমার সাথে কথা বলার জন্য আমার কাছে মাথা নিচু করে আসছে।
তাই আমিও সেখানেই ওর জন্য দাড়িয়ে রইলাম ওর সাথে কথা বলার জন্য।
রিয়া আমার কাছে আসতেই আমি:-

---হ্যালো মিস রিয়া চৌধুরী। আপনি ভালো আছেন তো।

রিয়া আমার মুখে আপনি কথাটি শুনে আমার দিকে কিছুক্ষণ করুন দৃষ্টিতে তাকালো তারপর বললো:-

---হুম ভালোই আছি। তুমি কেমন আছো।?

তারপর আমি শুরু ওকে কিছু বলতে যাবো ঠিক তখনি আমার কিছু মেয়ে কাজিন রা আমার সাথে কথা বলতে চলে আসে সেখানে।
আর আমি তখন রিয়ার দিকে চেয়ে দেখি সে অনেক রাগি লুক নিয়ে তাদের দিকে তাকাচ্ছে 'আর রাগে ফুলছে। তাই আমিও ওকে আরো বেশি করে রাগানোর জন্য তাদের সাথে আরো বেশী করে হেসে হেসে কথা বলে ওদের সাথে ওদের মোবাইলে সেলফি তুলতে লাগলাম। আর কথা বলতে লাগলাম। এবং এক সময় রিয়াকে আরো রাগানোর জন্য তাদের সাথে রিয়ার ওখান থেকেভরিয়াকে আসছি  বলে তাদের সাথে সেখান থেকে চলে এলাম।

আর হঠাৎ আমার এমন ব্যাবহারে রিয়ার কেমন লেগেছে তা জানার জন্য পিছনে তাকাতেই দেখি রিয়ার দুইচক্ষু দিয়েই তখন নিরবে পানি ঝরছে।
সে সেখানেই আমার এমন ব্যাবহারে মনে কষ্ট পেয়ে দাঁড়িযে দাঁড়িয়ে নীরবে কাঁদছে।
হয়তো বা আমার কাছে সে এমন কিছু আশা করেনি।
ধুর আমি এত কিছু না ভেবে আবারও তাদের সাথে মিশতে শুরু করলাম।
কেন না এখন আর আমার রিয়ার চোখের পানির জন্য তেমন মনের মাঝে খুব বেশী একটা কষ্ট হয়না।
এভাবে কিছুক্ষণ চলার পড় রিয়া সেখান থেকে কাঁদতে কাঁদতে  দৌড়ে ভিতরে চলে গেলো। আর আমিও তখন তাদের সেখান থেকে এটা ওটা বাহানা দিয়ে সেখান থেকে চলে এলাম।

তারপর রাতে অনুষ্ঠান শেষ হলে সবাই এক এক করে বাসায় চলে যেতে থাকে। আর এদিকে আমি আমার রুমে একা একা বসে আছি। হঠাৎ একটু পরেই খেলার করলাম কে যেন আমার রুমের দরজার কাছে এসে দাড়িয়ে রইলো।
আমি তার ছায়াটা রুমের ভিতর থেকেই দেখতে পেলাম।
তাই আমি সাথে সাথেই বললাম:- 

--কে ওখানে। 
আমার কথাটা বলার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখান থেকে রিয়া বেরিয়ে এলো আমার সামনে। আমি ওকে দেখে কিছুটা অবাক হয়ে যাই। তারপর:-

--আরে রিয়া ম্যাম আপনি। তাও আবার আমার রুমে।
আপনারা এখনো বাসায় যান নি।

---নাহ্ আসলে আম্মু-আব্বু ওরা সবাই নিচেই বসে আছে আমার জন্য। আমি নিচে গেলেই ওরা আমাকে নিয়ে বাসায় চলে যাবে। কিন্তু আসলে আমি তোমাদের এখানে আসলাম তোমার সাথেবকিছু কথা বলার জন্য।
তোমার কি এখন আমার কথা গুলো শুনার একটু সময় হবে কাব্য? (রিয়া বললো)

--নাহ্ আসলে আমার একটু হালকা কাজ আছে।
তাই আমার হাতে তেমন বেশী সময়ও নেই।
আচ্ছা ঠিক আছে আপনার আমায় কি বলার আছে বলেন। কিন্তু একটু তাড়াতাড়ি করে বলবেন প্লিজ।

আমার কথায় রিয়া আমার দিকে কেমন যেনো একটা করুন দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো।
হয়তো মনে হয় আমার কাছে সে এমন কিছু একটা আশা করেনি। তারপর আমি লক্ষ করলাম যে ওর চোখের কোণ দিয়ে নীরবে পানি ঝরছে। তার পর হঠাৎ কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে এসে আমায় জড়িয়ে ধরে। তারপর কাঁদতে কাঁদতে আমায় জড়িয়ে ধরে থাকা অবস্থায় বলতে থাকে:- 

---কাব্য……………………………

:- আমার কথায় রিয়া আমার দিকে কেমন যেনো একটা করুন দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো।
হয়তো মনে হয় আমার কাছে সে এমন কিছু একটা আশা করেনি।
তারপর আমি লক্ষ করলাম যে ওর চোখের কোণ দিয়ে নীরবে পানি ঝরছে।
তার পর হঠাৎ কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে এসে আমায় জড়িয়ে ধরে। তারপর কাঁদতে কাঁদতে আমায় জড়িয়ে ধরে থাকা অবস্থায় বলতে থাকে:- 

---I'm Sorry Kabbo.....!! I'm So Sorry..
প্লিজ আমাকে তুমি ক্ষমা করে দেও প্লিজ.! তুমি বিশ্বাস করো তুমি চলে যাওয়ার পর থেকেই আমি আর একটুও ভালো নেই।
:-কেন না তুমি যখন আমার কাছে ছিলে আর যখন সারাক্ষণ ধরে আমার কেয়ার করতে।
সারাক্ষণ যখন আমায় ফোন করে আমার ভালো-মন্দ "আমার খাওয়া না-খাওয়ার কথা জিজ্ঞাসা করতে তখন না আমার তোমার আমার প্রতি এতো কেয়ার টাকে অনেক বিরক্তিকর লাগতো।
তখন আমার নিজেকে তোমার এতো কেয়ার করার মধ্যে কেমন যেনো নিজেকে বন্ধি-বন্ধি লাগতো।
আমার তখন নিজের মনে হতো যে হয়তো তুমি আমাকে সাশনে আবদ্ধ করতে চাচ্ছ।
তাই আমার তখন তোমার দেখানো এতো ভালোবাসা দেখে অনেক রাগ হতো।
তখন আমার মনে হতো যে তুমি আমার প্রতি হয়তো একটু বেশিই জোড় খাটাতে চাচ্ছো।
তাই আমি নিজে থেকেই আর তেমন তোমার সাথে তখন খুব বেশী একটা কথা বলতাম  না আর।
তুমি আমায় ফোন দিলেই আমি তখন ইচ্ছে করেই তোমার ফোন তুলতাম না।
আর যখন তুমি আমার ফোনের পর ফোন দিয়েই যেতে 
তখন অনেকটা তোমার প্রতি বিরক্ত হয়েই ফোন ধরে তোমার সাথে অনেক বাজে ব্যাবহার করতাম।
তখন আমি তোমার আমার প্রতি এইবভালোবাসাটা বুঝতে পারিনি।
কিন্তু বিশ্বাস করো কাব্য যখন তুমি আমায় ছেড়ে অস্ট্রেলিয়াতে স্টাডি করার জন্য সেখানে চলে যাও আর তার পর থেকেই আমি তোমাকে অনেক মিস'করতে শুরু করি।
মিস'করতে শুরু করি তোমাের আমার প্রতি এতো কেয়ার!! তোমার ফোনে আমার খাওয়া-না খাওয়ার"আমার ভালো-মন্দ গুলোকে জিজ্ঞাসা করার।
আর জানো কাব্য আমি না তুমি চলে যাওয়ার পরেই বুঝেছিলাম যে তোমাকে আমার এই জীবনে কতো খানি দরকার।
তুমি চলে যাওয়ার পরেই বুঝেছিলাম তোমার আমার প্রতি সেই সীমাহীন ভালোবাসাটা।
কিন্তু আমার বুঝতে তখন একটু বেশিই দেড়ি হয়ে গিয়েছিলো।
হয়তো তুমি জানো তুমি চলে যাওযার পর আমি সারাক্ষণ হাতে ফোন নিয়ে বসে থাকতাম শুধুমাত্র এই আশায় যে এই বুঝি তুমি আমায় ফোন করবে। 
আর ফোন দিয়ে আমায় জিজ্ঞাসা করবে যে আমি রাতে খেয়েছি কিনা।
কিন্তু নাহ্ তুমি আর আমাকে ফোন করো নি।
তুমি তখন আমার প্রতি তোমার অভিমানটাকেই  বসিয়ে রেখেছিলে।
আর জানো তুমি চলে যাওয়ার পর থেকেই প্রতি রাতে আমি তোমার কথা ভেবে না ঘুমিয়ে শুধু কাঁদতাম।
তুমি আমার কাছ থেকে চলে যাওয়ার পর থেকেই আর আমার রাতে ঘুম হয়না। শুধু তোমার কথা ভেবে।
:- প্লিজ কাব্য প্লিজ আমাকে তুমি শেষ বারের মতো করে ক্ষমা করে দেও!!
আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি আমি আর কখনই তোমায় আমার প্রতি একটি অভিযোগও তুলতে দেবো না।
কিন্তু প্লিজ "আমাকে শেষ বারের মতো করে ক্ষমা করে দেও প্লিজ!! প্লিজ কাব্য প্লিজ......

:-এই বলেই রিয়া আমাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো!!
এদিকে রিয়ার বলা কথা গুলো শুনতে শুনতে কখন যে আমার চক্ষে পানি চলে এসেছে তা আমি নিজেই বুঝতে পারিনি।
তাই তাড়াতাড়ি করে রিয়া দেখার আগেই হাত দিয়ে নিজের চক্ষের পানি গুলো মুছে ফেললাম॥
পরে নিজেকে অনেক শক্ত করে রিয়াকে আমার বুক থেকে ছাড়ালাম॥ তারপর ওকে আমি বললাম:-

--আরে আপনি কিসের কথা বলছেন!!!
আর কিসের জন্য আমার কাছে ক্ষমা চাচ্ছেন বলেন তো আমি তো কিছুই বুঝতেছিনা॥ আর তাছাড়া আপনি আমার কাছে যে সবকিছুর জন্য ক্ষমা চাচ্ছেন তার সবই আমি অনেক আগেই কবে ভুলে গেছি॥ আমার আর ওসবের কিছুই মনে নেই॥
আর আপনি তো আমায় সেদিন খারাপ কিছু বলেন নি॥ আপনি সে দিন ঠিকি বলেছিলেন।
আপনি সেদিন আমাকে আমার স্থানটাও দেখিয়ে দিয়েছিলেন॥
আর আমাকে বুঝিয়ে দিয়ে ছিলেন যে আমার মতো ছেলেরা কখনোই প্রেম করতে পারে না॥
আমাদের মতো আন্-স্মার্ট ছেলেরা কখনোই কারো বয়ফ্রেন্ড হতে পারেনা।
আর আপনি সেদিন আমার সাথে তাই ঠিক কাজটাই করেছেন॥
তাই তো আমি আজকে নিজেকে এতোদূরে নিয়ে আসতে পেরেছি॥
তাই তো সেদিনের পড় থেকেই নিজের মন থেকে ভালোবাসা নামের বস্তুু টাকেই মন থেকে বের করে দিয়েছি॥
আর যানেন এখন না আমার আর কারো জন্য  মন আর কাঁদে না।
তবে হ্যাঁ একসময় এই আমার পাগল মনটাই কারো জন্য অনেক কাঁদতো!!
কিন্তুু এখন আমি আমার মনটাকে কাঁদতে কাঁদতে এতো বুঝিয়েছি যে সেও আমার কথা মতো আর কারো জন্য কান্না করা বন্ধ করে দিয়েছে॥
এখন আর আমার বুকের ভিতর কারো জন্য কোনো
অনুভূতি সৃষ্টি হয়না॥
তাই আমি আর আপনাকে আমার পাষান মনের কাছে ফিরিয়ে নিতে পারবো না॥
I'm So Sorry..... আমাকে ক্ষমা করবেন॥
আমি আর আপনাকে আমার জীবনের সাথে জড়াতে পারবো না॥
আর তাছাড়া আমি এমনিতেও আপনার সাথে যায় না!
তার চেয়ে বরং আপনি না হয় আপনার মতো কাউকে খুজে নিন 'যে আপনার সাথে মানাবে॥
কিন্তুু আমি আর পারবো না 'আমাকে ক্ষমা করবেন॥এই বলেই আমি আমার রুম থেকে বাইরে বের হয়ে ছাদে চলে এলাম॥

কেন না আর কিছুক্ষণ যদি আমি ওর সামনে দাঁড়িয়ে থাকতাম তাহলে আমি আর নিজেকে ওর সামনে ধরে রাখতে পারতাম না॥
তবে আসার সময় রিয়ার দিকে হালকা লক্ষ করে দেখেছিলাম যে সে ওর মাথা নিচু করে নীরবে চোখের পানি ঝরাচ্ছে।

ছাদে এসে কিছুক্ষণ পর নিচে তাকিয়ে দেখলাম যে রিয়া ও আঙ্কেল-আন্টি তারা সবাই বাসায় চলে যাচ্ছে। তাই আমি আর তাদের দিকে না তাকিয়ে আবারো আমার রুমে চলে এলাম.!! আর এসেই ঘুমিয়ে পড়লাম।
সকালে আম্মু এসে আমায় ডাক দিয়ে আমার ঘুম ভাঙ্গিয়ে যান॥
তাই আমিও উঠে আগে ফ্রেশ হয়ে নিচে চলে এলাম 
সকালের নাস্তা করার জন্য। নিচে এসে দেখিযে আব্বু-আম্মু ওরা সবাই আমার জন্য নাস্তার টেবিলে বসে আছে। তাই তাড়াতাড়ি করে নিচে এসে আগে নাস্তার টেবিলে বসে পড়লাম। আমি নাস্তা করতে করতে হঠাৎ আম্মু বলে উঠেন যে:-

--"বাবা" কাব্য। তুই আজ একটু নাস্তা করার পড় এখন স্টেশনে যাসতো আব্বু আমার।
কেন না তোর বড় খালার মেয়ে নীলা আজকে আমাদের বাসায় আসছে। তাই তুই একটু বাসায় একা একা বসে না থেকে ওকে স্টেশন থেকে নিয়ে আসিস বাবা আমার ঠিক আছে (আম্মু)

-- হুমম্ 'আচ্ছা ঠিক আছে আমি গিয়ে নীলাকে স্টেশন থেকে বাসায় নিয়ে আসবো।

--ঠিক আছে বাবা.!!

তারপর আমি আর তাদের কিছু না বলে নাস্তা করে সোজা স্টেশনের দিকে চলে গেলাম।
আর আমি স্টেশনে পৌঁছেই দেখি যে আমার বড় খালার মেয়ে নীলা আগে থেকেই এসে বসে আছে।
তাই আমি আর সেখানে দাভড়িয়ে না থেকে সোজা ওর
কাছে চলে গেলাম। আমাকে ও দেখার সাথে সাথেই দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলো।

(ও আপনাদের তো বলাই হলো না যে এই মেয়ের আবার আমার গায়ে পড়ে কথা বলার অভ্যাস আছে)

তারপর আমি ওকে অনেক কষ্টে নিজের কাছ থেকে ছাড়িয়ে বললাম:-

--কি'রে নীলা তুই তো দেখি অনেক বড় হয়ে গেছিস ..।
তুকে তো এখন আর চেনাই যায়না। তুই কখন এসেছিস। আর আমাকেই বা কিভাবে চিনলি।

--আমি তোমায় আন্টির ফোনে ছবিতে দেখেছিলাম
আর আমি সেই কখন থেকে এখানে এসে দাড়িয়ে আছি সেটা কি  তুমি জানো??

--স্যরি' রে তুকে দাড় করিয়ে রাখার জন্য। আচ্ছা চল 
এখন বাসায় যাই "তারপর পরে না হয় তোর সাথে  বাসায় গিয়ে কথা বলবো।

এই বলেই আমি নীলাকে নিয়ে আমার বাইকের পিছনে বসতে বললাম। কেন না সে নাকি আমার সাথে যাওয়ার জন্য আগে থেকেই ওর সব কাপড় "লাকেজ  আগে থেকেই আমাদের বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছিলো।
তারপর নীলা আমার বাইকের পিছনে বসলেই আমি আমার বাইক টা স্টার্ট করে বাসার দিকে আসতে থাকি।

কিন্তুু হঠাৎ নীলা বললো কাব্য বাইক থামাও..!!
বাইক থামাও বলে জোড়ে জোড়ে চিত্কার শুরু করে॥
তাই আমি সাথে সাথেই সেখানে রাস্তার একপাশে একটা ফুচকার দোকানের সামনে বাইকটা থামাই॥
আমার বাইক থামানোর সাথে সাথেই নীলা আমার হাত ধরে টানতে টানতে বলতে লাগলো যে সে  নাকি এখন ফুচকা খাবে॥ আমি ওকে না করার সত্ত্বেও  আমার কথা না শুনে জোড় করে ফুচকা ওয়ালা কে দুই প্লেট ফুচকা বানাতে বললো॥ এদিকে আমার অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ওর সাথে ফুচকা খেতে এবং ওর সাথে আমাকে বসতে হলো॥
নীলার সাথে ফুচকা খেতে খেতে হঠাৎ করেই নীলা আমাকে একবার ওর হাত দিয়ে ফুচকা খাওয়াবে এই বলেই সে আমার দিকে একটা ফুচকা হাতে নিয়ে আমার মুখের কাছে নিয়ে আসে॥
আমি খাবোনা বলে অন্য দিকে মুখ ফিরে তাকাতেই আমার চক্ষুচড়কগাছ॥

কেন না আমি সেদিকে তাকাতেই  দেখলাম যে রিয়া সেখানে আমার আর নীলার দিকে একটা রাগি মুড দিয়ে নীরবে চখের কোন দিয়ে হালকা পানি আটকে রেখেছে।
রিয়াকে দেখে মনে হয় সে আমার সাথে এখানে নীলাকে  আশা করেনি।
তাই আমিও ওকে রাগানোর জন্য ওকে দেখিয়ে দেখিয়ে নীলার হাতে ফুচকা খেতে থাকলাম।
পরে রিয়াকে আরও রাগানোর জন্য আমি নিজের হাতে একটা ফুচকা তুলে নীলার মুখের কাছে নিয়ে এলাম॥ "আর নীলাও আমার হাতে ওকে খাওয়ানোর জন্য ফুচকা দেখে সাথে সাথেই তা নিজের মুখে পুরে নেয়॥

এদিকে আমি আড় চোখে রিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখি সে এবার আমার দিকে অনেক আহতো চোখে তাকিয়ে সমানে চোখের পানি ঝরাচ্ছে॥
তাই আমি তখন ওকে দেখে বলি:-

--আরে রিয়া আপনি এখানে!!
ফুচকা খেতে এসেছেন  নাকী? তা আপনি একা কেন? আপনার সাথে কেউ নেই॥
আসুন আসুন আমাদের সাথে বসে একসাথে ফুচকা খাবেন॥(আমি)

--আরে তুমি রিয়া আপু না!!
হ্যাঁ 'হ্যাঁ  তুমি তো রিয়া আপুই। আরে আপু কেমন আছেন আপনি? আর একা এখানে দাঁড়িয়ে আছেন কেন? আসুন আসুন আমাদের সাথে বসে একসাথে ফুচকা খাই 'আসুন প্লিজ। (নীলা বললো)

--ধন্যবাদ তোমাদের।
কিন্তুু আমার না এখন একটু জরুরী কাজ বাকী আছে তাই আজ আর তোমার সাথে বসে ফুচকা খেতে পারলাম না। তবে হ্যাঁ অন্য আরেক দিন তোমার সাথে বসে ফুচকা খাবো তোমাকে কথা দিলাম। আচ্ছা তার আগে তুমি আমায় এটা বলো তো যে তুমি কাব্যর কে হও?
তোমাকে তো আমি এর আগে ওর সাথে কখনো দেখিনি? (রিয়া বললো নীলাকে)

--আরে আপু আপনি আমায় চিনবেন না। আমি হলামম....!!!!

নীলাকে ওর কথা শেষ করার আগেই ওর মুখে একটা ফুচকা ডুকিয়ে দিলাম॥ তারপর আমি রিয়াকে বললাম:-

--আরে আপনি ওকে চিনবেন না॥বআমি আপনাকে সেদিন একজনের কথা বলেছিলাম না। এই হলো সে।যার কথা আমি গতকালকে আপনাকে বলেছিলাম।

--এর মানে কী কাব্য 'আমি তোমার কথার কিছুই বুঝলাম না..!!!
এই মেয়েটা তোমার কে হয়? ভালো করে বলো আমায়
(কথাটা একটু রেগেই বললো রিয়া)

আর রিয়ার এমন রাগি মুড দেখে আমি আর সেখানে  না থেকে সাথে সাথেই বলে উঠলাম:-

--আচ্ছা আমরা এখন উঠি 'আমাদের আবার বাসায় যেতে হবে। আপনার সাথে না হয় অন্য কোন দিন কথা হবে আশি কেমন। এই নীলা চলো আমরা বাসায় যাই। এই বলে আমি তখন নীলার হাত ধরে রিয়ার সামনে ওকে নিয়ে গিয়ে আমার বাইকে উঠতে বললাম॥
আর নীলাও সাথে সাথে আমার বাইকে উঠে পড়লো।
নীলা আমার বাইকে উঠার পর আমি এবার ওকে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরতে বললাম।
কেন না আমি তখন আড় চোখে রিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখি সে আমাদের দিকে অনেক রাগি লুক নিয়ে তাকিয়ে আছে॥

তারপর নীলা আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরার পড় আমি বাইক স্টার্ট  করে রিয়ার সামনে দিয়ে চলে আসলাম।
আর আসার সময় বাইকের লুকিংগ্লাসে  তাকিয়ে দেখলাম যে রিয়া তখনও এক নজড়ে আমাদের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে নীরবে চোখের পানি ঝরাচ্ছে॥আমার তখন ওর চোখের পানি দেখে হঠাৎ করে  বুকের বাম পাশটাই কেনো জানি ব্যাথা অনুভব করতে শুরু করলাম॥

ওর কান্না দেখে কেনো জানি আমারও চোখের কোণে পানি চলে এসেছিলো॥
কিন্তুু সেটা রিয়াকে বুঝতে দেইনি...
চলবে...

পর্ব :- ০২
Writer :- Kabbo Ahammad

Post a Comment

কমেন্টে স্প্যাম লিংক দেওয়া থেকে বিরত থাকুন

Previous Post Next Post